বিস্ময় ১
আমাদের জানামতে, সাজ্জাদ শরিফ নিজে তাঁর জীবনে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা
যায় এমন ২২টি (২০টি তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ 'ছুরিচিকিৎসা'ভুক্ত এবং ২টি
এর বাইরের) মাত্র কবিতা লিখেছেন, নিজের সম্পাদিত 'বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ
কবিতা'য় যার ৯টিই অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিষয়টি আমার কাছে ভয়ানকরকম
রুচিগর্হিত কাজ বলে মনে হয়েছে, যেখানে তাঁর সমসাময়িক কবি ও তাঁর
কাব্যান্দোলনের সাথী উজ্জ্বল কবি বিষ্ণু বিশ্বাস কিংবা শোয়েব শাদাবকে
গ্রন্থভুক্তই করা হয় নি।
বিস্ময় ২
নিজের লিখিত ভূমিকায় সাজ্জাদ শরিফ বলেছেন, 'বাংলাদেশের কবির সংখ্যা কম
নয়। তবু এ সংকলনে আমরা কবির সংখ্যা খুব বেশি বাড়াইনি। আমরা জোর দিয়েছি
বাংলাদেশের কবিতার মূল খাতগুলো চিহ্নিত করতে, ব্যতিক্রমগুলো সামনে নিয়ে
আসতে এবং নতুন প্রবণতাগুলো চিনিয়ে দিতে। অনেক কবিই এতে বাদ পড়েছেন বটে,
কিন্তু কবিদের স্বল্পতা আমরা পূরণ করতে চেয়েছি কবিতার সংখ্যা বাড়িয়ে
দিয়ে।' গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য কবিকে সংকলনের বাইরে রেখে এতে অন্তর্ভুক্ত
'নিজেদের আর মামুদের' কবিতার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া খুবই উদ্দেশ্যমূলক কাজ
বলে মনে হয়েছে আমার। এ সংকলনে সাহিত্য-রাজনীতির এক চরম পারাকাষ্ঠা
দেখিয়েছেন সাজ্জাদ শরিফ।
সাবদার সিদ্দিকী, মোস্তফা আনোয়ার, সুনীল সাইফুল্লাহ, বিষ্ণু বিশ্বাস,
শোয়েব শাদাব, অসীম কুমার দাস, রিফাত চৌধুরী, সৈয়দ তারিক, কাজল শাহনেওয়াজ,
খায়রুল হাবিব, আহমেদ মুজিব, শামসেত তাবরেজী, রাজা হাসান, স্বদেশবন্ধু
সরকার, জুয়েল মাজহার, মারুফ রায়হান, সুমন রহমান, চঞ্চল আশরাফ, মাহবুব
কবির, মোস্তাক আহমাদ দীন প্রমুখ যে কাব্য সংকলনের দৃষ্টিতে অকবি
প্রতিপন্ন হন, সে সংকলনকে বাংলাদেশের কবিতার প্রতিনিধিত্বশীল সংকলন
হিসেবে গ্রহণ করতে যেটুকু ঔদার্য দরকার হয়, মনে হচ্ছে আমি হয়ত ততটা এখনো
অর্জন করে উঠি নি।
বিস্ময় ৩
এই সংকলন সম্পাদনা প্রসঙ্গে রণজিৎ দাশ তাঁর ভূমিকায় লিখেছেন, ‘ঢাকায় গিয়ে
আমি আমার অনুজপ্রতিম কবিবন্ধু সাজ্জাদ শরিফকে যখনই এই প্রস্তাব দিই, তিনি
তৎক্ষণাৎ সোৎসাহে রাজি হয়ে যান’। সাজ্জাদ শরিফের যে ইমেজটা আমার মধ্যে
এতদিন তৈরি হয়ে ছিল রণজিৎ দাশের এ বাক্যে তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সেটি
হয়েছে দুটো কারণে, ১. এটা বুঝতে পারা যে সাজ্জাদ শরিফ কিছু ব্যাপারে খুবই
সস্তা জিনিস, ২. এরকম একটি কাজে প্রয়োজনীয় ভর/দায় রাখতে যে ধরনের কাঁধ
দরকার হয়, রণজিৎ দাশের কাঁধটা তার চেয়ে খানিক প্রশস্ত বলে তাঁর আর মোটে
তর সয় নি।
বিস্ময় ৪
রণজিৎ দাশ লিখেছেন, ‘বিগত একটি বৎসর যাবৎ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংকলিত
কবিদের প্রত্যেকের কবিতার বিপুল সম্ভার থেকে অতিকষ্টসাধ্য প্রাথমিক বাছাই
করে, কিস্তিতে কিস্তিতে, আমাকে ঢাকা থেকে কবিতা পাঠিয়েছেন সাজ্জাদ। তাঁর
জহুরি-নজরে-বেছে-দেওয়া সেই সব কবিতাগুচ্ছ থেকে পরবর্তী নির্বাচনের কাজটি
করেছি আমি, কলকাতায় বসে। এবং সবশেষে ঢাকায় গিয়ে সাজ্জাদের সঙ্গে বসে সেই
নির্বাচন চূড়ান্ত করেছি। ফলত, এই সংকলনে কবিতা-নির্বাচনের সিংহভাগ
কৃতিত্বই সাজ্জাদের।‘এ থেকে এটা পরিষ্কার যে, কোন কবিতা যাবে না যাবে সে
সিদ্ধান্ত নেবার অংশী রণজিৎ দাশ হলেও কার কবিতা এই সংকলনে যাবে না যাবে
সে সিদ্ধান্তটির পুরোটাই ছিল সাজ্জাদ শরিফের। অর্থাৎ কবি নির্বাচনের দায়
পুরোটাই ছিল তাঁর। এ বিবেচনায় জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আনোয়ার পাশা
প্রমুখকে এ গ্রন্থের প্রতিনিধিত্বশীল কবি হিসেবে দেখাতে চাওয়ার মোটিফ
নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতে পারি, যেমন প্রশ্ন তুলতে পারি প্রথম আলোতে
মুহম্মদ হাবিবুর রহমানের কবিতা নিয়মিত ছাপবার নেপথ্য কারণ নিয়েও।
বিস্ময় ৫
এ সংকলন প্রকাশিত না হলে আমার এটা জানা হয়ত বাকিই থেকে যেত যে, ফরহাদ
মজহার আবুল হাসানের চেয়েও গুণে-মানে উৎকৃষ্ট কবি। (আবুল হাসানের যেখানে
কবিতা ছাপা হয়েছে ৮টি সেখানে ফরহাদ মজহারের ছাপা হয়েছে ১২টি।)
সেই বইয়ের ৮টি কবিতা যদি এই সংকলনে স্থান পায় কার কী করার আছে? পুরো
বইটাই যে তুলে দেয় নাই তার জন্য তাকে বলা যেতে পারে 'সাধু' 'সাধু'...
রণজিৎ কী ভুতা হয়ে গেছে? তাঁর কী নিজের কোন বিবেচনাবোধ নেই।
জয় বাংলা কবিতা
মুক্তি মণ্ডল
| mujibda, kisu kisu lekha majhe-majhe pora hoy, r kisu kisu porbo porbo kore jome jay. jahok, ronojit das o sazzad shorif shompadito shongkolon nia apner kothagulo porlam. amar mone hoy sazzad bhai ai shongkoloner shobcheye kacha kaj korese tar (nijer) o jafor ahmed rased bhaier kobita nie. r oporadh (crime) korese chonchol ashraf, soeb sadaper kobita na nia. rifat chowdhury, bishnu biswas thakle valo hoto. r jillur rahman siddikider shonkolone thai dea mane kobiderke opoman kora. --- On Wed, 3/25/09, মুজিব মেহদী <m.m...@gmail.com> wrote: |
On Mar 26, 4:52 am, Ashraf Shishir (আশরাফ শিশির)
<ashrafshis...@gmail.com> wrote:
> মুজিব ভাই,
> শুভেচ্ছা।
> বেশ কয়েকদিন পর একটু ফুরসত মিলল দুএকটা মেইল পড়ার। সংকলনের ব্যপারটিকে ইতিবাচক
> ভূমিকায় পড়তে গিয়ে সেই একই জিনিস জানতে পারলাম। আর তা হচ্ছে গতানুগতিক সেই
> ধারা। সেই গোষ্ঠীবদ্ধতা, অথবা গোষ্ঠি ভেংগে আর একটা গোষ্ঠি অথবা কতগুলো গোষ্ঠির
> সমন্বয় করে নিজেকে জাহির করা।
> তাই আমার " বাংলা সাহিত্যে এ যুগে কোন প্রোফেট নাই" কথাটি আবারো যুক্তিযুক্ত
> হল।
>
> একটা প্রশ্ন চলে এল, মুজিব ভাই, আমি জানি না আপনার লেখা তারা ছেপেছে কি না, যদি
> ছাপা না হয়ে থাকে, তাহলে যদি ছাপা হত তাহলে কি আপনি এভাবে লিখতেন? জানার ইচ্ছে
> রইল।
> আশরাফ শিশির
> 2009/3/26 মুজিব মেহদী <m.me...@gmail.com>
> ...
>
> read more »
জসীমউদদীন, আহসান হাবীব, ফররুখ আহমদ, আবদুল গণি হাজারী, আবুল হোসেন,
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আনোয়ার পাশা, শামসুর রাহমান, আজিজুল হক, হাসান
হাফিজুর রহমান, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, বেলাল
চৌধুরী, ওমর আলী, সুরাইয়া খানম, অরুণাভ সরকার, শহীদ কাদরী, সিকদার আমিনুল
হক, রফিক আজাদ, আসাদ চৌধুরী, আবদুল মান্নান সৈয়দ, মোহাম্মদ রফিক, মহাদেব
সাহা, আবু কায়সার, নির্মলেন্দু গুণ, রুবী রহমান, সানাউল হক খান, হুমায়ুন
আজাদ, আবুল হাসান, ফরহাদ মজহার, হুমায়ুন কবীর, আলতাফ হোসেন, খোন্দকার
আশরাফ হোসেন, আবিদ আনোয়ার, দাউদ হায়দার, শিহাব সরকার, আবিদ আজাদ, রুদ্র
মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, নাসিমা সুলতানা, কামাল চৌধুরী, তুষার দাশ, ফরিদ
কবির, মাসুদ খান, আবু হাসান শাহরিয়ার, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, তসলিমা নাসরিন,
সাজ্জাদ শরিফ, শান্তনু চৌধুরী, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, ব্রাত্য রাইসু,
টোকন ঠাকুর, মজনু শাহ, জাফর আহমদ রাশেদ, রোকসানা আফরীন, কামরুজ্জামান
কামু, শামীম রেজা, শামীম কবীর, বদরে মুনীর ও শাহীন মোমতাজ
On Mar 26, 1:47 pm, mahmud shawon <vuttus...@yahoo.com> wrote:
> mujibda,
> kisu kisu lekha majhe-majhe pora hoy, r kisu kisu porbo porbo kore jome jay. jahok, ronojit das o sazzad shorif shompadito shongkolon nia apner kothagulo porlam. amar mone hoy sazzad bhai ai shongkoloner shobcheye kacha kaj korese tar (nijer) o jafor ahmed rased bhaier kobita nie. r oporadh (crime) korese chonchol ashraf, soeb sadaper kobita na nia. rifat chowdhury, bishnu biswas thakle valo hoto. r jillur rahman siddikider shonkolone thai dea mane kobiderke opoman kora.
>
> --- On Wed, 3/25/09, মুজিব মেহদী <m.me...@gmail.com> wrote:
> পুরোটাই ছিল তাঁর। এ বিবেচনায় জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী,...
>
> read more »
> ...
>
> read more »
On Mar 26, 5:44 pm, Nazrul Islam <ami.naz...@gmail.com> wrote:
> পাত্তা না দেয়া ভালো হয় কেম্নে? এটাই তো রেফারেন্স হয়ে থাকতেছে...
>
> আমার ধারণা অনেক পাঠক এই বইটা কিনবেন, যারা কবিতা সম্পর্কে খুব একটা ধারণা
> রাখেন না। ৫০ জন কবির কবিতা আলাদা আলাদা করে খুজেঁ পড়ে বিচার করতে গেলে ঝামেলা,
> তারচেয়ে এক মলাটে "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা" পড়ে ফেলাই ভালো। এই বিচারে সাধারণ
> পাঠকেরা এই বই মারফতই জানবেন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা কোনগুলো। এটাই রেফারেন্স
> হয়ে যাবে। তো এটাকে পাত্তা না দেয়ার কিছু নাই।
>
> 2009/3/26 Monowar Hossein <mukte.man...@gmail.com>
>
> > সাজ্জাদ শরিফ যে কাজটা করেছে তা তাঁর কবিতা সম্পর্কে যে জ্ঞান যে রাজনীতি
> > তার ভেতর থেকেই করেছে। উনার এই কাজটাকে 'পাত্তা' না দেওয়ায় ভাল। উনার
> > বইটা কিনে পড়েছি, একটা কবিতাও ভালো লাগে নাই। টাকাটা পানিতে গেছে।
>
> > সেই বইয়ের ৮টি কবিতা যদি এই সংকলনে স্থান পায় কার কী করার আছে? পুরো
> > বইটাই যে তুলে দেয় নাই তার জন্য তাকে বলা যেতে পারে 'সাধু' 'সাধু'...
>
> > রণজিৎ কী ভুতা হয়ে গেছে? তাঁর কী নিজের কোন বিবেচনাবোধ নেই।
>
> > জয় বাংলা কবিতা
>
> > মুক্তি মণ্ডল
>
> > On 3/26/09, Ashraf Shishir (আশরাফ শিশির) <ashrafshis...@gmail.com> wrote:
> > > মুজিব ভাই,
> > > শুভেচ্ছা।
> > > বেশ কয়েকদিন পর একটু ফুরসত মিলল দুএকটা মেইল পড়ার। সংকলনের ব্যপারটিকে
> > ইতিবাচক
> > > ভূমিকায় পড়তে গিয়ে সেই একই জিনিস জানতে পারলাম। আর তা হচ্ছে গতানুগতিক সেই
> > > ধারা। সেই গোষ্ঠীবদ্ধতা, অথবা গোষ্ঠি ভেংগে আর একটা গোষ্ঠি অথবা কতগুলো
> > গোষ্ঠির
> > > সমন্বয় করে নিজেকে জাহির করা।
> > > তাই আমার " বাংলা সাহিত্যে এ যুগে কোন প্রোফেট নাই" কথাটি আবারো
> > যুক্তিযুক্ত
> > > হল।
>
> > > একটা প্রশ্ন চলে এল, মুজিব ভাই, আমি জানি না আপনার লেখা তারা ছেপেছে কি না,
> > যদি
> > > ছাপা না হয়ে থাকে, তাহলে যদি ছাপা হত তাহলে কি আপনি এভাবে লিখতেন? জানার
> > ইচ্ছে
> > > রইল।
> > > আশরাফ শিশির
> > > 2009/3/26 মুজিব মেহদী <m.me...@gmail.com>
> ...
>
> read more »
মিডিয়ামোড়ল না অইলে কি অরে অন্য কবিরা অমন কইরা পুছত কিনা তাও একটা
প্রশ্ন।
> ...
>
> read more »
--
Maruf Raihan
www.banglamati.net
আপনার মতের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। সমালোচনার ভাষা যৌক্তিক ও শালীন
হওয়া দরকার। কারো কারো মন্তব্যে-লেখায় এর ব্যত্যয় আমরা লক্ষ করেছি। প্রায়
প্রতি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়ে এবং কবিতাকথার প্রাসঙ্গিক
পোস্টে তাঁদের অনুরোধ জানানো হয়েছে ওরকমটি আর না করতে। তাছাড়া খসড়া
নীতিমালাটিও আমরা ইতোমধ্যে পোস্ট হিসেবে ঝুলিয়ে দিয়েছি, যেখানে এ বিষয়ে
নির্দেশনা আছে।
একটা সংশয় কাজ করছে আমার মধ্যে যে, আমার লেখাটিতেও আপনি অশালীন ও
অযৌক্তিক কিছু খুঁজে পেলেন কি না! আমি জ্ঞানত তা করতে চাই নি।
On Mar 27, 10:33 pm, maruf raihan <marufraiha...@gmail.com> wrote:
> মুজিব,
> আপনার প্রাসঙ্গিক চিঠির উত্তর দিয়েছি ফেসবুকে।
> দ্বিতীয়ত, একটি অনুরোধ জানাতে চাই। যারা কবিতা লেখেন বা পড়েন, মানে কবিতা
> ভালোবাসেন, তাদের বক্তব্য যা-ই হোক, সমালোচনার ভাষাটা যেন শালীন হয়।
> কোনো প্রবীণ কবিতা-লেখককে কেউ খারিজ করতে হলে করবেন, কিন্তু যুক্তিবুদ্ধির
> সঙ্গে করাই তো সমীচীন। একই কথা প্রযোজ্য যে কোনো সম্পাদকের সমালোচনার বেলায়ও।
> ধন্যবাদ।
> _ মারুফ
>
> ...
>
> read more »
গনি আদমের উদ্দেশে:
বিশেষ করে আমাকে আর রাইসুকে কেন এই সংকলনের ব্যাপারে মন্তব্য করতে বললেন, বলবেন কি? সে কি এ-কারণে যে সাজ্জাদ শরিফ আমাদের ব্যক্তিগত বন্ধু, এবং কাজেই হয়তো তার "পেটের খবর" কিছু পাওয়া যেতে পারে আমাদের কাছে? সেক্ষেত্রে সরাসরি সাজ্জাদকেই এই প্রশ্নগুলি কোনোমতে করা যায় না কি? ওঁর তরফের কথাগুলিও যদি এই একই প্ল্যাটফর্মে শোনা যেত তো অন্তত তাঁর সমালোচকদেরও কথা সঙ্গত কিনা তা যাচাই করতে পারবার একটা অবস্থা তৈরি হত।
নাকি এই সংকলনে নির্বাচিত হবার অপরাধে আমাদের কিছু জবাবদিহি করবার আছে?
আমি, বলা বাহুল্য, সংকলনটি দেখি নি, এবং এর বিষয়ে কিছুই জানতাম না সাজ্জাদ আমার কাছে বায়োডাটা চাইবার আগে। এখনোঅব্দি জানি না আমার কোন কবিতাগুলিকে সে নিয়েছে, বা আর কাঁদের কোন কোন কবিতা গেছে।
মুজিবের তরফে বইয়ের লেখকসূচি জানতে পারলাম এবং আমার কিছু অসন্তোষও হল। আমার প্রিয় ক'জন কবি বাদ পড়াতে আমার খারাপ লেগেছে, এঁদের মধ্যে খোন্দকার আশরাফ হোসেন, অসীমকুমার দাস, বিষ্ণু বিশ্বাস, সৈয়দ তারিক, শোয়েব শাদাব, মারুফ রায়হান, রিফাত চৌধুরী, আহমেদ নকীব, সুমন রহমান পড়েন। অবশ্য এঁরা প্রত্যেকেই আমার ঘনিষ্ঠ আপনজন, তো এই অসন্তোষকেও আবার ঘুরেফিরে গোষ্ঠিপ্রীতিই বলা যায় কিন্তু।
প্রত্যুত কয়েকজন কবিকে, আমি সংকলনটি করলে হয়তো বিবেচনা করতাম না, কিন্তু তাঁদের নাম উল্লেখ করতে চাইছি না আমি।
কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দ্যাখেন যদি তো স্বীকার নিশ্চয়ই করবেন এমন একটি সংকলনে কবিতা/কবি নির্বাচন কী দুরূহ একটি কাজ- আপনি যাঁদেরকেই অন্তর্ভুক্ত করুন না কেন, সবাই তাতে সুখী হবে না, অনেকেই বাদ পড়বেন যাঁদেরকে কারো না কারো গুরুত্বপূর্ণ কবি মনে হবেই; সংকলয়িতার অনেক সিদ্ধান্তকেই আনজাস্টিফায়েড মনে হবে (যেমন আমার মনে হয়েছে যে টোকন বা রাশেদ বা মজনু বা শাহীনের কবিতা এখানে থাকতে পারলে নকীব বা সুমনের কবিতা কেন পারল না, বা সিনিয়র কবি যাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাঁদের সকলেই, নামজাদা হওয়া সত্ত্বেও, ভালো কবি কিনা, ইত্যাদি)।
কিন্ত ঐ দু'একটি খটকা বাদ দিলে কবি-নির্বাচন আমার কাছে মোটের উপর যথাযথ মনে হয়েছে। তদুপরি আমি সম্পাদকের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, কাজেই কিছু অস্বস্তি থাকলেও, তাঁর কাজকে তাঁরই কাজ মেনে নিয়ে তাঁকে সাধুবাদ জানাতে চাই।
প্রশ্ন হতে পারে যে আমি এ-সংকলনে বাদ পড়লেও কি এটা বলতাম? কে জানে। খুবসম্ভব বলতাম না। এবং কাজেই যে উত্তপ্ত আলোচনা চলছে এখন, সেটাকেও স্বাভাবিকই মনে করি।
সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ
মারুফ,
কিঞ্চিত্তম সৌজন্য পর্যন্ত আশা করাও অন্যায়, ইন দিস টাইম অ্যান্ড এজ। নইলে এমন ভাষা আর ভঙ্গিতে একজন কবি আরেকজন কবির বিষয়ে বলতে পারতেন কিনা আমি জানি না। এটা কি কবিদের গ্রুপ নয় তাহলে? মুজিব ভালো জানবেন।
আমার নিজেরও বেশ চড়া কথা শুনতে হয়েছে এ-গ্রুপে, দেখতে হয়েছে তখন-অনুপস্থিত রাইসুর হেনস্তাও। রাইসু একবার কবিসভার পাশাপাশি "নিন্দাসভা" করবার প্রস্তাব করেছিল, আমাদের চরিত্রের এই মহান্ দিকটির বিবেচনায়।
এ যাবত্ নিন্দা ব্যতীত আর কোনো আলাপে আমি কারো উত্সাহ দেখতে পেলাম না তেমন। তপন ছন্দ নিয়ে কথা বলতে চাইল, কবিরা তাতে নিশ্চুপ।
যা হোক। ভালো আছেন তো?
সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ
"মর্নিং শোজ দ্য ডে"- এমন একটা আপ্তবাক্য তো আছেই। এক্ষেত্রে সূচিটা
হচ্ছে মর্নিং। তা দেখলে সংকলনে কবি ভেদে কবিতার সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে
বিস্মিত হওয়ার সুযোগ বোধহয় থাকে না।
***
তবে সংকলন নিয়ে যুক্তিপূর্ণ কথা বলতে গেলে সংকলনটি কিনে পড়তে হবে। এই
সংকলনের একটি কপি কিনে সেটার বিক্রি এক কপি বাড়ানোর পক্ষপাতী আমি নই।
On Mar 29, 2:43 am, muzib mehdy <m.me...@gmail.com> wrote:
> আপনার স্বর হঠাৎ বদলালো মনে হয়। কারণ জানতে চাইতে পারি কি?
>
> এ সংকলনকে আমি বাংলাদেশের কবিতার প্রতিনিধিত্বশীল সংকলন ভাবতে পারি নি, এখনো
> পারছি না। কাজেই আমার আপত্তি ছিল, আপত্তি আছে, আপত্তি থাকবে।
>
> 2009/3/29 sumon rahman <sumanrah...@hotmail.com>
>
>
>
> > পশ্চিমবঙ্গের কবি রণজিৎ দাশ এবং বাংলাদেশের কবি সাজ্জাদ শরিফ এর যৌথ
> > সম্পাদনায় সম্প্রতি "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা" নামে একটা সংকলন বেরিয়েছে
> > কলকাতার একটা প্রকাশনা সংস্থা থেকে। সেখানে জসীম উদদীন থেকে শাহীন মোমতাজ
> > পর্যন্ত (দশকের হিসেবে চল্লিশের দশক থেকে নব্বই দশক) ষাটজন কবির কবিতাকে স্থান
> > দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে মুজিব মেহদী তাঁর ফেসবুক নোটে
> > <http://http://www.facebook.com/home.php#/note.php?note_id=76113929687...>এবং
> > কবিতাকথা<http://groups.google.com/group/kobitakotha/browse_thread/thread/11ad0...>গুগুলগ্রুপে কিছু "বিস্ময়" উত্থাপন করেছেন। কিন্তু সেই প্রসঙ্গ ধরে আলোচনা
> > আগ পর্যন্ত মাইক্রোস্কোপ দিয়ে কবি খুঁজে খুঁজে বার করে...
>
> read more »
--
This message has been scanned for viruses and
dangerous content by OpenProtect(http://www.openprotect.com), and is
believed to be clean.
2009/3/29 Goutam Roy <gout...@brac.net>:
--
ভাটির মানুষ আমি বুঝিনা উজানের গতি
মুক্তি মণ্ডল
--
This message has been scanned for viruses and
dangerous content by OpenProtect, and is
believed to be clean.
2009/3/30 Tapan Bagchi <drbagch...@gmail.com>:
--
একজন আউটসাইডার হিশেবে এখানে একটা প্রশ্ন তোলা যায় কিনা ভাবছি। সেটা
কাউকে আহত করার জন্য নয়, শুধুই লজিকের খাতিরে। এই ব্যাপারটাকে সমস্যা না
ভেবে সহজিয়া ভাবা যায় কি?
সম্পাদক ইতিহাসের দায়-মেটানো কবিতার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কারণেই লিবারাল।
কেননা সেখানে ইতিহাস বিচারই বিবেচ্য, প্রধানত কবিতা বিচার নয়। কবিতার
দায়-মেটানো কবিতার ক্ষেত্রে স্বভাবতই আমাদের হতে হবে কনজারভেটিভ। আশির
দশকে কবিতার বাঁক বদল বা দিন বদলের সৈনিক তো সবাই নাও হতে পারে।
সেক্ষেত্রে সম্পাদক যদি চুনে চুনে চুনিপান্না বেছে নিতে চান, সেটাই
স্বাভাবিক হবে, কেননা এক্ষেত্রে কাব্যমূল্যই বিচার্য, আর কিছু নয়। কাজেই
সম্পাদক যখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান, বাংলাদেশের কবিতার দুইটি পর্ব রয়েছে,
তখন সেই দুই পর্বের কবিতা বাছাইয়ে দুইটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির আশ্রয় নেয়া
যথাযথ ও সুচিন্তিত নয় কি?
2009/3/30 maruf raihan <marufr...@gmail.com>:
রণজিৎ দাশ বা সাজ্জাদ শরিফ আমাদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নন,
এঁরা এই গ্রুপের সদস্য হলে আমরা ততটা আশা করতে পারতাম হয়ত।
ভাই, আপনি আমাকে খুব লজ্জার মধ্যে ফেলে দিলেন। নিজে অপরাধীও হলেন। কারণ
কবিতা লেখা বারণ এখানে। আমি তা সমর্থনও করি।
আপনাকে তো বটেই, সুব্রতদা ও মারুফ ভাইকে ধন্যবাদ জানাই, প্রশংসা শুনতে
কার না ভালো লাগে!
তবে কবি হিশেবে আমার নামের ভুল বানান দেখে খানিকটা চোট লেগেছে। আরবি
শুদ্ধ উচ্চারণ গালীব হলেও বাংলার গালিব---এমন বানানেই স্বস্তি পায়।
উল্লেখ্য, কবিতাটি গ্রন্থভুক্ত হবার সময় শেষ অনুচ্ছেদে কিছুটা পাল্টে
গেছে। কিছুটা নির্লজ্জতা হবে হয়তো, তবু পরিবর্তনটা তুলে দিলাম :
ঠিক যেন এই শূন্য চরাচরে---কাঁকরে পাথরে
কবে নিমরাত জ্যোৎস্না-আঁধারের দ্বিধাদ্বৈত নাচে
শ্বেত পায়রা হয়ে তার যুগল পাখনায়
আমি এনেছি তোমার কাছে সিন্ধু-বার্তা এক হৃদয়ের---
তুমি দাও এঁকে ওর পায়, পায়ের আঙুলে
হিঙুলের ফোঁটা---রাঙাচিহ্নঘের---প্রবালপ্রাচীরচূর্ণ ধুলা ও কাদায়---
দাও ঢেউয়ে ঢেউ ভাঙা অস্তসূর্যকণা---গলিত পারদপুষ্পভার
রক্তজলধির পারে জেগে ওঠা এক
ভুবনডাঙার।
2009/4/3 maruf raihan <marufr...@gmail.com>:
এত গালিগালাজের মধ্যে একটা কবিতা পোস্ট করে আমাদের আসল কাজটা কী, তিনি
সেটা মনে করিয়ে দিলেন না তো ?
কবিতাটা তার কেন ভাল লাগলো সেটা বলতে পারতেন।
On Apr 3, 12:58 pm, Shamset Tabrejee <shamsettabre...@gmail.com>
wrote:
> মুজিব ঠিক কথাই বলেছেন।
> আর আমি ইউনিকোডে বাঙলা প্র্যাক্টিস করছি।
>
> 2009/4/3 Sohel Hasan Galib <krantic.ga...@gmail.com>
>
>
>
> > যিনি এই কবিতা পোস্ট দিয়েছেন, তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয় নেই আমার।
>
> > ভাই, আপনি আমাকে খুব লজ্জার মধ্যে ফেলে দিলেন। নিজে অপরাধীও হলেন। কারণ
> > কবিতা লেখা বারণ এখানে। আমি তা সমর্থনও করি।
>
> > আপনাকে তো বটেই, সুব্রতদা ও মারুফ ভাইকে ধন্যবাদ জানাই, প্রশংসা শুনতে
> > কার না ভালো লাগে!
>
> > তবে কবি হিশেবে আমার নামের ভুল বানান দেখে খানিকটা চোট লেগেছে। আরবি
> > শুদ্ধ উচ্চারণ গালীব হলেও বাংলার গালিব---এমন বানানেই স্বস্তি পায়।
> > উল্লেখ্য, কবিতাটি গ্রন্থভুক্ত হবার সময় শেষ অনুচ্ছেদে কিছুটা পাল্টে
> > গেছে। কিছুটা নির্লজ্জতা হবে হয়তো, তবু পরিবর্তনটা তুলে দিলাম :
>
> > ঠিক যেন এই শূন্য চরাচরে---কাঁকরে পাথরে
> > কবে নিমরাত জ্যোৎস্না-আঁধারের দ্বিধাদ্বৈত নাচে
> > শ্বেত পায়রা হয়ে তার যুগল পাখনায়
> > আমি এনেছি তোমার কাছে সিন্ধু-বার্তা এক হৃদয়ের---
> > তুমি দাও এঁকে ওর পায়, পায়ের আঙুলে
> > হিঙুলের ফোঁটা---রাঙাচিহ্নঘের---প্রবালপ্রাচীরচূর্ণ ধুলা ও কাদায়---
> > দাও ঢেউয়ে ঢেউ ভাঙা অস্তসূর্যকণা---গলিত পারদপুষ্পভার
> > রক্তজলধির পারে জেগে ওঠা এক
> > ভুবনডাঙার।
>
> > 2009/4/3 maruf raihan <marufraiha...@gmail.com>:
> > > অনূদিত হচ্ছি আজ সব দেশে ধুলি ও তুষারপাতে
> > > সকাল শুরু হোক ভাল কবিতা দিয়ে। ধন্যবাদ।
>
কবিতাটা প্রথম পাঠ করেছিলাম সাজ্জাদ ভাইয়ের বাসায়। উপস্থিত ছিলেন মাসুদ
ভাই ও মজনু ভাই। কবিতাটা তখন ছিলো---ছুটে আসছে শৈত্যপ্রবাহ, নামছে
কুয়াশা, ঢেকে যাচ্ছে ঐ দিগ্বিদিক---এই লাইন পর্যন্ত। পাঠ শুনে সাজ্জাদ
ভাই বললেন, কবিতাটা যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হয়েছিলো, সেটা পূরণ না করেই
হঠাৎ যেন শেষ হয়ে গেল। আশলে আমারও এই মত। এরপর ভয়ঙ্কর কথাটা বললেন তিনি,
গালিব, আমাদের পক্ষে কিছু কিছু শব্দ অনিবার্য না হলে, ব্যবহার না করাই
ভালো। যেমন নীল শব্দটা, এটা এত ব্যবহৃত যে এটা এখন পরিহার করা উচিৎ। আমি
তাকালাম আমার কবিতার দিকে, দেখি---ভেসে এসেছিলো লাল কৃষ্ণচূড়া নীল
তরঙ্গের ঝুঁটি ধরে। আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, মুষড়ে গেলাম লজ্জায়। অবাক হয়ে
লক্ষ করলাম, যে চার-পাঁচটা কবিতা নিয়ে এসেছিলাম পড়ার জন্য, প্রত্যেকটাতে
একটা করে 'নীল' আছে।
ঘরে ফিরে বাংলা কবিতার তত্ত্ব-তালাশে নেমে গেলাম। এবং আবিষ্কার করলাম,
বাংলা কাব্যে নীলের নির্লজ্জ রকমের ছড়াছড়ি। আচ্ছা এর কারণ কী? মাথার উপর
মস্ত আকাশটা নীল---তাই? রবীন্দ্রনাথ যে শর্ষেফুল নিয়ে গান লিখেছেন, শালার
ঐখানেও নীল---নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগল, বসন্তে সৌরভের শিখা জাগল।
(বসন্তে রবিদা চোখে শর্ষেফুল দেখলেন কী করে? এটা তো শীতকালে দেখার কথা)
যা হোক, আমি নীল শব্দটা বাদ দিলাম না। কারণ আমি নীলের উপর লালকে চড়াতে
চেয়েছি। উপায় নাই। কিন্তু কবিতার শেষ অংশটা লিখে মাসুদ ভাইকে আবার পড়তে
দিলাম। তিনি বললেন, কবিতার স্বরভঙ্গ ঘটেছে। শেষের দিকে সুরটা চেঞ্জ হয়ে
গেছে। আমিও লক্ষ করলাম, একটু বেশি রিদমিক। মজনু ভাইকে পড়তে দিলাম। তার
অভিমত, কবিতাটাকে পিরামিডে যাবার আগেই শেষ করে দিতে পারলে ভালো হতো।
কিন্তু সেও কি সম্ভব?
আমি বন্ধু মাদল হাসানকে পড়তে দিলাম, রাশেদুজ্জামান আর তারিক টুকুকেও
দিলাম। আর কাকে কাকে যেন দিয়েছিলাম। ওরা মোটের উপর ভালোই বললো (সেটা
চক্ষুলজ্জায়ও হতে পারে)। আমি আশলে সমর্থনই খুঁজছিলাম। কবিতাটা আমি জানি,
অনেক জোড়াতালি দেয়া। আমার নিজেরই অস্বস্তি আছে একে নিয়ে। এ জগৎটাও তো
জোড়াতালি দেয়া। তবুও মোটের উপর ভালোই চলছে---এই আর কি। শেষ পর্যন্ত
কবিতাটা আমার বইতে ঠাঁই পেল।
কাজেই এ কবিতার দুর্বলতা নিয়ে গনী ভাই যা বলেছেন, এর প্রকৃত দশা তারোধিক।
যেটুকু ভালো লেগেছে, সেটুকুও আমার নাগালের বাইরে।
গালিব