
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কী করছে জানি না। সড়কগুলো কবে ঠিক হবে জানি না। শুধু ভোট পাওয়ার জন্য রাজনীতি আর দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি এক কথা নয়। আমাদের দেশটাকে রাজনীতিবিদরা যখন যথার্থভাবে ভালোবাসবেন, যখন যথার্থভাবে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জেগে উঠবে, তখনই এই সংস্কারগুলো করা সম্ভব। দেশটা ক্রমশঃ বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। সেটা শুধু একা আমার জন্যে না– আমার একার কথা আমি ভাবছিনা–একটা সম্প্রদায় হিসেবে আমি ভীত হয়ে পড়েছি। দেশটা চলছে কীভাবে?
আর্সেনিক সমস্যা, পল্যুশন সমস্যা, সাউন্ড পল্যুশন– এইসব সমস্যা যারা করছে এবং দুর্নীতি করছে, যারা অপরাধ করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। কয়েকটা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেই কিন্তু এসব বন্ধ হয়ে যাবে।
খাওয়ার মধ্যে বিষ, সবজি ও ফলমূলে কার্বাইড, মাছের মধ্যে ফর্মালিন–এগুলো যারা করে তাদেরকে কেন বড় ধরনের শান্তি দেয়া হয় না? সরকারের খাজাঞ্জিখানায় আমাদের ট্যাক্স যাচ্ছে না? এই ট্যাক্স দিয়ে আমরা কী পাচ্ছি সরকারের কাছ থেকে? রাস্তায় বেরুলে পুলিশ বা র্যাব মেরে ফেলবে। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?
আমার এক বন্ধু চলে গেছে বিদেশে। আমি তাকে বললাম, মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তুই দেশ ছেড়ে চলে গেলি! ও আমাকে অদ্ভুদ একটা কথা বলেছিলো। ও বললো, এই দেশটার জন্য যুদ্ধ করি নাই, বন্ধু। যেই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম সেটা এই দেশ না। এই দেশটা কুৎসিত হয়ে গেছে, এই দেশটা বেঁচে থাকার জন্য অমানবিক এবং বিশ্রী। এরকম অসভ্য একটা পরিবেশে আমি কেন থাকবো? আমি তো সভ্য মানুষ।
আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আছে যে আমরা হচ্ছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। কিন্তু কোথায়, কোথায় আমরা শ্রেষ্ঠ? আমরাতো শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করতে পারি না। আমাদের দেশের যিনি নোবেল পুরস্কার পেলেন তাকে আমরা অপমান করি। কল্পনা করা যায়?
এই দেশের শিক্ষকরা, আল্লাহর পরই যাদের অবস্থান, তারা ছাত্রীদের উপর যৌন নিপীড়ন করে।
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো সঠিক জায়গায় সঠিক মানুষটি নাই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সব অযোগ্য মানুষ ক্ষমতা নিয়ে বসে আছে। একটা মুর্খলোক কী দেবে মানুষকে? সে মানুষকে কোন পথ দেখাবে? সে তো নিজেই অন্ধ। তার তো জ্ঞান নাই। এই অবস্থায়–আমার প্রশ্ন– আমরা এখন কী করবো?
হুমায়ুন ফরীদি: টিভি-নাটক ও চলচ্চিত্রের অভিনেতা।