jazakallah
On 9/6/13, Abu Umaamah <
sadi...@gmail.com> wrote:
> *হাদীসের আলোকে ক্ষমা ও
> সহিষ্ণুতা*<
http://www.hadith-sunnah.com/forgiveness-and-patience-in-accordance-with-hadith.html>
>
> [ 20.06.2012 ] Muhammad Abdul Hamid
>
> বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বোত্তম
> চরিত্রের অধিকারী। যার চরিত্রকে হাদীস শরীফে কুরআনের বাস্তব রূপ আখ্যা দেওয়া
> হয়েছে। ক্ষমা, সহিষ্ণুতা ও উদারতার ক্ষেত্রে তাঁর কাছাকাছি কোনো দৃষ্টান্ত এ
> ধরিত্রি কোনো যুগে জন্ম দিতে পারেনি। যাঁর মুবারক জীবনের পুরোটাই ছিল ক্ষমা ও
> সহিষ্ণুতার সফেদ চাদরে আবৃত।
> *ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার নববী দৃষ্টিকোণ*
> মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুদীর্ঘ সোহবতপ্রাপ্ত চাচাত ভাই
> হযরত আলী রা. তাঁর মহান চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা.
> মন্দের বদলা মন্দের দ্বারা নিতেন না; বরং ক্ষমা ও মার্জনা করতেন। তিনি কখনো
> কারো ওপর হাত তুলেননি একমাত্র জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ ছাড়া। কখনো কোনো খাদেম
> কিংবা মহিলার উপর হাত উঠাননি। কোনো প্রকার জুলুমের প্রতিশোধ নিতে কেউ তাঁকে
> কখনো দেখেনি, যতক্ষণ না কেউ আল্লাহর নির্ধারিত হুদূদ বা সীমারেখা লংঘন করেছে।
> যখন আল্লাহর কোনো হুকুম লংঘিত হত তখন তিনি সবচেয়ে বেশি ক্রোধান্বিত হতেন।
> -শামায়েলে তিরমিযী; আস্সীরাতুন্নববিয়্যাহ- সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী, পৃষ্ঠা
> : ৩৪৩
> *ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার ফযীলত*
> সমাজ-বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করতেন
> না; বরং সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট মাথা পেতে গ্রহণ
> করাকেই শ্রেয় মনে করতেন। তিনি ইরশাদ করেন- ‘যে মুসলমান মানুষের সাথে মিলে থাকে
> এবং তাদের কষ্ট ও আঘাত সহ্য করে সে ঐ ব্যক্তি থেকে অধিক শ্রেয় যে কারো সাথে
> মিলে না এবং কারো কষ্ট সহ্য করে না।’ -তিরমিযী; মিশকাত ২/৪৩২
> হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো
> বলেন, ‘দানে কোনোদিন ধন কমে না; ক্ষমার কারণে আল্লাহ কেবল মর্যদাই বৃদ্ধি
> করেন। আর যে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয় আল্লাহ তার সম্মান অবশ্যই বৃদ্ধি করে দেন।
> -মুসলিম; তিরমিযী ২/২৩
> আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত আরেকটি রেওয়ায়াতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
> ওয়াসাল্লাম সহিষ্ণুতার মর্যাদা তুলে ধরে বলেন, ‘হযরত মুসা আ. আল্লাহ তাআলাকে
> জিজ্ঞেস করেন, হে রব! তোমার নিকট কোন বান্দা বেশি মহিমান্বিত? জবাবে আল্লাহ
> বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেয়।’
> -মিশকাত ২/৪৩৪
> *সহনশীলতার নববী প্রশিক্ষণ*
> নবীজীর সহনশীলতার বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর খাদেম হযরত আনাস রা. বলেন, আমি দশ বছর
> ধরে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেদমত করেছি। তিনি আমার
> কোনো আচরণে বিরক্ত হয়ে কখনো উহ্ বলেননি এবং কখনো বলেননি যে, অমুক কাজ কেন
> করলে? অমুক কাজ কেন করলে না? -মুসলিম, কিতাবুল ফাযাইল ২/২৫৩
> হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, একবার এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দিল।
> লোকেরা তা দেখে তেড়ে এল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে
> থামিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে ছেড়ে দাও এবং এক বালতি পানি ঢেলে স্থানটি ধুয়ে দাও।
> মনে রেখ, তোমাদেরকে সহজ-সাধ্যকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কাঠিন্য সৃষ্টিকারী
> হিসেবে নয়। -বুখারী, কিতাবুল উযূ, ১/৩৫
> উম্মতকে তিনি নসীহত করে বলেন, ‘যে তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার সাথে তুমি
> মিলে যাও, যে তোমার ওপর জুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও, যে মন্দ আচরণ করে, তার
> সাথে সদাচরণ কর।’
> এমনি আরো অসংখ্য হাদীস রয়েছে। সবগুলো অধ্যয়ন করলে মোটামুটি যে কথাগুলো বের হয়
> তা হচ্ছে : সহনশীলতা তিক্ত হলেও এর ফল সুমিষ্ট, সহনশীলরা যেমন আল্লাহর
> প্রিয়পাত্র তেমনি মানুষেরও প্রিয়প্রাত্র। সহনশীলতা একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিনের
> জীবনের উপাদান। মানুষ যখন সহনশীল হয় তখন আল্লাহর ফেরেশতাগণ তাদের পক্ষে
> সুপারিশ করেন।
> *অসহিষ্ণুতা পরিহারের নির্দেশ*
> ইসলাম সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতাবিরোধী সকল প্রকার হিংসাত্মক ও অসৌজন্যমূলক
> আচার-আচরণ পরিহার করার উদাত্ত আহবান জানায়। হাদীস শরীফের ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা
> মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, তা জঘন্য মিথ্যা। তোমরা একে অন্যের
> ছিদ্রান্বেষণ করবে না, একে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না, প্রতারণা করবে না,
> পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ রাখবে না, একে অন্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাবে না; বরং
> আল্লাহর বান্দা হিসেবে সকলে ভাই ভাইয়ে পরিণত হবে। -বুখারী ২/৮৯৬
> বস্ত্তত অন্যকে সহ্য করতে পারাই সবচেয়ে বড় বীরত্ব। আদর্শের শক্তিই সবচেয়ে বড়
> শক্তি। এ শক্তি যতদিন পর্যন্ত মুসলমানদের মাঝে ছিল ততদিন তারা ছিল উন্নত শির।
> তাদের মধ্যে ছিল না কোনো প্রকার অন্তর্দ্বন্দ্ব, অহমিকা, একগুঁয়েমি ও
> বাড়াবাড়ি। চলমান বিশ্বের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিশোধ ও হিংসার যে
> দাবানল ঘূর্ণিবেগে ছুটছে তা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ হচ্ছে- ক্ষমা ও
> সহিষ্ণুতার রজ্জু শক্তভাবে ধারণ করা।
> *অমুসলিমদের সাথে সহিষ্ণুতা*
> অমুসলিমদের সাথে সহিষ্ণুতা ও উদারতার বিষয়টি ইসলামী ইতিহাসের এক উজ্জ্বলতম
> অধ্যায়। মুসলিম জাতির পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর ইসলাম যেমনিভাবে
> গুরুত্বারোপ করে তেমনি অমুসলিমদের সাথে উঠা-বসার ক্ষেত্রেও ক্ষমা ও মহানুভবতার
> আহবান জানায়। ইসলামী খিলাফাতের অধীনে বসবাসকারী অমুসলিমদের সাথে ইসলামী শাসকগণ
> যে ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা
> রয়েছে।
> ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বকালের
> বিশ্ববাসীর জন্য ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার মূর্তআদর্শ। চরম থেকে চরমতর শত্রুদের
> সঙ্গেও তিনি যে সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন তা রীতিমত ইসলাম বিদ্বেষীদেরকেও
> হতচকিত করে দিয়েছিল। ঈমানী প্রাণ সঞ্চার করেছিল বহু অমুসলিমের অন্তরে।
> *সহিষ্ণুতার কয়েকটি দৃষ্টান্ত *
> *১.* যখন মুনাফিক-সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলূলকে কবরে নামানো হয়
> তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গমন করে তাকে কবর থেকে বের
> করার নির্দেশ দেন। এরপর তার লাশ স্বীয় হাটুর ওপর রাখেন, মুবারক মুখের পবিত্র
> থুথু তার শরীরে দেন এবং নিজের পরিধেয় জামা তাকে পরিয়ে দাফন করেন। (বুখারী,
> কিতাবুল জানাইয ১/১৮২)
> *২.* যায়েদ নামের এক ইয়াহুদী পাদ্রী মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
> সাথে একটি অগ্রিম কেনা-বেচা করল। নির্ধারিত সময়ের ২/৩ দিন পূর্বেই সে এসে মাল
> পরিশোধের দাবি করল। এমনকি চাদর মুবারক টেনে নবীজীর সঙ্গে বেআদবী করল। বিকৃত
> চেহারায় রূঢ় কণ্ঠে নবীজীর দিকে তাকিয়ে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমি তোমাকে চিনি।
> তোমরা আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর, বড় টালবাহানাকারী।’ সেখানে উপস্থিত ছিলেন
> হযরত উমর ফারুক রা.। নবীজীর সাথে লোকটির এ অশিষ্ট আচরণ দেখে তিনি ক্রোধান্বিত
> হয়ে তাকে ধমক দিলেন। কিন্তু রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখে
> ছিল হাসি। তিনি উমর রা.কে বললেন, উমর! আমি ও এ ব্যক্তি তোমার থেকে অন্যরূপ
> আচরণ পাবার হকদার ছিলাম। দরকার তো ছিল তুমি আমাকে সত্বর তার প্রাপ্য আদায় করার
> পরামর্শ দিতে আর তাকে কথায় ও আচরণে নম্রতা অবলম্বনের তাগিদ দিবে। এরপর তিনি
> উমর রা.কে প্রাপ্য পরিশোধের নির্দেশ দেন। এবং তাকে আরো ২০ সা বেশি দিতে বলেন,
> যা ছিল উমর রা. কৃর্তক লোকটিকে ধমক দেওয়ার বদলা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
> ওয়াসাল্লামএর এ সহিষ্ণু আচরণ লোকটির ইসলাম গ্রহণের কারণ হয়। যাওয়ার পথে যায়েদ
> উমর রা.কে বললেন, হে উমর! আমি হচ্ছি ইয়াহুদী-পন্ডিত যায়েদ ইবনে সানা। আসলে
> লেনদেন আমার উদ্দেশ্য ছিল না, বরং মহানবীর ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা পরীক্ষা করাই ছিল
> মূল উদ্দেশ্য। কারণ শেষ নবীর অন্যতম গুণ হবে এই যে, তাঁর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা
> ক্রোধের ওপর প্রবল থাকবে, যতই রূঢ় আচরণ করা হবে তার ক্ষমা ততই বৃদ্ধি পাবে।
> অতএব ওমর! আমি যা চেয়েছি তা পেয়ে গেছি। এরপর তিনি নবীজী সা. এর হাতে খালেছভাবে
> ঈমান আনেন এবং তাঁর অঢেল সম্পদের অর্ধেক উম্মতের জন্য দান করে দেন। -মুসনাদে
> আহমদ, ৩/১৫৩, আখলাকুন্নাবী পৃ. ১২৪
> *৩.* নজদ-অভিমুখী এক অভিযানের সময় পথিমধ্যে দ্বিপ্রহর হলে সাহাবীগণ একটি
> বিস্তীর্ণ বাগানের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
> রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাবুল বৃক্ষের ছায়ায় আরাম
> করছিলেন। তাঁর তলোয়ার বৃক্ষের ডালে ঝুলানো ছিল। এমন সময় এক বেদুঈন-কাফের
> তলোয়ারটি টেনে নামাল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে
> দেখেন তাঁর শিয়রে এ দুশমন তরবারী হাতে দাঁড়িয়ে আছে এবং বলছে, আমার হাত থেকে
> তোমাকে এখন কে বাঁচাবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে ওঠেন-
> ‘আল্লাহ!’ একথা শুনে তার আত্মা প্রকম্পিত হয়ে ওঠল। সে তলোয়ার কোষবন্ধ করে বসে
> পড়ল। নবীজী তাকে কোন শাস্তিই দিলেন না বরং ক্ষমা করে দিলেন। -বুখারী, কিতাবুল
> মাগাযী, ২/৫৯৩
> *৪.* আববাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
> ওয়াসাল্লাম একদিন নাজরানের চাদর পরিহিত ছিলেন। যার
> প্রান্তদেশ ছিল মোটা। পথে এক বেদুঈনের সাথে দেখা হতেই সে নবীজী সাল্লাল্লাহু
> আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাদর ধরে জোরে টান দিল, যার ফলে তাঁর গলায় দাগ পড়ে গেল।
> এরপর সে বলল, আল্লাহর যে মাল আপনার কাছে রয়েছে তা আমাকে দেওয়ার হুকুম দিন।
> করুণার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং
> প্রার্থিত বস্ত্ত দেওয়ার জন্য বললেন। -বুখারী, কিতাবুল জিহাদ
> *ক্ষমতার ওপর ক্ষমার প্রাধান্য*
> মক্কার সুদীর্ঘ ১৩ বছর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর
> সাহাবীগণের ওপর যে লোমহর্ষক, অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল, ক্ষমতা লাভ করার
> পরও এর কোনো প্রতিশোধ মুসলমানরা নেননি, এমনকি কখনো কাউকে বদদুআও করেনি।
> নবুওয়াতের ১০ম বছর তায়েফবাসীর হাতে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন মানবতার
> মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়-সমূহের
> ফেরেশতা কর্তৃক অত্যাচারী তায়েফবাসীকে পিষে মেরে ফেলার আবেদন করা হলে তা নাকচ
> করে দিয়ে রহমতের নবী বলেছিলেন, আশা করি এদের বংশধরদের মধ্যে কেউ লা-শরীক
> আল্লাহর ইবাদাতগুজার হবে। -যাদুল মা‘আদ, ১/৩০২
> *মুসলিম জাতি যখন সেরা শক্তি *
> মুসলিম জাতি যখন বিশ্বের সকল শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে সেরা শক্তিতে পরিণত, তখনো
> সহনশীলতা ও ক্ষমার বিধান থেকে একটুও সরে যায়নি। বরং বিজয়ের বিস্তৃতির সাথে
> সাথে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর রহমতের বিস্তৃতিও ব্যাপকতর
> হয়েছিল। যার ফলে আল্লাহ তাআলাও তার নুসরত ও রহমতের বারিধারা মুষলধারে বর্ষণ
> করতে শুরু করেন।
> ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মুলসমানগণ মোকাবেলায় সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও
> ইসলামের স্বার্থে বাহ্যত অবমাননাকর সন্ধি মাথা পেতে মেনে নিয়েছিলেন। যার
> ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা একে সুস্পষ্ট বিজয় হিসেবে কবুল করেন।
> ইসলামবিদ্বেষী শত্রুদের কেন্দ্রীয় ঘাঁটি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
> ওয়াসাল্লাম-এর মাতৃভূমি পবিত্র শহর মক্কা যেদিন মুসলমানরা জয় করেছিল সেদিন
> চিহ্নিত জালিমরা এদিক ওদিক ছুটছিল। তারা মসজিদুল হারামে দলে দলে জমায়েত হতে
> লাগল। সকলে কাতারবন্দী হয়ে নিজেদের শেষ পরিণতির ক্ষণ গুণছিল। এ শোচনীয় পরাজয়ের
> লাঞ্ছণা ও অবমাননার গ্লানিতে তারা ন্যুব্জ হয়ে পড়েছিল। এমনি সময়ে রহমতের নবী
> সেখানে প্রবেশ করেন। হারাম শরীফের দরজার কপাটে দাঁড়িয়ে তিনি সে রায়ই ঘোষণা
> করেন যা ইউসুফ আ. তাঁর ভাইদের ব্যাপারে ঘোষণা করেছিলেন। বলেছেন, ‘তোমাদের
> বিরুদ্ধে আজ কোনো অভিযোগ নেই। যাও, তোমরা মুক্ত।’
> যুদ্ধ-সম্রাট আবু সুফিয়ানের যখন শুভবুদ্ধির উদ্রেক হল তখন তিনিও মহানবী
> সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আত্মসমর্পণ করলেন। নবীজী তাকে শুধু
> ক্ষমাই করলেন না, ঘোষণা করলেন, যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে আশ্রয় নেবে তারাও
> নিরাপদ। রাসূলের এ মহানুভবতা আবু সুফিয়ানের হিংসাকে চিরতরে বিনাশ করে দেয়।
> তিনি খালেস মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। -আসসীরাতুন্নবিয়্যাহ পৃ. ৩৪৯;
> যাদুল মা‘আদ, ১/৪২১
> *আজ শান্তি ও দয়া প্রদর্শনের দিন*
> আনসার প্রধান সা’দ ইবনে উবাদা রা. শত্রুদের বিপন্ন অবস্থা দেখে বিজয় আনন্দে
> বলে ওঠেছিলেন, ‘আজ প্রচন্ড লড়াইয়ের দিন, আজ কাবার সীমানায় সব কিছু বৈধ হবে, আজ
> আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের অপমান করেছেন।’ সা’দের এ কঠোর ঘোষণা নবীজী সা. এক
> দারুণ শিল্পীত ভঙ্গিতে খন্ডন করে ক্ষমার বাণী শোনালেন। ঘোষণা করলেন, ‘আজ তো
> পরম দয়া ও ক্ষমা প্রদর্শনের দিন, আজ আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের সম্মানিত করবেন
> এবং কাবার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। -আসসীরাতুন্নবিয়্যাহ পৃ. ৩৫২
> *সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা *
> মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাবাসীদের মাঝে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা
> দিয়ে বললেন, আজ শুধু তারাই বঞ্চিত হবে যারা নিজেরাই নিরাপত্তা লাভে ইচ্ছুক নয়
> এবং যারা নিজেদের জীবন নিয়ে বিতৃষ্ণ। ব্যাপক নিরাপত্তার ঘোষণা দিয়ে নবী বলেন,
> যে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে আপন ঘরের দরজা বন্ধ করবে সে
> নিরাপদ, যে আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ। -সীরাতে ইবনে হিশাম
> ২/৪০৯
> *ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার প্রত্যক্ষ ফল *
> এ ক্ষমা প্রদর্শনের ফল এ দাঁড়াল যে, ইসলামী রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শত্রুদের হাত
> থেকে নিরাপদ হয়ে গেল। শত্রু বন্ধুতে পরিণত হল। অসংযমী পরহেযগার হয়ে গেল।
> বাঁধার সকল প্রাচীর ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। আল্লাহ তাআলা তাঁর নুসরাতের সকল
> দ্বার উন্মোচন করে দিলেন। দলে দলে মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিতে শুরু করল।
> এ মহানুভবতার বদৌলতেই মূলত মুসলিমবিরোধী সকল কার্যক্রমে নেতৃত্ব দান করা আবু
> সুফিয়ান রা., নবীজী প্রিয় চাচার সাথে পশুসুলভ আচরণ করা তার স্ত্রী হিন্দা রা.,
> চাচার হত্যাকারী ওয়াহশী রা., আবু জেহেলের ছেলে ইকরামা রা. প্রমুখ
> স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে উৎসাহ পেয়েছিলেন। মুসলমানদের সে সোনালী
> অতীত আবারও ফিরে পেতে হলে ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার গুণে মুসলমানদের গুণান্বিত হওয়ার
> কোনো বিকল্প নেই। - See more at:
>
http://www.hadith-sunnah.com/forgiveness-and-patience-in-accordance-with-hadith.html#sthash.qs7gjy14.dpuf
>
>
> --
> Abu Umaamah
>
> "*The firmest grasp of Eemaan* (Faith) is *loving for the sake of
> Allaah*and
> *hating for the sake of Allaah*."
> - Reported by At-Tabaraanee in Al-Kabeer (11/215), Al-Baghawee in
> Sharh-us-Sunnah (13/53). Ahmad (4/286) reported similar to it and
> Al-Albaanee authenticated it in As-Saheehah (no. 998) based on supporting
> evidences.
>
> "My Love is due for all those who love one another on account of Me,
> assemble together on account of Me, visit each other on account of Me and
> spend on each other on account of Me"
> - In the Hadith Al-Qudsi Reported by Muatta Malik
>
> --
> --
> Visit this group blog at
>
http://student-of-islam.blogspot.com/
> You received this message because you are subscribed to the Google
> Groups "Students_of_Islam" group.
> To post to this group, send email to
students...@googlegroups.com
> To unsubscribe from this group, send email to
>
students_of_is...@googlegroups.com
> For more options, visit this group at
>
http://groups.google.com/group/students_of_islam?hl=en?hl=en
>
> ---
> You received this message because you are subscribed to the Google Groups
> "Students_of_Islam" group.
> To unsubscribe from this group and stop receiving emails from it, send an
> email to
students_of_is...@googlegroups.com.
> For more options, visit
https://groups.google.com/groups/opt_out.
>