কাকরাইল, একটা নষ্ট মার্কাযের সাতকাহন

347 views
Skip to first unread message

abu sayed

unread,
May 7, 2014, 3:24:19 AM5/7/14
to save-k...@googlegroups.com

Copied
 
এক বিরাট সমস্যার ইতিহাস জানানোর জন্য কলম ধরলাম। সমস্যাটা না জানার কারণে সমালোচনা করে নিজেও গুনাহগার হচ্ছি,
কাজেরও ক্ষতি করছি। সমস্যাটা হচ্ছে “প্রফেসর মুশফিক স্যার”!

মুশফিক স্যার আগে কাকরাইলে জুড়ে ছিলেন, মঈন শুরা ছিলেন, কাকরাইলে বয়ান করতেন, বিদেশী জামায়াতের তরজমা করতেন, কাকরাইল থেকে চিল্লার জামাতেও যেতেন। এক সঙ্গে কাজ করলে, মাশওয়ারা করলে কম বেশ হতেই পারে। কমবেশ হলে রায় দেওয়াই স্বাভাবিক। ইসলাম তাই বলে। প্রথমে মুশফিক স্যার তাই করতেন। কাকরাইলের অবস্থা এমন দিকে গড়াতে লাগলো যা অন্ধ আর পাগল ছাড়া বিবেক সম্পন্ন ঈমানদার মেনে নিতে পারে না। না মানার মধ্যে হযরত ইউসুফ (র.) সঙ্গে ১ সাল লাগানে ওয়ালা ওলামা সহ্য করতে না পেরে কাকরাইল ছেড়েছেন। এমন অনেকে আছেন যারা কাকরাইলে ভিড়তে পারেন নাই।

মাওলানা আবুল ফাত্তাহ (র.) নীচ তলার একটি কামরায় জীবনের শেষ পর্যন্ত থেকে মারা গেছেন। ইজতেমার মাঠে তার দাফন নিয়েও রাজনীতি করা হয়েছে। ভোলা থেকে বাপকে দেখতে আসা একমাত্র ছেলেকে টঙ্গীতে না পৌছিয়ে গভীর রাত্রে টঙ্গী বিমান বন্দরে গেটে নামিয়ে দিয়ে মুরুব্বীরা জামাত এস্তেকবালে চলে গেছেন। সেখান থেকে পরে টঙ্গী ইজতেমার মাঠের কবরস্থানে গিয়ে দেখেন বাবার দাফন শেষ। কেমন নিষ্ঠুর আখলাক?
 
মুশফিক স্যার কাকরাইলের ভলগুলো শুধরানোর জন্য প্রথমে ব্যক্তিগত ভাবেই বলতেন। যাতে ঠিক হয়ে যায়। হয়ে যায় বিপরীত। খারাপ আচরণ শুরু হয়ে গেল। নিষেধাজ্ঞা আরোপ হল। উঠাবসা, সালাম-কলাম, বয়ান বন্ধ হতে থাকলো। তারপরও স্যার জুড়তে ছিলেন। কাজের গতি ততক্ষনে আরও খারাপের দিকে যেতে লাগল। সম্পর্ণ ব্যাপারটা লিখিত ভাবে নিজামদ্দীন এবং পাকিস্তানের মুরুব্বীদেরকে জানালেন। ভাষা এমন ছিল যে, স্যারকে নিষেধ করার কথা। মুরুব্বীরা নিরব থাকলেন। অবস্থাপষ্টে মনে হয় মুরুব্বীরা সন্তষ্ট যে, নিজ ঘরেই লোকমা দেওয়ার লোক তৈরী হয়েছে।

সমস্যা কি? তা লিখলে একটা বই তৈরী হবে। দুই-একটি লিখছি। আমরা জানি মাশওয়ারা, আমীর এবং কাকরাইল মানা দরকার। তখন বাংলাদেশের আমীর ছিলেন বড় হুজুর (র.)। উনার মাশওয়ারায়-ফায়ছালায় কাজ চলবে এবং আমরা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো-এটাই তাবলীগের উসুল। কিন্তু সমস্যা হলো এখানে। এই সময় কাকরাইল এই অবস্থানে রইল না। আজ যারা শুরা তখনতারা ৩য় সারির মুরুব্বী। সকলে মিলে কাজের গতি নিয়ে গেলেন এক কামরার দিকে। কোন রোখ পরিবর্তন করা, রোখ করা, কাউকে কোথাও পাঠানো মোট কথা ফায়সালা জাতীয় কাজ হতে থাকলো এক কামরা থেকে। মাশওয়ারায় বড় হুজুর (র.) এর উপরপ্রভাব এমন পর্যায়ে গেল উনি পুতুলের মত হলেন। পাঠক এটাতো আপনিও মেনে নিবেন না। এ আচরনের তাবলীগ করবেন কি?

তখনও কিছ হাযরাত চেষ্টা করেছেন। কুলিয়ে উঠতে না পেরে কাকরাইল ছেড়েছেন, আবুল ফাত্তাহ (র.) নীচতলায় একটি কামরায় জীবন কাটিয়েছেন, শেখ নুর মোহাম্মদ, ওয়ালিউর রহমান, প্রফেসর আনোয়ারুল আজিমসহ অনেকে জ্বালা নিয়ে জুড়ে আছেন। কিন্তু নাছোড় বান্দা মুশফিক স্যার কাকরাইল আসা যাওয়ার সাথে সাথে মাঠে সফর বাড়িয়ে দিলেন।

অনেকে প্রশ্ন করেন উনি কাকরাইল থেকে জামাতে বের হন না কেন? আমি যত দূর জানি উনি কাকরাইলের রোখ নিয়ে জামাতে যেতেন। এখানেও কিরকম ব্যবহার করতেন? কাকরাইল ওয়ালারা রোখ দিতেন কুমিল্লার কসবায় বা এই জাতীয়। এক মুরুব্বীর কাছে ছওয়াল করেছিলাম ওনার মতন মুরুব্বীকে তাবলীগ বিরোধী কসবায় দেওয়ার কারণ কি? উনি উত্তর দিয়েছিলেন ইছলাহের জন্য।

যদিও শহরে রোখ করতেন, সেখানে আবার ফোনে বলে দিতেন কেউ যেন মুশফিক স্যারের কাছে ভিড়তে না পারে। পাঠক!বেচারা কোন দিকে যাবে? কাকরাইলের রোখের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সফর ও দেশী বিদেশী জামাতের নুসরতে যেতেন। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় সারা দেশেই সুনাম আছে। সেই সুবাদে এলাকার খাওয়াছ, ছাত্র, ওলামা বয়ানে বেশী বসতেন।মজমা ভারী হতে লাগলো। তখনই আইন জারী হলো কোন জেলায় যেতে গেলে সেই জেলার চিঠি লাগবে এবং জামাতের নুসরাতেরজন্য কাকরাইলের চিঠি লাগবে। নাটোর, নওগাঁ সীমানার এপার্শে¦ ওপার্শ্বে গরুকে ঘাস খাওয়ানো যায়, জমি চাষাবাদ করা যায়, বিয়েশাদী করা যায়, ওপার্শে¦ পেশাব পায়খানা করা যায়। কিন্তু নবুয়্যতওয়ালী কাজে জামাত নিয়ে যাওয়া যাবে না এজাজত (চিঠি) ছাড়া!

এ ব্যাপারে ১ম হজরতজীর মালফুজাতে ৯৬ নং পয়েন্টে বলেছেন-তোমার প্রভাব কোথায়, তোমার জানাশুনা কোথায়, তোমারকথা চলবে কোথায় খুজে বের করে আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ শুরু কর এবং ৩য় হজরতজী বলেছেন-যোগ্যতা সামর্থ অনুসারে যতদুর গেলে সেইদিন আমল করা যায় ততদুর যাওয়া (৩দিনের জামাতের ক্ষেত্রে) গাস্ত থেকে জামাত বের হলে সারারাত এবং পরের দিনও কিছ ওয়াক্ত যেতে পারে। সামর্থ মানে যাতায়াতের ভাড়া। যোগ্যতা মানে ঐ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারা। তাহলে ভাবেন জামাত কত দুর যেতে পারে। আর চিঠি নিয়ে যাবে কে? কোন অপরিচিত লোক জামাতে জুড়তে বা নুসরতে গেলেজামাতের ক্ষতি যেন না হয়। তার মানে যুবায়ের সাহেব বা মুশফিক স্যার কে চিঠি নিয়ে যেতে হবে? অর্থাৎ মুসফিক স্যারকে আটকানোর উসুল!

নিজামুদ্দিনে বাংলাদেশী জোড় হতো। মুরুব্বীদের মানার কথা হলে বেশ ভাল লাগত। মাশওয়ারা কেমন হবে, রায় কিভাবে দিবে, সাথীদের যোগ্যতা সঠিক ভাবে ব্যবহার না করলে কি হবে, আমীরকে বাছিরাতের সাথে মানতে হবে এধরনের অনেক কথা হতো যাসাথীদের জন্য খুবই প্রয়োজন। কাকরাইলের হাযরাতদের মনঃপুত হতো না। এই মনে হয় কাজ হাত ছাড়া হয়ে গেল! সাথীদেরকাছে বেইজ্জত হয়ে গেলাম!

নিজামুদ্দিনের হাযরাতদের বয়ানের পরেই বাংলাদেশী মুরুব্বিরা সাথীদের আবার জমা করে তারগীব দিতেন যে, ঢাকার মুরুব্বীরা যে ভাবে বলে ঐ ভাবে কাজ করব, সব কথা চালানো যাবে না। আমাদের দেশের আবহাওয়া আলাদা।পাঠক এই অবস্থায় একজন সচেতন সাথী চুপ থাকতে পারে? মুশফিক স্যার তাই করলেন। উনি বিভিন্ন মোজাকারায় বলার চেষ্টা করলেন। সমস্যা হল এখানে। একবার নিজামুদ্দীনের জোড়ের কথা মোজাকারার ফায়সালা ছিল নুর মোহাম্মদ ভাইয়ের। ঢাকা জেলার পুরাতন সব সাথীর  সামনে আমানত হিসাবে এখলাছের সাথে যা আলোচনা হয়েছে তা বলার চেষ্টা করলেন। কাকরাইলের বড়রা ক্ষেপে গেলেন। বললেন “জোড়ে যে কথা গুলো হয়- তা কি সব সাথীর জন্য? না কি যারা জোড়ে যায় শুধু তাদের জন্য?”

মূলতঃ কথাগুলো বেনাপোল পার হয় না। জোড় চলা কালীন এই চিঠি মাওলানা সা’দ সাহেব(দা.বা.)এর হাতে যায়। তিনি এই জোড়েই ওয়াদা করিয়েছিলেন দেশের সাথীরা এই কথাগুলো পাবে তো? সেইবার কিছ কথা সাথীরা পেয়েছিল। পরের বছর জোড় হয়ে, বাংলাদেশের জন্য জোড়ের নিয়ামত বন্ধ হয়ে গেল। খাছ কথা থেকে মাহরুম হলাম আমরা। অবশ্য আম ভাবে যাওয়ার এজাজত হল।
 
নিজামুদ্দিন শুরা বানান নাই কিন্তু কাকরাইল থেকে শুরা হিসেবে চালানো হতো ভাই আজিজুল মাকসুদ (র.) কে । বাধ সাধলেন মুশফিক স্যার । এ সমস্যার সমাধান কি? উম্মতকে সন্দেহ থেকে বাঁচাতে হবে। নিজামুদ্দিনকে জানাতে হবে। মুফতিদের সাথে পরামর্শ করলেন। হাযরাত ওমর (রা.) লম্বা জামা কিভাবে বানালেন এই দলিলে মশফিক স্যার হাজী সাহেব (র.) এর বয়ানে মাইক ধরলেন। উনি কিভাবে শুরা হলেন এবং কে কোথায় বানালেন? কি হিম্মতের কাজ! চিন্তা করতে পারেন?  

নিজামুদ্দিন জানতে পেরে ৭০/৮০ জন মুরুব্বিকে দিল্লিতে তলব করলেন। ইতিবৃত্তান্ত শুনে বড় হুজুর (র.) কে অবসরে দিয়ে বর্তমান শুরা পদ্ধতি চালু  করলেন। স্যার যদি হিম্মত করে সেইদিন মাইক না ধরতেন, আজ যারা শুরার দায়িত্ব পালন করছেন তারা শুরা হতে পারতেন না।
 
কিন্তু সেইদিন স্যারকে অনেকেই আজেবাজে গালি দিয়েছে। দিল্লি থেকে ফিরে হাফেজ যুবায়ের সাহেব যখন শুরাদের নাম পড়েশুনাচ্ছিলেন তখন আমি ছিলাম কাকরাইলে, কারণ তখন শুরাদের জোড় চলছিল। মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মোজাম্মেল সাহেবকে শুরা বললেন। যুবায়ের সাহেব পড়ার মধ্যে বললেন আজিজুল মাকসুদ... তখন হযরতজী (র.) বললেন, ওভিও শুরা হ্যায়?তার মানে হযরতজী জানেন না? মনে করিয়ে দিতে হবে? মুশফিক স্যার যে মাইক ধরে বলেছিলেন উনি শুরা না, তার প্রমাণ পাওয়া গেল হাফেজ সাহেবের পড়ার মধ্যে।
 
যারাই কাজ নিয়ে চিন্তা করতেন, তাদেরকেই কাকরাইল থেকে তাড়ানোর আজীব রাস্তা ধরেছেন চক্রান্তকারীরা। ভোলায় ছিলেন আবুল ফাত্তাহ(র.)। উনার বাড়ীতে চিঠি গেল। আপনি এখন বাড়ীতে মোকামী কাজ করেন। চিঠিটা যিনি লিখেছেন, নাসিম ভাই তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি এখন কাকরাইলের শুরা। উনি ছাড়ার পাত্র না। বড় হুজুর (র) তখন খুলনায় ছিলেন। আবুল ফাত্তাহ (র) চিঠিসহ খুলনায় গেলেন। বড় হুজুর(র.) কে বললেন- আমার নাকি বাড়ীতে মোকামী কাজ করার ফায়ছালা করেছেন। বড় হুজুর (র.) বললেন, নাতো!  তখন চিঠি দেখালেন যা ছিল বড় হুজর (র.) এর নামে লেখা। বড় হুজুর (্র.) বললেন-আমি এ মাশওয়ারায় ছিলাম না এবং এ চিঠির ব্যাপারে আমি কিছই জানি না। শুধু তাই না। ওনাকে কাকরাইল ছাড়া করার জন্য বড় গুনাহের অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। যার সঙ্গে এই গুনাহর অপবাদ দেওয়া হয়েছিল সেই ব্যক্তিই ঘটনাটি বলেছিলেন। উনি এখনও বেঁচে আছেন।

কাকরাইলের উত্তর সিড়ি দিয়ে স্যার নামছিলেন। একজন বললেন “টাকাটা যে পাই দিলেন না?” স্যার বললেন “কিসের টাকা?” উনি বললেন, “ও চতুর্থ আসমানের উসুল জানেনÑটাকা পাই তা জানেন না?” স্যার বললেন,“ভাই কোথায় নিয়েছি কত নিয়েছি বলেন আমি টাকা দিচ্ছি”। অর্থাৎ মানসিক ভাবে চাপ তৈরী করতে হবে, যাতে কাকরাইলে না আসেন। পাঠক বিশ্বাস হয়? এই মেহনতে কেউ এই রকম করতে পারে? সহ্য করতে পারবেন?

এই জন্য স্যার ময়দানে মেহনত করছেন যাতে কিছ সচেতন সাথী তৈরী হয়। উনি তো কারও গীবত করেন না। উনি কাজের চিকন চিকন বিষয় খুলছেন যাতে কাজ নিয়ে চলার মেজাজ পয়দা হয়। উনার গীবত করেন কেন? বিরোধীতা করেন কেন? এ দায়িত্ব কে দিয়েছে আপনাকে? বরং কাকরাইলকে ঠিক করেন যদি কাজের দরদ থাকে।

বাপ অন্যায় করলে ছেলেকে শাস্তি দেওয়া কি শরীয়ত? মুশফিক স্যার যদি অন্যায় করেই থাকেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কি অপরাধ? রা.বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/শিক্ষক যদি জামাতে যাওয়ার জন্য কাকরাইলে আসেন খারাপ আচরণ করা হয়, রিমান্ডে নেওয়া হয়, বাজে কথাও বলা হয়। আমীরসহ পুরা জামাত আনলেও জামাতগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে অন্য আমীর দিয়ে এছলার জন্য পাঠানো হয়। নতুন যারা থাকে তারা বাজে ধারনা নিয়ে বাড়িতে ফেরত যায়।
 
আপনাদের কাছে প্রশ্ন। বলেন তো মাওলানা রুহুল কিস্ত (র.) কি অপরাধ করেছিলেন? ঢাকার হারুণ সাহেব কি অপরাধ করেছিল? পুলিশ দ্বারা গ্রেফতার পর্যন্ত করা হইল । ঢাকার সাথীদের চাপে নিজামুদ্দীনের হস্তক্ষেপে ছাড়া পান। ইজতেমার পরে মাওলানা সা’দ সাহেব পুরানদের মধ্যে বয়ানও করেছেন। বয়ানটি সংগ্রহ করবেন। মাওলানা আশরাফ সাহেবকে জোড়ে (২০১৩) দোয়ার ঠিক১০ মিনিট আগে ধরে নিয়ে এমন মারধর করা হয়েছে যাতে নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে মারাত্বক জখম হয়ে হাসপাতালে কিছদিন চিকিৎসা নিয়েছেন ।

জোড়ের ময়দানে কাদিয়ানির অপবাদ দিয়ে ৭০/৮০ জন ক্যাডার এমন সাথীদের মারধর করেছে যারা, কাকরাইলের কতিপয় মুরুব্বীর অপকর্মের প্রতিবাদের জন্য চিঠি বিলি করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন । দ্বীনের মেহনত কারীকে অপবাদ দিতে কলিজাও কাপে নাই? হাদীসে আছে যাকে যে বিষয়ে অপবাদ দেওয়া হয় সে যদি ঐ দোষে দোষী না হয় তবে অপবাদ  কারী ঐ দোষে বা গুনাহে আক্রান্ত হবে। এতটুকু দ্বীনও শিখে নাই? অন্ধভাবে মানলে এমনই হয়। ইসলামে অন্ধভাবে মানার কোন সুযোগ নেই।সাহাবা (রা.) ইসলাম গ্রহনের পূর্বে অন্ধ ভাবে আগের দ্বীন মানতেন। ইসলাম গ্রহনের পর অন্ধভাবে মানেন কি না এই জন্য আল্লাহ তায়ালা হুজুর (স.) এর নামাজে ভুল করাইলেন। অর্থাৎ ৪ রাকাত নামাজ দুই রাকাত পড়লেন। অন্ধ ভাবেই মেনে নেওয়ার কথা। যেহেতু হুজুর (স.) পড়েছেন । কিন্তু সাহাবা (রা.) বাছিরাতের সাথে লোকমা দিলেন।

হুজুর (স.) তাবু করবেন। আমরা জানি আল্লাহর ইঙ্গিত ছাড়া উনি কোন কাজই করেন না। প্রথমেই বললেন, ইয়া রাসুল্লাহ (স.) ইহা কি ওহীর মাধ্যমে করেছেন। হুজুর(স.) বললেন না। পরবর্তীতে সাহাবী (রা.) এর রায়ে ফায়ছালা করলেন অর্থাৎ ফায়ছালার পরেও সাহাবা (রা.) রায় দিয়েছেন। একবার শুরার জোড়ে মাশওয়ারায় তরগীবী কথা ছিল মুশফিক স্যারের। অনেক কথার মধ্যে ফায়ছালার পরেও যে রায় দেওয়া যাবে, তা দলিল দিয়ে পেশ করলেন। অমনি সারা দেশের সাথীদের সামনে অপমান করা হলো।

পরবর্তীতে মাওলানা সা’দ সাহেব ইজতেমার পর কাকরাইলে বললেন- মাশওয়ারা ওহী না। ফায়ছালার পরেও রায় দেওয়া যাবে। রায়ের যুক্তি থাকলে নুতন ফায়ছালা হবে। তখন গণকথা ছিল যে ফায়ছালার পর কোন রায় দেওয়া যাবে না। মুশফিক স্যারের কি অপরাধ যে ঐ  কথা বলার কারণে তাকে অপমান করা হলো? কেউ যদি কাজের উন্নতির জন্য রায় দেয়, ২ থেকে ৪ জামাত বের করে, মসজিদ আবাদ করে, সাথে বেশী সাথী চলে, সে বিদ্রোহী বা মুশফিক  গ্রুপ। এক ছাত্র বলছিলেন - “মহল্লায় ঢাকার জামাতের সাথীদের বললাম আমাদের কাজ যে পর্যায়ে আছে ৩ দিনের মধ্যে তা যেন উন্নত হয় সেই চেষ্টা করেন”। অমনি বললেনÑ“উনি মুশফিকের সাথে চলে নাকি?” অন্য এক জনের কথা... ঢাকার বাহিরে চাকুরী করেন, ঢাকায় কাজে এসে কাকরাইলে আসেন। ইচ্ছা একটা বিদেশী জামাত নিয়ে এলাকায় মেহনত করবেন। চেষ্টা করছেন জামাতের জন্য। এক মুরুব্বী বলতেছেন -“মুশফিকের সাথে চলে নাকি?” ঐ এলাকায় ছফরে উনার সাথে দেখা -দুঃখ করে বললেন কাকরাইলের খাছলত বদলায় নাই। শুধু কি তাই? এই ধরনের সাথীর সাথে জেলা গুলোতেও অত্যাচার করা হচ্ছে। মজমা স্পষ্ট বুঝতেছে-এই ধরনের সাথীদের কে  বিভিন্ন ধরনের আমল থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিদ্রোহী বলে কাজ করনেওয়ালা সাথীদেরকে আলাদা করা হচ্ছে। হালে বিদ্রোহীদের(?) জামাতই ভারী হচ্ছে।

কাজ নিয়ে চিন্তা বা রায় দেওয়াই যদি বিদ্রোহী হয়, তবে ওমর (রা)এর সঙ্গে দেখা। উনি এমন জোরে ধাক্কা দিলেন আব হুরায়রা (রা.) পড়ে গিয়ে কাপতে কাঁপতে হুজুর (স.) এর জুতা দেখাচ্ছেন, যাতে বিশ্বাস করেন হুজুর (স.)-এর কাছ থেকে এসেছি। উমর (রা.) ধমকের সাথে বললেন, “কোথায় পেয়েছেন?” আবু হুরায়রা
 (রা.) বললেন হুজুর (স)Ñ বলেছেন। দরবারে চল!  বাপরে বাপ কি ডাট? হুজুর (স.) কে এই ব্যপারে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বললেন, “আমি বলেছি”। ওমর (রা.) বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ এ রকম বলবেন না, কারণ মানুষ কষ্টদায়ক আমল বাদ দিবে”। হুজুর (স.) মেনে নিলেন। এত চাপাচাপি করলেন কেন? আজ আরও একটা মাজহাব থেকে বাঁচলাম। যদি কিছ লোক শুনতো তারা কালেমা নিয়েই থাকতো আমল করতো না। এই জিম্মাদারীতেই ওমর (রা.) এত কড়াকড়ি। এ রকম আচরণের সাথীকে হুজুর (স.) পরবর্তীতে কি বলেছেন-আমার পর নবী হলে ওমর হইত।

লোকমা দেওয়া দ্বীন আর লোকমা দেওয়ার বিরোধীতা না করাও দ্বীন। কাকরাইল বা জেলা ওয়ালারা কি করছে?কথায় শুনি বড়দেরকে মানতে হবে। আমার প্রশ্ন, কাকরাইল কি বড়দেরকে মানে? ভুরি ভুরি প্রমাণ দিতে পারবো। ইজতেমার পর বাংলাদেশের মাছলা নিয়ে মাশওয়ারার অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় ছিল, চিল্লার জামাত গুলো নিজ এলাকা থেকে বের হবে। লিখিত আকারে যখন ফায়ছালা আসলো তখন আবার কাকরাইল থেকে জামাত বের হওয়ার কথা বহাল থাকলো। এক মুরুব্বিকে বললাম এ রকম হলো কেন? উনি বললেন-কাকরাইলের মুরুব্বিরা কান্নাকাটি শুরু করছেন যে-তা হলে কাকরাইল ফাকা হয়ে যাবে। তখন আমাদের কি হবে? ২/৩ বছর আগে আবার একটা ফয়ছালা করলেন সেটাও মানছে না কাকরাইল। জোর দিয়ে বলেন না যে- তাকাজাটি চালান। ফায়ছালাটি হলো ১ম তাশকিল করতে হবে কাকরাইল থেকে সময় লাগানোর, ২য় তাশকিল করতে হবে নিজজেলা থেকে কাজ করতে করতে কাকরাইল যাওয়া যাতে ওপছি কথা নিয়ে ফেরত আসতে পারে, ৩য় তাসকিল নিজ জেলায় চিল্লা লাগানো। এই একই ভয় Ñ কাকরাইল ফাকা হয়ে যাবে। অথচ কাজ বাড়তো কয়েক গুণ। পঞ্চগড়, চাপাই, লালমনিরহাট থেকে ঢাকা যাতায়াত এবং ঢাকা থেকে আবার যে জেলায় জামাত যাবে সেখানের যাতায়াত তারপর চিল্লার খরচ। কত মধ্যবিত্ত, রিক্সাওয়ালা, কৃষক টাকার অভাবে চিল্লা দিতে না পেরে তাদেরও ঈমান আমলের, কাজে ক্ষতি হচ্ছে তার হিসাব কাকরাইলকেই দিতে হবে। শুধ তাই না জেলাগুলো থেকে যাতে চিল্লার জামাত ব্যবহার করতে না পারে জেলার ক্যাডার বাহিনীর খারাপ ব্যবহারের খবর আমার কাছে আছে।

না মানা এখানেই শেষ নয়। সর্বশেষ শুরা তৈরীর আগে কাকরাইলের কাফেলার ব্যাপারে বড়দের ফায়ছালা ছিল- পাকিস্তানের মার্কাজে ১০ দিন লাগানোর পর নিজামুদ্দিন যাওয়ার। ঐ কাফেলায় মুশফিক স্যারও ছিলেন। ফায়ছালা না মেনে ওনারা অগ্রীম নিজামুদ্দিন গেলেন- শুরা হওয়ার লবিং করার জন্য। মাওলানা সা’দ সাহেব (দা.বা.) শুরা ঘোষনার সময় যথার্থই বললেন, “তোমাদের কেউ শুরা হওয়ার জন্য লবিং করে আবার কেউ (মুশফিক স্যার) শুরা হতে চায় না”।

ইজতেমার পরেরদিন দেশের কাজ নিয়ে মাশওয়ারা হতো। মাশওয়ারার কামরায় জায়গা হতো না। বড়রা ফায়ছালা করলেন পরের ইজতেমায় যেন মূল মিম্বারের সামনে মাশওয়ারা হয়। যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ কথা হয়, বড়দের ইচ্ছা বেশি সাথী যেন শুনতে পারে। পরের ইজতেমায় ঐ মাশওয়ায় যাওয়ার জন্য বের হয়ে গোলক ধাঁধাঁয় পড়লাম। কেউ বলে ভিতরে কেউ বলে মিম্বারে। বিরক্ত হতে লাগলাম। সামনে দেখি ইঞ্জিনিয়ার আনিস মোবাইলে মাশওয়ারা ভিতরে করার ব্যাপারে গরম ভাব নিয়ে কথা বলতেছে। ও পার্শ্বের কথায় বুঝা যাচ্ছেওয়াল্ড শুরার ফায়ছালা মিম্বারের সামনে হওয়ার। কিন্তু এমন ভাব দেখাচ্ছেন যে, বললেই মিম্বার থেকে ভিতরে নিয়ে আসবেন মাশওয়ারা। এই হল এনাদের বড়দের মানা।কাকরাইল এখন অদ্ভুত রাস্তা এখতিয়ার করছে। যারা কাজের উন্নতির জন্য রায় দেয়, কমবেশ হলে লোকমা দেয়, কাজকে ছহী করার জন্য চিন্তা-ফিকির করে তাদেরকে পিটিয়ে, পুলিশ দিয়ে , ক্যাডার দিয়ে, কাদিয়ানী-জঙ্গির অপবাদ দিয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে। যাতে আল্লাহ না টের পায় (নাউযুবিল্লাহ)। এই হল বর্তমানে কাকরাইলের চিন্তা। আল্লাহ আপনাদের রক্তের ক্রিমিনালীকেও জানেন।
 
“আয় আল্লাহ! তাবলীগকে হেফাজত কর। যারা এ কাজের মধ্যে বদমায়েশী করছে তাদেরকে হেদায়েত দাও। যদি হেদায়েত বদমায়েশদের নাই থাকে, তাবলীগ ও কাকরাইলকে তাদের কাছ থেকে হেফাজত কর। যাদের দ্বারা এ কাজের হেফাজত হবে তাদেরকে কবুল কর।” আল্লাহর জন্য ফটোকপি করে প্রচার করবেন। আল্লাহর জন্য লিখলাম, কমবেশ থাকলে আল্লাহ যেন মাফ করেন।
Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages