বিশেষ প্রতিনিধি:
৪৫৭১ জন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব পূর্ণ সরকারি হচ্ছেন। এছাড়া, তাদের
পদমর্যাদা তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা হচ্ছে। এ দুই
বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল বেলা আড়াইটায়
স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা
অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম
শহীদ খান। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লোকাল কাউন্সিল সার্ভিস
রুলস, ১৯৬৮-এর আলোকে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়।
এরপর ১৯৭৪ সালে ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ
সচিবদের বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে ইউপি সচিবদের
বেতন-ভাতা শতভাগ সরকারি তহবিল থেকে দেয়ার দাবি ওঠে। তাদের দাবির
প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউপি সচিবদের বেতন শতকরা ৭৫
ভাগ সরকারি তহবিল থেকে দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এরপর থেকে ইউপি
সচিবরা সরকারি তহবিল থেকে শতকরা ৭৫ ভাগ এবং ইউপি তহবিল থেকে শতকরা ২৫ ভাগ
বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে
ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪৫৭১টি। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব
আয়স্বল্পতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে সচিবদের প্রয়োজনীয়
শতকরা ২৫ ভাগ বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে ঠিক সময়ে বেতন-ভাতা না
পাওয়ায় তাদেরকে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অর্থ
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে ইউপি সচিবদের বেতন-ভাতা শতভাগ
সরকারি তহবিল থেকে দেয়ার জন্য জোর দাবি উত্থাপন করা হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তি
করতে ২০০৬ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায়
নেয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শতভাগ বেতন-ভাতা সরকারি তহবিল থেকে দেয়ার জন্য
প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ,
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত
নিয়ে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে
নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই নির্দেশনার ভিত্তিতে ইউপি সচিবদের শতভাগ বেতন-ভাতা
সরকারি তহবিল থেকে দেয়ার বিষয়ে মতামত চাওয়ার জন্য আইন, অর্থ এবং
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে
জানানো হয়, ইউপি সচিবদের শতভাগ বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে দেয়ার কোন
সুযোগ নেই। ওদিকে বর্তমান সরকারের আমলে ইউপি সচিবদের চাকরি জাতীয়করণ এবং
দ্বিতীয় শ্রেণীর অফিসার পদমর্যাদা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ
সেক্রেটারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ একটি আবেদন
করেন। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়। এরপর ইউপি
সচিবদের বেতন-ভাতা শতভাগ সরকারি তহবিল থেকে দেয়ার বিষয়ে মতামত দিতে অর্থ
মন্ত্রণালয়কে নতুন করে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের চাকরি দ্বিতীয়
শ্রেণীর পদমর্যাদায় উন্নীতকরণের বিষয়ে সম্মতি দেয়ার জন্য জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউপি সচিবদের বিষয়টি মানবিক
দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক
একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন। এসব সর্বশেষ নানা তথ্য নিয়ে
উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শতভাগ বেতন-ভাতা দেয়ার বিষয়ে সম্মতি
দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুয়েক দিনের
মধ্যে তাদের চিঠি পাঠানো হবে।
--
Md. Shariful Islam (SHARIF)
Entrepreneur-
Union Information Service Center
13-No: Ramnathpur UP-Upzilla: Pirganj, District: Rangpur.
e-mail:
sharif...@gmail.com**Skype: shariful22
Mobile:- 01751-205152 -বা- 01960-875141