মুসলিমদের সকল ব্যর্থতার মূলে মুসলিম হওয়ায় ব্যর্থতা

3 views
Skip to first unread message

Firoz Kamal

unread,
Feb 18, 2026, 4:44:22 PM (6 days ago) Feb 18
to

মুসলিমদের সকল ব্যর্থতার মূলে মুসলিম হওয়ায় ব্যর্থতা

ফিরোজ মাহবুব কামাল#

www.drfirozmahboobkamal.com/blog/মুসলিমদের-সকল-ব্যর্থতার/

সৈনিক হতে হলে সৈনিকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। সৈনিকের লেবাস পড়ে এবং প্রশিক্ষণ নিয়েও যে ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করে না -সে দেশের শত্রু। এমন শত্রুরা দেশের পরাজয় ডেকে আনে। তেমনি মুসলিম হতে হলে মুসলিমের দায়িত্ব পালন করতে হয়। নইলে সে মুসলিম নয়, বরং মুনাফিক। নামাজী, রোজাদার ও হাজী হওয়া সহজ। চোর-ডাকাত, ঘুষখোর, সূদখোর, চাঁদাবাজ, মদ্যপায়ী, ব্যাংক ডাকাত বদমায়েশগণও নামাজ-রোজা আদায় করে এবং হজ্জ পালন করে। কিন্তু কঠিন হলো মুসলিম হওয়া। মুসলিম হওয়ার অর্থ হলো মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার যুদ্ধে সার্বক্ষণিক সৈনিক হওয়া। যুদ্ধ যেমন বুদ্ধিবৃত্তিতে, তেমনি রাজনীতি ও রণাঙ্গণে। যার জীবনে সে যুদ্ধ নাই, সে নামাজী, রোজাদার ও হাজী হলেও সে মুনাফিক। আব্দুল্লাহ বিন উবাই’য়ের মত মুনাফিকগণ নবীজী (সা:)’র পিছনে মসজিদে নববীতে নামাজ পড়েও মুনাফিক রূপে চিত্রিত হয়েছে।

মানব জাতির জন্য শয়তানের যেমন এজেন্ডা রয়েছে, তেমনি এজেন্ডা রয়েছে মহান রব’য়ের। শয়তানের ঘোষিত এজেন্ডা হলো মানুষকে জাহান্নামে নেয়া। এমন কি হযরত আদম (আ:)কে সে জান্নাত থেকে বাইরে নিয়ে এসেছে। আর মহান রব’য়ের এজেন্ডা হলো মানুষকে জান্নাত নেয়া। সে জন্যই তিনি লক্ষাধিক নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং অনেকগুলি আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন। পবিত্র কুর’আন হলো সে লক্ষ্যে শেষ কিতাব। অপর দিকে জনগণের সামনে শয়তান হাজির হয় পৌত্তলিকতা, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ফ্যাসিবাদ, কম্যুনিজমের ন্যায় নানা মতবাদ নিয়ে। এবং জনগণকে প্রলুব্ধ করে সে মতবাদগুলি প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আত্মনিয়োগ করতে।

পবিত্র কুর’আনে ঘোষিত মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডাটি হলো: لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ  অর্থ: সকল ধর্ম, সকল জীবন বিধান ও সকল মতবাদের উপর তাঁর দ্বীনের তথা ইসলামের পূর্ণ বিজয়। মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো ইসলামী রাষ্ট্র। নবীজী (সা:) তাই নিজের ঘর নির্মাণ না করে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করেছেন। তাই শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণের জিহাদে নিজের অর্থ, মেধা, শ্রম ও রক্তের বিনিয়োগ করা। সাহাবাদের জান-মালের সর্বাধিক খরচ হয়েছে এখাতে। আর শয়তানের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করে প্রতিটি অনৈসলামী রাষ্ট্র। নিকৃষ্ট পাপ হলো, এমন রাষ্ট্রের নির্মাণে ভোট দেয়া বা যুদ্ধ করা। বাঙালি মুসলিমদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এ কাজে।    

প্রত্যেক ঈমানদারের উপর মহান আল্লাহতায়ালার হুকুম হলো, তাঁরা যেন তাঁর এজেন্ডার বিজয়ে একান্ত সাহায্যকারী হয়ে যায়। মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সে হুকুমটি এসেছে এ ভাষায়: يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُونُوٓا۟ أَنصَارَ ٱللَّهِ   অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও‍।” সাহায্যকারী হয়ে যাওয়ার অর্থ, মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা রূপে তাঁর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার যুদ্ধে লেগে যাওয়া। নিজ জীবনে শুধু নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত পালনের মধ্য দিয়ে আল্লাহতায়ালাকে সাহায্যদানের কাজটি হয় না। সে জন্য জরুরি হলো সমাজ ও রাষ্ট্র জুড়ে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডার বিজয়। সে বিজয়ের কাজে অপরিহার্য হলো ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। কারণ ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া অসম্ভব হয় মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠা। অসম্ভব হয় মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করা। অসম্ভব হয় দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। অসম্ভব হয় সমাজের দুস্থ্য, দরিদ্র, পঙ্গু, এতিম ও অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য ইসলামের যে কল্যাণের বিধান রয়েছে সেগুলি প্রয়োগ করা। এবং অসম্ভব হয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মানব সন্তানকে জান্নাতের যোগ্য রূপে গড়ে তোলার কাজ।  

ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি ব্যর্থ হলে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডা শুধু কিতাবে থেকে যায়। সে অনৈসলামিক রাষ্ট্রে অসম্ভব হয় পূর্ণ ইসলাম পালন। তখন মুসলিমগণ ব্যর্থ হয় পূর্ণাঙ্গ মুসলিম রূপে বাঁচতে ও বেড়ে উঠতে। এ জন্যই নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাগণ ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণকে এতোটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণই হলো মুসলিম জীবনে সবচেয়ে পবিত্রতম কাজ। এবং এটিই হলো সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ। এটি পবিত্র জিহাদ। এ বিশাল কাজ অর্থ, শ্রম, মেধা ও রক্তের কুর’বানী চায়। ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে ও সে রাষ্ট্রের সুরক্ষা দিতে নবীজী (সা:) নিজে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর অর্ধেকের বেশি সাহাবী শহীদ হয়ে গেছেন। ইসলামের আরো কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে মুসলিমদের জান ও মালের এতো কুরবানী দিতে হয়নি।  

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আজকের মুসলিমগণ বাঁচছে তাদের উপর অর্পিত খলিফার দায়িত্ব পালন না করেই। ফলে পৃথিবীর কোথাও আজ প্রতিষ্ঠা পায়নি ইসলামী রাষ্ট্র। বরং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে পরাজিত রেখেছে ইসলামের শরিয়া ও অন্যান্য বিধান। এরই শোচনীয় পরিণতি হলো, ৫০টির বেশি মুসলিম দেশের কোথাও পালিত হচ্ছে না নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ ইসলাম। ইসলামের বিধানগুলি কেবল পবিত্র কুর’আন ও হাদীসের কিতাবেই রয়ে গেছে। মুসলিমগণ বাঁচছে পূর্ণ ইসলাম পালন না করেই। ফলে মুসলিমগণ ব্যর্থ হচ্ছে পূর্ণ মুসলিম হতে। বাঙালি মুসলিমেরও এটিই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।                                                                                                                           

নবীজী (সা:)’য়ের জীবন ছিল পবিত্র কুর’আনে বর্ণিত ইসলামের “শো-কেস”। তাই কেউ যদি ইসলামের বিশুদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ কুর’আনী রূপটি দেখতে চায়, তাকে নজর দিতে হয় নবীজী (সা:)’য়ের জীবনের দিকে। নবীজী (সা:)কে দেখা যায় শুধু রাসূল, দায়ী, নামাজী, রোজাদার  ও কুর‌’আনের শিক্ষক রূপে নয়, বরং রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারক, প্রশাসক, জেনারেল এবং সৈনিক রূপেও। দেখা যায় আদর্শ স্বামী, পিতা, প্রতিবেশী, আপনজন রূপেও। অর্থাৎ মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাকে যেরূপ দেখতে চান নবীজী (সা:)কে দেখা যায় অবিকল সেভাবেই। নবীজী (সা:) নিজেকে গড়ে তুলেছেন মহান রবের নির্দেশ মোতাবেক। তাই যারা মহান রব’য়ের কাছে প্রিয় হতে চান, তাদেরকে প্রতি পদে পদে অনুসরণ করতে হয় নবীজী (সা:)’য়ের জীবনের প্রতিটি দিককে। তাই শুধু নবীজী (সা:)’য়ের নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত, তাবলিগ ও নফল ইবাদতগুলি অনুসরণ করলে চলে না, অনুসরণ করতে হয় তাঁর রাষ্ট্র নির্মান, রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচার পরিচালনা ও যুদ্ধ পরিচালনার নীতিকে। সেরূপ অনুসরণের কাজটি না হলে পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার কাজটি হয়না।

যে সত্যিকার মুসলিম হতে চায়, নবীজী (সা:)’য়ের ন্যায় তাকেও হতে হয় পূর্ণাঙ্গ ইসলামের “শো-কেস”। নইলে মুসলিম হওয়ার কাজটি হয়না। অথচ মুসলিমগণ এক্ষেত্রে ব্যর্থ। তারা ইসলামের শো-কেস হওয়ার বদলে পরিণত হয়েছে জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, দলতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র, পীরতন্ত্র ও ফেরকাতন্ত্রের শো-কেসে। ফলে তারা ব্যর্থ হয়েছে ইসলামী ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে। পূর্ণাঙ্গ ইসলামের চিত্রটি এমনকি আজকের আলেম, আল্লামা, মসজিদের ইমাম, সুফি দরবেশ, পীর, মুফতি, মোহাদ্দেস ও সাধারণ মুসলিমদের জীবনেও দেখা যায় না। তারা পরিণত হয়েছে নিজেদের মনগড়া ইসলামের শো-কেসে। তারা যদি নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম নিয়ে বাঁচতো তবে মুসলিম দেশগুলিতে বিপ্লব এসে যেত এবং প্রতিষ্ঠা পেত ইসলামী রাষ্ট্র। তখন তাদের জীবনে দেখা যেত দুর্বৃত্তির নির্মূলে লাগাতর জিহাদ। 

ইসলামের অতি বুনিয়াদি কথা হলো, নবীজী (সা:) যা কিছু করেছেন -সেগুলি করেছেন মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশ মোতাবেক। ফলে নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণের অর্থ, মহান আল্লাহতায়ালার অনুসরণ। পবিত্র কুর’আনে সে কথার উল্লেখ এসেছে সুরা নিসার ৮০ নম্বর আয়াতে। বলা হয়েছে,

مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ ٱللَّهَ ۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرْسَلْنَـٰكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًۭا

অর্থ: ‍“যে রাসূলের আনুগত্য করলো, সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো; আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, (হে রাসূল) আমি আপনাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি।” 

তাই যারা নবীজী (সা:)’য়ের ইসলামের অনুসরণ নিয়ে বাঁচতে চায়, তাদেরকে বাঁচতে হয় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অবিরাম তাড়না, জিহাদ ও কুর’বানী নিয়ে -যেমনটি দেখা গেছে নবীজী (সা:) ও সাহাবাদের জীবনে। যার মধ্যে সে তাড়না ও কুরবানী নাই, বুঝতে হবে তার মধ্যে সে ঈমানও নাই। সে নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নতের অনুসারী নয়। এমন ব্যক্তি ঈমানের দাবী করলে বুঝতে হবে সে মুনাফিক।

নবী-রাসূল প্রেরণে মহান আল্লাহতায়ালার মূল এজেন্ডা কি -তা নিয়ে পবিত্র কুর’আনে সুস্পষ্ট বয়ান এসেছে সুরা হাদীদের  ২৫ নম্বর আয়াতে। বলা হয়েছে:

لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِٱلْبَيِّنَـٰتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا ٱلْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌۭ شَدِيدٌۭ وَمَنَـٰفِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ ٱللَّهُ مَن يَنصُرُهُۥ وَرُسُلَهُۥ بِٱلْغَيْبِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ قَوِىٌّ عَزِيزٌۭ

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদেরকে দিয়েছি কিতাব এবং ন্যায় নীতি -যাতে মানবগণ সুবিচার প্রতিষ্ঠা দিতে পারে। আমি তাদেরকে লৌহ দিয়েছি -যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ। এসব এই জন্য যে, আল্লাহ যাতে প্রকাশ করে দিতে পারেন কারা আল্লাহকে না দেখেও তাঁকে এবং তাঁর রাসূলকে তাঁর এজেন্ডার বিজয়ে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও পরাক্রমশীল।” –(সুরা হাদীদ, আয়াত ২৫)।

উপরিউক্ত আয়াতে কিতাব ও নবী প্রেরণের যে উদ্দেশ্যটি বর্ণিত হয়েছে তা নিছক নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাতের প্রতিষ্ঠা নয়; সেটি হলো ন্যায়নীতি ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। অনুরূপ এজেন্ডার কথা বলা হয়েছে সুরা আল-ইমরানের ১০ নম্বর আয়াতে। এ আয়াতটিতে মহান আল্লাহতায়ালা মুসলিমদের সমগ্র মানব সৃষ্টির মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাহ রূপে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। কেন মুসলিমগণ সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাহ -সেটির কারণও উক্ত আয়াতে তিনি তুলে ধরেছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাহর মর্যাদা এজন্য নয় যে, তারা বেশি বেশি নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত পালন করে। বরং এজন্য যে, তারা ন্যায় ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা দেয় এবং অন্যায় ও অবিচারের নির্মূল করে। মহান আল্লাহতায়ালার সে বয়ানটি হলো:

لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ ۗ  كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ

অর্থ: “(হে ঈমানদারগণ!) তোমরাই হলে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য, তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করো, নির্মূল করো অসৎ কাজকে এবং ঈমান আনো আল্লাহর উপর।”

ন্যায়নীতি, সুবিচার ও সৎকাজের প্রতিষ্ঠার কাজটি স্রেফ মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা দিলে হয়না। বেশি বেশি নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত পালন করলেও হয় না। সে জন্য চাই, রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব। চাই রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো। চাই, সহায়ক প্রশাসন, শিক্ষা ব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী, সেনা বাহিনী, বিচার ব্যবস্থা ও মিডিয়া।  এরূপ প্রতিটি বিষয়ই তো রাষ্ট্রের হাতে। এগুলির উপর দখল নিতেই নবীজী (সা:)কে জিহাদ করতে হয়েছে এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিতে হয়েছিল। রাষ্ট্রই হলো পৃথিবীপৃষ্ঠে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। শয়তানী শক্তির হাতে অধিকৃত রাষ্ট্র তার বিশাল সরকারি অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক বাহিনী ও সেনা বাহিনী নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে অসম্ভব হয় মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত এজেন্ডাকে বিজয়ী করা। তখন কুর’আনের বিধানগুলি শুধু কিতাবেই থাকে যায়। পূর্ণ ইসলাম পালনের জন্য ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এজন্যই এতো জরুরি।

মুসলিমগণ ভাষা, বর্ণ ও অঞ্চল ভিত্তিক পরিচয় নিয়ে বহু রাষ্ট্রের জন্ম দিলেও কোন ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিতে পারিনি। ১৫০ কোটি মুসলিমের এটি এক বিশাল ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার পরিণতি হলো, মহান নবীজী (সা:) যে ইসলামের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন সে ইসলাম আজ বেঁচে নাই। মুসলিমগণ বাঁচছে ইসলামের পূর্ণ পালন ছাড়াই। যারা জাহা্ন্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চায় এবং স্বপ্ন দেখে জান্নতের -তাদের কাছেও কি এ ভয়ানক ব্যর্থতার বিষয়টি গুরুত্ব পায় না? ১৮‌/০২/২০২৬

Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages