ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ

403 views
Skip to first unread message

Farida Majid

unread,
May 4, 2015, 2:43:35 AM5/4/15
to
Complete garbage invented to malign Rabindranath!

<<  ২০০০ সনে আহমদ পাবলিশিং হাউস থেকে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা’ নামে একটি বইয়ে মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, বীরপ্রতীক, পিএসসি (তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা) একটি তথ্য জানান যে, ”১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।” >>

My own findings while researching the circumstances of  Rabindranath's English translations of Gitanjali corroborate with those tracing the events of 1912  -- how Tagore's England trip was postponed due to his illness, his resting in Shilaidaha on that day, 28th March, 1912, etc.  . . .  [Farida Majid]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ
ডিসেম্বর ৯, ২০১১


Join_photoঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯২১ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১২ সালে। ২১ জানুয়ারি তিনি ঢাকা সফরকালে কযেকজন মুসলিম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তার সঙ্গে দেখা করেন। তারা বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে অনুযোগ করেন। এই ক্ষতি পূরণের জন্য ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে লর্ড হার্ডিঞ্জ প্রতিশ্রুতি দেন।
সে সময় পূর্ব বঙ্গে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। পূর্ব বঙ্গ মুসলমান অধ্যূষিত বলে পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের জন্য উচ্চ শিক্ষার দরোজা খুলে যাওয়ার সুযোগ ঘটে। পাশাপাশি পূর্ববঙ্গের অন্যান্য ধর্মের লোকজনের জন্যও এটা বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়। সকলেই এই প্রস্তাবটি স্বাগত জানায়। সকলেই সহযোগিতার হাত বাড়ায়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাও সে সময় কিছু লোকজন করেছিলেন। এই বিরোধিতাকারীদের মধ্য ছিলেন মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। বিরোধিতা করেছিলেন তিন ধরনের লোকজন–
এক. পশ্চিমবঙ্গের কিছু মুসলমান–তারা মনে করেছিলেন, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের কোনো লাভ নেই। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদেরই লাভ হবে। তাদের জন্য ঢাকায় নয় পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াটাই লাভজনক।
দুই. পূর্ব বাংলার কিছু মুসলমান–তারা মনে করেছিলেন, পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে ১০০০০ জনের মধ্যে ১ জন মাত্র স্কুল পর্যায়ে পাশ করতে পারে। কলেজ পর্যায়ে তাদের ছাত্র সংখ্যা খুবই কম। বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেখানে মুসলমান ছাত্রদের সংখ্যা খুবই কম হবে।
পূর্ববঙ্গে প্রাইমারী এবং হাইস্কুল হলে সেখানে পড়াশুনা করে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়বে। আগে সেটা দরকার। এবং যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে মুসলমানদের জন্য যে সরকারী বাজেট বরাদ্দ আছে তা বিশ্ববিদ্যালয়েই ব্যয় হয়ে যাবে। নতুন করে প্রাইমারী বা হাইস্কুল হবে না। যেগুলো আছে সেগুলোও অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় চান নি।
তিন. পশ্চিমবঙ্গের কিছু হিন্দু মনে করেছিলেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বরাদ্দ কমে যাবে। সুতরাং কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চলবে কীভাবে? এই ভয়েই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন।
মৌলানা আকরাম খান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলে সাধারণ মুসলমানদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দানের ক্ষেত্রে অর্থের ব্যবস্থা করবেন না। মুসলমানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা অপেক্ষা প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্ত্ব আরোপ করেন। আবদুর রসুল আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় মুসলমানদের পক্ষে ‘বিলাসিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার মতে কয়েকজন ভাগ্যবানের জন্য অর্থ ব্যয় না করে বেশিরভাগ মানুষের জন্য তা ব্যয় করা উচিৎ। মুসলমানদের মতে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটি অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান, ফলে বাংলার মুসলমানদের বিশেষ কিছু লাভ হবে না। বরং গরীব অথবা যোগ্য মুসলমান ছাত্রদের বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা এবং দু-একটি প্রথম শ্রেণীর কলেজ স্থাপন ইত্যাদি করলে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার সম্ভব হবে। চব্বিশ পরগণার জেলা মহামেডান এসোসিয়েশন ১৯১২-র ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যায় স্থাপনের বিরোধিতা করে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোকজনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন সে সময়ে। ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ তার ঢাকা সফর শেষে কলকাতা প্রত্যাবর্তন করলে ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সাথে সাক্ষাৎ এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতামূলক একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বিরোধী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আর রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী মূল্যে অর্থাৎ কিসের বিনিময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা থেকে বিরত থাকবেন? শেষ পর্যন্ত স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চারটি নতুন অধ্যাপক পদ সৃষ্টির বিনিময়ে তার বিরোধিতার অবসান করেছিলেন। পরবর্তিতে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক নিয়োগে সহযোগিতা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্যার নীলরতন সরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পূর্ব বঙ্গের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদ নানাপ্রকার প্রতিকুলতা অতিক্রম করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ঢাকার নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। কিন্তু, হঠাৎ করে ১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহের মৃত্যু ঘটলে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী শক্ত হাতে এই উদ্যোগের হাল ধরেন। অন্যান্যদের মধ্যে আবুল কাশেম ফজলুল হক উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পূর্ব বাংলার হিন্দুরাও এগিয়ে এসেছিলেন। এদের মধ্যে ঢাকার বলিয়াদির জমিদার অন্যতম। জগন্নাথ হলের নামকরণ হয় তাঁর পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে। জগন্নাথরায় চৌধুরীর নামেই ঢাকার জগন্নাথ কলেজের নামকরণ করা হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ফিলিপ জে হার্টজ প্রথম ভাষণেই বলেন, ‘এটি কোন মুসলিম কিংবা হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় হবে না, এটি সবার এবং প্রত্যেক মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’ এ ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙ্গালী জাতির মননশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ধরনের একটি অভিযোগ সম্প্রতি সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক। কিছু কিছু কলামলেখকও নানা সময়ে সংবাদপত্রে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করছেন। ২০০০ সনে আহমদ পাবলিশিং হাউস থেকে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা’ নামে একটি বইয়ে মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, বীরপ্রতীক, পিএসসি (তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা) একটি তথ্য জানান যে, ”১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।” তিনি অভিযোগ করেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালি ও কলম পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এজেড এম আব্দুল আলী একটি পত্রিকায় এই অভিযোগটির বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, যারা রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি করছেন তারা তাদের রচনায় কোনো সূত্রের উল্লেখ করেন নি। তবে ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে এই ধরনের একটি মনগড়া অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়। মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুল মতিন এই গ্রন্থ থেকেই তথ্যটি ব্যবহার করেছেন। ঐ তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোলকাতায়ই উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেন নাই। করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যেই ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করা হত না। ১৯৩৬ সালে তাকে ডিলিট উপাধী প্রদানের বিষয়েও বিরোধিতা হত। বরং তাঁকে দুবারই মুসলমান-হিন্দু সকল শ্রেণীর ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান আন্তরিকভাবে সম্মাননা প্রদান করেছে। সর্বোপরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার সংবাদাদি সে সময়কার পত্রিপত্রিকায় পাওয়া যায়। কোথাও রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন প্রফেসর রফিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর নামে বই লিখেছেন। সেই বইয়ের কোথাও রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় না। ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন জানাচ্ছেন– রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট বার্ষিক অধিবেশনের (২৮-২৯ জুন, ২০১১) আলোচনায় আসে। অধ্যাপক ফকরুল আলমের কথার অংশ থেকে লিখছি…”রবীন্দ্রনাথ একসময় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে বিরোধী ছিলেন….কিন্তু….চারপাঁচ বছর পর তার পুরানো পজিশন পরিবর্তন করে ফেলেছিলেন। ….অবশ্যই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রহণ করেছেন বলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননায় এসেছিলেন।….যারা ইতিহাসকে এক জায়গায় রেখে দেয় তারা ইতিহাসকে বিকৃত করে, তারা সত্যকে বিকৃত করে।….” (কার্যবিবরণী, পৃ:১৭৮)।
৩.
১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ রবীন্দ্রনাথ কোলকাতায় ছিলেন না। তিনি ছিলেন শিলাইদহে। ১৯ মার্চ ১৯১২ (৬ চৈত্র, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) ভোরে কলকাতা থেকে সিটি অব প্যারিস জাহাজে রবীন্দ্রনাথের ইংলণ্ড যাত্রার জন্য কেবিন ভাড়া করা হয়েছিল। তার মালপত্রও জাহাজে উঠেছিল। সেদিন সকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তার ইংলন্ড যাত্রা স্থগিত হয়ে যায়।
রবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর পিতৃস্মৃতি গ্রন্থে লিখছেন—জাহাজ ছাড়বার আগের দিন রাত্রে স্যার আশুতোষ চৌধুরীর বাড়িতে বাবার নিমন্ত্রণ। কেবল খাওয়া দাওয়া নয়, সেই সঙ্গে বাল্মিকীপ্রতিভা অভিনয়ের ব্যবস্থা হয়েছিল। দিনেন্দ্রনাথ বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন। অসুস্থ শরীরে বাবাকে অনেক রাত অবধি জাগতে হল। আমরা ঘরে ফিরলাম রাত করে। বাকি রাতটুকু বাবা না ঘুমিয়ে চিঠির পর চিঠি লিখে কাটিয়ে দিলেন। ভোরবেলা উঠে বাবার শরীরের অবস্থা দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম, ক্লান্তিতে অবসাদে যেন ধুঁকছেন। তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডাকতে হল।…জাহাজ আমাদের জিনিসপত্র সমেত যথাসময়ে পাড়ি দিল, কিন্তু আমাদের সে যাত্রা আর যাওয়া হল না।‘
আকস্মিকভাবে যাত্রা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় খুব বেদনা পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি ২১ মার্চ ১৯১২ (৮ চৈত্র ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) তারিখে ডাঃ দ্বিজেন্দ্রনাথ মৈত্রকে লেখেন—‘আমার কপাল মন্দ—কপালের ভিতরে যে পদার্থ আছে, তারও গলদ আছে—নইলে ঠিক জাহাজে ওঠবার মুহুর্তেই মাথা ঘুরে পড়লুম কেন? অনেক দিনের সঞ্চিত পাপের দণ্ড সেইদিনই প্রত্যুষে আমার একেবারে মাথার উপরে এসে পড়ল। রোগের প্রথম ধাক্কাটা তো একরকম কেটে গেছে। এখন ডাক্তারের উৎপাতে প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। লেখাপড়া নড়াচড়া প্রভৃতি সজীব প্রাণীমাত্রেরই অধিকার আছে, আমার পক্ষে তা একেবারে নিষিদ্ধ।…’
২৪ মার্চ ১৯১২ (১১ চৈত্র ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) বিশ্রামের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে রওনা হন। ঠাকুরবাড়ির ক্যাশবহিতে লেখা আছে, শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র বাবু মহাশয় ও শ্রীযুক্ত রথীন্দ্র বাবু মহাশয় ও শ্রীমতি বধুমাতাঠাকুরাণী সিলাইদহ গমনের ব্যায় ৩৭৯ নং ভাউচার ১১ চৈত্র ১৫।।৩।. পরদিন সোমবার ১২ চৈত্র ২৫ মার্চ ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ মৌচাক পত্রিকার সম্পাদক সুধীরচন্দ্র সরকারের ভগ্নী কাদম্বিনী দত্তকে (১২৮৫—১৩৫০ বঙ্গাব্দ) এক চিঠিতে লেখেন—এখনো মাথার পরিশ্রম নিষেধ। শিলাইদহে নির্জ্জনে পালাইয়া আসিয়াছি।
১৯১২ সালের ২৮ শে মার্চ রবীন্দ্রনাথ একটি চিঠি লিখেছেন জগদানন্দ রায়কে। জগদানন্দ রায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক, রবীন্দ্রনাথের পুত্রকন্যাদের গৃহশিক্ষক ও শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমের শিক্ষক। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। চৈত্র ১৫, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ। রবীন্দ্রনাথ চিঠিটি লিখেছেন শিলাইদহ থেকে। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন—‘কয়দিন এখানে এসে সুস্থ বোধ করছিলুম। মনে করেছিলুম সেদিন যে ধাক্কাটা খেয়েছিলুম সেটা কিছুই নয়। সুস্থ হয়ে উঠলেই অসুখটাকে মিথ্যা বলে মনে হয়। আবার আজ দেখি সকাল বেলায় মাথাটা রীতিমত টলমল করচে। কাল বুধবার ছিল বলে, কাল সন্ধ্যাবেলায় মেয়েদের নিয়ে একটু আলোচনা করছিলুম—এইটুকুতেই আমার মাথা যখন কাবু হয়ে পড়ল তখন বুঝতে পারচি নিতান্ত উড়িয়ে দিলে চলবে না।’ (বি, ভা. প, মাঘ-চৈত্র ১৩৭৬। ২৫৩, পত্র৫)।
প্রশান্তকুমার পাল রবিজীবনী গ্রন্থের ষষ্ঠ খণ্ডে জানাচ্ছেন, এদিনই তিনি একটি কবিতা লেখেন। কবিতার নাম—‘ স্থির নয়নে তাকিয়ে আছি’। এই কবিতাটি গীতিমাল্য কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ৪ সংখ্যক কবিতা। এর পর বাকী ১৫ দিনে শিলাইদহে থেকে রবীন্দ্রনাথ আরও ১৭টি কবিতা বা গান লেখেন। এর মধ্যে একটি গান—আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ। ১৪ চৈত্র, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ। রচনার স্থান শিলাইদহ। ২৬শে চৈত্র ১৩১৮(এপ্রিল ৮, ১৯১২) বঙ্গাব্দেও তিনি শিলাইদহে। সেখান থেকে লিখেছেন—এবার আমায় ভাসিয়ে দিতে হবে আমার। এপ্রিল ১২, ১৯১২ তারিখে লিখছেন—এবার তোরা আমার যাবার বেলাতে। শিলাইদহে রচিত। ঐ ১২ এপ্রিল, ১৯১২ শিলাইদহ থেকে তিনি কোলকাতায় রওনা হন।
তথ্য বলছে– সে সময়ে রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় নয়—শিলাইদহে ছিলেন।


কুলদা রায়: কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
এম এম আর জালাল: মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক।

Sukhamaya Bain

unread,
May 7, 2015, 2:51:57 AM5/7/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Here are some questions for people who suggest that Rabindranath Tagore opposed the establishment of Dhaka University because he was anti-Muslim:
 
When Dhaka University was formed in 1921, was there any plan anywhere for the creation of Pakistan in 1947?
 
There are several highly prestigious universities in the USA that are located at or near high black population areas. For example, the University of Chicago and Columbia University in New York City. How many percentages of the professors and students of these universities are black?
 
Do you really think that if Dhaka University were to maintain the status of “the Oxford of the East”, it would have served the local (mostly Muslim) population with much preference?
 
From 1921 to 1947 which religious group had more professors and students at Dhaka University, Muslims or Hindus?
 
If there was no Pakistan or if there was no displacement of Hindus from East Bengal from the 1940s to now, and if the university maintained high standard in terms of recruiting professors and admitting students based upon merit, which religious group would be dominating the academic circle of Dhaka University today, Muslims or Hindus?
 
What is needed for the mass education of a population, a prestigious university or many schools (primary, secondary, higher secondary, etc.)?
 
Wishing reasoning and peaceful minds for all,
 
Sukhamaya Bain
===============================================



--
You received this message because you are subscribed to the Google Groups "PFC-Friends" group.
To unsubscribe from this group and stop receiving emails from it, send an email to pfc-friends...@googlegroups.com.
For more options, visit https://groups.google.com/d/optout.


lf2...@aol.com

unread,
May 7, 2015, 10:33:25 AM5/7/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Hindu-cause ,well defended.

Ali Shaheen

unread,
May 7, 2015, 11:54:37 AM5/7/15
to pfc-f...@googlegroups.com
I would be interested to know if he really did oppose the creation of Dhaka University and if so why? Instead of merely speculating as to what his reasons might have been, do we have any documentation of his opposition to the University and the reasons for the opposition?  That should put the matter to rest.  If he signed a petition then his signature would be proof and the petition would have given the reason.  In Toronto there are 3 universities in one city, so I don't see why having more than one university in the province of Bengal was a problem.  After all someone who established Shanti Niketan and welcomed Muslim students was obviously in favour of culture and learning, and he would have wanted to promote higher education in Bengal so the more universities the merrier is how I see it.  Perhaps he had friends in Calcutta University and was promoting their agenda because they did not want any competition in East Bengal?  There is a lot of politics in academia which unfortunately may turn some people into gatekeepers.  But let's look at facts rather than speculate.

AFZAL RAHMAN

unread,
May 7, 2015, 2:10:01 PM5/7/15
to pfc-f...@googlegroups.com
I'm not aware of his opposition to DU and you are right that one should try to dig out the document that he allegedly signed.
I am, however, aware of his bitter opposition to the creation of East Bengal and his support for the movement that led to its reunification with Bengal in 1912. Racism, religious and/or economic, may have been behind the movement - not sure. In any event, reunification was a great disservice to East Bengal, as the eventual Bangladesh was less than 1/2 the size it could have rightfully been. 
 

From: alishah...@gmail.com
Subject: Re: {PFC-Friends} ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ
Date: Thu, 7 May 2015 11:54:17 -0400
To: pfc-f...@googlegroups.com

Ali Shaheen

unread,
May 7, 2015, 5:39:34 PM5/7/15
to pfc-f...@googlegroups.com
People who come from privilege often don't understand that those who are marginalized also need safe spaces in which to grow and thrive.  They see it as wanting to maintain unity but then the voices of the marginalized aren't heard.  This is what fuels independence movements.

The same principle is played out in Islam too when some Muslims oppose women-only mosques and the scholarship of Muslim women because they want women to fall into line and assume that they can speak for us.  So they are threatened when we claim our voice and expose the misogyny.  Instead of merely disagreeing, they immediately dismiss our perspectives and attack women's scholarship which we have seen in this group too.  

People who are used to privilege will do whatever it takes to maintain it.  This happens in every area of human rights BTW and there are no sacred cows.  The irony is that those who protest being victimized will turn around and victimize others!  So I would not be at all surprised if people in any group tried to be gatekeepers to knowledge and privilege and why it is so important to access learning from a variety of perspectives if we want a holistic world view.

Sent from my iPhone

Sukhamaya Bain

unread,
May 7, 2015, 7:23:54 PM5/7/15
to pfc-f...@googlegroups.com
So, it failed to convince you that if Rabindranath Tagore opposed the establishment of Dhaka University it was not for anything like him being against education for the Muslims.
 
As Ms. Majid has suggested, talking about him opposing the establishment of DU is "complete garbage invented to malign Rabindranath." It is an attempt by some uncultured and hateful morons to separate the greatest Bangalee poet from Bangladesh. Let me add that this kind of morons will keep the Muslims uneducated and in the dark ages for longer than what sensible people (among both non-Muslims and Muslims) would like to see.
 
SuBain
 
===================================

Ali Shaheen

unread,
May 8, 2015, 12:38:58 AM5/8/15
to pfc-f...@googlegroups.com
I am just interested in backing up opinions with research and documentation because these should be available to people who are making the accusation and those who are defending Tagore.  Otherwise the argument is reduced to political spin.  For example Arundhati Roy has done a brilliant expose of Gandhi and she has backed up her arguments with Gandhi's own writings.  That makes it more credible because name calling becomes a distraction from the real issue and fails to convince. Of course we are all entitled to believe in anything we choose but then it becomes like religion and Tagore is not a prophet :).  These things can be tricky and one needs more information before reaching a conclusion.  We all know that there are many men who talk about women's rights as long as they are seen as our saviours and women know their place and don't challenge them.  Similarly there are other people with privilege who are happy doing charity work or educating others as long as they don't want equality or independence.  

With respect to Tagore and Dhaka University, I'd love to see the evidence one way or the other. Otherwise it just becomes an emotional issue between those who admire Tagore and those who don't.  Shakespeare too has fans and there are those among Jews and feminists who will cite the Merchant of Venice and Taming of the Shrew to demonstrate that he was influenced by the anti-Semitism and sexism of his time.  It still does not take away from Shakespeare's brilliance and is no big deal.  We all incorporate the prejudices of our time.  

Razzak Syed

unread,
May 8, 2015, 8:54:56 AM5/8/15
to pfc-f...@googlegroups.com
hey dada,
          you make your God by your own hand, none you of ancestors even seen that God, everyone respect your believes and thoughts. Will it be justified if someone force you not to believe on it? 
Same way, everyone knows Rabindranath, he was spoiled child of a rich family, he has stolen poor people's merits and intellectuals, that's why, other than Bengalis, everyone used to hate him. 

Don't forget my parents n grand parents were from Bolpur, further more, at the time of British, my grand father was district education officer in (West Bengal), which gave me opportunity to learn inside stories from my parents.

Capt. Razzak A. Syed


Sent from my iPhone

Shahadat Hussaini

unread,
May 8, 2015, 9:03:07 AM5/8/15
to nabdc group, bangladesh-progressives googlegroups, pfc-f...@googlegroups.com, chottala yahoogroups, farida, Farzana Ahmed, sayeda haq, Nafisa Noor

রবীন্দ্রনাথকে বলা হচ্ছে ‘অসাম্প্রদায়িক’। রবীন্দ্রনাথ কতটা অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, তা জানি না। রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরে ২০ বিঘা জমি কিনে সেখানে একটা একতলা বাড়ি বানান। তিনি বাড়িটির নাম দেন- শান্তি নিকেতন। রবীন্দ্রনাথ এখানে ১৯০১ সালে ব্রাহ্মচর্চার আশ্রম এবং একটি আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এই বিদ্যালয়ে কোনো মুসলমান ছাত্রের পড়ার অধিকার ছিল না। পরে রবীন্দ্রনাথ এখানে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। এতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি এর জন্য চাঁদা চান ভারতের বিভিন্ন দেশীয় রাজার কাছ থেকে। হায়দরাবাদের নিজাম প্রদান করেন এক লাখ টাকা। এক লাখ টাকা তখন ছিল অনেক টাকা। এরপর রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীতে কিছু মুসলমান ছাত্রের পড়ার ব্যবস্থা করেন। যে ক’জন মুসলিম ছাত্র বিশ্বভারতীতে পড়ার সুযোগ পান, তাদের মধ্যে একজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী। হায়দরাবাদের নিজাম যদি চাঁদা না দিতেন তবে বিশ্বভারতীতে মুসলমান ছাত্র পড়ার ব্যবস্থা আদৌ হতো বলে মনে হয় না। কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবার ছিলেন খুবই অত্যাচারী জমিদার। রবীন্দ্রনাথকেও বলা যায় না এর ব্যতিক্রম। রবীন্দ্রনাথ কখনো চাননি জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করা হোক। তিনি মনে করতেন, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করা হলে তার পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর পড়বেন আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে। রবীন্দ্রনাথ বিরোধিতা করেছেন জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের। এ দিক থেকেও তাকে বলা চলে না প্রগতিশীল। জমিদার হিসেবে তার খুব সুখ্যাতি ছিল না। তিনি গরিব কৃষক প্রজার খাজনার টাকায় ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর নানা দেশ। অথচ তার নিজের প্রজাদের জন্য করেননি বিশেষ কিছুই। রবীন্দ্রনাথের জমিদারি ছিল নওগাঁ জেলার আত্রাই থানায়। এই থানার পতিসর নামক স্থানে ছিল রবীন্দ্রনাথের জমিদারির তহশিল ও কুঠিবাড়ি। তহশিলে যারা কাজ করতেন তারা প্রজাদের থেকে আদায় করেছেন বেআইনি বাড়তি খাজনা বা আবওয়াব এবং নজরানা। আমি পতিসরে অনেকবার গিয়েছি। ওই অঞ্চলের প্রধান ব্যক্তিদের কাছে শুনেছি নানা কথা। রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ির ঠিক পেছনে আছে একটি বড় দীঘি। এই দীঘিতে কোনো মুসলমান গোসল করতে পারত না। কারণ, মনে করা হতো মুসলমান ওই দীঘিতে গোসল করলে দীঘির পানি অপবিত্র হবে। পতিসরের তহশিলে মুসলমান কৃষক প্রজাদের খাজনা দিতে হতো দাঁড়িয়ে থেকে; তাদের বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। শুনেছি, অনেক পরে রবীন্দ্রনাথ এদের বসার একটা ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু সেটা অনেক পরে। আজ তবু রবীন্দ্রনাথকে বলা হচ্ছে আমাদের জাতীয় চেতনার উৎসস্থল হিসেবে। এর আদৌ কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। বাংলার মুসলমান সমাজ রবীন্দ্র চিন্তা-চেতনার দ্বারা কোনোভাবেই প্রভাবিত হয়নি। বাংলাভাষী মুসলমানের মধ্যে সর্বপ্রথম সুন্দর বাংলা গদ্য লিখেছিলেন মীর মশারফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১১)। মীর মশারফ হোসেন বাংলা গদ্য লিখতে শিখেন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘গ্রামবার্তা’ নামক প্রত্রিকার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথের কাছ থেকে। কাঙাল হরিনাথ রবীন্দ্রনাথের পিতার সমালোচনা করেন কৃষক প্রজার ওপর অত্যাচারের কারণে। রবীন্দ্রনাথের পিতা কাঙাল হরিনাথকে খুন করার জন্য গুণ্ডা নিয়োগ করেন। কিন্তু হরিনাথের পে বিপুল জনসমর্থন থাকায় রবীন্দ্রনাথের পিতার এই উদ্দেশ্য সফল হতে পারেনি। এটা ঠাকুর পরিবারের জন্য হয়ে আছে বিশেষ কলঙ্কজনক ইতিহাস।


রবিবার, ২০ মে, ২০১২

প্রগতিবাজদের খপ্পরে আওয়ামী লীগ

প্রগতিবাজদের খপ্পরে আওয়ামী লীগ



॥ এবনে গোলাম সামাদ ॥

‘প্রগতিশীল’ আর ‘প্রতিক্রিয়াশীল’-এর ধারণা সৃষ্টি হয় ইউরোপে, ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে। ফরাসি দেশে যারা বিপ্লবের ধারণাকে সমুন্নত রেখে রাজনীতি করতে চান, তাদের বলা হতে থাকে প্রগতিশীল। আর যারা তাদের বিরোধিতা করেন, ফিরে যেতে চান ফরাসি বিপ্লবের আগের অবস্থায়, তাদের বলা হতে থাকে প্রতিক্রিয়াশীল। ফরাসি বিপ্লবের সময় ঘোষণা করা হয় মানবাািধকারের দাবি। এই অধিকারের পে যারা থাকেন তারা হলেন প্রগতিশীল। যারা এর বিরোধিতা করেন তাদের বলা হতে থাকে প্রতিক্রিয়াশীল। ‘প্রগতিবাজ’ কথাটা কিছুটা নিন্দাসূচক। প্রগতিবাজ বলতে বোঝায় সেসব বাম রাজনীতিককে, যারা নিজেদের দাবি করেন মার্কসবাদ ও লেনিনবাদের অনুসারী হিসেবে। ১৯১৭ সালে নভেম্বর মাসে ঘটে রুশ বিপ্লব। এর পর থেকে সৃষ্টি হয় প্রগতিবাজের ধারণা। প্রগতিবাজরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে আস্থাবান নন। তারা বিশ্বাস করেন, কেবল তাদের নেতৃত্বেই সমাজে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এই একদলীয় শাসনের ধারণাকে বলা যায় প্রগতিবাদী ও প্রগতিবাজদের মধ্যে মূল আদর্শগত পার্থক্য। আওয়ামী লীগ ছিল উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে আশ্চর্যজনকভাবে দলটি প্রভাবিত হয় প্রগতিবাজদের দ্বারা। আওয়ামী লীগ বলে যে, তারা সমাজতন্ত্র চায়। আর তা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন এক দলের শাসনব্যবস্থা। শেখ মুজিব গড়েন বাকশাল। বাকশালের ধ্যান-ধারণা এখনো ছাড়তে পারেনি আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাথে এ দেশের আর সব বড় দলের মতবাদিক পার্থক্য হলো, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ঘিরে। অন্যান্য দল যেখানে চাচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগ সেখানে প্রকারান্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে এক দলের রাজত্ব। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল মূলত সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির অনুকরণে। সে বলেছিল, বাকশাল গঠনের ল্য হলো, দুঃখী মানুষের গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আজ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়েছে। রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র। রাশিয়া এখন সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির পথ ছেড়ে অনুসরণ করতে চাচ্ছে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিশ্র অর্থনীতি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল ১৫টি রিপাবলিক নিয়ে। এখন তারা পৃথক হয়ে পড়েছে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন পারেনি জাতিসত্তার সমস্যার সমাধান করতে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মার্কসবাদ লেনিনবাদ এখন আর কোনো আবেদনবহ রাজনৈতিক দর্শন নয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশে এই দর্শনের উত্তরসূরিরা নিয়ন্ত্রিত করতে পারছে আওয়ামী লীগের নীতি; যেটাকে অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে বিস্ময়কর। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন একজন উদার গণতন্ত্রী। তিনি গণতন্ত্র বলতে বুঝতেন ব্রিটিশ গণতন্ত্রকে। আর তিনি চেয়েছেন, সেই পথই অনুসরণ করবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তাঁর চিন্তা চেতনার সাথে আজকের আওয়ামী লীগের কোনো সুদূর যোগাযোগও নেই। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মুসলিম লীগ করতেন। তিনি সমর্থন করেছিলেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি। কিন্তু যখন তিনি দেখেন যে, এর ফলে সাবেক বাংলা বিভক্ত হয়ে পড়বে, তখন তিনি তোলেন পৃথক স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের দাবি। তিনি ও শরৎচন্দ্র বসু ১৯৪৭ সালে যে স্বাধীন বাংলার দাবি তোলেন, বাংলাভাষী হিন্দু তাতে সাড়া দেননি। এমনকি জ্যোতি বসুর মতো বাম রাজনীতিক সমর্থন করেছিলেন বাংলার বিভক্তিকে। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের কিছুটা নিয়ে সৃষ্টি হয় আজকের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। পান্তরে উত্তর, মধ্য ও পূর্ববঙ্গ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান। গণভোটের মাধ্যমে আসামের শ্রীহট্ট জেলা যুক্ত হয় পূর্ব পাকিস্তানের সাথে। শ্রীহট্ট বা সাবেক সিলেট জেলা এক সময় ছিল বাংলা প্রদেশের অংশ। ১৮৭৪ সালে তাকে যুক্ত করা হয়েছিল আসামের সাথে। গণভোটে তারা ফিরে আসে আবার বাংলা ভাষাভাষী পূর্ব পাকিস্তানে। এভাবে রচিত হয় পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। শ্রীহট্টের গণভোটের কথা মনে পড়ছে। কারণ এই গণভোটের সময় কমিউনিস্টরা বলেছিলেন যে, শ্রীহট্টবাসীর উচিত হবে ভারতে যোগ দেয়া। যুক্তি হিসেবে তারা বলেছিলেন, ভারত হলো একটা বিরাট ও উন্নত রাষ্ট্র; পাকিস্তান যা কখনোই হতে পারবে না। এদের কথা শুনে সাবেক শ্রীহট্টবাসী যদি পাকিস্তানে যোগ না দিয়ে ভারতে যোগ দিতেন, তবে বাংলাদেশের বর্তমান ত্রেফল হতো ৪৭৮৫ বর্গমাইলের কম। ইংরেজ আমলের শ্রীহট্ট জেলার আয়তন ছিল ৫৪৪০ বর্গমাইল। সাবেক শ্রীহট্ট জেলার করিমগঞ্জ থানা গণভোটে পাকিস্তানে যোগ দেয় না। সিলেটে গণভোট হয়েছিল থানাকে একক ধরে। এ দেশের কমিউনিস্ট বা প্রগতিবাজরা নিয়েছেন ভারতের প। আজো তারা কাজ করছেন ভারতেরই প।ে বর্তমান আওয়ামী লীগের ভারত তোষণ নীতির মূলে আছেন তারা। বর্তমানে এই প্রগতিবাজরা হয়ে উঠেছেন এক নিখিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা। আর এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে তারা রবীন্দ্রনাথকে করে তুলতে চাচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষের Culture Hero বা সংস্কৃতি বীর। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে যুক্তিবিহীন অন্ধ ধারণা। রবীন্দ্রনাথের ওপর আরোপ করা হচ্ছে অতিমানবিক গুণাবলি। যার ফলে রবীন্দ্রনাথ যেন হয়ে উঠতে চাচ্ছেন এ দেশের মানুষের জন্য অবতার হিসেবে। 
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন দু’টি রাজনৈতিক দল বড় হয়ে উঠেছে। একটি দল হলো আওয়ামী লীগ, অপরটি হলো বিএনপি। এই দুই দলের মধ্যে চলেছে মতার লড়াই। কিন্তু মতার লড়াই-ই এই দু’টি দলের একমাত্র কথা নয়। দু’টি দলের আদর্শিক পার্থক্যকে নিতে হবে বিবেচনায়। বর্তমান আওয়ামী লীগ বলছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা। কিন্তু সব বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বাংলাদেশে বাস করছে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাংলাভাষী হলেও ভারত ভেঙে তারা এসে যুক্ত হতে চাচ্ছে না বাংলাদেশের সাথে। আওয়ামী লীগের বাঙালি জাতীয়তাবাদকে তাই বলা চলে না বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে মতা নিয়ে লড়াই। কিন্তু এ েেত্র মতা নিয়ে লড়াই সব কথা নয়। বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে, আওয়ামী লীগের মতো কোনো নিখিল বাঙালি জাতীয়তাবাদে নয়। বিএনপি কোনো বাম রাজনীতি করে না। বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ নয় সমাজতন্ত্র। বিএনপি বিশ্বাস করে মিশ্র অর্থনীতিতে। এ দল বিশ্বাস করে উদার গণতন্ত্রে। জিয়া মতায় আসার পর দেশে যে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়, তার ফলে নতুন করে শুরু হতে পেরেছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতি। জিয়ার গঠিত বিএনপি চায়নি আওয়ামী লীগের বিলুপ্তি। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রবণতা হলো এক দলের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা। আর সেই সাথে বিএনপির বিলুপ্তি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে তাই বলা চলে না একই রকম রাজনৈতিক দল। বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে না প্রগতিবাজদের দ্বারা।
আওয়ামী লীগ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে খুব হইচইয়ে মেতে উঠেছে। আওয়ামী লীগের বক্তব্য, রবীন্দ্রনাথ হলেন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধ। আর তাই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে রবীন্দ্র চিন্তা-চেতনা হলো অন্যতম চাবিকাঠি। এ দেশের প্রগতিবাজরা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছেন যে, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তার ধারক ও বাহক। রবীন্দ্র ভাবধারা তাই হতে পারে আমাদের চিন্তার প্রসারতা প্রদানে বিশেষ সহায়ক।’ কিন্তুু রবীন্দ্র চিন্তা-চেতনা কি সত্যিই প্রগতিশীল ছিল? কী অর্থে তাকে বলতে হবে প্রগতিশীল? কারণ রবীন্দ্র কাব্যে ধ্বনিত হয়েছে হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী চিন্তা-চেতনা। রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় মানুষকে ফিরতে বলেছেন, বেদ-উপনিষদের যুগে। এর মধ্যে প্রগতিশীল ভাবধারার পরিচয় কোথায়? রবীন্দ্রনাথ বাইরের বিশ্বে ভারতীয় কবি হিসেবে পরিচিত, বাংলাদেশের কবি হিসেবে নন, যদিও তিনি লিখেছেন বাংলা ভাষায়। রবীন্দ্র কাব্যের কোথাও নেই বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কথা; যেমন বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পরিচয় আমরা পেতে পারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেটে। কোনো কবিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে মাইকেল মধুসূদনকে করা যেতে পারে; রবীন্দ্রনাথকে নিশ্চয় নয়। শেখ হাসিনা তার একটি সাম্প্রতিক বক্তৃতায় বললেন, রবীন্দ্রনাথ নাকি বাঙালির অনুভব-উপলব্ধির শিকড়ে প্রোথিত। কিন্তু আমার মনে পড়ে ১৯৭১ সালের কথা। এ সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার চেয়ে এ দেশের মানুষকে জীবনানন্দ দাশের কবিতা বেশি পড়তে দেখেছি। এ সময় জীবনানন্দ দাশ হয়ে উঠেছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিশেষ প্রেরণার স্থল। এখন শুধু রবীন্দ্রনাথকে সামনে এনে আর সব বাংলা সাহিত্যিককে যেন উপো করা হচ্ছে। এটাকে মোটেও বাঞ্ছিত বলা যায় না। রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাবের আগেই বাংলা সাহিত্য হাঁটতে আরম্ভ করেছিল। রবীন্দ্রনাথের আগেই জন্মেছেন মাইকেল মধুসূদনের মতো কবি। আবির্ভাব ঘটেছে বঙ্কিম ও সঞ্জীবচন্দ্রের মতো প্রাঞ্জল বলিষ্ঠ গদ্য লেখকের। রবীন্দ্রনাথ বাংলা গদ্যের জনক নন।
রবীন্দ্রনাথকে বলা হচ্ছে ‘অসাম্প্রদায়িক’। রবীন্দ্রনাথ কতটা অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, তা জানি না। রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরে ২০ বিঘা জমি কিনে সেখানে একটা একতলা বাড়ি বানান। তিনি বাড়িটির নাম দেন- শান্তি নিকেতন। রবীন্দ্রনাথ এখানে ১৯০১ সালে ব্রাহ্মচর্চার আশ্রম এবং একটি আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এই বিদ্যালয়ে কোনো মুসলমান ছাত্রের পড়ার অধিকার ছিল না। পরে রবীন্দ্রনাথ এখানে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। এতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি এর জন্য চাঁদা চান ভারতের বিভিন্ন দেশীয় রাজার কাছ থেকে। হায়দরাবাদের নিজাম প্রদান করেন এক লাখ টাকা। এক লাখ টাকা তখন ছিল অনেক টাকা। এরপর রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীতে কিছু মুসলমান ছাত্রের পড়ার ব্যবস্থা করেন। যে ক’জন মুসলিম ছাত্র বিশ্বভারতীতে পড়ার সুযোগ পান, তাদের মধ্যে একজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী। হায়দরাবাদের নিজাম যদি চাঁদা না দিতেন তবে বিশ্বভারতীতে মুসলমান ছাত্র পড়ার ব্যবস্থা আদৌ হতো বলে মনে হয় না। কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবার ছিলেন খুবই অত্যাচারী জমিদার। রবীন্দ্রনাথকেও বলা যায় না এর ব্যতিক্রম। রবীন্দ্রনাথ কখনো চাননি জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করা হোক। তিনি মনে করতেন, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করা হলে তার পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর পড়বেন আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে। রবীন্দ্রনাথ বিরোধিতা করেছেন জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের। এ দিক থেকেও তাকে বলা চলে না প্রগতিশীল। জমিদার হিসেবে তার খুব সুখ্যাতি ছিল না। তিনি গরিব কৃষক প্রজার খাজনার টাকায় ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর নানা দেশ। অথচ তার নিজের প্রজাদের জন্য করেননি বিশেষ কিছুই। রবীন্দ্রনাথের জমিদারি ছিল নওগাঁ জেলার আত্রাই থানায়। এই থানার পতিসর নামক স্থানে ছিল রবীন্দ্রনাথের জমিদারির তহশিল ও কুঠিবাড়ি। তহশিলে যারা কাজ করতেন তারা প্রজাদের থেকে আদায় করেছেন বেআইনি বাড়তি খাজনা বা আবওয়াব এবং নজরানা। আমি পতিসরে অনেকবার গিয়েছি। ওই অঞ্চলের প্রধান ব্যক্তিদের কাছে শুনেছি নানা কথা। রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ির ঠিক পেছনে আছে একটি বড় দীঘি। এই দীঘিতে কোনো মুসলমান গোসল করতে পারত না। কারণ, মনে করা হতো মুসলমান ওই দীঘিতে গোসল করলে দীঘির পানি অপবিত্র হবে। পতিসরের তহশিলে মুসলমান কৃষক প্রজাদের খাজনা দিতে হতো দাঁড়িয়ে থেকে; তাদের বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। শুনেছি, অনেক পরে রবীন্দ্রনাথ এদের বসার একটা ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু সেটা অনেক পরে। আজ তবু রবীন্দ্রনাথকে বলা হচ্ছে আমাদের জাতীয় চেতনার উৎসস্থল হিসেবে। এর আদৌ কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। বাংলার মুসলমান সমাজ রবীন্দ্র চিন্তা-চেতনার দ্বারা কোনোভাবেই প্রভাবিত হয়নি। বাংলাভাষী মুসলমানের মধ্যে সর্বপ্রথম সুন্দর বাংলা গদ্য লিখেছিলেন মীর মশারফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১১)। মীর মশারফ হোসেন বাংলা গদ্য লিখতে শিখেন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘গ্রামবার্তা’ নামক প্রত্রিকার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথের কাছ থেকে। কাঙাল হরিনাথ রবীন্দ্রনাথের পিতার সমালোচনা করেন কৃষক প্রজার ওপর অত্যাচারের কারণে। রবীন্দ্রনাথের পিতা কাঙাল হরিনাথকে খুন করার জন্য গুণ্ডা নিয়োগ করেন। কিন্তু হরিনাথের পে বিপুল জনসমর্থন থাকায় রবীন্দ্রনাথের পিতার এই উদ্দেশ্য সফল হতে পারেনি। এটা ঠাকুর পরিবারের জন্য হয়ে আছে বিশেষ কলঙ্কজনক ইতিহাস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয় ১৯২১ সালের জুলাই মাস থেকে। এর কয়েক মাস আগে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পি জি হার্টগ সাহেবকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি করে। এই বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হয় কতকটা বিলাতের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে। এর চালচলন ছিল বিলাতি। কিন্তু বাংলাভাষী হিন্দুরা সব সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলতে চেয়েছেন মুসলমান প্রভাবিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। যেটা মোটেও সত্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর ছিল বিশেষ অবদান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দান করেছিলেন অনেক জমি। কিন্তু তিনি মারা যান ১৯১৫ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে পূর্ববাংলার মুসলমান সমাজে একটি শিতি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবির্ভাব হতে থাকে। তাদের প্রভাবে বাংলাভাষী মুসলমান সমাজে আসা সম্ভব হয় একটা বিশেষ মানসিক জাগরণ। বিশ্বভারতীর সাথে সে জাগরণের কিছুমাত্র সম্পর্ক নেই। বিশ্বভারতীর কর্মকাণ্ড আরম্ভ হয় ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বভারতীর মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার মহাশয় লিখেছেনÑ‘১৯২২ সাল হইতে ১৯৪৭ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক ও ছাত্রসমাজ যে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়াছেন তাহার সহিত তুলনা করিলে ঐ সময়ের মধ্যে বিশ্বভারতীর কৃতিত্ব এ বিষয়ে নগণ্য বলিলে বিশেষ অত্যুক্তি হইবে না।... কেবল চিত্রকলা ও নৃত্যগীত অনুষ্ঠানকে ইহার ব্যতিক্রম বলা যায়। এই দুই বিষয়ে বিশ্বভারতীর অবদান অনস্বীকার্য।’ (বাংলাদেশের ইতিহাস; চতুর্থ খণ্ড)। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগের তথাকথিত প্রগতিবাজরা বোঝাতে চাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথের জন্য সৃষ্টি হতে পেরেছে বাংলাভাষী মুসলমান মানসে বিরাট জাগরণ। যেটাকে ঐতিহাসিক সত্য বলে স্বীকার করা যায় না। বাংলাভাষী মুসলমানের জাগরণে বিশ্বভারতী কোনো অবদান রাখেনি; অবদান রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ইতিহাসে অনেক কিছু ঘটে যার ব্যাখ্যা করা সহজ নয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়র্দী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। আম শব্দটা আরবি ভাষার। শব্দগত অর্থে জনগণ। পরে ১৯৫৫ সালে সোহরাওয়ার্দী সাহেব আওয়ামী মুসলিম লীগের জায়গায় দলটির নাম করেন আওয়ামী লীগ। তিনি ‘মুসলিম’ কথাটি উঠিয়ে দেন। আওয়ামী লীগকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করতে চান সাবেক পাকিস্তানের একটি দল হিসেবে, যার ল্য হবে পাকিস্তানকে গণতান্ত্রিক কল্যণব্রতী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। এ দিক থেকে তিনি বেশ কিছুটা প্রভাবিত হন ব্রিটিশ লেবার পার্টির চিন্তা-চেতনার দ্বারা। কিন্তু তার চিন্তা-চেতনা কখনোই কঠোর বামপন্থী ছিল না অথবা হয়নি। জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিতা স্যার শাহনেওয়াজ ভুট্টো ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ব্যক্তিগত বন্ধু। হোসেন শহীদ সোহরাওয়র্দী এক দিন সিন্ধুতে শাহনেওয়াজ সাহেবের বাড়িতে গিয়ে বলেন তার পুত্র জুলফিকার আলী ভুট্টোকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে। কিন্তু ভুট্টোর পিতা বলেন, তিনি তার পুত্রকে রাজনীতির দিকে প্রভাবিত করতে পারেন না। তার পুত্রকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে রাজনীতিতে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সাথে হাত মিলাবে কি না। ভুট্টোকে সোহরাওয়ার্দী সাহেব খুব পছন্দ করতেন। ১৯৫৭ সালে সোহরাওয়ার্দী সাহেব প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় জুলফিকার আলী ভুট্টোকে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য হিসেবে প্রেরণ করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টোর তখন বয়স ছিল মাত্র ২৯ বছর। ১৯৬৭ সালে ভুট্টো গড়েন তার নিজস্ব রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি। কেউ তখন ভাবতে পারেননি পিপলস্ পার্টি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে সৃষ্টি হবে বিরাট রাজনৈতিক বিরোধ; যার ফলে ভেঙে পড়বে সাবেক পাকিস্তান। সাবেক পাকিস্তান ভেঙে দেয়ার কোনো ইচ্ছা সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ছিল না। শেখ মুজিবেরও যে ছিল, এ রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। সোহরাওয়ার্দীর শিষ্য কী করে পরে মণিসিংহদের প্রভাবে পড়ে বাকশাল গঠনের কথা ভাবতে পেরেছিলেন সেটার ব্যাখ্যা করা মনে হয় খুবই কঠিন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখনো আটকা পড়ে আছে একদলীয় বাকশালী চিন্তা-চেতনার দ্বারা। আর তারা এখন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নীতি ও আদর্শের কথা ভুলেও চাচ্ছেন না আলোচনা করতে। নিচ্ছেন না তার নাম। 
লেখক : প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট


From: shahadat...@hotmail.com
To: pfc-f...@googlegroups.com; na...@googlegroups.com; bangladesh-...@googlegroups.com; chot...@yahoogroups.com; farida...@hotmail.com; sayedah...@yahoo.com; nafisan...@yahoo.com
Subject: {NA Bangladeshi Community} RE: {PFC-Friends} ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ
Date: Thu, 7 May 2015 21:20:46 -0400

‘রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয়’ আর ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’ দুটো এক জিনিস নয়


‘রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয়’ আর ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’ দুটো এক জিনিস নয়। 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সার্বভৌমত্বকে আঘাত হানবে অচিরেই।

(গুগল ইমেজ সার্চে shantiniketan ও festivals এ শব্দদুটি লিখে একসঙ্গে সার্চ দেন, বুজতে পারবেন, লিঙ্ক: http://goo.gl/ZdhDaP)


Shahadat


গতকালকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটা পোস্ট (http://goo.gl/ItFm0a) দেওয়ার পর বুঝতে পেরেছি, বাংলাদেশীরা হচ্ছে পিউর বেকুব, এতে কোন ভেজাল নেই।
কারণ অনেকেই কমেন্টে বলেছেন, “আরে ভাই রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলে সমস্যাটা কি ?”
কিন্তু মাথামোটা বাংলাদেশীরা এ সামান্য ব্যাপারটা বুঝে নি, ‘রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয়’ আর ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’ দুটো এক জিনিস নয়।

কারণ এই একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করার জন্য
১) ভারত সরকার বহুদিন ধরে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে,
২) এ বিশ্ববিদ্যালয় বানাতে ভারত সরকার নিজেও টাকা দিচ্ছে।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল ৫ জানুয়ারি ২০১৩, দৈনিক ডেসটিনি ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, বাংলামেইল ৮ই এপ্রিল, ২০১৪)

এবার বলুন তো, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য ভারত সরকার এত আগ্রহী কেন ??
চিন্তা করুন, খোরাক মিলবে। তবে আপনার চিন্তাধারা সহজ করে দেওয়ার জন্য আমি বলে দিচ্ছি, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে ভারতের শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর আদলে (http://goo.gl/8AgJhB)।
এখন হয়তো অনেকে প্রশ্ন করবেন, শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর আদলে হলে সমস্যাটা কি ??
এতক্ষণে লাইনে আসছেন। এজন্য আপনাকে আগে জানতে হবে, শান্তি নিকেতন ও বিশ্বভারতী আসলে কি ?? 
শান্তিনিকেতন হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্র,যা ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের পিতা ধর্মচর্চার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করে। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে, যা কালক্রমে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নেয় (bn.wikipedia.org/wiki/শান্তিনিকেতন)।
এখন আপনি বলতে পারেন, শান্তি নিকেতনে আসলে কি হয় ??
শান্তি নিকেতন হচ্ছে এমন একটা সিস্টেম, যেখানে নানান ধরণের অসাম্প্রদায়িক (`ধর্ম যার যার, পূজা সবার' টাইপ : http://goo.gl/Tyw293) অনুষ্ঠান সারাদিন হতে থাকে এবং ট্রেনিং দেওয়া হয়ে থাকে। ঐখান থেকে ছিটেফোটা ট্রেনিং নিয়ে এসে বাংলাদেশের রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যরা চারুকলা আর ছায়ানটে এসব শিক্ষা দেওয়া শুরু করে। যার কারণে ইতিমধ্যে হোলি উৎসব, দুর্গা উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তি, চড়ক উৎসব, সরস্বতী উৎসবের মত বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলো বাংলাদেশেও জাতীয় উৎসব হিসেবে মর্যাদা পেতে শুরু করেছে।
তাই বলছিলুম, দুই-একটা রেজওয়ানা বন্যা শান্তিনিকেতন-বিশ্বভারতী থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসলে যদি বাংলাদেশের এ অবস্থা হয়, তবে শান্তিনিকেতন-বিশ্বভারতী ‘র শাখা যদি খোদ বাংলাদেশে খোলা হয়, তবে বাংলাদেশের কি অবস্থা হবে ? আপনি বলুন ???
(গুগল ইমেজ সার্চে shantiniketan ও festivals এ শব্দদুটি লিখে একসঙ্গে সার্চ দেন, বুজতে পারবেন, লিঙ্ক: http://goo.gl/ZdhDaP)


Date: Thu, 7 May 2015 15:20:08 +0000
From: pfc-f...@googlegroups.com
To: pfc-f...@googlegroups.com

--
You received this message because you had subscribed to the Google Groups "North America Bangladeshi Community forum". Any posting to this group is solely the opinion of the author of the messages to na...@googlegroups.com who is responsible for the accuracy of his/her information and the conformance of his/her material with applicable copyright and other laws where applicable. The act of posting to the group indicates the subscriber's agreement to accept the adjudications of the moderator(s). To post to this group, send email to na...@googlegroups.com.
---
You received this message because you are subscribed to the Google Groups "North America Bangladeshi Community" group.
To unsubscribe from this group and stop receiving emails from it, send an email to nabdc+un...@googlegroups.com.
Visit this group at http://groups.google.com/group/nabdc.

Shahadat Hussaini

unread,
May 8, 2015, 9:12:12 AM5/8/15
to pfc-f...@googlegroups.com, nabdc group, bangladesh-progressives googlegroups, chottala yahoogroups, farida, sayeda haq, saokot hossain, Nafisa Noor, Farzana Ahmed

বাংলাদেশের জন্য সুখবর, খুব শিঘ্রই বাংলাদেশের নতুন সাংস্কৃতিক রাজধানী উদ্ভোধন হতে যাচ্ছে (আগামী ৮ই মে, link- http://goo.gl/1PcgbK)। হ্যা আপনি ঠিক ধরেছেন, স্থানটি হচ্ছে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে, যেখানে ভারতের শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর আদলে নির্মিত হবে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশে যারা সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন, তাদের অনেকেই ঐ শান্তিনিকেতন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, তাই শান্তিনিকেতনের ‘বাংলাদেশ শাখা’ খোলার মানে, বাংলাদেশের সংষ্কৃতির জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হওয়া।

উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতনে নানান ধরনের উৎসব প্রতিনিয়ত হয়ে থাকে, যা কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশেও ব্যাপক হারে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পরবে এটাই স্বাভাবিক। যেমন, শান্তিনিকেতনে হয়ে থাকে:

ধর্মচক্র প্রবর্তন
গান্ধী পুণ্যাহ
রবীন্দ্র সপ্তাহ, হলকর্ষণ উৎসব
বর্ষামঙ্গল
শিল্পোৎসব
রাখীবন্ধন
শারদোৎসব
খ্রিষ্টোৎসব
মহর্ষি স্মরণ
পৌষ উৎসব
দিপাবলি উৎসব
হোলি উৎসব, ইত্যাদি।

ভারতে কিন্তু সংস্কৃতির প্র্যাকটিস (নাচ-গান-সিনেমা-উৎসব) খুবই শিল্পোমণ্ডিত হয়, যা সারা বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ। অথচ বাংলাদেশের মানুষ এগুলোতে খুব একটা পটু নয়। তাই বাংলাদেশে ভারত সরকারের সহযোগীতায় রবীন্দ্রবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে ঘরে ঘরে রেজওয়ানা বন্যার মত উদীয়মান গায়িকা তৈরী হবে, তৈরী হবে ঋতুপূর্ণার মত আবেদনময়ী নায়িকা। শুধু তাই নয়, এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলে শুধু শাহজাদপুর নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে, সবাই অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিবাদী হয়ে উঠবে, এবং সংস্কৃতিকেই তাদের মনে-প্রাণে ধারণ করবে।

সত্যি কথা বলতে, রবীন্দ্রনাথের পারিবারিকভাবে ছিলো বেশ্যালয়ের ব্যবসা। তার দাদা দ্বারকানাথের শুধু কলকাতাতেই ছিলো ৪৩টি পতিতালয় (আনন্দবাজার পত্রিকার ১৪০৬ এর ২৮শে কার্তিক সংখ্যা দ্রষ্টব্য)। রবীন্দ্রনাথ নিজেও পতিতা খুব এনজয় করতেন। বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গার পাশে গঙ্গাজলীতে এসে, এক পতিতালয় দেখে কবিগুরু কবিতা লিখেছিলেন: “বাংলার বধূ, বুকে তার মধু”।

আসলে ‘বুকে মধু’ ওয়ালা রমণী তৈরী করাই হচ্ছে রবীন্দ্রনাথদের স্বার্থকতা। তাই সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্রবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে সেখানেও তৈরী হবে ‘বুকে মধু’ ওয়ালা রমণীরদের অভয়াণ্য। তখন দৌলতদিয়া-সোনাগাছির মত সিরাজগঞ্জকেও এক নামে চিনবে বিশ্ববাসী।

(ছবি: শান্তিনিকেতনে পালিত হওয়া বিভিন্ন উৎসবের ছবি)



Subject: {NA Bangladeshi Community} RE: {PFC-Friends} ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ
Date: Thu, 7 May 2015 20:44:46 -0400

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরোধিতার প্রেক্ষাপট - Khandaker Raquib.

 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা নিয়ে পত্র-পত্রিকা, ব্লগ, ফেসবুক, টুইটারে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা সমালোচনা চোখে পড়ল। স্বভাবতই কৌতূহলী হলাম।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠার ইতিহাস বিষয়ক বইয়ের সন্ধানে গিয়েছিলাম আজিজ সুপার মার্কেটে। না, সেখানে কোন বই পাইনি। দুয়েকজন বলেছেন, পরে সংগ্রহ করে দিবেন। এক তরুণ বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে। তরুণটি জানতে চাইলেন, আমি কোন বিষয়ে জানতে চাই। তখন বললাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠা লগ্নের পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে চাই। আমি বললাম, যেমন ধরুন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। তরুণটি বললেন, প্রেক্ষিত না জানলে শুধু বিরোধিতার কথা বললে ইতিহাস বিকৃতি হবে। তরুণটি নিজেই আগ বাড়িয়ে বললেন, কবিগুরু শুধু মুসলমানদের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় চাননি বলেই এর বিরোধিতা করেছেন। আমি তখন বললাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু মুসলমানদের জন্যে প্রতিষ্ঠা হয়েছে কথাটি সত্য নয়, সঠিকও নয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পূর্ববঙ্গের সকল মানুষের জন্যে। ক‘দিন আগে এক ভদ্রলোক ফোনে বললেন, তিনি পড়েছেন কবিগুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু কোন রেফারেন্স নেই। আমি উত্তরে বলেছিলাম, বহু রেফারেন্স আছে। তবে ফোনে বলা যাবেনা। ভদ্রলোক পরে যোগাযোগ করবেন বলেছেন।

 

আজকের এই লেখাটি ওই কারণেই লিখতে হচ্ছে।

 

পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন ক্যালকাটার হিন্দু ভদ্রলোকেরা ও বুদ্ধিজীবীরা। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন কবিগুরু। কারণ অনেক থাকতে পারে। নানা জনে নানা ভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন। সে ব্যাখ্যায় আমি যাচ্ছিনা। ইতিহাস হলো কবিগুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন এবং পরে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। কবিগুরু দুবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা কবিগুরু একজন জমিদার ও ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি পারিবারিক সূত্রে এই জমিদারী ও ব্যবসা পেয়েছেন। তিনি বাংলা ভাষা প্রধান কবি। এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত থাকা উচিত নয়। কিন্তু জমিদার ও ব্যবসায়ী হিসাবে তাঁর ভুমিকা ছিল গণ-বিরোধী। তাঁকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে হয়েছে। সেখানে তিনি নিরপেক্ষ থাকতে পারেননি। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে গিয়েছে। আমরা যদি তাঁকে একজন হিন্দু ভাবি তাহলে তাঁর বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং আমি মনে করি তা খুবই স্বাভাবিক। তিনি হিন্দু স্বার্থের পক্ষে কথা বলেছেন। সমস্যা হচ্ছে আমরা অনেকেই তাঁর কবিগুরু মর্যাদার সাথে জমিদারী ও ব্যবসায়ী মর্যাদা এক করে ফেলি। আমি নিজেও তাঁর গান ও কবিতার ভক্ত। তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করেছেন। কবি হিসাবে বিশ্ববাসী তাঁকে যথাযথ সম্মানও করেছেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্নের ইতিহাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়নি। আমি এ বিষয়ে প্রকাশিত বেশ কিছু বই সংগ্রহ করেছি। নামীদামী ব্যক্তিত্বরা যে সব বই লিখেছেন তাঁরা কেউ প্রতিষ্ঠা লগ্নের ঘটনা গুলো উল্লেখ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালের ১লা জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করেছে। সেই থেকেই সবাই নিজেদের পুস্তক রচনা করেছেন। তাতে আসল ইতিহাস সামনে উঠে আসেনি। কেন তাঁরা আসল ইতিহাস লেখেননি তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। সরদার ফজলুল করিম সম্পাদিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ বইটিতে কিছু তথ্য পাওয়ার আশা আমার ছিল। বইটি ছিল অধ্যাপক রাজ্জাকের সাথে সরদার করিমের আলাপচারিতার ফসল। এ রকম একটি বই আমার খুবই প্রয়োজন ছিল। অধ্যাপক রাজ্জাকের বাসায় প্রচুর আড্ডা হতো। তিনি নিজের ভাষায় খুব সুন্দর করে কথা বলতেন। অধ্যাপক রাজ্জাক নিজে কোন বই লিখে যাননি। তাঁর লেখার কোন অভ্যাস ছিলনা বলে শুনেছি। তিনি লিখতেন বলে প্রচার করতেন তাঁর ভক্তরা। আমার কাছে অবাক লাগছে যে, আলাপচারিতায় অধ্যাপক রাজ্জাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্নের প্রাক কথাগুলো একেবারেই উল্লেখ করেননি। হয়ত সরদার করিম তাঁকে এ বিষয় কিছু জিজ্ঞেস করেননি। রাজ্জাক সাহেবও নিজে থেকেই বিষয়টি আলোচনায় আনেননি। এছাড়াও বইটাকে ইতিহাস বলা যাবেনা। কারণ, অধ্যাপক রাজ্জাক স্মৃতি থেকে গল্পের মতো করে অনেক কথা বলেছেন একেবারেই নিজের মতো করে। তাঁর গল্পের ভিতর নানা কন্ট্রাডিকশন রয়েছে।

 

মুহম্মদ জাহাংগীর সম্পাদিত ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ভুমিকা সম্বলিত ‘স্মৃতিকথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বইতেও ১৯২১ সালের আগের কথাগুলো আসেনি। যত গুলো লেখা এই বইতে সংকলিত হয়েছে সবগুলোই ২১ সালের পরের কথা দিয়ে শুরু হয়েছে। রমেশ মজুমদারের লেখাতে উল্লেখ রয়েছে যে, হিন্দুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধিতা করেছে। ওই হিন্দুরা পূর্ববঙ্গ আসাম প্রদেশ গঠনেরও বিরোধিতা করেছিলেন। মুহম্মদ জাহাংগীর প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ব্রিটিশ সরকারের একটি উপহার।১৯১১ সালে নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ আসাম প্রতিষ্ঠা রদ করা হলে নতুন প্রদেশের অধিবাসী মুসলমানেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। নবাব সলিমুল্লাহ ক্ষুব্ধ মুসলমান সমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গভঙ্গ রদের খেসারত হিসাবে বড়লাট ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তারই ফল হিসাবে ১৯১২ সালের ২৭শে মে মিস্টার নাথানকে সভাপতি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গঠন করা হয়। এই সময়ে যারা বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলন করেছিলেন তারাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা শুরু করেন।

 

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আবু জাফর দৈনিক ইনকিলাবে ৭ জুন ২০০০ তারিখ শুক্রবার প্রকাশিত উপসম্পাদকীয় নিবন্ধে মন্তব্য করেন, “সর্ব-মানবিক প্রেম ছিল তার কবিতার উপজীব্য, কিন্তু কার্যত তিনি নিজে বাস্তবে ছিলেন ব্রিটিশ রাজশক্তির অনুগত উপাসক। এই রকম একজন স্ববিরোধী ও আত্ম-বিভক্ত এবং নিপুণ দ্বৈতাচারী মানুষ কি করে মানুষের আদর্শ হতে পারে ? কারো অজানা নয়, পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছিল বিশাল জমিদারী। কিন্তু মুসলমান অক্ষর জ্ঞান লাভ করতে পারে, এই আশঙ্কায় এই প্রজা-হিতৈষী জমিদার তার এলাকায় একটি প্রাইমারী স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেননি। কেন করবেন? তিনি মানব দরদী ছিলেন বটে, কিন্তু ছিলেন আপাদমস্তক বঙ্গীয় মুসলমানদের প্রতি বিরূপ ও বৈরী । বঙ্গ বিভাগসহ ও তৎপরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ,এই উভয়বিধ ক্ষেত্রে তার যে কবি জনোচিত দরদী ভূমিকা (অর্থাৎ মুসলিম প্রধান পূর্ব বঙ্গ ও আসাম প্রদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রবলভাবে বিরোধিতা করেন) তা থেকে অনুধাবন করা যায়, বাঙালী মুসলমানদের উন্নতি অগ্রগতির যে কোন ক্ষীণতর সম্ভাবনা ও এই মহা কবির কাছে ছিল অসহ্য। ... বাংলাদেশের এই জমিন ও জনপদ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি সালমান রুশদী (রুশদী তার দ্য শেম উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের বানরের জাত বলেছে আর তাদের নেতার নাম দিয়েছে শায়খ বিসমিল্লাহ ) থেকে আদৌ আলাদা কিছু ছিল না। ... চাষা ভুষাদের (পূর্ব বঙ্গের দরিদ্র মুসলিম সমাজ) জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা যে কত অবিজ্ঞচিত, এ নিয়ে আয়োজিত কলিকাতা গড়ের মাঠের প্রতিবাদ সভার পুরোহিত রূপে সে প্রমাণ রবীন্দ্রনাথ রেখেছেন। আফসোস, এই রবীন্দ্রনাথ ও আজ আমাদের অনুসরণ যোগ্য আদর্শ মহাপুরুষ।“

 

ভারতের প্রথম প্রধান মন্ত্রী জহরলাল নেহেরু তাঁর বিশ্ব ইতিহাস প্রসঙ্গ বইতে বলেছেন, ‘ ভারতের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় বংগদেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশী। এরা গরীব প্রজা। সাধারণত হিন্দুরাই ছিল জমিদার।গ্রামের বানিয়াও ছিল হিন্দুরা। কাজেই জমিদার ও বানিয়ারা যৌথভাবে মুসলমানদের শোষণ করত। মনে রাখতে হবে হিন্দু মুসলমান বিবাদের মূলই হচ্ছে এই শোষণ। পেশাগত দিক থেকে কবিগুরু ছিলেন একজন জমিদার ও বানিয়া। তাই তিনি পূর্ববঙ্গ প্রদেশ গঠন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিরোধিতা করেছেন। নতুন প্রদেশ গঠনের দিন ১৬ই অক্টোবর তিনি শোক দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই ভাবে ১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কোলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে হিন্দুরা যে সভা করে তাতে সভাপতিত্ব করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ। নীরদ চৌধুরী তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ জমিদার হিসাবে পূর্ববঙ্গের মুসলমান প্রজাদের লাভ স্টক বা গৃহপালিত পশু মনে করতেন।

 

১৯১২ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করার জন্যে স্যার রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বড়লাটের সাথে দেখা করেন। প্রতিনিধি দলের যুক্তি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বংগদেশ অভ্যন্তরীণ ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাবু গিরিশ বানার্জী, ড: স্যার রাসবিহারী ঘোষ এবং কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জীর নেতৃত্বে একদল হিন্দু বুদ্ধিজীবী বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জের সাথে দেখা করে ১৮ বার স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। আমাদের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী হীনমন্যতায় ভোগে। এদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক কোন বায়া দলিল নেই। এর প্রমাণ হলো সরদার ফজলুল করিম তাঁর একটি লেখায় তিনি বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথের মাটিতে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার সাধনা, রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে বেঁচে থাকার, বিকশিত হওয়ার কিংবা রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার বর্বর অহংকার হচ্ছে পায়ের তলায় জমি শূন্য, শেকড় শূন্য, নির্বোধের অহংকার।’ এই লেখাটি দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে বাংলা ১৩৯৬ সালের ২৪শে ফাল্গুন। ১৯১১ সাল থেকে ১৯২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট পাশ হওয়া পর্যন্ত কবিগুরু সহ হিন্দু নেতারা অবিরাম এর বিরোধিতা করেছেন। আর মুসলমান নেতারা এর প্রতিষ্ঠার জন্যে অবিরাম লড়াই করেছেন। কিন্তু অধ্যাপক রাজ্জাক ও সরদার করিম এই ইতিহাসকে ইচ্ছা করে এড়িয়ে গেছেন। আমি জানতাম সরদার করিম একজন বামপন্থী চিন্তাধারার মানুষ। তিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে থাকবেন বলেই আশা ছিল। আগেই বলেছি, এ যাবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে যত বই প্রকাশ হয়েছে তাতে প্রাক ইতিহাস নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। এর চেয়ে বড় হীনমন্যতা আর কি হতে পারে।

 

অধ্যাপক রাজ্জাকতো সোজা সাফটা বলে দিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ঢাকার নবাবদের কোন অবদান নেই। আমিতো ভেবেই অবাক যে, অধ্যাপক রাজ্জাকের মতো একজন মানুষ এমন কথা বলতে পারলেন কেমন করে। নিজের মা বাপের অবদান যারা অস্বীকার করেন তাঁদের কোন ভাষায় আপনি অভিহিত করবেন। ঢাকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হলে এসব জ্ঞানী গুণীদের অবস্থা কি হতো তা একবার ভেবে দেখার সময় এসেছে। তাঁরা সমাজের মাথা হয়ে ইতিহাস আর তথ্য পরিহার করে নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে কথা বলে গেছেন এবং এখনও বলে যাচ্ছেন। কবিগুরু বাংলা ভাষার প্রধান কবি, এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত আছে বলে আমার মনে হয়না। এত বড় একজন মানুষের রাজনৈতিক সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। কেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন তা স্পষ্ট করতে আমাদের অবশ্যই তাঁর রাজনৈতিক সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন জানতে হবে। আগেই বলেছি তিনি একজন জমিদার ও ব্যবসায়ী ছিলেন। সর্বোপরী তিনি ছিলেন একজন খাঁটি হিন্দু। তিনি তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসকে কখনই ত্যাগ করেননি। এ ব্যাপারে তা কোন লুকোচুরি ছিলনা। কবিগুরু নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ আমি ভারতীয় ব্রহ্মচর্যের প্রাচীন আদর্শে আমার ছাত্রদিগকে নির্জনে নিরুদ্বেগে পবিত্র নির্মলভাবে মানুষ করিয়া তুলিতে চাই। বিদেশী ম্লেচ্ছতাকে বরণ করা অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয়, ইহা হৃদয়ে গাঁথিয়া রাখিও।’ কবিগুরু সম্পর্কে রমেশ মজুমদার লিখেছেন, ‘ হিন্দু জাতীয়তা জ্ঞান বহু হিন্দু লেখকের চিত্তে বাসা বেঁধেছিল, যদিও সজ্ঞানে তাঁদের অনেকেই কখনই এর উপস্থিতি স্বীকার করেননা। এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে , ভারতের শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ, যার পৃথিবী খ্যাত আন্তর্জাতিক মানবিকতাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি সংগে কিছুতেই সুসংহত করা যায়না। তাঁর কবিতা সমূহ শুধুমাত্র শিখ রাজপুত ও মারাঠা কীর্তনে অনুপ্রাণিত হয়েছে। কোন মুসলিম বীরের কীর্তনে তিনি কখনও এক ছত্রও লিখেননি। এ থাকেই প্রমাণিত হয় উনিশ শতকী বাংলার জাতীয়তা জ্ঞানের উৎসমূল কোথায় ছিল।’ নীরদ চৌধুরী লিখেছেন, রামমোহন থেকে রবীন্দ্রনাথ সকলেই জীবনব্যাপী সাধনা করেছেন হিন্দু ও ইউরোপীয় চিন্তাধারার সমন্বয় সাধনের জন্যে। মুসলমানদের চিন্তা চেতনা , ভাবধারা , ঐতিহ্য কখনই তাদের স্পর্শ করেনি।

 

কবিগুরু হিন্দু শক্তির উত্থান হিসাবে শিবাজীর গুণ কীর্তন করেছেন। এর একমাত্র কারণ তিনি একজন হিন্দু ছিলেন। শিবাজী সম্পর্কে ইতিহাসবিদ স্যুলিভান বলেছেন, শিবাজী ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লুন্ঠক ও হান্তরক দস্যু। শিবাজীর লুণ্ঠন থেকে হিন্দু মুসলমান কেহই রেহাই পায়নি। মারাঠারা বহু মন্দির ধ্বংস করেছে, বহু হিন্দু ব্রাহ্মণকে হত্যা করেছে। মারাঠারা যেখানে গিয়েছে সেখানেই ধ্বংস ও মৃত্যু রেখে এসেছে। ‘বাঙ্গালী জীবনে রমণী’ গ্রন্থে নীরদ চৌধুরী বলেছেন, ‘একটা একেবারে বাজে কথা সর্বত্র শুনিতে পাই।তাহা এই রবীন্দ্রনাথ ব্যক্তি হিসাবে বিশ্ব মানব ও লেখক হিসাবে বিশ্ব মানবতারই প্রচারক।কথাটির অর্থ ইংরেজি বাংলা কোন ভাষাতেই বুঝিতে পারিনা।তবে অস্পষ্ট ভাবে ধোঁয়া ধোঁয়া যেটুকু বুঝি , তাহাকে অর্থহীন প্রলাপ বলিয়া মনে হয়। রবীন্দ্রনাথ অপেক্ষা বিশিষ্ট বাঙ্গালী হিন্দু আর কেহ জন্মায়নি।’ দৃষ্টিদান গল্পের কথা উল্লেখ করে নীরদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ আসলে রবীন্দ্রনাথ মনে প্রাণে বাঙ্গালী হিন্দু ছিলেন, বাঙ্গালী হিসাবেই নিজের কথা পৃথিবীর লোকের কাছে বলেছেন। তাঁর রচনার ইংরেজি অনুবাদে তাঁর এই প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়নি।’

 

কবিগুরু কখনই মুসলমান স্বার্থের পক্ষে ছিলেন না। তিনি একজন খাঁটি হিন্দু হিসাবে আজীবন হিন্দুদের খেদমত করেছেন। জমিদার হিসাবেও তিনি মুসলমান প্রজাদের উপর অত্যাচার করেছেন। তিনি তাঁর জমিদারীর স্বার্থে ইংরেজদের বন্দনা করেছেন। এতে আমি দোষের কিছু দেখিনা। দোষের হলো যখন দেখি, আমাদের নামীদামী মানুষেরা তাঁকে দেবতার আসনে বসাতে চান। আসল ইতিহাসকে লুকিয়ে রেখে নকল ইতিহাস প্রচার করে আমাদের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চান। কবিগুরু আপন জাতির স্বার্থেই মুসলমানদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ছিলেন। তাই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। তিনি তাঁর ধর্ম পালন করেছেন। কিন্তু আমরা কি করছি। কবিগুরুর আত্মজীবনী থেকেও আমরা জানতে পেরেছি তিনি হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাস করতেন। হিন্দু ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তিনি লালন পালন করেছেন। বাংলাদেশের রবীন্দ্র ভক্তরা তাঁর গান ও কাব্য প্রতিভাকে সম্মান জানতে গিয়ে নিজ ধর্ম,সংস্কৃতি, ঐতিহ্যও ত্যাগ করতে চলেছেন। এমনকি অনেকেই মুক্ত বুদ্ধি আর স্যেকুলারিজমের নামে নিজেদের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করছেন। কবিগুরুর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবন নিয়ে কিছু বলতে গেলেই এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী তেড়ে আসেন এবং নিজেকে প্রগতিশীল বলে দাবী করে বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক। এর মানে হচ্ছে, কবিগুরুর রাজনৈতিক , ব্যবসায়িক ও জমিদারী জীবন নিয়ে কথা বলতে গেলেই সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা পেতে হবে। এমন কি কেউ যদি শক্তভাবে বলতে চায় যে, আমি একজন মুসলমান এবং মুসলমানের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলতে চাই তাহলেও আত্ম মর্যাদাহীন বুদ্ধিজীবীরা সেইজনকে সাম্প্রদায়িক বলে গালাগাল দিবে।

 

আমাদের তরুণ সমাজকে অবশ্যই জানতে হবে , বুঝতে হবে আমরা কেন বাংলাদেশ অর্জন করেছি। শুধু পাকিস্তান থেকে আলাদা বা স্বাধীন হওয়ার জন্যে আমরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্যে প্রতিষ্ঠা করিনি। এমন কি ভারতের আধিপত্য মেনে নেওয়ার জন্যেও আমরা স্বাধীন হইনি। শুধু বাঙ্গালী হওয়ার জন্যেও আমরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করিনি। আমরা বাঙ্গালী মুসলমান এ কথা কিছুতেই ভুলে যাওয়া যাবেনা।আমাদের ভাষা ছাড়া বাকী সবকিছুই হিন্দু বাঙ্গালীর চেয়ে একেবারেই আলাদা। যেমন করে আমাদের কবিগুরু ছিলেন একজন বিরাট মাপের বাঙ্গালী হিন্দু। তিনি কখনই দাবী করেননি যে, তিনি একজন ধর্মমুক্ত মানুষ। বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি হিসাবে তিনি আমাদের সম্মানীয়, অশেষ শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু তিনি কোন দেবতা নন। তিনি দেবতা হতে চাননি। তিনি সন্ন্যাসী বা ঋষিও নন। তিনি একজন বিশ্ব কবি ও একজন জমিদার, ব্যবসায়ী ও হিন্দু ধর্মের রক্ষক।

 

 

তথ্যসূত্রঃ

• ফজলুল করিম সম্পাদিত - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ

• মুহম্মদ জাহাংগীর সম্পাদিত ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ভুমিকা সম্বলিত - স্মৃতিকথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

• ভারতের প্রথম প্রধান মন্ত্রী জহরলাল নেহেরু - বিশ্ব ইতিহাস

• Rabindranath Tagore Biography


• দৈনিক ইনকিলাবে


• দৈনিক যুগান্তর



Date: Thu, 7 May 2015 15:20:08 +0000
From: pfc-f...@googlegroups.com
To: pfc-f...@googlegroups.com

--
You received this message because you had subscribed to the Google Groups "North America Bangladeshi Community forum". Any posting to this group is solely the opinion of the author of the messages to na...@googlegroups.com who is responsible for the accuracy of his/her information and the conformance of his/her material with applicable copyright and other laws where applicable. The act of posting to the group indicates the subscriber's agreement to accept the adjudications of the moderator(s). To post to this group, send email to na...@googlegroups.com.
---
You received this message because you are subscribed to the Google Groups "North America Bangladeshi Community" group.
To unsubscribe from this group and stop receiving emails from it, send an email to nabdc+un...@googlegroups.com.
Visit this group at http://groups.google.com/group/nabdc.

Sukhamaya Bain

unread,
May 9, 2015, 1:30:14 AM5/9/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Well, Razzak, since you called me dada (older brother) and used the word “respect”, let me respond to an important question that you raised: “Will it be justified if someone force you not to believe on it? (sic)”
 
To give you just one example, if my belief were that my God or whatever else told me that I was required/permitted to kill men that were not my kind of believers, and to take the women and girls of their families as sex slaves, it would be totally justified if someone forced me to not believe in that.
 
Now, talking about Rabindranath, even if he opposed the establishment of Dhaka University (which I do not believe), there is no logical basis to think that it was due to him being against education for the Muslims. Please read and think about the questions that I asked in my first post on this thread.
 
Again, I am convinced that if anyone is against education for the Muslims, it is the Muslims themselves. (In my book, blind faith is contrary to education, big degrees are not necessarily education; being able to think rationally is education.)
 
By the way, brother Razzak, since uncle was a district education officer, please try to write English correctly, so that he and people like us (who are your cousins, siblings, etc.) would not be ashamed of you.
 
SuBain
 
=====================================

Razzak Syed

unread,
May 9, 2015, 11:12:08 PM5/9/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Dada,
          I liked your response. My father used say, if anyone doesn't mistreat me or my faith. don't mistreat them, irrespective of his/her race or religion. He also taught not to criticize other's faith. Same I learned from Quran in course of time. 

Let's get into our correspondence where is few misunderstanding: 

“Will it be justified if someone force you not to believe on it? (sic)”
 
"To give you just one example, if my belief were that my God or whatever else told me that I was required/permitted to kill men that were not my kind of believers, and to take the women and girls of their families as sex slaves, it would be totally justified if someone forced me to not believe in that."

None of the faith including Quran or Hadith doesn't permit killing innocent people nor asked any Muslims to force non muslim to believe in Islam. You can't judge the faith by judging it's followers.
 
"Now, talking about Rabindranath, even if he opposed the establishment of Dhaka University (which I do not believe), there is no logical basis to think that it was due to him being against education for the Muslims. Please read and think about the questions that I asked in my first post on this thread."

To me It's not the question of Rabindranath was against the Muslim or not, my simple argument Robindronath isn't a Bangladeshi nor he was ever in support of East Bengal more over, he is not different to HOMO Ershad, he was a characterless thief. Why should we have to follow his ideology and establish another certified brothels in Bangladesh. 
 
"Again, I am convinced that if anyone is against education for the Muslims, it is the Muslims themselves. (In my book, blind faith is contrary to education, big degrees are not necessarily education; being able to think rationally is education.)"

Current Muslims are truly lazy and deviated from their core educations. Al-Chemi, Al-Beruni, Al-Zubair there were so many muslim scholars contributed for the mankind, even before our Prophet(SAW), prophet Solaiman, Dawood,Nuh (AWS) invented so many things like , Noah's Arc(Boat), use of Copper, Iron etc. 
 
"By the way, brother Razzak, since uncle was a district education officer, please try to write English correctly, so that he and people like us (who are your cousins, siblings, etc.) would not be ashamed of you."

Not my father, my grand father and my great grand father too. 

I believe, some of you has relentless time to write or read, unfortunately, I don't have that luxury. 

However, logically, since I participate n enjoy some of writings, I can't have any excuse, admit it.

Thanks,

Capt. Razzak A. Syed

Sent from my iPhone

Sukhamaya Bain

unread,
May 10, 2015, 5:15:42 PM5/10/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Brother Razzak, let me address some of your points:
 
RS: “My father used say, if anyone doesn't mistreat me or my faith. don't mistreat them, irrespective of his/her race or religion. He also taught not to criticize other's faith. Same I learned from Quran in course of time.”
 
SB: 1) I agree that people should not mistreat other people. However, criticizing someone’s faith is not the same as mistreating him/her; punishing a criminal for the crime he/she committed is not the same as mistreating him/her. 2) I do not agree with him that people should not criticize other people’s faith. I already gave you an example in my last post where criticizing other’s faith is not only justified, it is needed. Let me add that it would be better if people could criticize their own faiths and abandon their own foolish and hateful faiths. 3) Have you really read the Quran? I have a copy of that book in my collection; it surely has a lot of raw injustice and hatred against non-believers. It is unjust against women, including Muslim women. (An improvement from a worse barbarian tradition to a better but still barbarian tradition cannot be argued to be great.)
 
RS: “You can't judge the faith by judging it's followers.”
 
SB: I actually agree with you, and I judge Islam by reading the Quran and the Hadits. However, judging Islam is not the point; the point is what Muslims do with their faith in those books. The followers’ behaviors matter more than what the books say. That is why I say, “read your books, follow what is good in them, and please abandon the injustice and hatred in them.”
 
RS: “To me It's not the question of Rabindranath was against the Muslim or not, my simple argument Robindronath isn't a Bangladeshi nor he was ever in support of East Bengal more over, he is not different to HOMO Ershad, he was a characterless thief. Why should we have to follow his ideology and establish another certified brothels in Bangladesh.”
 
SB: I disagree with you on almost everything you said above. Rabindranath was a human being and was not perfect; but the kind of adjectives that you have used here tells me that you are in need of some serious re-education. For example, a lot of great scholars of the world have a lot of respect for Bishwa Bharati (which you implied to be like a brothel!).
 
RS: “Current Muslims are truly lazy and deviated from their core educations.”
 
SB: I am not clear as to what you mean by core education. But if it involves following more of the Quran and Hadits, Muslims are doomed to remain in their sorry state.
 
RS: “Not my father, my grand father and my great grand father too.”
 
SB: Well, brother, sorry for misreading you last time. But, looking at your writing in English and at the adjectives that you have used on the Nobel Laureate poet and his institution, it is too difficult to believe that you came from an educated family.
 
Wishing you all the best,
 
Sukhamaya Bain
 
================================
 



--

ams...@aol.com

unread,
May 11, 2015, 2:58:51 AM5/11/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Dear Mr. Bain,
                     Thank you. I have a Quran too. Differences between you and me is simple, you read the Quran to find the faults, I read the Quran to know my creator. Read the 'Surah Nisa' where Women has given the highest status and respect compare to any religions, specially Hinduism. If you hate someone, then obviously you wouldn't be able a good judge.
 
When you read the Quran, you require to read the Hadith and/or Tafseer, it's very important because, every single Ayath(Verse) was revealed on a incident or moment. Prophets(SAW) was born orphan, before preaching Islam, he was most trust worthy person to the people in Arab for anything and everything. He illiterate, neither he could read nor he could write. 
 
He learned everything including his day to day behaviour by the Angel Gibrail(AWS) by the order of  Allah(SWT). Some of the verses was revealed prior or during the battles he performed to establish Islam, therefore, very easily it's being misunderstood by the non believers. Quran is compilation of all the books revealed to others Prophets (AWS) from Allah(SWT). Please read the whole Quran carefully, if you any doubts on any verses, refer the Hadith for that verse. 
 
For English, bro, one of my British master used to say " English is a bustard language", there is no mistakes, if one can managed others to understand himself. Good in English doesn't mean that a person if very knowledgeable. Further more, I stand on my statements against Rabindronath and 'Shantiniketon', because we are close to it and I know what's happens there.         
 
 Capt. Razzak A. Syed
 
-----Original Message-----
From: 'Sukhamaya Bain' via PFC-Friends <pfc-f...@googlegroups.com>
To: pfc-friends <pfc-f...@googlegroups.com>
Sent: Mon, May 11, 2015 7:15 am
Subject: Re: {PFC-Friends} ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ

zainul abedin

unread,
May 11, 2015, 3:28:03 AM5/11/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Salam,

Criticizing Muslims and Quran-Hadiths, especially Quran, is not the same. Those verses, which seem to be matters of "hatred," are misunderstood by those whom Allah called the arrogant. There are backgrounds of revelations of apparent harsh languages, some people do not or try not to understand those backgrounds (called Shan-e-Nazul). Some people always criticized their contemporary prophets and/or opposed them, opposed Allah too. No difference in case of Quran-Hadiths.

Best,

Zainul Abedin
--------------------------------------------
On Sun, 5/10/15, amsmel via PFC-Friends <pfc-f...@googlegroups.com> wrote:

Subject: Re: {PFC-Friends} ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ
To: pfc-f...@googlegroups.com
Date: Sunday, May 10, 2015, 5:30 PM

Sukhamaya Bain

unread,
May 12, 2015, 9:22:57 AM5/12/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Well, Razzak, you are wrong when you say, “you read the Quran to find the faults.” I do not read any religious book to find faults; I read them with an open mind.
 
You also wrote, “If you hate someone, then obviously you wouldn't be able a good judge.” If you made this statement in total isolation, it would be correct. But in this case, you implied that I hated someone, and you are wrong. I do not hate the Muslims or their religious books. What I want the Muslims to do is to apply their common sense on their books, and if they could do that, I am sure I would not have to tell most of them to reject a lot of things that are in their books; they would do it themselves, and promote themselves to Humans, ready to live and let live peacefully in the world.
 
I have read the Quran enough to see that it is not worth more of my time. I am also convinced that most of the seriously religious Muslims who want to be good human beings have to spend too much of time trying to see how what seems to be bad in their books can be interpreted to be good; with that they obviously have less time for science, arts, humanities, etc.
 
For further readings on my thoughts on this subject, you can read this and this.
 
Wishing you all the best,
 
Sukhamaya Bain
 
========================



          pfc-friends+unsub...@googlegroups.com.

         
  For more options, visit
          https://groups.google.com/d/optout.
         

       

       

     

     


     


     
 
   
 
   
 
 

 
 
 

  --
 

  You received this message because you are subscribed to the
Google Groups "PFC-Friends" group.
 

  To unsubscribe from this group and stop receiving emails
from it, send an email to

 

  For more options, visit
  https://groups.google.com/d/optout.
 

 












--

You received this message because you are subscribed to the
Google Groups "PFC-Friends" group.

To unsubscribe from this group and stop receiving emails
from it, send an email to pfc-friends+unsub...@googlegroups.com.


For more options, visit https://groups.google.com/d/optout.


--
You received this message because you are subscribed to the Google Groups "PFC-Friends" group.
To unsubscribe from this group and stop receiving emails from it, send an email to pfc-friends+unsub...@googlegroups.com.

M. Aleem

unread,
May 12, 2015, 6:18:18 PM5/12/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Mr. Bain,

I am sure BAL Gundas and BCL Cadres are not following the Quran... so, are they all good human beings? Also, Hitler did not follow the Quran too... was he a good human being?

Just reading a book does not mean you understood it...  you did not find something in it does not mean it does not have anything...
 
 
 



To unsubscribe from this group and stop receiving emails from it, send an email to pfc-friends...@googlegroups.com.

Syed Haque

unread,
May 12, 2015, 9:51:10 PM5/12/15
to pfc-f...@googlegroups.com, bdp...@yahoogroups.com, bangladesh...@googlegroups.com, Shahadat Hussaini
I would like to request with due respect to stop this kind of discussion about religion which will be counterproductive. I just posted something about compulsion. I hope it will help people to stay away from personnel attack.
 
Thanks and Regards,
 
SH
 

Date: Tue, 12 May 2015 13:58:08 +0000
From: pfc-f...@googlegroups.com
To: pfc-f...@googlegroups.com

Sukhamaya Bain

unread,
May 13, 2015, 1:50:01 AM5/13/15
to pfc-f...@googlegroups.com

রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন নাই

Syed Serajul Islam

unread,
May 13, 2015, 6:57:10 PM5/13/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Not True. He did.
Nothing is more contradictory than the very concept of Bangladesh as a separate nation. Rabindranath hated Muslim Bengalis. It is a historic fact. Read the London Times of the 1920s. How can you distort history? You cannot, even if you try hard. It is not anyone's opinion. Just read the news printed in that neutral newspaper and read what that muslim-hater (Rabi) said about the establishment of the University of Dacca.




To unsubscribe from this group and stop receiving emails from it, send an email to pfc-friends...@googlegroups.com.

Sukhamaya Bain

unread,
May 16, 2015, 12:00:49 AM5/16/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Bangladesh has no shortage of history distorters. Whatever I posted was not my finding. But I can see the kind of people who have been distorting history. Let me tell you that it is too foolish to say something like Rabindranath was like the average street demonstrator. You can write whatever you wish; I do not have much time for your kind.

Jamal G. Khan

unread,
May 19, 2015, 7:24:47 PM5/19/15
to pfc-f...@googlegroups.com
Dr. Syed Sirajul Islam
Do you have access to  the London Times of the 1920s. ?
Please provide us with the link or scanned copies of the 
relevant pages !!!!!
Thanks
M. Ghaus
Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages