পাকিস্তান যা ২৩ বছরে শেখাতে পারেনি,
ভারত তা কদিনেই পারলো
ফিরোজ মাহবুব কামাল
ভারত সরকার শেখ হাসিনার ন্যায় এক নৃশংস ফ্যাসিস্ট ও খুনিকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। আদালতের বিচা্রে সে এখন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী। এরকম একজন খুনের আসামীকে আশ্রয় দেয়া এবং বাংলাদেশে ফেরত না দেয়াই বাংলাদেশীদের সামনে ভারতের সবচেয়ে বড় অপরাধ। ভারতকে এই অপরাধের মাশুল অবশ্যই দিতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ ভারতের এই অপরাধ কখনোই ভুলবে না এবং ক্ষমা করবে। বরং সম্ভাব্য সকল উপায়ে ভারতকে শাস্তি দিবে।
ইরানের জনগণ যখন স্বৈরাচারী বাদশাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীকে বিতাড়িত করলো, তখন এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাকে নিজ দেশে আশ্রয় দেয়নি। যদিও সে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিতাড়িত শাহকে আশ্রয় না দেয়ার কারণ, মার্কিন সরকার ইরানি জনগণের শাহ বিরোধী প্রচন্ড ক্ষোভকে বিবেচনায় এনেছিল। কারণ শাহকে আশ্রয় দেয়ার অর্থ ইরানী জনগণের সাথে শত্রুতা টিকিয়ে রাখা। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিমি কার্টার। তিনি জানতেন, একটি রাষ্ট্রের চেয়ে একজন ব্যক্তির গুরুত্ব বেশী হতে পারে না।
কিন্তু ভারত এখানেই ভুল করেছে। ভারত সরকার হাসিনার আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে সে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পারিনি। বাংলাদেশের জনগণের হাসিনা বিরোধী প্রচণ্ড ক্ষোভকে নরেন্দ্র মোদীর সরকার বিবেচনায় আনেনি। ভারতের কাছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখার চেয়ে হাসিনার সাথে সম্পর্ক রাখাটাই অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতীয় সিদ্ধান্তের পরিণাম হলো, হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত এখন বাংলাদেশের জনগণের প্রবল ক্রোধের মুখোমুখি।
খবর বেরিয়েছে, ওসমান হাদীর উপর গুলী বর্ষণকারীকেও ভারত আশ্রয় দিয়েছে। ভারত হাসিনার সাথে আশ্রয় দিয়েছে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর বহু হাজার খুনিদের -যারা জুলাই আগস্ট বিপ্লবের সময় হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে, খুন করেছে, আয়না ঘরে নিয়েছে এবং নানা ভাবে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। আইনের ভাষায় খুন করাই শুধু অপরাধ নয়, গুরুতর অপরাধ হলো খুনিকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয়া। ভারত সেটিই করছে। হাসিনা শুধু নিজেই মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত খুনির আসামী নয়, সে ভিডিও মারফত তার অনুসারীদের বার বার খুনের উস্কানি দিচ্ছে। সেটি সে করছে ভারতের আশ্রয়ে থেকে। তাই হাসিনার অপরাধের সাথে ভারতও দায়ী।
বোঝা যাচ্ছে, ভারতের যুদ্ধ এখন বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে। ভারতের কাছে বাংলাদেশের জনগণ হলো অপরাধী। ভারতের কাছে জনগণের অপরাধ, তারা হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে। এখন বাংলাদেশকে অস্থির রাখাই ভারতের নীতি। পানি ঘোলা করে তারা মাছ ধরতে চায়। এখন এটি সুস্পষ্ট, শেখ হাসিনা ও তার অনুসারীদের কাছে প্রিয় হতে গিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশের জনগণের শত্রু হওয়ার পথকে বেছে নিয়েছে।
পাকিস্তান তার ২৩ বছরে বাঙালি মুসলমানদের বুঝাতে পারেনি যে, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী ভারত কখনোই মুসলিমদের বন্ধু হতে পারেনা। পাকিস্তান এটিও বুঝাতে পারিনি, ১৯৭১‘য়ে ভারতের এজেন্ডা ছিল পাকিস্তান ভাঙা, স্বাধীন বাংলাদেশের নির্মাণ নয়। একাত্তরে বাঙালি মুসলিমগণ ব্যর্থ হয়েছিল তাদের নিজেদের শত্রুদের চিনতে, ফলে শত্রুদের বন্ধু জ্ঞান করে গলা জড়িয়ে ধরিয়েছিল। শত্রুর অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং যুদ্ধ করে খোদ শত্রুকেই তারা বিজয়ী করেছিল। বাঙালি মুসলিমের আত্মঘাতী চরিত্র সেদিন প্রকাশ পেয়েছিল।
অপরাধী যত চালাকই হোক, সে তার অপরাধকে দীর্ঘকাল লুকাতে পারেনা। ভারতও পারেনি। ভারত তার আসল রূপকে নিজেই প্রকাশ করে দিয়েছে। ভারতের এজেন্ডা ও চরিত্রকে বুঝতে এখন আর নতুন গবেষণার প্রয়োজন নেই। ভারত তার নিজের মুসলিম বিদ্বেষী কুটিল চরিত্রকে নিজেই প্রকাশ করে দিয়েছে। শত্রু চিহ্নিত হয়েছে -এটিই আজ বাঙালি মুসলিমের বড় অর্জন। আশা করা যায়, বাঙালি মুসলিমের এই নতুন রাজনৈতিক উপলব্ধি দেশটির রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৭/১২/২০২৫