ভোটের জিহাদটি হোক বদমায়েশদের নির্মূলে
ফিরোজ মাহবুব কামাল
www.drfirozmahboobkamal.com/blog/ভোটের-জিহাদটি-হোক-বদমায়ে/
বাংলাদেশে চমক বদমায়েশীর
বাংলাতে যাদের বলা হয় দুর্বৃত্ত বা দুর্নীতিবাজ, তাদেরকেই উর্দু ও ফারসি ভাষাতে বলা হয় বদমায়েশ। এ শব্দটি বাংলা ভাষাতেও বহুল প্রচলিত। বদ ও মায়েশ -এ দুটি শব্দাংশ নিয়ে গঠিত হলো বদমায়েশ। বদ বলতে বোঝায় খারাপ বা অসভ্য; আর মায়েশ বলতে বুঝায় জীবিকা বা উপার্জন (ইংরেজীতে livelihood)। যাদের উপার্জন ঘুষ, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, দালালী, বাস স্ট্যান্ড দখল, টেম্পু স্ট্যান্ড দখল, নদীর ঘাট ও বালু দখল, বাস ও ট্রাকের উপর টোল বাজি, টেন্ডারবাজি, মাস্তানি ও সন্ত্রাস -তারাই হলো নির্ভেজাল বদমাইশ তথা দুর্বৃত্ত। কোদালকে কোদাল, গরুকে গরু বলা যেমন সভ্য রীতি, তেমনি সভ্য রীতি হলো বদমায়েশকে বদমায়েশ বলা। তাদের প্রতি সামান্য সম্মান দেখানে ইসলামে হারাম। ঈমানদারকে বাঁচতে হয় তাদের নির্মূলের তাড়না নিয়ে। নইলে রাষ্ট্রে দুর্বৃত্তির প্লাবন আসে। বিশুদ্ধ বেঈমানী হলো তাদের নেতা বলা এবং তাদের পক্ষে ভোট দেয়া। ইসলামের পবিত্র জিহাদ তো এ বদমায়েশদের নির্মূলে।
কিন্তু বাংলাদেশে সে সভ্য নীতি অনুসরণ করা হয়না। বরং এ দেশে বদমায়েশদের হাতে নেতৃত্ব ও ক্ষমতা তুলে দেয়া হয়। তাই দেশটিতে যে দুর্বৃত্তটি গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা দিল এবং দেশের স্বাধীনতা ভারতে হাতে তুলে দিল -তাকে জাতির পিতা, নেতা ও বঙ্গবন্ধ বলা হলো। যে ক্ষমতালোভী দুর্বৃত্ত এরশাদ সামরিক ক্যু করে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় গেল তাকে অনেকে পল্লীবন্ধু বলেছে। মওদুদ আহমেদ, মিজানুর রহমানের ন্যায় অনেক প্রবীন রাজনীতিবিদ এ দুর্বৃত্তের সহযোগী হয়েছে। হাসিনার ন্যায় যে ডাকাত সর্দারনী দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসেছে, তাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুশত শিক্ষক ২০১৮ সালে ভোট ডাকাতিকে সুষ্ঠ নির্বাচন বলেছে। যে রাষ্ট্রে এমন দুর্বৃত্তদেরকে ক্ষমতায় বসানো হয়, চাকুরী দেয়া হয় ও সম্মানিত করা হয় -সে রাষ্ট্র স্বভাবতঃই দুর্বৃত্তিতে তথা বদমায়েশীতে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে। বাংলাদেশ তো তারই উত্তম উদাহরণ।
বাংলাদেশ বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোন কিছুতেই তেমন চমক দেখাতে পারিনি। না গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়, না শিক্ষা-দীক্ষা ও শিল্পে। তবে চমক লাগিয়েছে দুর্বৃত্তিতে তথা বদমায়েশীতে। গণতন্ত্রের বদলে তারা প্রতিষ্ঠা দিয়েছে বদমায়েশতন্ত্র; অর্থাৎ বদমায়েশদের শাসন। এরা দখল জমিয়েছে দেশে রাজনীতি, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও এনজিও মহলের উপর। ১৯৭১’য়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটিতে চলেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও এরশাদের জাতীয় পার্টির শাসন। জন্মের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অপমানকর খেতাবটি হলো তলাহীন ভিক্ষার ঝুলির। সেটি অর্জিত হয়েছিল শেখ মুজিবের। অথচ এ খেতাব পাকিস্তান বা ব্রিটিশ আমলে মিলেনি। ১৯৭৪ সালে দেশটির কপালে জুটেছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ; অমর্ত্য সেনের ন্যায় অর্থনীতিবিদ ও গবেষকগণ বলেন, সে দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যুবরণ।
আওয়ামী লীগের আমলে শুরু হয় ব্যপক দুর্নীতি। রিলিফের মালামালের বিশাল অংশ ভারতে চোরাচালান দেয়া হয়। সরকারী প্রশাসন পরিণত হয়েছিল চুরি-ডাকাতির হাতিয়ারে। এরা একাত্তরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সকল ব্যাংকের অর্থ লুট করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। আওয়ামী লীগের শাসনামমলে চোরডাকাতগণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরিডাকাতিতে মনযোগ দেয়। সে লক্ষ্য অর্জনে দেশের সকল দুর্বৃত্তগণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এরাই দখলে নেয় প্রায় ৬ লাখ বিহারী ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও যানবাহন।
মুজিবের পর শুরু হয়, জেনারেল জিয়া ও তার দল বিএনপির শাসন। ক্ষমতায় বসে জেনারেল আওয়ামী আমলের কোন দুর্বৃত্তকে শাস্তি দেয়নি। বরং আওয়ামী আমলের যেসব দুর্বৃত্তগণ বিহারীদের ঘরবাড়ি ও সম্পদের উপর দখলদারী প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল সেসব দুর্বৃত্তদের হাতে জেনারেল জিয়া মালিকানার দলিল তুলে দেয়। জেনারেল জিয়া এভাবেই দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তির জন্য পুরষ্কৃত করে এবং এভাবে আওয়ামী দুর্বৃত্তির ভাগীদার হয়। এর পর আসে জেনারেল এরশাদের আমল। এরশাদ দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। দুর্বৃত্তদের দিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করে। ১৯৯১ সালে এরশাদের পতন ঘটে এবং দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসে বিএনপি। বিএনপি জেনারেল এরশাদকে কারাবন্দী করলেও জাতীয় পার্টির দুর্বৃত্তদের গায়ে কোন আঁচড় দেয়নি। আওয়ামী লীগ তার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল আমলে শাসনের শেষের বছরে প্রথম বার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে প্রথম স্থানে পৌছে দেয়। ২০০১ সালে বিএনপির দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী আমলের দুর্বৃত্তিতে কোন কমতি আনেনি; বরং দুর্বৃত্তির সে ধারা অব্যাহত রাখে এবং বিশ্বের মঞ্চে বাংলাদেশকে পর পর ৪ বার প্রথম স্থানে পৌছে দেয়।
জিহাদ হতে হবে দুর্বৃত্তির নির্মূলে
পবিত্র কুরআনের সূরা আল ইমরানের ১১০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদা দিয়েছেন। মুসলিমদের কেন সে বিশেষ মর্যাদা -সেটিও তিনি উক্ত আয়াতে বর্ণনা করেছেন। সে বিশেষ মর্যাদাটি এ জন্য নয় যে মুসলিমদের দাড়ি-টুপি আছে, নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত পালন করে। বরং এজন্য যে মুসলিমরা অন্যায় ও অবিচারকে নির্মূল করে এবং ন্যায় ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা দেয়। মহান রব’য়ের সে বয়ানটি হলো:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ ۗ وَلَوْ
অর্থ: “তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি; তোমাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। তোমরা প্রতিষ্ঠা দাও ন্যায়ের এবং নির্মূল করো দুর্বৃত্তির। এবং তোমাদের ঈমান আল্লাহর উপর।” –(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১১০)।
উপরিউক্ত আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতির পরিচয়টি তুলে ধরেছেন। তবে এ আয়াতের মধ্য তাদের পরিচয়ও মিলে যারা এ পৃথিবীতে সর্বনিকৃষ্ট জাতি। যারা বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয় দুর্বৃত্তিতে তারাই পায় সে সর্বনিকৃষ্ট জাতির স্থানটি। সে অপমানকর স্থানে পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশের বদমায়েশতন্ত্র। সে বদমায়েশতন্ত্রের ভাগীদার হলো বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ -যারা বাংলাদেশকে বিগত ৫৫ বছরে শাসন করেছে। তারা সবাই মেলে প্লাবন এনেছে দুর্বত্তির। তাদের কেউই সে দুর্বৃত্ত থামানোর চেষ্টা করেনি।
মহান আল্লাহর তায়ালার কাছে কারা সবচেয়ে প্রিয় ও অতি পছন্দের -সে কথাটি পবিত্র কুর’আনে বার বার ঘোষিত হয়েছে। মহান রব চান, যারা ইহকালে ও পরকালে সফল হতে চায় -তারা যেন বেছে নেয় সে পথটি। সে নির্দেশনাটি এসেছে নিচের আয়াতে:
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌۭ يَدْعُونَ إِلَى ٱلْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ ۚ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ١٠٤
অর্থ: “এবং তোমাদের মধ্যে একটি দল অবশ্যই থাকতে হবে যারা মানুষকে ডাকবে কল্যাণে দিকে এবং প্রতিষ্ঠা দিবে ন্যায়ের এবং নির্মূল করবে দুর্বৃত্তির। এবং তারাই হলো সফলকাম।” –(সুরা আল-ইমরান. আয়াত ৪)।
ভোটের জিহাদ হোক বদমায়েশদের নির্মূলে
ইসলামে রাজনীতির একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। সেটি পবিত্র জিহাদে তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতের। জিহাদ এখানে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার এবং মিথ্যা ও দুবৃত্তির নির্মূলের। রাজনীতির জিহাদের মধ্য দিয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টোটি। এখানে রাজনীতি পরিণত হয়েছে নানারূপ দুর্বৃত্তি তথা বদমায়েশীর হাতিয়ারে। হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হয়েছে। জাতীয় পার্টিরও কোমড় ভেঙে গেছে। কিন্তু ময়দান দুর্বৃত্তমুক্ত হয়নি। বরং দুর্বৃত্তি নিয়ে ময়দানে হাজির হয়েছে পুরনো বিএনপি। এ দলটির অতীত রেকর্ড হলো, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল অবধি ক্ষমতায় থাকা কালে বাংলাদেশকে দুর্বৃ্ত্তিতে ৪ বার প্রথম করেছে। সামনে নির্বাচন। আওয়ামী লীগ ময়দানে নাই। কিন্তু বিএনপি’র কর্মীরা দুর্বৃ্ত্তিতে কতটা অগ্রসর -সেটি তারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে।
সামনে জনগণের ঈমানের পরীক্ষার পালা। পরীক্ষা হবে, কাদের পক্ষে ভোট দেয় সেটির। অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে এজন্য নয় যে, তারা মানব হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে বা চুরি-ডাকাতি করেছে। বরং জাহান্নামে যাবে এ জন্য যে, দুর্বৃত্তদের নির্মূলে না দাঁড়িয়ে তাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ও তাদেরকে ভোট দিয়ে ও অর্থ দিয়ে সমর্থন দিয়েছে। তারা আল্লাহর তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী না করে শয়তানের এজেন্ডাকে বিজয়ী করেছে। সমাজের বদমায়েশগণ তাদের দুর্বৃত্তির সাহস পায় ও ক্ষমতা পায় তো জনগণের ভোটে বিজয়ী হওয়ার কারণে। মুজিব ও হাসিনার ন্যায় দুর্বৃত্তগণ তাদের নৃশংস শাসন চালু করতে পেরেছিল তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে। তাদের প্রতিটি অপরাধের ভাগীদার তো তারাও যারা তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল। এমন দেশে আযাব শুধু শাসকদেরই ঘিরে ধরেনা, ঘিরে ধরে জনগণকেও।
বিএনপি আওয়ামী লীগের মতই একটি পরীক্ষিত দুর্বৃত্তদের দল। এ দলটি বিগত ১৬ বছরে তার খাসলত একটুও বদলায়নি। বিগত দেড় বছরে তারা সেটি প্রমাণ করে ছেড়েছে। এ দলের নেতারা সরকার গঠন করলে আবার দেশকে দুর্বৃত্তিতে বিশ্বের প্রথম সারিতে পৌছিয়ে দিবে। কারণ, তারা শুধু দুর্বৃত্তিতেই প্লাবন আনতে পারে।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলে সমাজের দূর্বৃত্তদের নির্মূলের জন্য অস্ত্র হাতে জিহাদ করতে হতো। এ ছাড়া বিকল্প পথ ছিল না। ইসলামের এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে সে যুগে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিতে হয়েছিল। সাহাবাদের অধিকাংশ শহীদ হয়ে গেছেন ইসলামী রাষ্ট্র নি্র্মাণের সে পবিত্র জিহাদে। নির্বাচন আজ বাংলাদেশীদের সামনে একটি নিয়ামত হিসেবে হাজির হয়েছে। অস্ত্রের যুদ্ধ না করেই তারা ভোটের জিহাদে সমাজ থেকেই এ চিহ্নিত বদমায়েশদের নির্মূল করার সুযোগ পেয়েছে। তাই এবারের ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি ভোটারের উচিত, এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। এখানে পরীক্ষা হবে ঈমানের।
এবারের নির্বাচনে যেসব ইসলামবিরোধী দুর্বৃত্তরা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে তাদের ও তাদের দলের চরিত্র জনগণের কাছে অজানা নয়। যে ব্যক্তি জেনে শুনেও একজন বদমায়েশকে ভোট দেবে, বুঝতে হবে সে ঈমানের পরীক্ষায় দারুণ ভাবে ফেল করেছে। চোর-ডাকাত, প্রতারক ও চাঁদাবাজদের পক্ষে আদালতে সাক্ষী দেয়া যেমন অপরাধ; তেমনি অপরাধ হলো তাদের পক্ষে ভোট দেয়া। ঈমানের এ পরীক্ষায় ফেল করার কারণে রোজ হাশরের বিচার দিনে তাকে আসামির কাঠগড়ায় খাড়া হতে হবে। এখানে অপরাধ: ইসলামপন্থীদেরকে পরাজিত করা এবং চিহ্নিত দুর্বৃত্তকে বিজয় করা। শরিয়তের আইনে এটি গুরুতর অপরাধ। অতীতে ফেরাউন ও নমরুদের অনুসারীরা তো সে অপরাধটিই করেছিল। তারা সে দুর্বৃত্তদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। আজও যারা ইসলামের শত্রু পক্ষ সেক্যুলারিস্টদের বিজয়ী করায় ভোট দেয় -তাদের পরিণাম কি ভিন্ন হবে?
আল্লাহ সুবহানা ওয়াতায়ালা প্রতিক্ষন আমাদের দেখছেন। আমরা সবাই তার রাডারের নিচে। তিনি দেখছেন, কারা দুর্বৃত্তদের পক্ষে স্লোগান তুলেছে, কারা তাদের পক্ষে ভোট দিচ্ছে। আমাদের ভোটে যদি ইসলামের বিপক্ষ শক্তি তথা দুর্বৃত্তগণ নির্বাচিত হয় -তবে সেটি তো বিশাল অপরাধ। সে অপরাধের দায়িত্ব অবশ্যই নিতে হবে। এ বদমায়েশগণ যখন নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হবে, সংসদে বসবে এবং শত শত কোটি টাকা লুট করবে বা জনগণের উপর জুলুম করবে -তাদের সে অপরাধের দায় তো তাদেরকে নিতে হবে -যারা তাদেরকে ভোট দিবে।
আদালতে সাক্ষী দিতে গেলে সত্য কথা বলতে হয়। ন্যায় ও সত্যের পক্ষ নিতে হয়। অপরাধীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলে বিচার সঠিক হয় না।। তেমনি ভোট দিতে গিয়ে ভোট দিতে হয় ঈমানদার, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তির পক্ষে। এটি ইবাদত। যখন দেশের ভোটারদের পক্ষ থেকে এমন ইবাদতের কাজ হয়, তখন দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায় এবং দুর্বৃত্তি নির্মূল হয়। কিন্তু যখন বেইমান বদমাইশদের পক্ষে ভোট দেয়া হয় তখন ঘটে উল্টোটি। তখন দেশ বিশ্বে দুর্বৃত্তিতে প্রথম হয়। তাই দেশে নির্বাচন আসা মানেই নিজের কাছে ঈমানের পরীক্ষা এসে হাজির হওয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা দেখবেন আমরা কতটা ঈমানদারের পক্ষে খাড়া হই, আর কতটা বেইমান বদমায়েশদের পক্ষে খাড়া হই। ০৭/০২/২০২৬