হারাম যুদ্ধ, হালাল যুদ্ধ, একাত্তরের যুদ্ধ এবং প্রতারক মুজিব

3 views
Skip to first unread message

Firoz Kamal

unread,
Jan 16, 2026, 2:55:26 PMJan 16
to

হারাম যুদ্ধ, হালাল যুদ্ধ, একাত্তরের যুদ্ধ এবং প্রতারক মুজিব

ফিরোজ মাহবুব কামাল

www.drfirozmahboobkamal.com/blog/হারাম-যুদ্ধ-হালাল-যুদ্ধ-এ/

 

 দুটি পক্ষ ও দুটি যুদ্ধ

একাত্তরের যুদ্ধে দুটি পক্ষ ছিল। দুটি পক্ষের দুটি যুদ্ধও ছিল। একটি ছিল হারাম যুদ্ধ এবং অপরটি ছিল হারাম যুদ্ধ। প্রশ্ন হলো কোনটি হারাম যুদ্ধ আর হালাল যুদ্ধ। আলো এবং আঁধার চিনতে পণ্ডিত হওয়া লাগে না; এমন কি শিশুরাও সেটি বুঝে। তেমনি কোনটি হারাম যুদ্ধ, আর কোনটি হালাল যুদ্ধ সেটি চিনতেও পণ্ডিত হওয়া লাগে না। বুঝতে হবে একটি দেশে জুলুম, বৈষম্য, খুন, ধর্ষণ থাকতেই পারে। সেটি যেমন বাংলাদেশে ও ভারতে আছে, তেমনি পাকিস্তানেও ছিল। কিন্তু সেগুলি কোন দেশ ভাঙাকে জায়েজ করে না। জায়েজ হলো সে অন্যায়ে বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই। তবে যে যুদ্ধ পরিচালিত হয় ভারতের ন্যায় পৌত্তলিক কাফিরদের অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বে; এবং যে যুদ্ধের সৈনিক হলো জাতিয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট, সেক্যুলারিস্ট, কম‌্যুনিস্ট ও পৌত্তলিকগণ এবং যে যুদ্ধের এজেন্ডা হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রকে খণ্ডিত করা -সে যুদ্ধটি যে বিশুদ্ধ হারাম যুদ্ধ -তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ থাকে? অপর দিকে যে যুদ্ধটির লক্ষ্য ভারতের ন্যায় পৌত্তলিক কাফির শক্তির হামলা থেকে একটি মুসলিম দেশকে বাঁচানো -সেটি যে বিশুদ্ধ হালাল যুদ্ধ তথা পবিত্র জিহাদ তা নিয়ে কি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে?

এজন্যই একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানের সকল প্রখ্যাত আলেম, সকল মুফতি ও পীর সাহেবগণ পাকিস্তান বাঁচানোর যুদ্ধকে পবিত্র জিহাদ বলেছিলেন। হারাম যুদ্ধ বলেছেন মু্ক্তিবাহিনীর যুদ্ধকে। একই অভিমত ছিল জামায়াতে ইসলামী, নিজামে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী এবং খেলাফতে রাব্বানী পার্টির ন্যায় সকল ইসলামী দলগুলির নেতাদের। একই অভিমত ছিল মুসলিম লীগ, নূরুল আমীন ও শাহ আজিজুর রহমানের পাকিস্তান ডিমোক্রাটিটি পার্টি ও কৃষক শ্রমিক পার্টির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু শিঁক্ষক, বহু লেখক ও বহু বুদ্ধিজীবী পাকিস্তান ভাঙার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। যুদ্ধকালীন ৯ মাসে প্রকাশিত পত্রিকার দিকে নজর দিলে তাদের বিবৃতি নজরে পড়বে। পাকিস্তান ভাঙার প্রকল্প ছিল ইসলাম থেকে দূরে সরা আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’য়ের কিছু অংশ এবং হিন্দুত্ববাদীদের।  

 

মুসলিমের প্রতি যুদ্ধই হালাল হতে হয়

যুদ্ধই নির্ধারণ করে একটি জাতি কতটা স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ইজ্জত নিয়ে বাঁচবেএখানেই যুদ্ধের গুরুত্ব।সলামে যুদ্ধ স্রেফ যুদ্ধ নয়, সেটি সর্বোচ্চ ইবাদত। নামাজ-রোজা বহু ঘুষখোর, সূদখোর, প্রতারকও পালন করে। কিন্তু জিহাদে জান ও মাল নিয়ে হাজির হয় একমাত্র খালেছ ঈমানদার। যুদ্ধ তাই মুসলিমদের পৃথক করে মুনাফিক থেকে। কাফির শক্তির হামলার মুখে নীরব থাকাটি নিরেট মুনাফিকি। তাই আব্দুল্লাহ বিন উবাই ও তার ৩০০ সহচর নবীজী (সা:)’য়ের পিছনে নামাজ পড়ে্ও মুনাফিক রূপে গণ্য হয়েছে। মুসলিমের প্রতিটি যুদ্ধই হতে হয় আল্লাহর পথে যুদ্ধে; এ জন্যই মুসলিমের প্রতিটি যুদ্ধই পবিত্র জিহাদযে যুদ্ধ জিহাদ নয়, সে যুদ্ধ ইসলামে হারাম। কোন হারাম যুদ্ধে ঈমানদার যোগ দিতে পারে না। এজন্য কোন আলেম বা ইসলামী দলের নেতাকর্মীকে পৌত্তলিক ভারতের শিবিরে ট্রিনিং নিতে বা মুক্তিবাহিনীতে দেখা যায়নি।  

একটি দেশে মহান আল্লাহ তায়ালার জেন্ডা কতটা বিজয়ী হবে এবং দেশবাসী কতটা স্বাধীনতা পাবে -তা নির্ধারণ করে এই জিহাদজিহাদে বিনিয়োগ হয় মুমিনের অর্থ, শ্রম, রক্ত তথা সর্বাত্মক সামর্থ্যের। যে মুসলিম জনগোষ্ঠির জীবনে জিহাদ নাই, সে মুসলিমের জন্য পরাধীনতা, নিরাপত্তাহীনতা অপমান অনিবার্য তখন সে মুসলিম ভূমিতে সীমিত হয়ে যায় দ্বীন পালন কাফিরদের অধিকৃত ভূমিতে সুযোগ মেলে না শরিয়া পালনের অথচ শরিয়া পালন না হলে দ্বীন পালন হয়না। তাই মুসলিম জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্বীন পালনের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। সে লক্ষ্য অর্জনে অনিবার্য হয়ে উঠে জিহাদ। জিহাদ না হলে কখনোই পূর্ণ দ্বীন পালনের ক্ষেত্র ও সুযোগ সৃষ্টি হয়না। ইসলাম তখন শুধু কিতাবে থেকে যায়। এখানেই জিহাদের গুরুত্ব; এবং জিহাদ গণ্য সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত রূপে। এজন্যই ঈমানদারের জীবনেও সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটি হয় জিহাদে; অর্ধেকের বেশি সাহাবা এ কাজে শহীদ হয়ে গেছেন অতীতে মানব জাতির সম্পদ, শ্রম, মেধা রক্তের সবচেয়ে বড় অংশটি ব্যয় তো যুদ্ধে মাত্র দুটি বিশ্ব যুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি মানুষ নিহত হয়েছে শত শত নগর, বন্দর এবং লক্ষ লক্ষ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে বহু মহামারি ও বহু ভূমিকম্প মিলেও এতো প্রাণনাশ হয়নি।

 

পৃথিবী পৃষ্ঠে এক টুকরো ভূমিও নাই পূর্ণ দ্বীন পালনের!

সাহাবাগণ শ্বেত পাথর দিয়ে মসজিদ গড়েননি; তাঁরা কাদা খেজুর পাতার মসজিদে নামাজ পড়েছেন এবং নিজেদের শ্রম সম্পদ ব্যয় করেছেন জিহাদেতাদের অর্থ, রক্ত ও সর্বাত্মক সামর্থ্যের বিনিয়োগে নির্মিত হয়েছিল ইসলামী রাষ্ট্র। ফলে মুসলিমগণ পেয়ে সে রাষ্ট্রে পূর্ণ দ্বীন পালনের নিরাপদ ক্ষেত্র। মুসলিমদের পতনের শুরু তখন থেকেই যখন মুসলিম জীবন থেকে জিহাদ বিলুপ্ত হয়েছে এবং বিলুপ্ত হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের তাড়না। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার সাথে শুরু হয়েছে প্রাসাদ গড়া এবং প্রাসাদসম মসজিদ-মাদ্রাসা গড়ামুসলিমগণ বহু যুদ্ধ করেছে; তবে সে যুদ্ধগুলি হয়েছে নিজ গোত্র, নিজ ভাষা ও নিজ গোত্রের মর্যাদা গৌরবময় করতে। মুসলিমদের বিপুল অর্থ ও রক্তের বিনিয়োগ হয়েছে এসব হারাম যুদ্ধে। এসব হারাম যুদ্ধের ফল হলো, পৃথিবী পৃষ্ঠে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিমের বসবাস হলেও পূর্ণ ইসলাম পালনের জন্য এক টুকরো ভূমিও আর অবশিষ্ঠ নাই। সব ভূমি বেদখল হয়ে গেছে ইসলামের শত্রুপক্ষের হাতে। এবং দখলদার শক্তি তার অধিকৃত ভূমিত পূর্ণ ইসলাম পালনের অধিকার দিতে রাজী নয়। পূর্ণ ইসলাম পালনের অর্থ শুধু নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত, কুর’আন তেলাওয়াত ও দোয়া-দরুদ পালন নয়। সে জন্য অপরিহার্য হলো ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার প্রাধান্যমুক্ত ইসলামী রাষ্ট্র এবং সে রাষ্ট্রে মহান আল্লাহর তায়ালার সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ, আদালতে শরিয়তী বিচার, শিক্ষালয়ে কুর‌’আনী জ্ঞানদান এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও দুর্বৃত্তি নির্মূলের জিহাদ। এগুলির প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাগণ। এর কোন একটি বাদ দিলে পূর্ণ ইসলাম পালনের কাজটি হয়না।

পূর্ণ ইসলাম পালনের জন্য অপরিহার্য হলো ইসলামী রাষ্ট্র। যেখানে ইসলামী রাষ্ট্র নাই, বুঝতে হবে সেখানে পূর্ণ ইসলাম-পালনও নাই। পূর্ণ ইসলাম পালনের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি কৃষি, শিল্প ও বিজ্ঞানে বিশাল উন্নতি এনেও সম্ভব নয়। সে কাজে একমাত্র হাতিয়ার হলো জিহাদ। একমাত্র জিহাদের মধ্য দিয়েই ঈমানদার ব্যক্তি পূর্ণ দ্বীন পালনের অধিকার অর্জন করে, নইলে ছিনতাই হয় সে অধকিার। জিহাদই ঈমানদারকে একাত্ম করে মহান রব’য়ের এজেন্ডার সাথে; এবং যোগ্য করে জান্নাতের সাথে জিহাদের বরকতেই নবীজী (সা:)’য়ের আমলে পূর্ণ দ্বীন পালনের সুরক্ষিত ক্ষেত্র তৈরী হয়েছিল। অথচ তখন মুসলিম জনসংখ্যা বাংলাদেশের একটি ইউনিয়নের জনসংখ‌্যার চেয়েও কম ছিল।

 

বাঙালি মুসলিমের কাছে পাকিস্তান কেন গুরুত্ব পেল? 

বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র রূপে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল মুসলিম উম্মাহর বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রয়োজনে। তখন বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিমের বসবাস ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে। তখন গুরুত্ব পায় মুসলিমদের জন্য স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত নিয়ে বেড়ে উঠার জন্য সুরক্ষিত একটি রাষ্ট্রের নির্মাণ। এমন একটি রাষ্ট্র অপরিহার্যতা রয়েছে পূর্ণ ইসলাম পালনের জন্যও। উসমানিয়া খেলাফতের বিলুপ্তির পর ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমরা বুঝতে পারে ভাষা, বর্ণ, আঞ্চলিকতার নামে মুসলিমগণ বিভক্ত হলে তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাই শুধু বিলীন হবে না, পূর্ণ দ্বীন পালনের জন্য নিরাপদ কোন ভূমিও মিলবে না। ভারতীয় মুসলিম নেতাগণ দেখেছিল, ইসলাম পালন কিভাবে অসম্ভব করা হয়েছিল সোভিয়েত রাশিয়ার মত কম্যুনিস্ট দেশে।

আল্লামা ইকবালের দার্শনিক নেতাগণ বুঝতে পারেন, মুসলিমদের আগামী দিনের রাষ্ট্রগুলি জাতীয়, উপজাতীয় বা ট্রাইবাল হলে সেগুলি মুসলিমদের স্বাধীনতাহীন ও নিরাপত্তাহীন করবে। সে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলি হবে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি বাঁচিয়ে রাখার স্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক অবকাঠামো। সে রাষ্ট্রগুলির থাকবে না আগ্রাসী হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সামর্থ্য। তাই এপথ কখনোই মুসলিমদের পথ হতে পারে না। তারা বুঝতে পারেন, মুসলিমদের অবশ্যই ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে এক শক্তিশালী প্যান-ইসলামী civilizational state নির্মাণ করতে হবে -যেমনটি নির্মাণ করেছিলেন খোদ নবীজী (সা:) ও তাঁর মহান সাহাবাগণ। সেটিই হলো মুসলিম লীগ নেতাদের ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ধারণাগণ ভিত্তি (conceptual premise)।

কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের সে প্রকল্প দেখে প্রচণ্ড ভয় পায় কংগ্রেসের হিন্দুত্ববাদী নেতাগণ। কারণ তাদের ছিল দীর্ঘ দিনের প্রচণ্ড মুসলিম ভীতি। ফলে তারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রবল বিরোধীতা শুরু করে। অপর দিকে মুসলিমগণও প্রবল বিক্রমে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জিহাদে নেমে পড়ে। কায়েদে আযম ঘোষণা দেন: “লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান।” অর্থ: লড়াই করেই গড়বো পাকিস্তান। সে লড়াইটি রক্তাক্ত রূপ নেয় ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায়। সেদিন কলকাতার গড়ের মাঠে ছিল মুসলিম লীগের “লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান”‌ ‘য়ের direct action দিবসের জনসভা। কলকাতার সংখাগরিষ্ঠ হিন্দুরা মুসলিম নিধনে দাঙ্গাে  শুরু করে। সদাঙ্গায় ৫ হাজারের বেশী মুসলিম শহীদ হয় -তাদের অধিকাংশই ছিল নোয়াখালি ও বিহারের। পরে সে দাঙ্গা দাবানলের ন্যায় নোয়াখালী ও বিহারে ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গা থামাতে কংগ্রেস এবং ব্রিটিশ সরকার আর কোন বিলম্ব করে পাকিস্তান দাবী মেনে নেয়। ১৯৪৬ সালে নির্বাচনে বাংলার মুসলিমগণ পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়। তখন বাংলায় ছিল মুসলিম লীগের সরকার; প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (সে সময় মুখ্যমন্ত্রী না বলে প্রধানমন্ত্রী বলা হতো)। তাই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মূল লড়াইটি হয়েছিল বাংলায় -বিশেষ করে কলকাতায়।  

কিন্তু পাকিস্তান প্রকল্পটি পৌত্তলিক কাফিরদের ন্যায় বাঙালি সেক্যুলারিস্ট, বাঙালি ফ্যাসিস্ট, বাঙালি কম্যুনিস্টদের কাছেও গ্রহনযোগ‌্যতা পায়নি। ফলে ১৯৪৭ সালে দেশটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শুরু হয়্। ১৯৭১’য়ের যুদ্ধ ছিল তারই চুড়ান্ত রূপ। তখন পাকিস্তানের ঘরের শত্রুদের সাথে যোগ ভারতীয় বিদেশী শত্রুরা। সে ঘরের শত্রুদেরই একজন ছিল মুজিব।  তাই মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এসে ১৯৭২’য়ের সালে ১০ জানুয়ারী সোহরাওয়ার্দী উদ্দানের জনসভায় বলেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই একাত্তর থেকে নয়, ১৯৪৭ থেকেই শুরু করেছিলাম। মুজিবের সেদিনের সে উ্ক্তি আমি নিজ কানে শুনেছিলাম। তখন তার সে কথার সাথে ভেসে উঠে তার পাকিস্তান আমলের আগরতলা ষড়যন্ত্রের ন্যায় বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতিও।

 

একাত্তরে যুদ্ধের মূল এজেন্ডা

একাত্তরে যুদ্ধের মূল এজেন্ডা ছিল, পূর্ব পাকিস্তানী মুসলমিদের হাত থেকে পূর্ণ ইসলাম পালনের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া -যেমন সে স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে সোভিয়েত রাশিয়া ও চীনে। সে স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে ভারতেও। মুসলিম যুবকগণ টুপি মাথায় দিয়ে এবং মেয়েরা হিজাব নিয়ে রাস্তায় নামলে হেনস্তার শিকার হয়। মুসলিমদের দাড়ি টেনে জয়শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয় এবং ইদগায় নামাজে দাঁড়ালে গায়ে পাথার নিক্ষেপ শুরু হয়। বুলডোজার দিয়ে মসজি্দ ভাঙা হয়। মুসলিমদের শক্তি বিনাশের লক্ষ্যেই তাদের এজেন্ডা হয়, মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানকে খণ্ডিত করা। লক্ষ্য, মুসলিম উম্মাহকে শক্তিহীন ও অভিভাবকহীন করা। ভারত ও ভারতপন্থীদের ভয়, পাকিস্তান বাঁচলে মুসলিমগন বেড়ে উ্ঠবে। তাই পাকিস্তান নিয়ে তারা আতংকিত হলো।

এজন্যই ভারত এবং ভারতসেবী বাঙালি সেক্যুলারিস্ট ও ফ্যসিস্টদের একাত্তরে যুদ্ধটি স্রেফ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিল না, সেটি ছিল ইসলাম এবং ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধেও। তাদের সে এজেন্ডার প্রমাণ মেলে মুজিব ও হাসিনার শাসনামলে। মুজিব সকল ইসলামী দলকে নিষিদ্ধ করিছিল। পাকিস্তান আমলে স্কুলে দ্বীনিয়াত নামে একটি বই পড়ানো হতো, মুজিব সেটি বন্ধ করে।  কুর’আনের তাফসিরকে নিয়ন্ত্রিত করে। হাসিনার আমলে গৃহে জিহাদ বিষয়ক বই পেলে জঙ্গী আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করা হতো। শাপলা চত্বরে মুসুল্লীদের বিরুদ্ধে হয়েছে। আদালতে শরিয়া আইনের দাবী জানালে উগ্রবাদী বলে গুম করা হয়েছে।   

 

প্রতারক মুজিব

১৯৭০ সালে মুজিব দফা স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাজনীতির গোল পোষ্টই বদলে ফেলে লক্ষ্য হয় আগরতলা ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের বিষয়টি মুজিব পুরোপুরি পরিত্যাগ করে ছাত্র লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে দাবী উঠছি, মুজিব যেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে সকল আলোচনা পরিত্যাগ করে সত্বর স্বাধীনতার দাবী তুলে একাত্তরের মার্চ ছাত্র লীগের নেতাকর্মীগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে শুরু হয় সামরিক প্রশিক্ষণ শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে দাবী তোলে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক আইন সামরিক বাহিনী তুলে নিয়ে তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক (সূত্র: Richard Sisson and Leo E. Rose; War and Secession: Pakistan, India and the Creation of Bangladesh, University of California Press, 1990.) সেটি ছিল বিনা যুদ্ধে সুস্পষ্ট বিচ্ছিন্নতার পথ মুজিব চাচ্ছিল জাতীয় পরিষদের বৈঠক সত্বর ঢাকাতে ডাকা হোক মুজিব ভেবেছিল, জাতীয় পরিষদের বৈঠক ঢাকায় বসলে তার দলের সদস্যগণ স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে প্রস্তাব পাশের সুযোগ পাবে পাকিস্তান ভাঙার পরিকল্পনা গুরুত্ব পাওয়াতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের বিষয় মুজিবের সামান্যতম আগ্রহ ছিলনা

১৯৭০য়ের নির্বাচন হয়েছিল সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে যে, সংসদ নির্বাচনের ১২০ দিনের মধ্যে নতুন সংবিধান রচিত হবে এবং সংবিধান প্রণয়ন শেষে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে এটিই ছিল নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তরের সর্ব সমর্থিত রোডম্যাপ সেটির বিষদ বর্ণনা এসেছিল ইয়াহিয়া সরকারের ঘোষিত দফার Legal Frame Work’য়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সাথে শেখ মুজিব সে রোডম্যাপে স্বাক্ষর করেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল কিন্তু নির্বাচনী বিজয়ের পর সে রোডম্যাপের শর্তগুলি শেখ মুজিব পুরোপুরি এড়িয়ে যায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া মুজিবকে তার পূর্বের আরেকটি ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় মুজিব প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে ওয়াদা দিয়েছিল যে, জাতীয় পরিষদ তথা সংসদের বৈঠকের আগেই তার দলের প্রস্তাবিত সংবিধানটি তাকে দেখানো হবে কিন্তু মুজিব সে ওয়াদার কথা এড়িয়ে যায় তাজুদ্দীন এক কদম এগিয়ে গিয়ে বলে, সেরূপ কোন ওয়াদাই করা হয়নি এবং আরো বলে, আওয়ামী লীগ তার সাংবিধানিক প্রস্তাবনা কাউকে দেখাতে বাধ্য নয়  (Chowdhury, G.W; The Last Days of United Pakistan, London: C. Hurst & Company, 1974)

অথচ  পাকিস্তানের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি চাচ্ছিল সংসদের বৈঠকের আগেই আওয়ামী লীগের সাংবিধানিক প্রস্তাবনার উপর আলোচনা সমঝোতা হোক তাদের ধারণা ছিল, সংসদের বাইরে সমঝোতা না হলে ১২০ দিনের মধ্যে সংবিধান রচনা করা অসম্ভব হবে এব আগে বছর লেগেছিল পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচনা করতে -যা রচিত হয় ১৯৫৬ সালে আসল বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের সংবিধান রচনার বিষয়টি মুজিব তার মগজ থেকে বহু আগেই বিদায় দিয়েছিল তখন মুজিবের একমাত্র এজেন্ডা ছিল পাকিস্তান ভাঙা স্বাধীন বাংলাদেশের নির্মাণ অথচ মুজিব জনগণের ভোট নিয়েছিল নির্বাচনী জনসভা গুলিতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে এবং ওয়াদ করেছিল সে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র বানাবে দফার ভিত্তিতে কিন্তু নির্বাচনী বিজয়ের পর সে দফা এক দফাতে পরিণত হয়; এবং সেটি পাকিস্তান ভাঙা এভাবেই মুখোশ খুলে যায় প্রতারক মুজিবের প্রতারণার রাজনীতির ১৬/০১/২০২৬

 

Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages