জিহাদের দায় ও মুসলিমদের গাদ্দারী
ফিরোজ মাহবুব কামাল
www.drfirozmahboobkamal.com/blog/জিহাদের-দায়-ও-মুসলিমদের-গ/
জিহাদের অর্থ ও ঈমানদারের দায়
প্রতিটি ধর্ম, মতবাদ ও বিজ্ঞান শাস্ত্রের নিজস্ব পরিভাষা (jargon) থাকে। “জিহাদ” হলো ইসলামের নিজস্ব পরিভাষা। এটি এমন এক অনন্য শব্দ -যা সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর পবিত্র কুর’আন বার বার উল্লেখ করেছেন। অন্য কোন ধর্মে জিহাদের সমার্থক কোন শব্দ নাই। এটি এমন এক কুর’আনী পরিভাষা -যার অর্থ বুঝতে হলে পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান থাকা জরুরি। তাছাড়া সেটি যথার্থ ভাবে বুঝতে ব্যক্তিকে অবশ্যই ঈমানদার হতে হয়। যেমন চিকিৎসার শাস্ত্রের পরিভাষা বুঝতে ডাক্তার হতে হয়; বিশেষ এ শব্দগুলির অর্থ সাধারণ মানুষ বুঝে না। যারা জিহাদের অর্থ, দর্শন ও এজেন্ডা বুঝতে ব্যর্থ হয় তাদের কাছে ইসলামের এ সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতটি সন্ত্রাস মনে হয়।
“জিহাদ” শব্দের যথার্থ তরজমা অসম্ভব। জিহাদ’য়ের অর্থ অনেকে চেষ্টা, প্রচেষ্টা ও লড়াই রূপে বুঝেন। জিহাদ’য়ের সেটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ নয়। জিহাদের সঠিক অর্থ বুঝতে হলে জিহাদের ব্যাখ্যাটি সরাসরি পবিত্র কুর’আন থেকে গ্রহণ করতে হয়। এজন্যই জিহাদ শব্দটি বাংলা, উর্দু, ফার্সি, তুর্কি, ইংরেজিসহ বিশ্বের তাবত ভাষার শব্দমালাতে “জিহাদ” রূপেই শামিল হয়েছে; শাব্দিক তরজমা রূপে নয়। বাংলা, উর্দু, ফার্সি ও তুর্কি ভাষাতে আরবি শব্দ ছালাত’য়ের তরজমা নামায এবং সিয়াম’য়ের তরজমা রোজা অধিক প্রচলিত। এসব ভাষার সাধারণ মানুষের মাঝে কুর’আনী পরিভাষা ছালাত ও সিয়ামের তেমন ব্যবহার নাই। কিন্তু তাতে ছালাত ও সিয়ামের গুরুত্ব কমেনি। কিন্তু এ ভাষাগুলিতে জিহাদ শব্দটি জিহাদ রূপেই রয়ে গেছে। মুসলিম বিজ্ঞজনেরা এর তরজমা করার প্রয়োজন বোধ করেননি।
জিহাদ শব্দটির তরজমা অসম্ভব হওয়ার কারণ, জিহাদের মধ্যে দিয়ে একটি পবিত্র দর্শন, একটি পবিত্র এজেন্ডা এবং একটি পবিত্র তাড়না কথা বলে। সে দর্শন, সে এজেন্ডা ও সে তাড়নাটি না বুঝলে জিহাদের অর্থ বুঝা অসম্ভব। জিহাদের শাব্দিক তরজমা করলে সে শব্দের মাঝে সে দর্শন, এজেন্ডা ও তাড়নার প্রকাশ ঘটানো যায়না। জিহাদের দর্শন ও এজেন্ডাটি মহান আল্লাহতায়ালার এবং জিহাদের তাড়নাটি ঈমানদারের। জিহাদের এজেন্ডাটি মহান আল্লাহতায়ালার হওয়ার অর্থ হলো, জিহাদকে অবশ্যই পরিচালিত হতে হয় একমাত্র তাঁরই এজেন্ডাকে বিজয়ী করা লক্ষ্যে। এজন্যই পবিত্র কুর’আনের অধিকাংশ স্থানে জিহাদ শব্দটি একক শব্দ রূপে ব্যবহৃত হয়নি, ব্যবহৃত হয়েছে “জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহি” তথা আল্লাহর পথে জিহাদ রূপে। বস্তুত জিহাদ হলো, মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করার সর্বাত্মক লড়াই। সেটি যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক অঙ্গণে হতে পারে, তেমন সামরিক ক্ষেত্রে অস্ত্রেরও হতে পারে। তবে ঈমানদারের জীবনে জিহাদের শুরুটি বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গণে। বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের মূল হাতিয়ারটি হলো পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। কুর’আনী জ্ঞানের অস্ত্র দিয়ে জিহাদের হুকুম এসেছে নিচের আয়াতে:
فَلَا تُطِعِ ٱلْكَـٰفِرِينَ وَجَـٰهِدْهُم بِهِۦ جِهَادًۭا كَبِيرًۭا
অর্থ: “অতঃপর তোমরা কাফিরদের (ধর্ম, দর্শন, মতবাদ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি) অনুসরণ করবে না; এবং তাদের বিরুদ্ধে এই কুর’আন দিয়ে বড় জিহাদটি করো।” –( সুরা ফুরকান, আয়াত ৫২)
জিহাদের দর্শন ও এজেন্ডা
জিহাদের মাঝে কাজ করে যে প্রবল দর্শন -সে দর্শনের উৎস হলো পবিত্র কুর’আন। সে দর্শনের পিছনে কাজ করে মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা। সেটি হলো তাঁর পবিত্র এজেন্ডা পূরণে অর্থ, শ্রম, মেধা ও প্রাণের বিনিয়োগ। সে বিনিয়োগের পিছনে কাজ করে মহান আল্লাহতায়ালার সাথে সম্পাদিত মু’মিনের এমন এক ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি -যার উল্লেখ এসেছে নিচের আয়াতে:
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: “আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাস্তায়; অতঃপর (ইসলামের শত্রুদের) হত্যা করে এবং (শত্রুদের হাতে) নিজেরাও নিহত হয়। তওরাত, ইঞ্জিল ও কুর’আনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক দায়িত্ববান? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে ক্রয়-বিক্রয় চৃক্তির উপর, যা তোমরা করেছো তাঁর সাথে। বস্তুত এ হলো এক মহান সাফল্য।” –( সুরা তাওবা, আয়াত ১১১)।
মুসলিম হওয়ার অর্থ তাই শুধু কালেমা পাঠ এবং নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন নয়, বরং মহান রব’য়ের সাথে সে পবিত্র চুক্তিনামাতে স্বজ্ঞানে স্বাক্ষর করা এবং সে চুক্তির শর্তগুলিকে সর্বদা নিজ চেতনায় ধারণ করে বাঁচা। সে চুক্তিনামা অনুযায়ী মুমিন তাঁর জান ও মাল বিক্রয় করবে মহান আল্লাহতায়ালার কাছে এবং বিনিময়ে ক্রয় করবে জান্নাত। তবে লক্ষণীয় হলো, ক্রয়ের পর মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর সে ক্রয়কৃত জান ও মাল নিজের কাছে তুলে নেন না, বরং মুমিনের কাছেই আমানত রূপে গচ্ছিত রেখে দেন। সেটি এ শর্তে যে, তাঁর ক্রয়কৃত জান ও মালের বিনিয়োগ হবে একমাত্র তারই এজেন্ডাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে।
মানব জীবনে সবচেয়ে বড় গাদ্দারী এবং সে সাথে বড় অপরাধটি সংঘটিত হয় তখন, যখন মহান আল্লাহতায়ালার ক্রয়কৃত সে জান ও মালকে বিনিয়োগ করা হয় শয়তানের এজেন্ডা পূরণে তথা ইসলামকে পরাজিত করার রাজনীতি ও যুদ্ধ-বিগ্রহ। সে গাদ্দারীটি হতে পারে মহান রব’য়ের সে আমানতকে স্বৈরাচারী শাসকের স্বার্থ, দলীয় স্বার্থ, গোত্রীয় স্বার্থ, জাতীয় বা উপজাতীয় স্বার্থ বা শ্রেণী স্বার্থে কাজে লাগানোর মধ্য দিয়ে। সে গুরুতর অপরাধ ব্যক্তিকে জাহান্নামে হাজির করে। তখন তার নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত কাজ দেয়না -যেমন কাজে লাগেনি নবীজী (সা:)’ পিছনে আদায় করা আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের নামাজ। সাহাবাগণ এবং গৌরব যুগের মুসলিমগণ সে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির শর্ত পালনে ইতিহাস গড়েছিলেন। ইসলামের বিজয় এবং ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দেয়ার কাজে অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়েছেন। তাদের সে কুরবানীর ফলে পৃথিবীর বিশাল ভূ-ভাগ জুড়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন। অথচ আজকের মুসলিমগণ ইতিহাস গড়েছে সে চুক্তির সাথে গাদ্দারীতে। সে গাদ্দারীর নমুনা হলো, মুসলিমগণ আজ আল্লাহতায়ালার পথে জিহাদে নাই। ফলে বিশ্বের কোথাও প্রতিষ্ঠা পায়নি মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন। আল্লাহতায়ালার গচ্ছিত আমানতকে তারা ব্যয় করে স্বৈরাচারী জালেম শাসক, কাফির শক্তি এবং ইসলাম বিরোধী দলের রাজনীতি বা নিজের স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা পালনে। সে গাদ্দারীর ইতিহাস হলো, লক্ষ লক্ষ মুসলিম অতীতে ব্রিটিশ, ফরাসী ও মার্কিন বাহিনীতের যোগ দিয়ে মুসলিম ভূমিতে তাদের বিজয় বাড়িয়েছে।
আগুন থেকে তার উত্তাপকে কখনোই পৃথক করা যায় না। আগুন থাকলে উত্তাপ থাকবেই। তেমনি মু’মিন ব্যক্তি থেকে তাঁর জিহাদকে কখনোই পৃথক করা যায় না। ঈমান থাকলে জিহাদও থাকে। জিহাদের মধ্যেই ঈমানের প্রকাশ। কারণ, মুমিনের চেতনায় প্রতিক্ষণ কাজ করে মহান আল্লাহতয়ালার সাথে কৃত তাঁর জান-মালের বিক্রয়ের চুক্তিনামা। সেটি পরিণত হয় তাঁর ঈমানের অবিচ্ছেদ্দ অংশে। একমাত্র ঈমানের বিলুপ্তিতেই বিলুপ্ত হয় তার চেতনা থেকে সে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির স্মৃতি। সে স্মৃতি-বিলুপ্তির ফলে বিলুপ্তি ঘটে জিহাদের প্রতি দায়বদ্ধতাও। ঈমানের দাবী সূদখোর, ঘুষখোর, মিথ্যাবাদী, সেক্যুলারিস্ট, জাতীয়তাবাদী, স্বৈরাচারীগণও করতে পারে। কিন্তু তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়, ঈমানের অর্থ শুধু আল্লাহতায়ালা ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস নয়। বরং তাতে থাকে মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার দায়। ঈমানের দাবীতে একমাত্র তারাই সত্যবাদী -যাদের মাঝে রয়েছে মহান আল্লাহতায়ালার পথে তথা তাঁর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদ। মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সে ঘোষণাটি এসেছে সুরা হুজরাতের ১৫ নম্বর আয়াতে। অর্থাৎ জিহাদ না থাকার অর্থ ঈমান না থাকা।
জিহাদ কেন সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত?
জিহাদ ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জিহাদ কেন সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত? সেটি ভাববার বিষয় এবং তা থেকে শিক্ষা নেয়ার বিষয়ও। যে কোন ইবাদতের শ্রেষ্ঠত্ব যাচাই হয় তার কল্যাণের সামর্থ্য থেকে। পথ থেকে একটি কাঁটা সরানোও ইবাদত। কারণ তাতে পথচারীদের কল্যাণ থাকে। কিন্তু সে কল্যাণটি রাষ্ট্রের বুক থেকে জালেম শাসক সরানোর কল্যাণের সমান নয়। কোটি কোটি মানুষের কালেমা পাঠ, কুর’আন তেলাওয়াত এবং তাদের নামাজ -রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনে সমাজ থেকে দুর্বত্তির নির্মূল ঘটে না। এবং তাতে ইসলামের বিজয়ও আসে না। এমন কি যে ব্যক্তিটি নিজেকে নামাজী, রোজাদার বা হাজী রূপে জাহির করে, সে ব্যক্তিটি ঘুষখোর, সূদখোর, মিথ্যাবাদী এবং শেখ হাসিনার ন্যায় নৃশংস স্বৈরাচারীও হতে পারে। ঈমানের দাবীদার সে ব্যক্তিটি চোর-ডাকাত, ভোটডাকাত, স্বৈরাচারী জালেম এবং খুনিও হতে পারে।
কিন্তু জিহাদের কল্যাণটি বিশাল। এটি ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রকে দুর্বৃত্তিমক্তু ও পবিত্রতম করার একমাত্র হাতিয়ার। মুজাহিদদের জিহাদে ও তাদের কুর’বানীতে পৃথিবী পৃষ্ঠে বিজয়ী হয় মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডা। নির্মিত হয় ইসলামী রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠা পায় শরিয়া আইনের বিচার। একমাত্র জিহাদের মধ্য দিয়েই দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ঘটে। লক্ষ লক্ষ মানুষের নমাজ রোজা ও হ্জ্জ যাকাত পালনে সেটি ঘটেনা। জিহাদের মধ্য দিয়ে এভাবেই সভ্য রাষ্ট্র ও উচ্চতর সভ্যতা নির্মিত হয়। এবং নিরাপত্তা পায় জনগণের জান-মাল ও ইজ্জত-আবরু। তখন সে রাষ্ট্রে উপযোগী পরিবেশ গড়ে উঠে পূর্ণ ইসলাম পালনের।
নামাজ রোজা এবং হজ্জ যাকাতও অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে এ ইবাদতগুলি কখনোই জিহাদের সমকক্ষ নয়। নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত এবং যিকর-আযকার পরিশুদ্ধি আনে ব্যক্তির জীবনে। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে পরিশুদ্ধি আনার কাজে জিহাদের বিকল্প নাই। তাই যে রাষ্ট্রে জিহাদ নাই সে রাষ্ট্র পাপ পংকিলতা, চুরি ডাকাতি, ধর্ষণ, গুম খুন, সন্ত্রাস, জুলুম নির্যাতনের ন্যায় নানা রূপ দুর্বৃত্তির জোয়ারে প্লাবিত হয়। জিহাদ নিয়ে বাঁচার কারণেই গৌরব যুগের মুসলিমগণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ও সভ্যতার জন্ম দিতে পেরেছিলেন এবং অর্জন করেছিলেন বিশ্বশক্তির মর্যাদা। কারণ ইসলামী রাষ্ট্রই হলো সে লক্ষ্য অর্জনে একমাত্র হাতিয়ার। সে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হতে পারে একমাত্র জিহাদের পথে ধরেই। আজ মুসলিমদের মাঝে লাখ লাখ মসজিদ মাদ্রাসা আছে, বহু কোটি নামাজী রোজাদার আছে। বহু লক্ষ আলেম, ইমাম ও মোহাদ্দাসও আছে। কিন্তু তাদের চেতনায় মহান আল্লাহতায়ালার কাছে নিজ জান মাল বিক্রয়ের সে পবিত্র স্মৃতি কাজ করেনা। একারণেই তাদের জীবনে জিহাদ নাই। জিহাদ পরিত্যাগ করায় মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করা এবং তাঁর শরিয়া আইনকে প্রতিষ্ঠা দেয়ার লক্ষ্যে নির্মিত হয়নি কোন ইসলামী রাষ্ট্র। সেরূপ একটি রাষ্ট্র নির্মিত না হওয়ার ফল হলো, মুসলিমগণ আজ স্বাধীনতাহীন, নিরাপত্তাহীন ও ইজ্জতহীন। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ভারত, আরকান ও উইঘুরের মুসলিমগণ এজন্যই আজ এতোটা অসহায়। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত কোন শক্তিশালী রাষ্ট্র নাই। ১৫০ কোটির বেশী মুসলিম বন্দী হয়ে আছে ভাষা, বর্ণ ও অঞ্চলভিত্তিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র নামের জেল খানায়। ৩০/০৪/২০২৬