প্রতিদিনই একাত্তর
ফিরোজ মাহবুব কামাল
www.drfirozmahboobkamal.com/blog/প্রতিদিনই-একাত্তর/
একাত্তর ১৯৭১’য়ে শেষ হয়নি
বাঙালি মুসলিম জীবনে একাত্তর ১৯৭১’য়ে শেষ হয়ে যায়নি। বরং প্রতিদিনই হাজির হয় একাত্তর। কারণ, একাত্তরের অর্থ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভারতীয় পৌত্তলিকদের যুদ্ধ। শোষন ও নাশকতা এখানে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে। লক্ষ্য, গোলাম বানানো -যেমন গোলাম বানানো হয়েছিল মুজিব ও হাসিনার আমলে। কেড়ে নেয়া হয়েছিল গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতিষ্ঠা দেয়া হয়েছিল গুম, খুন, ভোট ডাকাতি, ফাঁসি, আয়না ঘরের সংস্কৃতি। বাস্তবতা হলো, ভারতীয়দের পাশে যতদিন মুসলিম থাকবে, ততদিন ভারতীয় যুদ্ধ্ও থাকবে। কারণ, ভারতীয়রা প্রতিক্ষণ বাঁচে মুসলিম ভীতি ভীতি নিয়ে। তাই মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজিপি আমলে যেমন থাকবে, তেমনি কংগ্রেস আমলেও থাকবে।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে ভারত একা নয়; ভারতের সাথে রয়েছে একাত্তরের ন্যায় বাঙালি ফ্যাসিস্ট, সেক্যুলারিস্ট, কম্যুনিস্ট ও হিন্দুত্ববাদীরা। এ যুদ্ধ যেমন বুদ্ধিবৃত্তির অঙ্গণে, তেমনি চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও। যে কোন মুহুর্তে এ যুদ্ধ একাত্তরের ন্যায় সশস্ত্রও হতে পারে। স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচতে হলে অবশ্যই এ যুদ্ধ নিয়ে বাঁচতেই হবে। নইলে অনিবার্য হবে পরাধীনতা। এজন্যই মহান আল্লাহ তায়ালার বিধানে নামাজ-রোজায় ক্বাজা আছে, কিন্তু জিহাদে ক্বাজা নাই। মুসলিমকে এজন্যই শুধু নামাজী, রোজাদার ও হাজী হলে চলে না, যোদ্ধাও হতে হয়। এবং আজীবন যুদ্ধ নিয়ে বাঁচতে হয়। মুসলিমের সে যুদ্ধ হলো পবিত্র জিহাদ। আর জিহাদ না থাকাটিই হলো মুনাফিকি।
বেঁচে আছে ভারতসেবী চেতনা
খুনি ফাসিস্ট হাসিনা পলায়ন করেছে। পতন ঘটেছে আওয়ামী শাসনের। কিন্তু এখনো বাংলাদেশে বেঁচে আছে ভারতসেবী চেতনা। সেটি বুঝা যায় পত্র-পত্রিকা, রাজনৈতিক বয়ান ও টিভি প্রোগামগুলির দিকে নজর দিলে। একাত্তরের আওয়ামী বয়ান বেঁচে আছে এমন কি বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের বয়ানে। এখানেই বাংলাদেশের সংকট। শত্রুর যুদ্ধ কখনোই শেষ হয় না; শত্রু শুধু তার যুদ্ধের ময়দান, কৌশল ও অস্ত্র পাল্টায়। সে সাথে যুদ্ধের নতুন বয়ান তৈরী করে সে যুদ্ধকে জায়েজ করার জন্য। ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত কখনোই বাংলাদেশীদের স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দিতে রাজী নয়। কারণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাঝে ভারত তার নিজের বিপদ দেখে -যেমন বিপদ দেখে স্বাধীন পাকিস্তানের মাঝে। ভারত বিপদ দেখে বাংলাদেশে ইসলামের উত্থান দেখে। বিপদ দেখে পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীনের সাথে বন্ধুত্ব করা দেখে। ভারত চায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বন্ধুহীন হোক এবং দূরে সরুক শরিয়তের ন্যায় ইসলামের মৌল বিধানগুলি থেকে। বাঁচুক স্রেফ মুসলিম নাম ধারণ করে।
বাংলাদেশের রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব। এ জন্যই এ দেশটির বুকে অতীতে পর্তুগীজ, ডাচ, ফরাসী ও ইংরেজরা ছুটে এসেছিল। বাংলাদেশ এখন ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার। বাংলাদেশীদের গড় ক্রয় ক্ষমতা ভারতীয়দের চেয়ে অধিক। বাংলাদেশীরা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ বিদেশ ভ্রমণে এবং বিদেশে চিকিৎসা খাতে। ফলে বাংলাদেশকে ভারত দখলে নিত চাইবে -সেটিই স্বাভাবিক। ক্ষুধার্ত ভারত বাংলাদেশ থেকে বহু কিছুই পেতে চায়। ভারতের করিডোর চায়, বন্দর চায়, বাজার চায়। নির্মূল করতে চায় ইসলামের উত্থান। খুনি হাসিনার শাসনামলে ভারত এর সব কিছুই পেয়েছিল। কিন্তু এখন এগুলি বন্ধ হয়ে গেছে। সে গুলি পেতে ভারত এখন যুদ্ধ চায়। দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পুণরায় আওয়ামী লীগকে চায়।
ভারত সৈনিক নামিয়েছে
ভারত জানে, বিনা যুদ্ধে বাংলাদেশের বুকে তার লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার নয়। এ জন্যই ভারত তার পুরনো সৈনিক আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের যুদ্ধে নামাচ্ছে। কারণ তারাই ভারতের বিশ্বস্ত সৈনিক। ১৯৭১’য়ের তারাই ভারতের অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতের প্রক্সি রূপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এবারের যুদ্ধ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। যুদ্ধ যে শুরু হয়েছে এবং ভারত যে সে যুদ্ধে সৈনিক নামিয়েছে তার প্রমাণ শরিফ ওসমান বিন হাদীর শাহাদত। হাদীই যেমন প্রথম শহীদ নয়, তেমনি শেষ শহীদও নয়।
সাপ যেমন সুযোগ পেলেই গর্ত থেকে বেরিয়ে ছোবল মারে, ভারতসেবী আওয়ামী ফ্যাসিস্টরাও তেমনি ছোবল মারার চেষ্টায় আছে। সে ছোবলের সাম্প্রতিক শিকার হলো শরিফ ওসমান বিন হাদী। ঢাকার রাস্তায় মাঝে মধ্যে যেসব ঝটিকা মিছিল বের হয়, সেগুলি হলো তাদের উপস্থিতির আলামত। ভারতীয় মিডিয়া এসব সন্ত্রাসীদের পক্ষে সোচ্চার। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে ভারতের সেবাদাস এই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রতিরোধ করতেই হবে। নইলে এরা ফিরে আসবে। এদের নাশকতার লক্ষ্য একাত্তরে ছিল পাকিস্তান, অবাঙালি মুসলিম ও ইসলামপন্থীরা, এখন বাংলাদেশ ও বাঙালি মুসলিমরা। হিন্দুত্ববাদীদের ন্যায় এদেরও রয়েছে প্রচণ্ড ইসলাম ভীতি। এরাই হলো মুসলিম উম্মাহর ঘরের শত্রু। দেহে রোগ ধারণ করে স্বাস্থ্যের সুরক্ষা হয়না; নির্মূল জরুরি। তেমনি মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে জরুরি হলো এই ঘরের শত্রুদের নির্মূল।