বাংলাদেশে চলছে আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বিদ্রোহ
এবং ইসলামী দলগুলোর কাপুরুষতা
ফিরোজ মাহবুব কামাল
www.drfirozmahboobkamal.com/blog/বাংলাদেশে-চলছে-আল্লাহতায়/
সংবিধানটি আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের হাতিয়ার
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানটি হলো মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের হাতিয়ার। এটি তৈরি হয়েছিল পৌত্তলিক ভারতের ইশারায় এবং ভারতের রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক এজেন্ডা পূরণের লক্ষ্যে। এ সংবিধান রচনা কালে বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী পরিচয় ছিল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর দ্বারা অধিকৃত ভূমি রূপে। তখন বাংলাদেশে অবস্থান করছিল লক্ষাধিক ভারতীয় সৈন্য। এ সংবিধানের রচনায় কোন আলেম, কোন ইসলামপন্থী আইনজ্ঞ বা নেতা জড়িত ছিলেন না। বরং রচিত হয়েছিল বাঙালি ফ্যাসিস্ট, বাঙালি সেকুলারিস্ট, বাঙালি হিন্দুত্ববাদী ও বাঙালি বামপন্থীদের দ্বারা -অর্থাৎ যাদের নিজেদের যুদ্ধটি ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ সংবিধানের মূল লক্ষ্য হলো, ভারতের রাজনৈতিক, আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও তাদের অনুগত ফ্যাসিস্টদের শাসনকে বলবৎ রাখা। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে এ শাসনতন্ত্রে ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেয়াকে দণ্ডনীয় অপরাধ গণ্য হয়। এ শাসনতন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় গণতন্ত্র ও ইসলামের উত্থানকে প্রতিহত করার হাতিয়ার রূপে। সেটির প্রমাণ, এ শাসনতন্ত্রে নিষিদ্ধ হয়েছিল ইসলামপন্থীদের রাজনীতি; এবং উৎপাদন করে ফ্যাসিবাদী শাসন এবং ইসলামের বিরুদ্ধে লাগাতার যুদ্ধ।
এ শাসনতন্ত্র অতীতে মুজিব ও হাসিনার ন্যায় নৃশংস ফ্যাসিস্টদের জন্ম দিয়েছে। জন্ম দিয়েছে গণহত্যার। ডেকে এনেছে এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনকে। কবরে পাঠিয়েছে গণতন্ত্রকে। তাই যারা গণতন্ত্রের কবর চায় এবং ফ্যাসিবাদকে বহাল রাখতে চায় -তারা এই শাসনতন্ত্রকেও বাঁচিয়ে রাখতে চায়। গণতন্ত্র ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এ সংবিধানকে তারা হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করতে চায়। এজন্য তারা এ সংবিধানের সংস্কারের বিরোধী। এই শাসনতন্ত্র মেনে নেওয়ার অর্থ, আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বিদ্রোহ নিয়ে বাঁচা। তখন এ সংবিধান প্রতিদিন বাধ্য করবে নানা রূপ কবিরা গুনাহ নিয়ে বাঁচতে। জামায়াত নেতাও তখন একুশের স্মৃতি স্তম্ভের বেদিমূলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে যাবে।
বিজয়ী করা যাবে না আল্লাহতয়ালার এজেন্ডাকে
বর্তমান শাসনতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রেখে মহান আল্লাহতয়ালার এজেন্ডাকে কখনোই এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে বিজয়ী করা যাবে না। মহান আল্লাহতয়ালার এজেন্ডা তো তাই যা নবীজী (সা:) তাঁর ১০ বছরে শাসন কালে প্রতিষ্ঠা দিয়ে গিয়েছিলেন। নিজের শাসিত বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রে নবীজী (সা:) প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া, বিরামহীন জিহাদ করেছেন দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায়, সুনিশ্চিত করেছিলেন ইসলামী শিক্ষা ও পূর্ণ ইসলাম পালনের পরিবেশ। তিনি প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন ভাষা ও বর্ণের উর্দ্ধে উঠে প্যান-ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্ব, সুরক্ষিত করেছিলেন ইসলামী রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিশ্চিত করেছিলেন নাগরিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। কোন ঈমানদারের রাজনীতি কি এ থেকে ভিন্নতর হতে পারে?
সংবিধান যেখানে জনগণকে কাফির ও ফাসিক বানানোর হাতিয়ার
বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্বের কোন স্থান নেই। স্থান নেই তাঁর শরিয়া আইনের। অথচ প্রত্যেক ঈমানদারের উপর ফরজ হলো দেশের আদালতে শরিয়া আইনের পালন নিয়ে বাঁচা। এক্ষেত্রে আপোষ চলে না। তাই ভারতে মোগল শাসনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিটি আদালতে শরিয়া আইনের প্রতিষ্ঠা ছিল। শরিয়া আইনের প্রতিষ্ঠা ছিল নবাব সিরাজুদ্দৌলার বাংলাতেও। শরিয়া আইন বিলুপ্ত করেছিল কাফের ব্রিটিশ শাসকেরা। ব্রিটিশ কাফের শাসনের অবসানের সাথে সাথে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ ছিল। কিন্তু সে ফরজ আজও পালিত হয়নি। বাঙালি মুসলিমের এটিই হলো সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। তারা বাঁচছে কাফিরদের প্রণীত আইন নিয়ে -যে আইনে ব্যাভিচারও হালাল। মহান আল্লাহর কাছে আখেরাতে এরূপ অবাধ্যতার জবাব দিতে হবে।
যারা শরিয়া আইন পালন করে না তাদেরকে পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদাতে কাফের, ফাসেক ও জালেম বলা হয়েছে। তাই বর্তমান শাসনতন্ত্র হলো, বাঙালি মুসলিমদের কাফের, জালেম ও ফাসেক বানানোর সাংবিধানিক হাতিয়ার। এ শাসনতন্ত্রে লাগাতর যুদ্ধটি সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিরুদ্ধে। তাই বাংলাদেশের জনগণ যতদিন এ শাসনতন্ত্র নিয়ে বেঁচে থাকবে ততদিন তাদের আমলনামায় কবিরা গুনাহ ও বিদ্রোহের আযাব যোগ হতে থাকবে।
এ কাপুরুষতা আর কত দিন চলবে?
এই কুফুরি সংবিধান মানার মধ্যে কোন সওয়াব নেই, বরং রয়েছে ভয়ানক কবিরা গুনাহ। এমন কি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও ঐ সংবিধানকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রশ্ন হলো, খালেদা জিয়া যা বলতে পারলেন তা জামায়াত নেতারা কেন বলতে পারেন না? কেন বলতে পারেনা অন্যান্য ইসলামী দল? অন্ততঃ এই একটি বিষয়ে তো তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারতেন? এটা কি তাদের চরম ব্যর্থতা ও কাপুরুষতা নয়?
বর্তমান এ সংবিধানকে মেনে নেওয়ার অর্থ, শয়তানকে খুশি করা। আজ বাঙালি মুসলিমদের অবশ্যই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেক দেরী হয়েছে, আর দেরী নয়। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য নিয়ে। রাজনীতির লক্ষ্য হবে কি শয়তানকে খুশি করা, না সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করা? লক্ষ্য যদি হয় মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করা, তবে তাদের বিরামহীন জিহাদটি হতে হবে বর্তমান এ সংবিধানকে আস্তাকুঁড়ে ফেলার। নির্মাণ করতে হবে এমন এক সংবিধান -যা অনিবার্য করবে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডার বিজয়। এ জিহাদ থেকে দূরে থাকার অর্থ হবে সুস্পষ্ট মুনাফিকি। ২৩/০২/২০২৬