ভারতের এজেন্ডা ও বাংলাদেশের এজেন্ডা: আপোষে বিপন্ন হবে স্বাধীনতা

2 views
Skip to first unread message

Firoz Kamal

unread,
Dec 21, 2025, 11:16:19 AM (12 days ago) 12/21/25
to

ভারতের এজেন্ডা ও বাংলাদেশের এজেন্ডা:

আপোষে বিপন্ন হবে স্বাধীনতা

 

ফিরোজ মাহবুব কামাল

www.drfirozmahboobkamal.com/blog/ভারতের-এজেন্ডা-ও-বাংলাদে/

 

দুটি ভিন্ন দেশ ও দুটি বিপরীত এজেন্ডা

মান রূপে বাঁচার অর্থই হলো বিশেষ একটি  দর্শন ও এজেন্ডা নিয়ে বাঁচা। সে দর্শন ও এজেন্ডা যেমন‌ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক, তেমনি রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক। ‌এজন্যই একজন সভ্য ও সচেতন ‌ ‌মানুষ কখনোই পশুপাখির ন্যায় শুধু পানাহারে বাঁচে না। মুসলিম তাই শুধু নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও দোয়া-দরুদ নিয়ে বাঁচে না, বাঁচে ইসলামী দর্শন এবং সে দর্শনকে বিজয়ী করার জিহাদ নিয়েও -যেরূপ বেঁচেছিলেন নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাগণজিহাদের মধ্যে প্রকাশ পায় বাঁচার এজেন্ডা। জিহাদ বন্ধ হলে থেমে যায় ঈমান নিয়ে বাঁচা থেমে যায়। এজন্যই একজন অমুসলিম, নাস্তি বা সেকুলারিস্টের বাঁচা থেকে মুসলিমের বাঁচা সম্পূর্ণ ‌ভিন্নতরএজন্যই ভিন্নতর হলো তাঁর রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও জীবন যুদ্ধ।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ফলে মুসলিমদের এজেন্ডাই হলো বাংলাদেশের এজেন্ডা। তাই এদেশের ঈমানদার জনগণের এজেন্ডা কখনোই সেক্যুলার বা হিন্দুত্ববাদী হ না। অপরদিকে ‌ভারত একটি হিন্দুত্ববাদী দেশ। ফলে হিন্দুত্ববাদীদের এজেন্ডা ভারতের এজেন্ডা। তারা কখনোই সেক্যুলার, ইসলামী বা ধর্মনিরপেক্ষ হবে না। তাই ভারতের এজেন্ডা ও বাংলাদেশের এজেন্ডার মাঝে আপোষ অসম্ভব। আর দুটি ভিন্ন এজেন্ডার কারণে এ দেশ‌ দুটির রাজনৈতিক, সামরিক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক নীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে -সেটিই স্বাভাবিক। এটি হলো দক্ষিন এশিয়ার রাজনীতির নিরেট বাস্তবতা। 

 

 

ভারতের আগ্রাসী এজেন্ডা

বাংলাদেশ ও ভারত হলো দুটি প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের অবশ্যই একটি এজেন্ডা ছে। সে এজেন্ডা যেমন ১৯৪৭ ১৯৭১'য়ে ছিল, তেমনি আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সে এজেন্ডার কথা একজন সচেতন বাংলাদেশীর কাছে অজানা থাকার কথা নয়। এবং ভারত সেটি কখনো গোপনও রাখেনি। ভারতে সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু ভারতীয় সে এজেন্ডায় কখনো পরিবর্তন আসে না। ভারত চায়, বাংলাদেশ হবে ভারতের অধীনতা একটি গোলাম রাষ্ট্র। বাংলাদেশকে বাঁচতে হবে ভারতীয় রাডারের নীচেএ কথাটি কলকাতার এক টিভি সাক্ষাতকারে বলতে শোনা গেছে ভারতের সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরীকে। ভারতীয়দের কথা, ভারত যা চাইবে বাংলাদেশকে তা দিতে হবে -যেমন দিয়েছে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা। তাই নদী সমূহের পানি, বুক চিড়ে করিডোর, সমুদ্র বন্দরের সুবিধা এবং অভ্যন্তরীন বাজারসহ ভারত যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। দাসী যেমন সেবা দিয়ে খুশি হয়, মুজিব ও হাসিনাও তেমনি খুশি ছিল ভারতকে দেয়া নিয়ে।

 

ভারত চায়, বাংলাদেশের ‌থাকবে না কোন স্বরাষ্ট্র নীতি, শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ও পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতা। ১৯৭২ সালে শাসনতন্ত্র রচিত হয়েছিল ভারতের নির্দেশনায়। বাংলাদেশের থাকবে না কোন শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, থাকবে না ভারত ভিন্ন অন্য কোন রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের স্বাধীনতা। ভারত চায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি প্রণীত হবে ভারতে সাথে পরামর্শ করে। চায়, বাংলাদেশের থাকবে না স্বাধীনতা সুরক্ষা দেয়ার সামরিক সামর্থ্য। ভারত চায়, বাংলাদেশের সরকার কখনো ‌ইসলামের পক্ষ নিবে না, বরং প্রতিষ্ঠা দিবে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি। সে নীতিতে দূরে সরবে  ইসলামের মূলনীতি ও নির্দেশনা থেকে। ১৯৭১য়ে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী তাজুদ্দিনের সাথে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার যে চুক্তি  স্বাক্ষর করেছিল তার মূল কথা ছিল মূলত এগুলিই। সে চুক্তির মধ্যে সুস্পষ্ট ‌প্রকাশ ঘটেছিল বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এজেন্ডা। মুজিব ও হাসিনার শাসন আমলে তারই বাস্তব প্রকাশ ঘটেছিল

 

বাধা দিচ্ছে ইসলাম পালনেও

 

আদালতে শরিয়তী আইনের বিচার প্রতিষ্ঠা ইসলামে বাধ্যতামূলক -যেমন বাধ্যতামূলক নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত। বিদ্রোহী হলে কাফির হতে হয়। যারা শরিয়ত মোতাবেক বিচার করে না তাদেরকে সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে কাফির, ফাসিক ও জালিম বলা হয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার বাংলাদেশের আদালতে শরিয়তী মানতে রাজী নয়; সেটিকে তারা মৌলবাদ বলে বিশ্বময় চিৎকার শুরু করে। প্রতিবেশী দেশে মৌলবাদ এসে গেল -এ কথা বলে ভারত ইসলাম পালনে বাধা সৃষ্টি করে। শরিয়তী আইনের বিরুদ্ধে একই কথা বলে এসেছে ভারতসেবী আওয়ামী লীগ। এখন বলছে বিএনপি।

 

ভারতে অহরহ মুসলিম বিরোধী গণহত্যা হয়; মসজিদ ও মুসলিমদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ধ্বসিয়ে দেয়া হয়। তা নিয়ে বাংলাদেশকে নীরব থাকতে বলে। তাদের কথা, সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এবং অন্যরা তা নিয়ে নাক গলাতে পারবে নাঅথচ বাংলাদেশে কোন হিন্দু নিহত হলে বা মন্দিরে হামলা হলে ভারতীয় পার্লামেন্টে প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়।সেটি আর তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকে না।

 

ভারত বিশ্বের যে কোন দেশ থেকে যে কোন যুদ্ধাস্ত্র যুদ্ধ বিমান কিনতে পারে। যে কোন দেশের সাথে সামরিক চুক্তিও করতে পারবে। ১৯৭১’য়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর আগে ভারত নিরাপত্তা চুক্তি করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে। কিন্তু সে অধিকার বাংলাদেশকে‌ দিতে রাজি নয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেসব ভারতীয় দালাল রয়ে গেছে -তারাও চায় না বাংলাদেশ সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হোকভারতসেবীদের যুক্তি, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় অসম্ভব, ফলে অস্ত্র কেনা অহেতুক। তারা চায় বাংলাদেশ গোলামী নিয়ে বাঁচুক, কারণ তাতে খরচ নাই। মুজিব হাসিনা আমলে সেটি ছিল বাংলাদেশের সামরিক নীতি। অথচ ভারতের মত একটি আগ্রাসী প্রতিদেশীর পাশে দুর্বল থাকাই পরাধীনতা। সে পরাধীনতাই তো একাত্তরের অর্জন। স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচতে হলে সামরিক শক্তি অর্জন করতেই হবে। এর বিকল্প নাই। এর বিকল্প একমাত্র ভারতের গোলামী। 

 

স্বাধীনতা রক্ষার দায় নিতে হবে প্রতিটি নাগরিককে

বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের দেশ। এ জনশক্তিই বাংলাদেশের মূল শক্তি। ক্ষুদ্র দেশ গ্রেট ব্রিটেন বিশাল ভারতকে গিলতে পেরেছিল। কারণ ব্রিটেন তার জনসম্পদকে শক্তিশালী করেছে। স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে আমাদের প্রতিটি নাগরিককে সৈনিক হতে হবে।এর বিকল্প নাই। আমাদের সামনে রয়েছে মহান নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবীদের আদর্শ। তারা শুধু নামাজী, রোজাদার ও হাজী ছিলেন না, প্রত্যেকেই সৈনিক ছিলেন। তাদের সবারই ছিল যুদ্ধের সর্বাত্মক ও  সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি। তখন কোন ক্যান্টনমেন্ট ছিল না, কোন পেশাদার সেনাবাহিনীও ছিল না, কোন অস্ত্রাগার ও অস্ত্রের প্রশিক্ষণও ছিল না। অথচ তখন জিহাদের ডাক পড়লে প্রত্যেকে তার নিজ নিজ কাজকর্ম ছেড়ে নিজ অস্ত্র, নিজ গৃহের শুকনো খাবার ও খেজুর, নিজ ঘোড়া ও নিজ অর্থ সাথে নিয়ে জিহাদের ময়দানে হাজির হতেন। তাঁরা নিজ দায়িত্বে ভাল অস্ত্র সংগ্রহ করতেন এবং অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণও নিতেন। নিজ গৃহে গড়ে উঠা সে সৈনিকরাই সে সময়ের দুটি বিশ্বশক্তি রোমান ও পারসিক সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

ইসলামে আলেম, নামাজী, রোজাদার ও হাজী হওয়ার ফরজ দায়টি যেমন প্রতিটি মুসলিমের, তেমনি ফরজ দায় হলো যুদ্ধের সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি নিয়ে বাঁচা এবং প্রয়োজনে জিহাদে যোগ দেয়া। সেটিই হলো প্রকৃত ঈমানদারি। এ দায় পালন ছাড়া কেউ মুসলিম হতে পারে না। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সেরূপ প্রস্তুতির নির্দেশ এসেছে পরিত্র কুর’আনের নীচের আয়াতে। বলা হয়েছে:

وَأَعِدُّوا۟ لَهُم مَّا ٱسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍۢ وَمِن رِّبَاطِ ٱلْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَءَاخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ ٱللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ

অর্থ: এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সকল সামর্থ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত রাখো এবং প্রস্তুত করো তোমাদের অশ্ববাহিনীকে; তা দিয়ে সন্ত্রস্ত করো আল্লাহর শত্রুদের এবং তোমাদের শত্রুদের এবং সন্ত্রস্ত করো তাদের ছাড়াও অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে জানেন।”-(সুরা আনফাল, আয়াত ৬০)।

কোন ঈমানদার কি মহান আল্লাহ তায়ালার উপরিউক্ত নির্দেশকে অমান্য করতে পারে? অমান্য করেছিল বলেই ১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীনতার সুরক্ষায় বাংলার মুসলিমদের সেদিন রণাঙ্গণে দেখা যায়নি। বাংলার কোটি কোটি মুসলিমগণ যদি পবিত্র কুর’আনের উপরিউক্ত আয়াতের উপর আমল করতো তবে কি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাত্র ৪ হাজার সেপাই পুরা বাংলা দখলে নিতে পারতো? বুঝতে হবে মুসলিম দেশের সীমান্ত পাহারা দেয়ার দায়িত্ব স্রেফ সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকের। নবীজী ও সাহাবীদের আমলে সীমান্ত পাহারার দেয়ার জন্ তো কোন সরকারী সেনা বাহিনীই ছিল না। সমগ্র জনগণ ছিল সরকারি বাহিনীর সদস্য। সে সূন্নতে আজ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্তুত প্রতিটি কলেজে সেনা প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

 

ভারত স্বঘোষিত শত্রু দেশ

বুঝতে হবে, ভারত আমাদের বন্ধু দেশ নয়। এটি স্বঘোষিত শত্রু দেশ। ভারতের সরকার এবং দেশটির মিডিয়া প্রকাশ করে দিয়েছে বাংলাদেশকে তারা বন্ধু দেশ মনে করে না। তাই বাংলাদেশীদের মধ্য থেকে যারাই ভারতকে বন্ধু দেশ রূপে গণ্য করার আওয়াজ তুলে, বুঝতে হবে তারা ভারতের দালাল। এরাই হলো বাংলাদেশের ঘরের শত্রু। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে শুধু ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করলে ‌চলবে না, সব ঘরের শত্রুদেরও নির্মূল করতে হবেবুঝতে হবে, দেশে শুধু রেল পথ, সড়ক পথ, ব্রিজ ও কল-কারখানা নির্মাণ করলে দেশে স্বাধীনতা বাঁচবে না। বাংলার শ্রেষ্ঠ মসলিন, শ্রেষ্ঠ মখমল, শ্রেষ্ঠ রেশম শিল্প, শ্রেষ্ঠ জাহাজ শিল্প ও অঢেল সম্পদ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হামার মুখে স্বাধীনতা বাঁচাতে পারিনি। বাঙালিগণ তখন অর্থনৈতিক বিপ্লব আনলেও ব্যর্থ হয়েছে সৈনিক রূপে বেড়ে উঠতে। ফলে ১৯০ বছরের জন্য ব্রিটিশের গোলাম হয়েছে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে প্রতিটি বাংলাদেশীকে সৈনিক রূপে গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীনতা বাঁচানোর সে কাজকে জিহাদ তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতে পরিণত করতে হবে। এ ইবাদতের বলেই মদিনার ক্ষুদ্র জনপদ থেকে বিশ্বশক্তি উত্থান হয়েছিল। আজও বাঙালি মুসলিমদের সামনে এছাড়া বিজয় ও স্বাধীনতর সুরক্ষার ভিন্ন পথ নাই   

বুঝতে হবে, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের যে নীতি, সে অভিন্ন নীতি কংগ্রেসেরও। দুটি পক্ষই খুনি হাসিনাকে বন্ধু মনে করে এবং তাকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিতে রাজি। বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয় দলই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর দেওয়ার জন্য দায়ী। কংগ্রেস সরকারের আমলেই শেখ মুজিব গণতন্ত্রকে দাফন করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল। ভারত সেটিকে সমর্থন করেছিল। নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে শেখ হাসিনা ভোট ডাকাতি করেছে এবং গুম, খুন, গণহত্যা, ফাঁসি ও আয়না ঘরের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা দিয়েছেতখন ভারত হাসিনাকে সমর্থন দিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহে বিক্ষুব্ধ জনগণের মারধরে একজন হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে সে অশালীন মন্তব্য করেছিল। সে হিন্দুর মৃত্যু নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ভারতে যখন শত শত মুসলিমদের হত্যা করা হয়, তাদের ঘরবাড়ি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয় -তখন কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের প্রতিবাদী হতে দেখা যায়নি। বরং অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ যখন ধ্বংস করা হয় তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিল কংগ্রেস দলীয় নরসিমা রাও। হাজার হাজার উগ্র হিন্দু যখন দিন দুপুরে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করছিল তখন কংগ্রেস দলীয় সে প্রধানমন্ত্রী দেখেও না দেখার ভান করে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পিতা রাজিব গান্ধির শাসনমলে আসামের নেলীতে প্রায় ১০ হাজার মুসলিমকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু সে অপরাধে কাউকে সাজা দেয়া হয়নি। তাদের কাছে হিন্দু রক্তের মূল্য আছে, কিন্তু মুসলিমের রক্ত মূল্যহীন

 

যুদ্ধ চলছে: এ যুদ্ধে শত্রুদের চিনতে হবে

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে স্বাধীনতার শত্রুদের অবশ্যই ‌চিন্তা হবে। আমাদের স্বাধীনতার শত্রু তেমন দেশের ভিতরে রয়েছে, তেমনি বিদেশও রয়েছে। আমাদের স্বাধীনতার পরীক্ষিত বিদেশী শক্তি হলো ভারত। বাংলাদেশীদের মধ্যে যারাই ভারতপন্থী, তারাই আমাদের ঘরের শত্রু। বিদেশী শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে এই ঘরের শত্রুদের নির্মূল করতে হবে। শত্রু শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ‌যুদ্ধ যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক, তেমনি রাজনৈতিক। বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে আমাদের কথা,কলম, বক্তৃতা-বিবৃতি ‌ও ধর্মীয় ওয়াজকে হাতিয়ারে পরিণত করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে এই বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের সৈনিক হতে হবে। তেমনি হতে হবে রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতি মুহূর্তের যোদ্ধা।  বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রতিটি সংগঠনকে হতে হবে ঐক্যবদ্ধ।‌ বুঝতে হবে একতাই আমাদের শক্তি এবং বিভক্তি আমাদের দুর্বলতা। 

আগামী ‌নির্বাচনে আমাদের প্রতিটি ‌ভোট হতে হবে এ যুদ্ধের শানিত ‌অস্ত্র। এ নির্বাচনে ভারতপন্থীদের অবশ্যই পরাজিত করতে হবে। স্বাধীনতা বাঁচানোর এ যুদ্ধে আমাদের মাঝে সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিভক্তি পরাজয়কে অনিবার্য করবে। বুঝতে হবে, স্বাধীনতার দেশি ও বিদেশী শত্রুরা একতাবদ্ধ। বুঝতে হবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরও ভারতের দূর্গ রয়েছে সেগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং ধ্বংস করতে হবে। দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ন্যায় পত্রিকাগুলি হলো বাংলাদেশের ভিতরে ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের দুর্গ। শত্রুর সাংস্কৃতিক যুদ্ধের দুর্গ হলো উদিচি ও ছায়া নটের ন্যায় প্রতিষ্ঠানগুলো। এরা বাংলাদেশের মাটিতে ইসলামের পরাজয় এবং ভারতীয় স্বার্থের বিজয় দেখতে চায়।

বুঝতে হবে যারাই ভারতের পক্ষে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই আমাদের শত্রু সৈনিক। বিপুল সংখ্যক শত্রু সৈনিক রয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। তাদেরকেও সনাক্ত করতে হবে এবং সরাতে হবে। বুঝতে হবে দেশ এখন যুদ্ধের মধ্যে। এ যুদ্ধ চলছে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। যে কোন মুহূর্তে ভারত চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক যুদ্ধকে  সশস্ত্র যুদ্ধ পরিনত করতে পারে। সেরূপ একটি ভারতীয় যুদ্ধের মোকাবেলায় আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে।  ২১/১২/২০২৫

 

Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages