জনগণের উচিত দেশের মেধাবী ছাত্রদের থেকে শিক্ষা নেয়া
এবং বিএনপি'র দূর্বৃত্তদের পরাজিত করা
ফিরোজ মাহবুব কামাল
www.drfirozmahboobkamal.com/blog/জনগণের-উচিত-দেশের-মেধাবী
দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়। তারা তাদের মেধা, সততা ও বিবেকের পরিচয় দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসদ নির্বাচনে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে নির্বাচনে ছাত্রদলের দুর্বৃত্তদের তারা বিপুল ভোটে পরাজিত করেছে। তারা নির্বাচিত করেছে সৎ ও চরিত্রবান প্রার্থীদের। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে শান্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে।
সাধারণ জনগণকে ছাত্রদের এ অভূতপূর্ব প্রজ্ঞা ও সততা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তারা যেভাবে ছাত্রদলের দুর্বৃত্তদের নির্বাচনে পরাজিত করেছে, ঠিক একই ভাবে পরাজিত করতে হবে বিএনপি'র দূর্বৃত্তদের। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীগণ তো একই খেতের ফসল। তাদের চরিত্র ও আদর্শ এক। তারা একই রকম দুর্বৃত্ত।
বিএনপি এ নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও ঋণ খেলাপিদের ন্যায় অপরাধীদের প্রার্থী রূপে খাড়া করেছে। যারা নির্বাচনে অপরাধীদের প্রার্থী রূপে খাড়া করে তারা কি দেশ থেকে দুর্বৃত্তি ও অপরাধ দূর করতে পারে? এসব দুর্বৃত্তদের ভোট দেয়ার অর্থ দুর্বৃত্তদের পক্ষ নেয়া। এটি বড় মাপের পাপ। অপরাধ করা যেমন পাপ, তেমনি পাপ হলো অপরাধীর পক্ষ নেয়া
তখন অসম্ভব হয় অপরাধ নির্মৃল। কোন সভ্য, ভদ্র ও বিবেকবান মানুষ কি কখনো এমন দুর্বৃত্তদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে পারে? এসব দুর্বৃত্তদের বিজয়ী করলে দেশ কোথায় যাবে -তা কি জনগণ বুঝবে না?
বুঝতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের চেয়ে দেশের জাতীয় সংসদের গুরুত্ব অনেক বেশি। যারা সংসদে যায় তারাই দেশ চালায়। বিএনপি'র দুর্বৃত্তরা বিজয়ী হলে তারা সারা দেশে চুরি-ডাকাতি, চাঁদাবাজি, খুন-খারাবি, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের প্লাবন আনবে। তারা যে কত বড় অপরাধী -তারা সেটি গোপন রাখেনি।
তাই প্রতিটি ভোটারের পবিত্র দায়িত্ব হলো বিএনপি'র এ দুর্বৃত্তদের অবশ্যই পরাজিত করা। তাদের পরাজিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। এবং অন্যদের ভোটদানে করতে হবে। এটি এখন জিহাদে অংশ না নিলে পরে আফসোস করতে হবে। তখন আযাবে পড়তে হবে দুর্বৃত্ত শাসনের।
বিএনপি'র এ দূর্বৃত্তদের পরাজিত করতে ব্যর্থ হলে সেটা দেশের জন্য বড়ই অকল্যাণকর হবে। দেশ আবার পিছিয়ে যাবে। তখন দেশের উপর আবার চেপে বসবে দুর্বৃত্ত শাসন। কারণ আওয়ামী লীগের লীগ ও বিএনপি একই বিষ্ঠার এপিট ওপিট। উভয় দলই নাশকতার কাজে অভিজ্ঞ দুরবৃত্তদের দ্বারা পরিপূর্ণ।
বিএনপি'র অতীত ইতিহাস কারোই অজানা নয়। বিএনপি অতীতের বাংলাদেশকে দুর্বৃত্তিতে বিশ্বমঞ্চে ৪ বার প্রথম স্থানে পৌঁছে দিয়েছিল। এরা যে অতীতের অসৎ ও নোংরা চরিত্র থেকে ভালো হয়েছে তার কোন লক্ষণ নেই। বরং তারা যে আরো নিচে নেমেছে তার প্রমাণ তো অনেক। ইতিমধ্যে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, বাস স্ট্যান্ড দখল, নদীর ঘাট দখল, বাজার দখল ইত্যাদি অপরাধ কর্মের মধ্য দিয়ে নিজেদের অপরাধের সমর্থ্য দেখিয়ে দিয়েছে। তারা থানা থেকে অপরাধীদের ছিনিয়ে আনছে। এভাবে কি সভ্য সমাজ নির্মিত হয়?
এখন জনগণকে দেখাতে হবে তাদের নিজেদের ঈমান ও নৈতিক সামর্থ্য। দেখাতে হবে এই দুর্বৃত্তদের পরাজিত করার সামর্থ্য। এটি হলো প্রতিটি ভোটারের ঈমানী দায়। এ পবিত্র দায় পালনে জনগণ ব্যর্থ হলে দেশের উপর মহান আল্লাহর আযাব নেমে আসবে। তখন সমগ্র জাতি অপরাধী গণ্য হবে।
নির্বাচন মানেই জ্ঞান, ঈমান ও বিবেকের পরীক্ষা। পরীক্ষা হয়, দুর্বৃত্তদের চিনতে কে সফল হলো এবং কে তাদেরকে পরাজিত করতে ভোট দিল। দুর্বৃত্তদের ভোট দেয়ার অর্থই বিবেকের পরীক্ষায় ফেল করা।
বিএনপি সম্প্রতি ঢাকার ৪ আসনে জামায়াতের নিরীহ নারী নির্বাচন কর্মীর উপর হামলা করেছে। শেরপুরে তারা জামায়াতের এক নেতাকে হত্যা করেছে। ঢাকা ৮ আসনে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপরে হামলা করেছে। তার গায়ে ডিম এবং নর্দমার পানি নিক্ষেপ করেছে। সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে বিএনপি এভাবে সারাদেশে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। বিএনপি এখন চোর ডাকাতদের দলে পরিণত হয়েছে। এরা মহল্লার চোর ডাকাতদের দলে টেনে নিয়ে তাদেরকে লাঠিয়াল রূপে ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ অবিকল এ কাজটি করেছিল ১৯৭০ য়ের নির্বাচনের সময়। ক্ষমতায় গেলে তারা দেশের রাজস্ব ভান্ডার, প্রকল্পের অর্থ ও ব্যাংকগুলো লুট করবে।
এখন প্রতিটি ভোটারের উপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো, বিএনপি'র এসব দুর্বৃত্তদের অবশ্যই নির্বাচনে পরাজিত করা। এখানে ব্যর্থ হলে দেশের জন্য বিপদ ঘনিয়ে আসবে। তখন খুশি হবে বাংলাদেশের শত্রুরা। এবং বিপন্ন হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। ৩০/০১/২০২৬