নির্বাচন হোক দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ

2 views
Skip to first unread message

Firoz Kamal

unread,
Jan 9, 2026, 2:36:07 PMJan 9
to

নির্বাচন হোক দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ

ফিরোজ মাহবুব কামাল

www.drfirozmahboobkamal.com/blog/নির্বাচন-হোক-দুর্বৃত্তির/

 

ভোটদানের অর্থ বিচারে রায়দান

কোন ব্যক্তিকে যখন ভোটের অধিকার দেয়া হয়, তখন বুঝতে হবে ‌তার উপর অর্পিত হয়েছে এক বিশাল দায়ভার আর সে দায়ভার কখনোই একাকী আসে না। সাথে আসে ঈমানের পরীক্ষাঈমানের এ পরীক্ষায় একমাত্র সে ব্যক্তিই পাশ করে যে তার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে সৎ ও যোগ্য ঈমানদারকে নির্বাচন করতে। তখন এটি এক বিশাল সওয়াবের কাজ হয়নইলে ভোটদান প্রক্রিয়া ও নির্বাচন পুরাটাই ব্যর্থ হয়।

বুঝতে হবে, ভোট এক বিশাল আমানত। আরে আমানতের চরম খেয়ানত হয় যদি ভোট দেয়া হয় কোন দুর্বৃত্তকে বিজয়ী করতে। আর প্রতিটি খেয়ানতই হলো কবিরা গুনাহ। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এ আমানতের খেয়ানত বার বার হয়েছে। ফলে বহু দুর্বৃত্ত, বহু প্রতারক, বহু বিদেশী শক্তির চরবহু ফ্যাসিস্ট ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হয়েছে। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার মত জনগণের বহু শত্রু আসমান থেকে নাযিল হয়নি; জনগণই তাদেরকে নির্বাচিত করেছিলজনগণ যে ভোট দিতে বড় রকমের ভুল করে এবং নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারে -এ হলো তার নমুনা। জনগণের এ করুণ ব্যর্থতাই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা। জনগণের দায়, এ ব্যর্থতা থেকে তাদের নিজেদের মুক্ত হতে হবে।   

ভোট দেওয়া মানে রায় দেয়া। নির্বাচন একজন ব্যক্তিকে বিচারকের আসনে বসায়। সমগ্র দেশ তখন আদালতে পরিণত হয়। গণতন্ত্র এভাবেই মানুষের ক্ষমতায়ন করে এবং সম্মানিত করে। তখন শুরু হয় তার ঈমানের পরীক্ষা। তাকে তখন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের কর্ম, চরিত্র, আদর্শ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ধর্মীয় বিশ্বাস, দলীয় পরিচয় এবং দেশের রাজনীতি নিয়ে তার ভাবনা ও ভিশনকে সামনে নিয়ে বিচারে বসতে হয়তার জবাবদেহীতা মহান আল্লাহর কাছে। রায়ের মাধ্যমে একজন বিচারক যেমন অপরাধীকে শাস্তি দেয়, তেমনি মুক্তি দেয় নিরাপদ মানুষকে। তেমনি ভোটের মাধ্যমে রায় দেয় কে দেশ ও দেশবাসীর জন্য সুযোগ্য এবং কে অযোগ্য

যে দেশের ভোটারগণ জাহেল, ঈমানহীন ও দায়িত্বহীন সে দেশে গণতন্ত্র কাজ দেয় না; সে দেশে কখনোই সভ্য সমাজ ও সভ্য রাষ্ট্র নির্মিত হয় না। দোষ এখানে গণতন্ত্রের নয়, বরং অযোগ্য জনগণের।মন দেশে কখনো শান্তি-শৃঙ্খলা আসে না। ঘোড়ার আগে যেমন গাড়ি জোড়া যায় না, তেমনি জনগণকে সুশিক্ষিত, দায়িত্ববান, চরিত্রবান ও ঈমানদার না বানিয়ে দেশকে সভ্য ও উন্নত করা যায় না। রাষ্ট্রীয় সংস্কারের আগে তাই জনগণের সংস্কার জরুরি। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশে পরিশুদ্ধ, প্রশিক্ষিত ও যোগ্যবান মানব নির্মাণের কাজটি তেমনি হয়নি এবং এখনও হচ্ছে না। অথচ জাতির নির্মাণে সেটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সে কাজটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, মিডিয়া, আলেম, ইমাম, লেখক ও বিজ্ঞজনদের। কিন্তু বাংলাদেশের তাদের ব্যর্থতা বিশাল। এ ব্যর্থতার কারণেই ভোটারদের মধ্যে যোগ্যতা সৃষ্টি হয়নি, ফলে দুর্বৃত্ততরা সুযোগ পেয়েছে নির্বাচিত হওয়ার।

 

বিশাল নেয়ামত হলো ভোট দেয়ার অধিকার

বিশ্বে যখন গণতন্ত্র ছিল না তখন সরকার পরিবর্তন করতে রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হতো। গণতন্ত্র এক বিশাল নেয়ামত যে, জনগণ সুযোগ পেয়েছে বিনা রক্তপাতে সরকার পরিবর্তনের। ভোটের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমগণ বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিল। সে জন্য তাদের কোন যুদ্ধ করতে হয়নি। তাই সভ্য সমাজের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাঁচিয়ে রাখা ও শক্তিশালী রাখা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো গণতন্ত্রের শত্রু ফ্যাসিস্টগণ বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে বাঁচতে দেয়নি। মুজিব গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা দেয়। আর হাসিনা দিনের ব্যালট রাতে ডাকাতি করে নেয়।  

নির্বাচনে জনগণেরও বিশাল দায় থাকে। ভোটদান যেমন একটি অতি উত্তম ইবাদতে পারে, তেমনি বড় রকমের কবিরা গুনাহও হতে পারে। ভোটদানে কাউকে নির্বাচিত করা কোন মামুলি বিষয় নয়। এটি এক গুরুতর বিষয়।‌ ভোটদানের অধিকার দিয়ে একজন ভোটারকে বিচারকের আসনে বসিয়ে তার যোগ্যতার ও ঈমানের পরীক্ষা নেয়া হয়। যদি সে একজন চাঁদাবাজ দুর্বৃত্তকে ভোট দেয়, তবে বুঝতে হবে সে মানে পরীক্ষায় ফেল করেছে। ভোটেই নির্ধারিত হয় দেশ কাদের দ্বারা পরিচালিত হবে। দুর্বৃত্তদের ভোট দিয়ে কখনোই দেশের বুকে সুবিচার, সুশাসন ও শান্তি আশা করা যায় না। তখন দুর্বৃত্তির জোয়ার যে অনিবার্য হয় -সেটিই তো বার বার প্রমাণিত হয়েছে ‌ তখন সে দেশে গুম, খুন, গণহত্যা, চুরিডাকাতি ও আয়না ঘরের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পায় 

                             

ভোটদানে বাঙালি মুসলিমের অতীতের গুনাহ

বাঙালি মুসলিমরা অতীতে ভোটদানের ক্ষেত্রে বারবার বড় রকমের কবিরা গুনাহ করেছে। তারা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে বার বার ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৭০’য়ে নির্বাচনে জনগণ নির্বাচিত করেছে মুজিবের ন্যায় মিথ্যাবাদী, প্রতারক, গণতন্ত্র হত্যাকারী  ফ্যাসিস্ট, ভারতের দালাল এবং খুনিকে। অথচ মুজিব ও তার অনুসারীদের দুর্বৃত্তি ও গুণ্ডামীপূর্ণ ফ্যাসিবাদী চরিত্র সে সময়ও কোন গোপন বিষয় ছিল না। পাকিস্তান আমলে দুর্নীতির দায়ে মুজিবের ২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। অথচ জনগণ সে দাগী ব্যক্তিকে ভোট দিয়েছে। ১৯৭০’য়ের নির্বাচনে মুজিব ও তার অনুসারীদের সন্ত্রাস এতোটাই প্রকট ছিল যে, বিরোধী দলগুলি সে সময় নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারেনি।ঢাকার ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে জনসভা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের গুণ্ডাদের হাতে জামায়াতের ২ জন কর্মীকে শহীদ এবং শতাধিককে আহত হতে হয়েছে। মিটিং করতে পারিনি মুসলিম লীগও।    

ক্ষমতায় গিয়ে সকল দলকে নিষিদ্ধ করে মুজিব এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। এই হলো গণতন্ত্রের সাথে মুজিবের গাদ্দারী। তাই নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী যাচাইয়ে ভোটারকে প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হয়। সে দায়িত্বটি পালিত না হলে ভোট দিয়ে  নিজ হাতে নিজ দেশে বিপদ ডেকে আনা হয়। বাংলাদেশে সেটিবার বার হয়েছে। ফলে বহু বার নির্বাচন হলে্ দুর্বৃত্তি মু্ক্ত রাষ্ট্র নির্মিত হয়নি। সুস্থ্য গণতন্ত্র চর্চাও হয়নি।

ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় এবং অন্যায়ের নির্মূলে ভোট হতে পারে শক্তিশালী হাতিয়ার। তখন সে নির্বাচনি লড়াই পবিত্র জিহাদে পরিণত হয়। শক্তিশালী হাতিয়ারের সঠিক প্রয়োগ একমাত্র তখনই সম্ভব হয়, যখন ভোট দিয়ে এমন সব যোগ্য ও ঈমানদার ব্যক্তিদের নির্বাচিত করা হয় যাদের নিজ জীবনে অবিরাম জিহাদ থাকে অন্যায়ের নির্মূলে ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায়। এমন মুজাহিদ ব্যক্তিরা নির্বাচিত হলে সকল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান তখন হাতিয়ার রূপে কাজ করে দুর্বৃত্তির নির্মূলে ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায়। মহান নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের শাসনামলে তো সেটিই দেখা গেছে।

ভোটদানে বাঙালি মুসলিমদের ব্যর্থতার ইতিহাস অতি করুণ।  প্রাণ বাঁচাতে হলে বাঘ-ভালুকের ন্যায় হিংস্র পশুদের চিনতে হয়। তেমনি দেশ বাঁচাতে হলে চিনতে হয় অযোগ্য, দুর্বৃত্ত ও বেঈমানদের। নইলে বিপদ অনিবার্য। কিন্তু বাঙালি মুসলিমগণ অতীতের বহু নির্বাচনে সে সামর্থ্য দেখাতে পারিনি। বরং বার বার দুর্বৃত্তদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। ভোটে দুর্বৃত্তদের নির্বাচিত করলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আদালত আযাবের হাতিয়ারে পরিণত হয়। পরিতাপের বিষয় হলো বাংলাদেশে তো সেটিই বার বার হয়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে স্বৈরাচারী ও ক্ষমতালোভী মুজিবকে নির্বাচিত করায় আযাব রূপে এসেছে যুদ্ধ। এসেছে ভারতীয় পৌত্তলিক বাহিনীর অধিকৃতি ও লুণ্ঠন। সে যুদ্ধে বহু লক্ষ বাঙালি ও বিহারি নিহত হয়েছে, দুর্ভিক্ষ এসেছে এবং গণতন্ত্র কবরে গেছে। এবং ভেঙে গেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র।  ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালে বিএনপিকে নির্বাচিত করাতে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়েছে। এসবই হলে নির্বাচনে বাঙালি মুসলিমের ভয়ানক ব্যর্থতার ইতিহাস। সেরূপ একটি সম্ভাবনা আগামী নির্বাচনেও আছে।    

 

সামনে ভোট নয়, ঈমানের বিশাল পরীক্ষা

মহান আল্লাহতায়ালা বাংলাদেশের জনগণকে আবার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বিগত ১৬টি বছর সে সুযোগ ছিল না। বুঝতে হবে, কোন কিছুই মহান রবের ইচ্ছা ছাড়া হয়না তিনিই ছাত্রদের মাঝে সৃষ্টি করেছিলেন একতা, অকুতোভয় সাহস ও জিহাদের জজবা। স্বৈরতান্ত্রিক দেশে এ সুযোগ জনগণের থাকে না। অধিকাংশ মুসলিম দেশেও এ সুযোগ নাই। বহু মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ সুযোগ। তাই সুযোগকে ধরে রাখতে হবে এবং এ সুযোগের সঠিক প্রয়োগও করতে হবে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি দুর্বৃত্তদের দুঃশাসন চায়, না সৎ লোকদের সুশাসন চায়। সিদ্ধান্তটি তাদের নিজেদেরই নিতে হবে। তারা কি ইসলামের পক্ষের বিজয় চায়, না ইসলামের শত্রু পক্ষের বিজয় চায়। তারা কি মহান আল্লাহর তায়ালার আইন চায়, না কাফিরদের রচিত কুফুরি আইন চায়? তাদের ঈমানের পরীক্ষা হবে এ নির্বাচনে সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নেয়ার মধ্য দিয়ে। আমানতের প্রচণ্ড খেয়ানত হবে যদি তারা ইসলামের শত্রুকে নির্বাচিত করে। তখন সেটি হবে বড় রকমের কবিরা গুনাহ।

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে সুস্পষ্ট  দুটি জোট দেখা যাচ্ছে। একটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে  ইসলামী জোট। অপরটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নেতৃত্বে সেক্যুলার জোট। একটি ইসলামের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার পক্ষ, অপরটি ইসলামের উপর অবিশ্বাস ও অনাস্থার পক্ষ। জনগণের সামনে এখন ঈমানের পরীক্ষা: তার কোন জোটকে ভোট দিবে। বিএনপি নেতা মীর্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপি কোন ইসলামী দল নয়তারা শরীয়তী আইনের পক্ষে নয়। এটি কোন মুসলিমের কথা হতে পারে না। একজন মুসলিমের কাছে শরিয়া আইন অতি গুরুত্বপূর্ণ। ঈমানদার ও বেঈমানের পরীক্ষা হয় শরিয়া পালন দিয়ে। পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদা ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহর তায়ালার পক্ষ থেকে ঘোষণা: যারাই তার নাযিলকৃত শরয়ী আইন অনুযায়ী বিচার করে না তারা কাফের, জালেম ও ফাসেক। তাই কোন ব্যক্তি সেই আইনের বিপক্ষে দাঁড়ালে সে কি মুসলিম থাকে?

 

ভোটদান কেন জিহাদ?

নিজ দেশের আদালতে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা দেয়ার কাজটি প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ। ইসলামের এমন কিছু বিষয় আছে যেখান কোন আপোষ চলে না। কেউ আপোষ করলে সে আর মুসলিম থাকে না। শরিয়া আইন ছাড়া অন্য আইন পালন করাই হারাম। ঈমানের অর্থ শুধু আল্লাহর তায়ালা ও তাঁর নবী-রাসূলদের উপর বিশ্বাস নয়, তার কুর’আনে নাযিলকৃত আইনের উপরও বিশ্বাস। তাই জিহাদ শুধু দেশের জালেম শক্তির নির্মূল ও শত্রু শক্তির হামলা রুখতেই ফরজ হয় না, ফরজ হয় নিজ দেশে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালাকুর’আনী আইন প্রতিষ্ঠা দিতেওএ ক্ষেত্রে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকাটি মুনাফিকি।

কিন্তু শরিয়াকে প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যদি যুদ্ধ ছাড়া ভোটের মাধ্যমে হয়ে যায় তবে এর চেয়ে উত্তম আর কি হতে পারে? তাই ইসলামকে বিজয়ী করা এবং শরিয়া প্রতিষ্ঠার কাজে ভোটদান করাও জিহাদ তথা পবিত্র এবাদত। প্রতিটি ঈমানদারকে এ সুযোগ নেয়া উচিত। শরিয়া প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ নাই এমন সেকুলার প্রার্থীকে ভোট দেয়া হবে কবিরা গুনাহ। সেটি হবে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এসব সেক্যুলার প্রার্থীরা রাজনীতি ও নির্বাচনকে শরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ রূপে ব্যবহার করে। নির্বাচিত হলে এরা দেশের সংসদে আল্লাহর আইনে বিরুদ্ধে খাড়া হবে। সেজন্য মহান রব’য়ের দরবারে শুধু সে ব্যক্তিই দায়ী হবে না, যারা তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে তারাও দায়ী হবে।

তাই নির্বাচনে রায়দানের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঈমানদারকে অতিশয় সতর্ক হতে হবে, যেমন সতর্ক হতে হয় আদালতে রায় দেয়ার ক্ষেত্রে। শরিয়া আইন চায় না -এমন ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে মহান আল্লাহর তায়ালার দরবারে অপরাধী হিসাবে খাড়া হতে হবে। শরিয়ার পক্ষে ভোট না দেয়ার অর্থ শয়তানের পক্ষে ভোট দেয়া। তার শাস্তি জাহান্নাম। সারা জীবন নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত পালন করেও কোন লাভ হবে। কোন রাজাই তার রাজ্যে তার নিজ আইনের অবাধ্য ব্যক্তিকে ক্ষমা করেনা। বিদ্রোহী ব্যক্তিকে প্রাণদণ্ড দেয়। মহান রবও তাই তাঁর আইনের বিরুদ্ধে কোন বিদ্রোহীকে বরদাশত করেন না।

 

ইসলামপন্থীদের এতো ভয় কেন?

লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অনেক ইসলামপন্থী দলের নেতাকর্মীরাও শরিয়ার কথা মুখে আনছে না। মনে হচছে, তারা সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহকে আর কি ভয় করে, তার চেয়ে বেশী ভয় করে পাশ্চাত্যের শক্তিবর্গকে। ইসলামের শত্রুগণ নারাজ হবে এ ভয়ে তারা শরিয়ার কথা মুখে আনছে না। বুঝতে হবে, মহান আল্লাহর তায়ালা ভীরু কাপুষদের কখনোই পছন্দ করেন না, তাদেরকে তিনি বিজয়ও দেননা। যারা ভীরু, বুঝতে হবে তাদের বিশ্বাস নাই মহান আল্লাহর শক্তির উপর। মহান রব পছন্দ করেন হযরত ইব্রাহীম (আ:) ও হযরত মূসা (আ:)’র সাহসিকতাকে। এক সময় নমরুদ ও ফিরাউন বিশ্বশক্তি ছিল। হযরত ইব্রাহীম (আ:) একাই নমরুদের দরবার গিয়ে তার সামনে বিদ্রোহের ঘোষণা দেন। হযরত মূসা (আ:) এবং তার ভাই হযরত হারুন (আ:) ফিরাউনের দরবারে ইসলামের এজেন্ডাকে সাহসিকতার তুলে ধরেছিলেন। আর শেষ নবী মহম্মদ (সা:)’য়ের সাহসিকতার ইতিহাসে তো আমাদের জানা। তিনি যুদ্ধের পর যুদ্ধ করে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রের উপর মহান আল্লাহর তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও শরিয়াকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর লড়াইয়ের শুরুটি করেছিলেন মদিনা নামক এক গ্রামীন নগর থেকে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ কি মদিনার ক্ষুদ্র নগরীর চেয়েছে দুর্বল?

 

বিএনপিকে ভোট দেয়া কেন জায়েজ নয়?         

বিএনপি একটি পরীক্ষিত দল। এ দলটি দিন দিন ইসলাম থেকে অনেক দূরে সরেছে। এ দলটি বামপন্থী, জাতীয়তাবাদী ও সেক্যুলারিস্টদের দল। এ দলে আল্লাহু আকবর স্লোগান দেয়াও অপরাধ। ইসলামের প্রতি এ দলটির সামান‌্যতম অঙ্গীকার নাই। ২০০১ সালে বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে চারবার প্রথম হয়েছিল। হাসিনার পলায়নের পর এই দলটির নেতা কর্মীরা আবার রাস্তায় নেমেছে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নানারূপ অপরাধে। এ দলটি মধ্যে আদৌ কোন চারিত্রিক ও নৈতিক বিপ্লব আসেনি। বরং যারা রাজনীতিকে ক্ষমতা দখল, চাঁদাবাজি ও দুর্বৃত্তির হাতিয়ার মনে করে, তারা অন্য দল থেকে দলে দলে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে। তাছাড়া বিএনপি নেতারা দলটিকে ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য করা নিয়ে ব্যস্ত। ভারত সরকারও বিএনপির উপর খুশি। ভারত যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সবচেয়ে বড় শত্রু -সেটি এখনো কোন গোপন বিষয়?

আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের জন্যও বিএনপির নেতাকর্মীরা ইতিমধ্য মায়াকান্না শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হোক সেটিও দলটি চায়নি। মীর্জা ফখরুল জনসভায় ঘোষণা দিয়েছে, তার দল ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর থেকে মামলা তুলে নিবে।  প্রশ্ন হলো, যারা ভারত ও আওয়ামী লীগের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করতে চায়, তারা কি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বন্ধু হতে পারে?  জার্মানীতে কি এমন কোন দল আছে যারা ফ্যাসিস্ট হিটলারের নাজী পার্টিকে জীবিত করতে চায়? অথচ বিএনটি চায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসুক। ভারতের মত বিএনপি ও ফ্যাসিবাদের শত্রু নয়, তারা শত্রু ইসলামের। তাই বিএনপি ভোট দেয়া কখনোই হালাল হতে পারে না।  তাই সামনের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি নিজেই এক প্রকাণ্ড যুদ্ধ। যুদ্ধ এখানে ইসলাম, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রুদের পরাজিত করার। এ যুদ্ধ ইসলামকে বিজয়ী করার। এ যুদ্ধে বিজয়ী হতেই হবে। ০৯/০১/২০২৬

 

 

Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages