You do not have permission to delete messages in this group
Copy link
Report message
Show original message
Either email addresses are anonymous for this group or you need the view member email addresses permission to view the original message
to Mdhsm-bup
প্রায় ১০৮ ভাবে শাড়ি পরা যায়। সবগুলোর নাম ও জানি না। যেগুলো জানিঃ
নিভি, বাঙ্গালি, গুজরাটি,তামিল, শ্রীলঙ্কান, রাজস্থানী, রাজরানী, কুরগি,
মহারাষ্ট্রিয়ান, মারমেইড, মমতাজ, হিপহপ, অরিয়া, কদাগু, দ্রাভিদিয়ান,
মাদিসার, গোব্বি, মালায়লি, কুনবাই, কেরালা, কারাইকাল জেলেনি স্টাইল,
ফিজিয়ান, কাপ্পুলু , আন্ধ্রাস্টাইল, সিতা স্টাইল, স্কয়ার নিভি, ট্রাইবাল
স্টাইল, ঘাঘরাস্টাইল, দুপাট্টাস্টাইল, দক্ষিনি, রেডি শাড়ি, ইত্যাদি
ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবে ১০৮ রকম ভাবে শাড়ি পরা গেলেও শুধু নিভি, বাঙ্গালি, গুজরাটি, তামিল এবং
শ্রীলঙ্কান স্টাইল টা হল ইউনিক বাকি গুল সব এই পাঁচটির ভারিয়েশন। সকল প্রকারের বর্ণনা বা ছবি দেওয়া সম্ভব
না। রেডি শাড়ি সহ চলুন দেখি ইউনিক পাঁচটি স্টাইলে শাড়ি কিভাবে পরে।
রেডি শাড়িঃ সবচেয়ে আধুনিক শাড়ি পরার যে চল সেটি হল রেডি শাড়ি বা প্রি
স্টিচ শাড়ি। এই শাড়ি তে রেডিমেট কুচি বানানো থাকে। মাজার অংশে ডান দিকে
একটি এবং বাম দিকে একটি হুক থাকে। বাম দিকে আসলে কয়েকটি হুক থাকে বেল্টের
যেমন কয়েকটা ফুটো থাকে তেমন। মাজার সাইজ অনুযায়ী আগে পরে লাগাতে হয়।
হুক দুইটি বাঁধিয়ে বাকী অংশ টা কাধে ফেল্লেই শাড়ি পরা হয়ে গেল। কুচি
করা লাগবে না। আচলের মেজারমেন্ট করা লাগবে না। শাড়ি খুলে যাবার ও কোন
সুযোগ নাই।
নিভি স্টাইলঃ এর পর সব চেয়ে কমন হল নিভি স্টাইল। নিভি নাম কেন হল জানি না ।
শাড়ি পরতে গেলে পেটিকোট আর ব্লাউজ পরতে হয় সেটা তো বলার দরকার নাই। আর
এই ভাবে শাড়ি পরার জন্য প্রথম ধাপে মাজার উপর একবার বাম দিক থেকে ডান দিকে
শাড়ি পেচিয়ে নিতে হবে। এই পর্বে ঠিক করে নিতে হবে শাড়ির ঝুল বা নিচের
প্রান্ত কত লম্বা হবে । মাটি ছুতে যত টুকু দরকার তত টুকু ঝুল রেখে মাজার
দিকের শাড়ির প্রান্ত পেটিকোটের ভিতর সব পাশ ঘুরিয়ে গুজে দিতে হবে ।
দ্বিতীয় ধাপে পেটিকোটের ভিতর শাড়ি গুজে যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে
শুরু করে ৫ ইঞ্চি মত ধরে ৭ থেকে ১০ টি কুচি বানাতে হবে। কুচি বানানো হয়ে
গেলে সব গুলো কুচি একসাথে ধরে নাভির উপর পেটিকোটের ভেতর গুজে দিতে হবে।
খেয়াল রাখতে হবে নিচের ঝুল যেন ঠিক থাকে। কুচি গোজা শেষ হলে শাড়ির বাকী
অংশর প্রথম কয়েক ইঞ্চি আবার পেটিকোটের ভেতর গুজে বাকী অংশ বাম দিক দিয়ে
পেছন দিক ঘুরিয়ে সামনে আনতে হবে । এরপর যে অংশ সামনে আসলো সেটাই আঁচল ।
এবার আঁচলটা আড়াআড়ি করে কাধের উপর ফেলতে হবে। আঁচলের শেষ অংশ কাধের উপর
দিয়ে পেছনে থাকবে । কতটুকু আঁচলের অংশ পেছনে থাকবে সেটার পরিমাপ ও আগে
থেকে ধারনা করে নিতে হবে ।
বাঙ্গালি স্টাইলঃ বাঙ্গালি স্টাইল টা খুবি মনহর। আমাদের দেশ সহ সারা ভারতে
খুবি পপুলার। এটাকে দেবদাস স্টাইল ও বলা হয় ।আর এই ভাবে শাড়ি পরার জন্য
প্রথম ধাপে কোমর বরাবর নাভির সামনে থেকে শুরু করে বামে যেয়ে একটি ৩৬০
ডিগ্রী বৃত্তাকারে কোমরের চারিদিকে ঘুরিয়ে পেটিকোটে শাড়ি গুজতে গুঁজতে
আবার ডান দিক দিয়ে নাভির সামনে পযন্ত নিয়ে আসতে হবে । এই পর্যায় আবার
উল্টা দিকে মানে আবার ডান দিকে গুঁজতে গুঁজতে পেছন পযন্ত আসতে হবে । পেছনে
আসার পর শাড়ির যে অংশ টি পেছনে মাঝামাঝি পেটিকোটের ভেতর গোজার কথা সেখানে
শাড়ীতে একটা গিট বানাতে হবে। এবং ওই গিট টা পেছনে মাঝামাঝি বা একটু বাম
ঘেসে পেটিকোটের ভেতর গুজে দিতে হবে। এবার বাকি শাড়ি আড়াআড়ি করে বাম
কাধের উপর হাতের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে আবার ডান হাতের নিচ দিয়ে আঁচল সামনে
এনে আবার বাম বা ডান কাধে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে শাড়ি যেন প্যাচ না
পড়ে যায় এবং নিচের প্রান্ত যেন সব সময় ফ্রি থাকে ।
গুজরাটি স্টাইল ( উল্টা আঁচল ): এটাতে প্রাথমিক সব কিছু নিভি স্টাইলের মত
হবে কিন্তু কুচি গোজার পর বাম হাতের নিচ দিয়ে পেছন ঘুরিয়ে সামনে না এনে
ডান কাধের উপর দিয়ে পেছন থেকে সামনে আনতে হবে। মানে বাম হাতের নিচ দিয়ে
পেছন দিক দিয়ে আড়াআড়ি ডান কাধে উঠে যাবে এবং আঁচলটা পেছন দিকে না ঝুলে
সামনে ঝুলবে। একদম শেয ধাপ হল ঝুলন্ত আচলের নিচের কোনা টেনে নিয়ে কোনাকুনি
ভাবে ডান সাইডে শাড়ির সাথে সেফটিপিন দিয়ে আটকে দিতে হবে। আর একটা কোনা
ফ্রি থাকবে।
তামিল (পিনকসু স্টাইল): এই ধরনের শাড়ি পরার সময় কুচির মাথা বের করে পরা
হয়, এই কুচির মাথাকে মুন্ডি বলে। শাড়ি গায়ে জড়ানোর আগেই প্রথমে শাড়ির
আঁচল যে দিকে তার উল্টো দিকের শুরুতে ৫ থেকে ৭ টি কুচি করে নিতে হবে ।আসলে
কুচি করার সময়ই ডিসিশন নিতে হবে কি ধরনের মুন্ডি হবে । যদি ফ্ল্যাট মুন্ডি
হয় তাহলে কুচি বানাতে হবে বড় বড় ভাজ দিয়ে যদি পাখার মত করতে হয় তাহলে
ছোট ভাজ করতে হবে। এর পর ওই কুচি শরীরের পেছনে পেটিকোটের সাথে লাগিয়ে ধরে
শাড়ি দিয়ে কোমরে প্যাচ শুরু করতে হবে। শাড়ি পেচিয়ে সামনে এনে আবার
পেছনে নিয়ে ওই কুচির উপর দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কুচির উপর দিয়ে যখন প্যাচ
যাবে তখন খেয়াল করতে হবে দেড় বিঘাত মত কুচির মাথা যেন প্যাচ এর উপরে
বেরিয়ে থাকে। এরপর নিভি স্টাইল এর মত আবার আঁচল ঘুরিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের
উপর দিয়ে পেছনে ঝুলাতে হবে । নাভির কাছে একটা গিঁট দিতে হবে। এর পেছনের
কুচি গুলো সুন্দর করে ফ্ল্যাট করে অথবা পাখার মত করে সাজিয়ে দিতে হবে ।
কুচি শুধু পেছনে না । কখনো সাইডেও দেওয়া হয়। মূল বিষয় যেটা সেটা হল
কুচির ঝুল কোমরের প্যাচ এর নিচে থাকবে শুধু কুচির মাথা দেখা যাবে।
শ্রীলঙ্কান (ক্যান্ডিয়ান স্টাইল ): এই শাড়ি পরার স্টাইল টা ও খুবি ইউনিক।
অন্য সব স্টাইলে শাড়ি পরার সময় প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শাড়ীটি কোমর থেকে
পরে আঁচলটি আটকিয়ে নেয়া হয়. কিন্তু শ্রীলঙ্কান রীতিতে আঁচল প্রথমে
আটকিয়ে পরে কোমরে পরা হয়। প্রথমে আঁচল এর অংশ আড়াআড়ি কুচি করে বাম কাধে
ফেলতে হবে এবং সুন্দর করে সেট করে নাভি পযন্ত এনে একটা আলাদা কাপড়ের
বেল্ট দিয়ে ভাজটাকে ভেতরে রেখে কাপড়ের বেল্ট টা কোমরে বাঁধতে হয়। এরপর
শাড়ির যে অংশ নিচে অবশিষ্ট আছে তা ডান দিকে প্যাচ দিয়ে মাজায় পরে সামনে
এনে ৪/৫ টি কুচি করা হয় ।কুচির উপরের অংশ আগে যে বেল্ট পরা হয়েছে তার
ভেতর ঢুকিয়ে সামনের দিকে কুচির মাথা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আরও বাকি যে অংশ
থাকে সেটুকু আবারও ডান দিকে প্যাচ দিয়ে মাজায় পরে কোনাটা মাজায় গুজে
দেওয়া হয়। তামিল(পিনকসু) স্টাইল এর মত কুচির ঝুল কোমরের প্যাচ এর নিচে
থাকবে শুধু কুচির মাথা দেখা যাবে।