প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয হচ্ছে, মি’রাজ শরীফ থেকে ইবরত-নছীহত হাছিল করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায যথাযথভাবে আদায় করা।কেননা কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর অসংখ্য স্থানে নামাযের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘মু’মিনগণ উনাদের মি’রাজ হচ্ছে ছলাত বা নামায।’
এ বছরের জন্য আগামী ১৯শে আউয়াল-১৩৮০ শামসী সন, ১৭ই জুন ২০১২ ঈসায়ী সন, ইয়াওমুল আহাদি বা রোববার দিবাগত রাতটি হচ্ছে পবিত্র শবে মি’রাজ।
মি’রাজ শরীফ-এর পবিত্র রাতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন।
তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয হচ্ছে, মি’রাজ শরীফ থেকে ইবরত-নছীহত হাছিল করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায যথাযথভাবে আদায় করা।
কেননা কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর অসংখ্য স্থানে নামাযের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের নিকট মি’রাজ শরীফ-এর কথা জানালেন; তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা বললেন: ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো সমস্ত নিয়ামতের মধ্যে উম্মতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মি’রাজ শরীফ-এর মধ্যে উম্মতের জন্য কি কোনো হিছছাহ থাকবে না? জবাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আমার উম্মত তথা মু’মিনগণ উনাদের মি’রাজ হচ্ছে ছলাত বা নামায।” মি’রাজ শরীফ-এর পবিত্র রাতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন। তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয হচ্ছে মি’রাজ শরীফ থেকে ইবরত-নছীহত হাছিল করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায যথাযথভাবে আদায় করা। কেননা কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর অসংখ্য স্থানে নামাযের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
ছলাত বা নামায দ্বীন ইসলামের পাঁচটি মূলভিত্তি বা রুকনের দ্বিতীয় রুকন। অর্থাৎ ঈমানের পরেই নামাযের স্থান। প্রত্যেক বালেগ ও আকেল পুরুষ ও মহিলার উপর দৈনিক পাঁচ ওযাক্ত নামায পড়া ফরযে আইন। এ ফরযকে যে অস্বীকার করবে সে কাফির হবে। আর যে তরক করবে সে চরম ফাসিক হবে। এমনকি বিনা ওজরে তা কাযা করলেও কঠিন গুনাহগার হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি কালাম পাক-এর ৮২ স্থানে এই নির্দেশ দান করেন যে, “তোমরা নামায কায়িম করো।” এর দ্বারাই নামাযের গুরুত্ব সহজে উপলব্ধি করা যায়।
, হাদীছ শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “নামায দ্বীন ইসলামের খুঁটি। যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নামায আদায় করলো সে দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করলো। আর যে ব্যক্তি নামায তরক করলো সে দ্বীনকে ধ্বংস করলো।” হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে- “ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথমে নামায সম্পর্কেই বান্দাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে- “যে ব্যক্তি নামায যথাযথভাবে আদায় করবে ক্বিয়ামতের দিন সেটা তার জন্য নূর, দলীল ও নাজাতের কারণ হবে। আর যে ব্যক্তি নামায আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হবে না, তার জন্য নূর, দলীল ও নাজাতের কারণ হবে না। বরং সে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন কারূন, ফিরআউন, হামান ও উবাই বিন খলফের (যারা ছিল কাট্টা কাফির ও মুনাফিক) সঙ্গী হবে।” অর্থাৎ সে জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রথমত ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, রউফুর রহীম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইহসানে তা ৫ ওয়াক্তে নির্ধারণ করা হয়। তবে ছওয়াব ৫০ ওয়াক্তেরই থেকে যায়। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি ৫ ওয়াক্ত নামায যথাযথভাবে আদায় করবে সে পূর্ণ ৫০ ওয়াক্তেরই ফযীলত পাবে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত এ নামাযই হচ্ছে- মু’মিনগণ উনাদের মি’রাজ। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে রূহানী সাক্ষাৎ। তবে নামাযে তখনই মি’রাজ হবে যখন একজন হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত হয়ে ইলমে তাছাউফ অর্জন করতঃ তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি লাভ করে হুজুরী ক্বলব হাছিল করা হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “ওই মু’মিন কামিয়াব যে খুশু-খুযুর সাথে নামায পড়েছে।” খুশু-খুযু তখনই আসবে যখন একজন হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত হয়ে সবক নিয়ে ক্বলবী যিকির করে ক্বলবে যিকির জারি করা হবে তখনই নামাযের মাধ্যমে মি’রাজ শরীফ হাছিল করা সম্ভব।
, এ প্রসঙ্গে হাদীছে জিবরীল-এর মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহসান কাকে বলে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘ইহসান’ হচ্ছে- এরূপভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করা অর্থাৎ সদা-সর্বদা অবস্থান করা যেন সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখছেন অথবা এ ধারণা করা যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে দেখছেন অর্থাৎ এখানে হুজুরীর দুটি অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। এক. বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনাকে (মেছালী ছূরতে) দেখবে। এটাই হচ্ছে- বান্দা-বান্দীর মি’রাজ। দুই. বান্দা-বান্দী অন্তত পক্ষে এ ধারণা করবে যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দা-বান্দিকে দেখছেন। এর দ্বারাও সে মি’রাজ শরীফ-এর হিছছা লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! বান্দা-বান্দি তারা দায়িমীভাবে এ দুই অবস্থার এক অবস্থা অবশ্যই হাছিল করবে।
মূলকথা হচ্ছে- বান্দা-বান্দী যে শুধু নামাযেই মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাযির-নাযির জানবে বা হুজুরী ক্বলবের সাথে থাকবে তা নয়, বরং নামাযের বাইরেও দায়েমীভাবে বা সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাযির-নাযির জানতে হবে এবং হুজুরী ক্বলবের সাথে থাকতে হবে। আর এ অবস্থা তখনই হাছিল হবে। যখন শায়েখ বা মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে সবক নিয়ে যিকির-আযকার, মুরাকাবা-মুশাহাদার মাধ্যমে তাকমীলে পৌঁছবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুন। (আমীন)