টুকু, এতো কবিতা, কিন্তু কথা কই। ব্লগ তো 'কবিতাকথা'। নাকি কথা বাদ দিয়ে কবিতা পোস্ট করার রীতি চালু হয়ে গেল! মুজিব মেহদী কী বলেন?
তপন বাগচী
--
www.tapanbagchi.tk
www.writers.net/writers/42203
www.tapanbagchi.blogspot.com
www.en.wikipedia.org/wiki/Tapan_Bagchi
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog
এখানেও সেটি হবে মনে করেই হয়তো টুকু একজন অগ্রজের কবিতা পোস্ট করেছেন।
সেটা অবশ্যই সাধুবাদ পেতে পারে।
আর আমিও গালিব ভাইয়ের সাথে ""বন্ধুরা, ভ্রাতৃগণ, ভগিনীবৃন্দ, লক্ষ করুন,
টুকু তার নিজের কবিতা পোস্ট করেন নাই, করেছেন একজন অগ্রজের কবিতা। এমন নয়
যে তার বইটি টুকুর প্রকাশনা সংস্থা থেকে বের হয়েছে। এবং টুকু আর কারো
গ্রন্থপ্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
উদ্দেশ্য, কবিতার আলোচনাই। অপরের ভালো-বলার সুখ বা আরাম ভোগ করা নয়। আমি
তো ভেবেছিলাম মাসুদ খান, সুব্রত, মজনু শাহ, সুমন রহমান---এদের কবিতা
পোস্ট করে স্পেসিফিক পয়েন্টে আলোচনা শুরু করবো। এখন তো দেখছি
নীতিবাগীশদের পাল্লায় পড়ে কবিতাকথায় তা করা সম্ভব না।"" এইখানে একমত।
মনে অনেক কথা ভগ্নিভ্রাতা কবি, পাঠক, কবিতাকর্মীগণ। কিন্তু বলিবার মাইক
তো নাই। কবিতাকথা কে আমরা আসুন ধাক্কাধাক্কির জায়গা না বানিয়ে প্রাণের
কথা বলিবার জায়গা হিসেবে দাড়া করাই। বহু পুরনো একটা কবিতার লাইন মনে পড়ে
গেল এই তর্কের নসিহত শুনতে শুনতে।
"কথারা থাকে, কথারা থেকে যায়
কথক কই কথামতোন?" এখন দেখছি সেই কবিতা নিয়ে কথা বলবার কথক ই নাই সবাই তার্কীক!
শাহীন মোমতাজের কবিতাগুলো প্রথম পড়ায় খুব ভালো বুঝলাম না। পড়ে মন্তব্য
করবার আশা পোষণ করি। প্রিয় তপন বাগচী (দাদা) কেও অনুরোধ করছি আসেন আমরা
গঠনমুলক আলোচনা করি (ঔদ্ধত্য হলে ক্ষমা করে)। টুকুকে ধন্যবাদ কবিতা পোস্ট
করে কবিতাকথার সদস্যদের কবিতা নিয়ে কথা বলবার একটা সুযোগ তৈরী করবার
জন্য।
সবাই কুশলে থাকুন।
2009/6/10 Sohel Hasan Galib <kranti...@gmail.com>:
2009/6/10 shimul salahuddin <shimulsal...@gmail.com>:
--
Maruf Raihan
2009/6/10 maruf raihan <marufr...@gmail.com>:
২.
এটুকু লিখেই আমার মনে একটা উটকো অনুমান হাজির হলো। তা হলো এই যে, সম্ভবত
তরুণ লেখকদের গ্রন্থ বিষয়ে দিনকয়ের ব্যবধানে প্রথম আলো যে সাময়িকীটি
হাজির করতে যাচ্ছে, ওতে এই গ্রন্থটিও আলোচিত হচ্ছে এবং সেই আলোচনাটি
ফাঁদবার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তারিক টুকু স্বয়ং। টুকু ইতোমধ্যে হয়ত তাঁর
লেখাটি তৈরিও করে এনেছেন। এর মধ্যেই হয়ত তাঁর মধ্যে এই কৌতূহলটি জন্ম
নিয়েছে যে, 'দেখি তো অন্য কবিতাকর্মীরা শাহীন মোমতাজের কবিতাকে কীভাবে
দেখেন?' (এটা একশত ভাগ অনুমান, সত্য না-ও হতে পারে।)
৩.
তো, কেমন করে দেখছেন সবাই শাহীন মোমতাজের কবিতাকে? ফেসবুকে দেখলাম একের
পর এক 'ভালো লাগল', 'আরও কয়েকবার, মন দিয়ে পড়লে, মনে হয় আরও ভালো
লাগবে', 'অসাধারণ', 'ভালো লেখা পড়লে মন ভালো করা অনুভূতি হয়', 'শাহীন
মোমতাজের কবিতা আমাকে টানে', 'Very nice' জাতীয় অনুভূতিরই প্রকাশ ঘটে
চলেছে।
দুয়েকটা ক্ষেত্রে কেউ কেউ তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্যও চিহ্নিত করতে চেয়েছেন।
যেমন 'শাহীন মোমতাজের কবিতায় প্রাণবন্ত স্বকীয়তার উপস্থিতি টের পাওয়া
যায়, যার আবেদন/ব্যঞ্জনায় তৃঞ্চার্ত পাঠক বোধ বিমূঢ় হতে বাধ্য।' 'শাহীন
মোমতাজের কবিতা, কেবল কবিতাই-- ফুরফুরে সফেদ পংক্তিমালা! অন্যকিছু নহে।'
'তাঁর মধ্যে কবি-কল্পনা এবং শব্দ-পরম্পরার মিত্রতা আছে।' 'শাহীন রূপকল্পে
দক্ষ' ইত্যাদি। কিন্তু কোথাও একটিও নেতিবাচক মন্তব্য নেই। কেবল একজন
সম্ভবত জানিয়েছেন, 'ট্রেন' কবিতাটিতে তিনি জীবনানন্দের ফিউশন খুঁজে
পেয়েছেন।
তো, এত কী ভালো শাহীনের কবিতা? ভালো বুঝলাম, কিন্তু কী কারণে ভালো? পড়তে
পড়তে আমিও মুগ্ধ হয়ে যাই। তাঁর কবিতায় শব্দের বিন্যাস সুসামঞ্জস্যপূর্ণ,
নিয়মকানুনের একটা শৃঙ্খলা আছে। কবিতাসমূহ বিষয়প্রধান নয়, রূপপ্রধান।
সামাজিক দায়দায়িত্বের ভার চাপানো হয় নি কবিতায়। কিন্তু তাঁর স্বরে বিশেষ
কী নতুনত্ব আছে? আমরা যে ধরনের কবিতা পড়ে এতদিন মুগ্ধ হয়ে এসেছি, ঠিক সেই
একই কারণেই কি এগুলো পড়েও মুগ্ধ হই? একইরকম মালমশলার উপস্থিতিই কি
এগুলোকে মহিমান্বিত করেছে, যে কারণে প্রথম পাঠেই সম্মোহিত হয়ে পড়ি বিস্তর
কবিতাপাঠের পূর্বঅভিজ্ঞতাবশে? মুগ্ধতার নতুন কোনো কারণসূত্র কি এখানে
উন্মোচিত হয়? হলে সেটা কী?
পাঠক হিসেবে আমি এখানে নতুন কোনো কিছুর সংস্পর্শে ধন্য হই না। এ ধরনের
মুগ্ধতা কতটা স্বাস্থ্যকর? বিনয় মজুমদারের কবিতা পড়ে যে ধ্বনির সাক্ষাৎ
পাই, সেই একই ধ্বনির সাক্ষাৎ পেতে আমি শাহীন মোমতাজের কবিতার কাছে কেন
যাব? ধরা যাক "এই বৃক্ষে চিররাত্রিদিন, যেন বা সকল বাক্য নিদ্রাকুসুমের
মতো/ফুটে আছে।/এইরূপ ফুল ও সংবাদ নিয়ে পেঁপেগাছ।" এই বাক্য বিনয়াবতারের
বাক্য থেকে কতটা দূরের? এসব নিয়ে কথা হোক, আমি প্রাণভরে শুনতে চাই।
৪.
একটা ধাওয়া-পালটাধাওয়ার অবস্থা যেন আবারও শুরু হয়ে যায় যায় মনে হচ্ছে।
সেটা না হোক। আর কেউ একজন বিরুদ্ধে বললেই তাঁর প্রতি ঢাল-তলোয়ার নিয়ে
ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এ অবস্থাও না দেখতে হোক। আমাদের কথাবার্তা পোস্টের মূল
বিন্দুতেই থাকুক। সেটা সব দিক থেকে ভালো। এ পোস্টে আমন্ত্রণ সবাইকে।
2009/6/10 মুজিব মেহদী <m.m...@gmail.com>:
১. বুক-এর সাথে বুক রিভিউর সম্পর্ক, তা সে প্রথম আলোর হোক বা শেষ আলোর
হোক, ব্যাখ্যা করবার অপেক্ষা রাখে কি আদৌ?
২. মন্তব্যকে যখন বলেই দেয়া হয় যে, এটা উটকো এবং একশত ভাগ অনুমাননির্ভর
তখন তাকে অতি সিরিয়াস ভাবাটা কি দিনকে রাত ভাবা নয়? দেখুন ৪ খণ্ডে বিভক্ত
মন্তব্যটির ২ ও ৩-এ কবিতাকথার একজন সভ্য উপস্থিত, মডারেটর নয়।
৩. হা কপাল! আমি তো আলোচনাকে পথে রাখবার জন্যই অত কথা বললাম, বিপথে চালিত
করবার প্রয়াসটি তো বরং আপনার মন্তব্যেই ধরা পড়ছে।
৪. দয়া করে আবার দেখুন যে, এখানে প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তির
ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথাই বলা হয়েছে মাত্র। কাজেই পাঠককে অপমানের প্রশ্ন এখানে
অবান্তর।
৫. ফলবেই এরকম জানলে তাকে অনুমান বলব কেন খামাখা? মানুষের দায়িত্ববোধ কি
আজকাল অনুমান করা না-করা দিয়ে মাপা হচ্ছে নাকি?
আসুন আমরা বিষয়েই থাকি। শাহীন মোমতাজের কবিতা নিয়ে কিছু কথা বলুন প্লিজ।
Muzib, Tapan, Tuku
I had a quick look at some of the shorter poems hy Shaheen Momtaz, working on the symbols like train, post box etc. She impressed me a lot for her skilled wordplay and brevity of expressive idioms. A much younger poet Mustafiz Karigar has also attracted my attention for his evocative images in a small poem published in Jugantaar literary page last Friday June 12. They make me optimistic of the poetry being shaped by the youngest generation of our poets. Best wishes
Huda MN --- On Fri, 6/12/09, Tarique Tuku <tariq...@gmail.com> wrote: |
একটা জরুরি কথা এই যে, আমরা কবিতাকথায় ইউনিকোডে বাংলা লেখবার ব্যাপারেই
একমত হয়েছি। ক্রমশ যদি আপনি অভ্রতে আপনার হাতটা পাকিয়ে নেন তো সুবিধে হয়।
নইলে একসময় হয়ত অন্য সবার বাংলা লেখার পাশাপাশি আপনার ইংরেজি লেখা নিয়ে
আপনারই খারাপ লাগতে শুরু করবে। (তবে যতদিন বাংলায় অভ্যস্ত না-হতে পারছেন,
ততদিনও চুপ না-থেকে ইংরেজিতে লিখলে সম্ভবত সভ্যরা কিছু মনে না-ও করতে
পারেন।)
আপনার অবগতির জন্য বলি, শাহীন মোমতাজ 'she' নয় 'he'। অবশ্য কাব্যালোচনার
জন্য এটা জানা খুব জরুরি বিষয় নয় হয়ত।
সদা তরুণ থাকুন, তরুণদের সঙ্গে থাকুন।
Muzib
Your association will bring, I'm sure, new dawn for me. Sorry for the mistake regarding the gender identity of S Momtaj.
|
কবি মুজিব মেহদীর অনুমান তাহলে সত্য হলো। কবি শুধু স্রষ্টা নন, দ্রষ্টা-ও বটে! টুকুর পরিকল্পনায় কেবল কেউ সাড়া দিল না, এই আক্ষেপ! কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং এই লেখক তবু টুকুর প্রিয় কবির কবিতা নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছিলাম। আর কেউ এগোননি। অনেকেই কি মুজিব মেহদীর অনুমানে সহমত পোষণ করেছেন? কে জানে!
--
This message has been scanned for viruses and
dangerous content by OpenProtect, and is
believed to be clean.
-- Goutam Roy Staff Researcher Educational Research Unit Research and Evaluation Division BRAC 75 Mohakhali, Dhaka 1212. Phone: +88-02-9881265 Ext. 2707 +88-01712-018951 Web site: www.brac.net/research, www.bdeduarticle.com
এ সূত্রে আমার একটা অবজারভেশন শেয়ার করি। সেটা হলো, যাঁরাই মাস্টার
পয়েটদের কাছে স্বর, শব্দাদি, বাক্যের গঠন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঋণের ভারে
খেলাপি হয়ে থাকেন, তাঁদের কবিতা দ্রুত অনেক পাঠককে মুগ্ধ করে। এই
মুগ্ধতাকে আমি সন্দেহ করছি না, সন্দেহ করছি সেই বিচারকে, যে বিচার নিজস্ব
স্বর তৈরি হলো না এমন একজনের বইকেও সেরা বাছাই হিসেবে হাজির করে।
সৃজনশীল কাজ করতে এসে প্রভাবিত হওয়া খুব একটা দোষের নয়। এজরা পাউন্ড
পরামর্শ দিতেন মহানদের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হতে। কিন্তু এ
প্রভাবটিকে যত্নের সাথে লুকাতেও বলেছেন তিনি। কিন্তু আমরা বেদনার সাথে
লক্ষ করি অনেকে প্রভাবিত ঠিকই হন, প্রভাবকে লুকাতে পারেন না।
শাহীন মোমতাজের কবিতাগুলো বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর কবিতার একটি বাক্য
সামনে এনে আমি বিনয় মজুমদারের স্বরের সাথে তাঁর স্বরের সাদৃশ্যের কথা
বলেছিলাম। সাজ্জাদ শরিফ তাঁর আলোচনায় বলেছেন, উৎপল কুমার বসুর পুরী
সিরিজের ভাষার সাথে এর সাদৃশ্যের কথা। এমনকি তিনি এ-ও বলেছেন যে, শাহীনের
সময় হয়েছে উৎপল কুমার বসুর জগৎ থেকে বেরিয়ে নিজের জগৎ তৈরি করবার।
(আক্ষরিকভাবে বলতে পারলাম না, এখন হাতের কাছে পাতাটা নেই বলে। এদিকে
ওয়েবে শুক্রবারের প্রথম আলো সাময়িকীর দশটি গ্রন্থালোচনার মধ্যে মাত্র
দুটো-- মাজুল হাসানের 'টিয়ামন্ত্র' আর মশিউর রহমান খানের 'পাখিদের
রূপকথা' অন্তর্ভুক্ত আছে দেখতে পেলাম, যে কারণে লিংকও হাজির করা গেল না।
কেউ লিংকটা খুঁজে পেলে যুক্ত করে দিতে পারেন।)
আমার প্রশ্ন হলো, যাঁর নিজের কোনো ভাষাই তৈরি হয় নি, দশটি গ্রন্থের
মধ্যে তাঁর গ্রন্থটি কীভাবে বাছাইয়ে সেরা বিবেচিত হয়, হতে পারে? ও-পাড়ার
সেরা বিবেচনাটা আসলে কীসের ভিত্তিতে হয়?
আর আপনার প্রশ্ন 'যাঁর নিজের কোনো ভাষাই তৈরি হয় নি, দশটি গ্রন্থের মধ্যে তাঁর
গ্রন্থটি কীভাবে বাছাইয়ে সেরা বিবেচিত হয়, হতে পারে? ও-পাড়ার সেরা বিবেচনাটা
আসলে কীসের ভিত্তিতে হয়?' আমারও প্রশ্ন।
--
Goutam Roy
Staff Researcher
Educational Research Unit
Research and Evaluation Division
BRAC
75 Mohakhali, Dhaka 1212.
Web site: www.brac.net/research, www.bdeduarticle.com
--
This message has been scanned for viruses and
dangerous content by OpenProtect(http://www.openprotect.com), and is
believed to be clean.