দ্বীনের দাওয়াতের মধ্যে নিম্নের
কাজগূলা অন্ত্রর্ভুক্তঃ
১) দ্বীনের প্রচার-প্রসার, দাওয়াত
ও তাবিলীগ- যা অতি গুরত্তপূর্ণ কাজ ও
যোগ্যতা অনুযায়ী কমবেশি সচেতন সকল
মুসল্মানই করা উচিত।
২) দ্বীনের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা ও ভেজাল দূরিকরণ ও শরীয়তের
রক্ষনাবেক্ষণ- যাতে আলেমদের অবদান বেশি।
৩) দ্বীনের উপরে অনাকাংক্ষিত
আক্রমন প্রতিহত করা, অন্যায় ও মন্দ প্রভাব ও দ্বীনের শত্রুদের হাত হতে দ্বীনকে রক্ষা করা ও
দ্বিনকে বিজয়ী করা। এর উদ্দেশ্যেই
"জেহাদ", "নাহি আনিল মুনকার"
সহ
বিভিন্ন আদেশ এসেছে, যেখানে
দ্বীনের শত্রুদের পরিচয় ও এদের বিরুদ্ধে
হুকুম বয়ান করা হয়েছে । এর কারনেই "ভন্ড
নবী" আর "যাকাত অস্বীকার কারীদের" বিরুদ্ধে আবু বকর (রাঃ) জেহাদ করেছেন।
উপরোক্ত ব্যাপারে হাদিস-কোরানে ভুরু ভুরি আদেশ তো আছেই, ইতিহাসে বহু নযির রয়েছে।
কাজেই দ্বীনের ভেতরে যারা আসলেই ক্ষতি করতে চায়, তাদের প্রতিহত করা জরুরি ঈমানি কাজ,
এ ব্যাপারে সন্দেহ নাই।
----------------------------------------------------------------------------------------------
স্থান-কাল-পাত্র ভেদে দাওয়াত
ও তাব্লীগের কতিপয় সার্বজনীন উসুল, আদব ও দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় কোরান-হাদিস আর সাহাবি
ও বুযুর্গদের ঘটনা থেকেঃ সংশয় নিরসন কল্পে তা নিম্নে উল্লেখ করা হোলঃ
১।মানুষের গোপন ও ব্যক্তিগত দোষ
বা পাপের সংস্কার/প্রতিকার গোপনেই করতে হবে। এটা চোখে পড়লে উপেক্ষাও করা যাবে না, আবার
লোকসমাজের সামনে প্রকাশ করে দিয়ে তার সম্মানহানী করা যাবে না।
২।প্রকাশ্য পাপ ও সমস্যার প্রতিবিধান
প্রকাশ্যেই করতে হবে-নতুবা আর দশজনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হবে; যেমনঃ-
ক।প্রকাশ্য পাপীর কারনে অনেকেই সেই পাপে গ্রেপ্তার হবার ক্ষেত্র
তৈরি হবে।
খ।চোর-বাটপার-আমানতের খেয়ানতকারী ব্যাক্তিকে সমাজে চিহ্নিত করে
না দিলে ও তার প্রতিকার না করলে অন্যরা তার দ্বারা আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকে।
গ।তেমনি ভন্ড পীর বা কোন প্রতারক যদি সমাজে টিকে থাকে, তাইলে অনেকেই
তার প্রতারনার শিকার হবে।
ঘ।এজন্য প্রকাশ্য পাপীকে জেনেও তা গোপন করলে পাপীকে সাহাজ্য করা
হয় আর তা গোনাহের কারন হয়।
৩।তবে শরীয়ত যেসব পাপের শাস্তির
বিধান রাষ্ট্রকে দিয়েছে-যেমনঃ হাতকাটা, যেনার দন্ড এসব ব্যক্তির কাধে নেওয়া যাবে না।
৪।আম বয়ানে কঠোর কথা বলা যায়,
কিন্তু খুসুসি মোলাকাতে নরম হতে হয়। আম বয়ানে মদ-জুয়ার বিরুদ্ধে তো কঠোর ভাষায় বলতেই
হবে, কিন্তু একজন মদারু/জুয়ারুর কাছে দাওয়াতে গেলে নরম ভাষায় কথা বলতে হবে।
তেমনি কাফেরের কাছে দাওয়াতের জন্য নম্রভাবে গেলেও, জেহাদের ময়দানে
তার গর্দানে তলোয়ার শক্তহাতেই মারতে হবে।দুটোই আল্লাহর হুকুম।
৫।ব্যক্তির বিশেষ কোন পার্থিব
বা দ্বিনী যোগ্যতা থাকলে তা দাওয়াতের ময়দানে ব্যবহার করা উচিত।বিশেষ করে দ্বীনি যোগ্যতার
কদর করা উচিত। যোগ্যতাকে বিপক্ষ বা চক্ষুশূল বানানো অনুচিত।
৬। তেমনি দ্বীনি কাজের উসুল এমন
হবে যেন ব্যক্তিত্ত বা যোগ্যতাকে সংকীর্নতার ঘোরটোপে আবদ্ধ করবে না , বরং ব্যক্তি বিশেষের
গুনাবলী আরো বাড়িয়ে দেয়। ব্যক্তিত্তকে লালন করে বলেই “আবুল হাসান আলী নদভী” বা “মাওলানা
মনযুর নোমানী” ব্যক্তিয় গুনাবলীতে ও যোগ্যতায় বৈশ্বিক ব্যক্তিত্ত হতে সাহায্য করেছিল
এই তাব্লীগ জামাত।
৭।ঈমামকে যেমন ততক্ষন মানতে হয়,
যতক্ষন সে সাহীহ রাস্তায় আছে। গলদ তারিকায় গেলে সংশোধন করে দিতে হয়। তেমনি মাশোয়ারার
ক্ষেত্রেও সত্য। যে মাশোয়ারা গলদ বিষোয়ের উপর হয়, প্রতিহিংসামূলক বা অন্যকে শায়েস্তা
করার জন্য হয়, দ্বীনি ক্ষতিকারক বিষয়ে হয়, সে মাশোয়ারা গোনাহের কারন। এই মাশোয়ারা মান্যকারীও
গোনাহগার হতে পারে।
যেমন, রাসুলের যামানায় কিছু মুনাফেক প্রতিহিংসামূলক মাশোয়ারা করে
আলাদা মসজিদ বানাল। কিন্তু তাদের এই আমল ও মাসজিদ কিছুই আল্লাহ কবুল করলেন না।(সুরা
তাওবাহ)।
তেমনি, চোর, ডাকাত ও মাফিয়ারা হরদম মাশোয়ারা করে, কিন্তু এই মাশোয়ারা
তাদের কি ফায়দা দেবে?
৮। দ্বীনের/ইসলামের ক্ষতি যাদের
কাম্য, সেই ইয়াহুদি-নাসারা ও তাদের চাতুরি সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে। মিশরের বিখ্যাত
‘আল-আজহার’ বিশ্ববিদ্যালয় একদা মুখলিস ও দুনিয়া ত্যাগী বুযুর্গদের মিলনমেলা ছিল। এখন
সেখানে ইসলামের চেয়ে অনৈসলামিক বিষয়ের জোর বেশি এবং ইয়াহুদি পর্যন্ত শিক্ষক হবার নযির
আছে। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয় পচনের শেষ প্রান্তে।
তেমনি বিশ্বব্যাপি দ্বীনের কাজ করা ‘তাবলীগ যামাত’ যে ইয়াহুদি-নাসারাদের
চুক্ষুশূল হবে-তা স্বভাবিক। ইসলামের প্রাথমিক যামানা থেকেই এদের চক্রান্ত ইসলামের প্রতিটি
প্রতিষ্ঠানকে আক্রান্ত করেছে, মাদ্রাসা বলুন আর খেলাফত আর প্রশাসন বলুন।
" তাবলীগের ক্ষতি করতে এরা
নারী বা মদ নিয়ে সরাসরি হাজির হবে না, এটা ঠিক। তবে তারা মাশোয়ারার মাধ্যমে খারাপ কাজ
করাবে, মুখলিস বান্দাদের সরিয়ে দেবে, টাকা নিয়ে খেলা শুরু করবে, এ কাজের বুনিয়াদ আর
ইখলাসে ঘুন ধরাবে।
বুদ্ধিমানরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়। মুসলিমদের পতনের ইতিহাস,
বিভিন্ন দ্বিনি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ইতিহাস পড়ে দেখুন, উপলব্ধি করতে পারবেন।
"