হজরত ওমর (রা) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ

1,682 views
Skip to first unread message

Inside Kakrail

unread,
Apr 6, 2014, 4:45:02 AM4/6/14
to inside-...@googlegroups.com

হজরত ওমর (রা) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ


ইসলামি চেতনা ও ইসলামি প্রশিক্ষণের ফলে সাহাবায়ে কেরাম (রা) কোন অন্যায় ও ভুল কথা কিংবা কাজ ও বেইনসাফি বরদাশত করতে পারতেননা আর তা যদি সমকালীন খলীফার দ্বারাও সংগঠিত হত। যদি খলিফার মধ্যেও কখনও সীমা অতিক্রম দেখতেন তবে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে ও ত্রুটির প্রতি অঙ্গুলি সংকেত করতে তারা আদৌ ইতস্তত করতেন না।


একবার খলীফা ওমর (রা) খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন “হে লোকসকল! তোমরা শোন”এই সময় তাঁর দেহে ছিল এক জোড়া কাপড়। জনৈক মুসলমান এই ব্যাপারটি লক্ষ্য করলেন যে আমীরুল মু’মিনিন এক জোড়া কাপড় পড়েছেন অথচ কাপড় বণ্টন করা হয়েছে একটি করে। এতে তার সন্দেহ হল – তবে কি আমীরুল মু’মিনিন নিজের ভাগে কাপড় বেশী নিয়েছেন? কিন্তু কোন প্রমান তার কাছে ছিল না তথাপি শুধুমাত্র সন্দেহের উপর ভিত্তি করে তিনি বলে উঠলেন, “না, আমরা শুনব না।” খলীফা ওমর (রা) বললেন, “শুনবে না কেন?” মুসলমান লোকটি বললেন, “আপনি তো আমাদের মাঝে একটি করে কাপড় বণ্টন করেছেন,  অথচ আপনার শরীরে দেখতে পাচ্ছি এক জোড়া। খলীফা হিসাবে তো আপনাকে বেশী দেওয়া হয়নি।” তার এই কথা প্রকাশ্য মজমায় বলা আর মজলিসে কারো আপত্তি না করা সবার পক্ষ থেকে ওমর (রা) এর খিলাফতকে অস্বীকার করার শামিল। এই কথা শুনে হযরত উমর (রাঃ) রেগে গেলেন না বা তাকে ধমকালেন না। এই কথাও বললেন না যে তোমার প্রশ্নের উত্তর খুতবার পরে দিব, খুতবার মধ্যে বেয়াদবের মতো কেন প্রশ্ন করলে? আমিরুল মু’মিনিন এর কোন ক্যাডার বাহিনি তার চুলের মুঠি বা কলার ধরে বসিয়ে দিলেন না। তাকে টর্চার সেল এ নিয়ে যেয়ে মারধরও করলেন নাএমনকি কোন মিথ্যা মামলাও তার বিরুদ্ধে করা হল না। এ ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে সন্দেহের কারনে আমীর এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করার অধিকার একজন সাধারন মুসলমানের আছে। এর দ্বারা আমীরের সেচ্ছাচারিতার বা শরিয়তের বরখেলাপ চলার সুযোগ থাকে না। এটাও ইসলামি শরিয়তের একটি হিকমাত ও সৌন্দর্য।

 

আমিরুল মু’মিনিন হযরত ওমর (রা) নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনে অভিযোগকারীর কাছে প্রমান তলব করলেন না। বরং নিজেই তৎক্ষণাৎ সবার সামনে প্রমান করলেন যে তিনি নির্দোষ। ওমর (রা) বললেন, “ভাই! তাড়াহুড়ো না করে এই মজলিসে আমারই পুত্র আব্দুল্লাহ আছে, সে কি বলে তা শোন।” এই বলে তিনি আব্দুল্লাহকে ডাকলেন। দ্বিতীয় ডাকে জওয়াব মিলতেই তিনি আব্দুল্লাহকে সম্বোধন করে বললেন, “লুঙ্গি হিসেবে যে কাপড়টি আমি পরিধান করেছি তা কি তোমার দেয়া নয়?” পুত্র ‘হ্যাঁ’ বলে জবাব দিতেই মুসলমান লোকটি বলে উঠল, “হ্যাঁ, আমীরুল মু’মিনীন! এবার আপনি বলতে পারেন। এখন আমরা শুনব।”


যদি তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া হত তবে তার স্বাভাবিক পরিনতি এটাই হত যে মজমার বাইরে অনেকেই এই কথা বলত যে আমীরুল মু’মিনিন কাপড় চুরি করেছেন (যদিও হাকিকতে এই কথা  মিথ্যা)। উপরন্তর এর কারনে তাকে দোষারোপও করা যেত না কারন স্বয়ং ওমর (রা) বলেছেন, “যে অপবাদের স্থানে অবস্থান নিল, সে যেন তার প্রতি খারাপ ধারনা পোষণকারীকে অবশ্যই দোষারোপ না করে।”

 

এর থেকে বুঝা যায় যে আমীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে পারে এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমান করা আমীরেরই দায়িত্ব। এরকমই ছিল ইসলামের প্রথম যুগের পারস্পরিক মুয়ামালাতের স্বচ্ছতা যে আমীর কোন অভিযোগকারীর অভিযোগ শুনে রাগান্বিত হতেননা। এমনকি অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমুলক পদক্ষেপ নিতেন না। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন আমাদেরকে রসুলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরন করার তৌফিক দান করুন।


আমিন।


Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages