বি. ই. কলেজ ও মডেল স্কুল আর একটা না-প্রেমের
কাহিনী
আজকের গল্পটা শিবপুর বি ই কলেজ নিয়ে | গল্পটার উৎস ঠিক খেয়াল নেই | বি. ই.
কলেজ নিয়ে প্রচুর লেখা আছে প্রধানত নারায়ন সান্যাল-এর, যিনি বি ই কলেজ থেকে সিভিল
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছিলেন | আরও অনেক আছে | শুনেছিলাম একটা বই ছিল "ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে
অমিতাভ" যেটা বি. ই. কলেজ নিয়ে লেখা | কার লেখা মনে নেই, তবে বইমেলাতে অনেক খুজেও
পাইনি |
এই গল্পটা একটা না-প্রেমের কাহিনী | যারা বি. ই. কলেজ-এ পড়েছেন বা গেছেন তারা
জানেন পুরো ক্যাম্পাসটা মেন রাস্তার দুদিকে দুটো নাম | বামদিকে সাহেবপাড়া :
যেখানে মূল ভবন, হোস্টেল ১৪, ১৫ আর ১৬ এবং সিনিয়রদের জন্যে চারটে হল - সেন,
সেনগুপ্ত, ম্যাকডোনাল্ড আর রিচার্ডসন | আর রাস্তার ডানদিকে মুচিপাড়া : হোস্টেল ৭,
৮, ৯, ১০ আর ১১, দুটো হল ছেলেদের জন্যে নাম উল্ফেনডেন; অন্যটা মেয়েদের জন্যে, নাম
পান্ডিয়া | মুচিপাড়ার মাঝখান দিয়ে চলে গেছে আর একটা রাস্তা যেটা হোস্টেল নয় আর দশের
সামনে দিয়ে উচ্চমাধ্যমিক মডেল স্কুলের দিকে গেছে |
মডেল স্কুলে ক্লাস নাইন থেকে ছেলে মেয়ে এক সাথে | আমাদের কিছু ছেলের বিকেলে
কলেজ থেকে এসে বারান্দায় দাড়িয়ে মন চলে যেত স্কুলফেরত বালিকাদের দিকে | কিছু
সম্পর্ক গড়ে উঠলেও, অনেকগুলো গড়ে উঠবে উঠবে করেও করেনি | এইরকম এক সম্পর্ক গড়ে না
উঠার কাহিনী আজ |
তখন আমরা হোস্টেল দশে থাকি | দুই বন্ধু, নাম ধরে নেওয়া যাক অমল আর বিমল |
অমলের মডেল স্কুলের একটি মেয়েকে ভারী পছন্দ | কিন্তু বলবে কিভাবে ? সোজা রাস্তা,
যদি মেয়েটিকে কোনোভাবে ইমপ্রেস করা যায় | বিমল অমলের প্রানের বন্ধু, বন্ধুর সাথে
ঠিক করলো একদিন স্কুল ছুটির সময় বিমল উল্টোদিক থেকে এসে মেয়েটিকে ইচ্ছে করে একটু
ধাক্কা মারবে | প্লান অনুসারে অমল স্কুলের দিক থেকে এসে বিমলের জামার কলার ধরে
দু-এক ঘা বসিয়ে দেবে | ধরে নেওয়া যায়, সেই মেয়েটি অমলকে এসে ধন্যবাদ জানাবে এবং সেই
সুযোগে প্রেমকাহিনী শুরু হবে | সব ঠিক, প্লান অনুসারে অমল আর বিমল শেষ ক্লাসটা মায়া
করে (মানে কেটে পড়ে) হোস্টেল চলে এলো |
স্কুল ছুটির সময় হয়েছে | দুজনে প্ল্যান অনুসারে সেই রাস্তায় নিজের নিজের
জায়গায় চলে গিয়েছিল | অমল খুব উত্তেজিত, স্কুল ছুটি হয়েছে, সবাই বেরিয়ে আসছে | ওই
তো সেই মেয়েটি | অমল দেখল উল্টোদিক থেকে দ্রুত হেঁটে আসছে বন্ধু বিমল | চরম
উত্তেজনা, কিন্তু সেই উত্তেজনার বশেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা |
অমল উত্তেজনার বশে ঠিক জায়গায় চলে এলেও, সময়ের একটু ভুল করে ফেলল | বিমল এসে
ধাক্কা মারার আগেই অমল হঠাৎ দৌড়ে এসে বিমলের উপর ঝাপিয়ে পড়ল | শুরু হলো কিল-চড়,
যেগুলো উত্তেজনার বশে একটু জোরালোই হয়ে গিয়েছিলো | হঠাৎ কলেজের দুই ছাত্রের রাস্তায়
মারামারি দেখে আশেপাশে লোকজন জড়ো হতে সময় লাগেনি | মেয়েটি ও তার বন্ধুরাও ঘাবড়ে
গিয়ে দাড়িয়ে পড়ে | লোকজন জানতে চাইলে অমল হাঁফাতে হাঁফাতে বলে, "দেখুন না, এই
ছেলেটি খুব অসভ্য | মেয়েদের সন্মান দিতে জানে না | এইতো জিজ্ঞেস করুন না এদের
এসে ইচ্ছে করে ধাক্কা মারলো |”
মেয়েদের দল অবাক, "কোই এমন তো কিছু হয় নি ! আমাদের সামনে আসতেই হঠাৎ এই দুজন
এসে মারামারি শুরু করলো নিজেদের মধ্যে |"
বিমল তখন অমলকে প্রানপনে বোঝাতে চাইছে "অমল সময়ের ভুলে সব গণ্ডগোল হয়ে গেছে |”
বুঝতে পেরে অমলেরও তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা | জড়ো হওয়া লোকজনের বুঝতে
অসুবিধে হলো না যে দুজনের কিছু বদ মতলব ছিল | তারপর সবাই মিলে অমল আর বিমলকে বেশ
কয়েক ঘা দিয়ে ছেড়েছিল | তারসাথে জোটে মেয়েদের বক্রোক্তি | দুজনে জামা কাপড় ছিড়ে,
মরমে মরে হোস্টেল-এ ফিরে এসেছিল | আমরা কলেজ থেকে ফিরে এসে অনেক পরে দুজনকে দেখতে
পাই পাঁচতলার ছাদে জলের ট্যাঙ্কের উপর |
দুজনে গাঁজার কল্কেতে টান দিতে দিতে আকাশের তারা গুনছিল |