সময়
হলে টুংটাং শব্দে সবাই উঠে প্লাটফর্মে দাড়িয়ে পড়ল। ট্রেন এলো, একটু ধোঁয়া বার করে
কু ঝিকঝিক করে চলে গেল। জমিদার ট্রেন দেখে অবাক। কপালে হাত ঠেকিয়ে নমস্কার করে
বললেন, "বটেব বটে ইঞ্জিন ঠাকুর। হা ভাল্লি বাবা। টুকচুন ছিলিমটো
সুলগালেক আর গোটা লাটফরমটা ধোকোপোকো ধোকোপোকো দনদনাইয়া চলি
গেলা।"
কেউ আর ঘুমায় না। সেই অদ্ভুত ট্রেন
নিয়ে গল্পো চললো। ভোরের ট্রেনে করে সবাই কলকাতায় এলেন। কন্যাপক্ষ তাড়াতাড়ি এসে
বরপক্ষকে অনুরোধ করে বললো, "আসুন আসুন, বাইরে অনেকগুলো মোটড় রেডি আছে আপনাদের
জন্যে"। জমিদার ভাবলেন শহরের লোকেরা ফাজলামি করছে। সকালে মোটর দিয়ে মুড়ি খাব নাকি।
এসব ভেবে হটাত খেপে গিয়ে বললেন "কতোগুলো মটোর আছে আপনাদের?" উত্তর পেলেন তা বেশ
কিছু।
জমিদার হাঁক পারলেন দলের অশোক বলে একটি
ছেলেকে "ওরে ওশকা, নিয়ে আয় তো ঝোলাটা।" অশোক নিয়ে এলে উনি ঝোলা খুলে সব মটোরভাজা ছড়িয়ে দিলেন প্লাটফর্মে, বললেন "ভালুন কোতো
মটোর আছে। মিউনিসিপালিটি থেকে কাড়ার ভ্যান
লইয়া আসেন আমার পোলাপানের লগে।" অতঃপর মেয়ের বাড়ি
থেকে কি করেছিল জানা নেই। কেউ জানলে বলবেন।
অর্থ: বটেব বটে - ওরে বাবা; ভাল্লি - দেখলাম; টুকচুন - একটুকু; ছিলিমটো - ধোঁয়াটা; সুলগালেক - বার করল; লাটফরমটা - প্লাটফর্ম; ধোকোপোকো
ধোকোপোকো দনদনাইয়া - ধুকপুক ধুকপুক শব্দে কাঁপিয়ে; ওশকা - আশোক; কাড়ার ভ্যান - মোষের গাড়ি; পোলাপানের – ছেলের।
(Screenshot attached if the Bengali
font is not coming properly in your
screen)