আজ আগে মেদিনীপুর, তারপর পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর।
তখন আমি খুব ছোট, কাঁথিতে থাকতাম | মেদিনীপুরের চলিত ভাষায় 'র' কে 'অ' বলে |
পাশের বাড়িতে একজনের শরীর খারাপ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে | রক্ত দরকার ছিল
কিন্তূ রাতের বেলায় পাওয়া যায়নি, পরদিন যোগাড় হবে | বাড়ির লোক ফিরে এসে জানতে
চাইলে বললো "আঁতের বেলায় অক্ত নাই।"
একটা ছোটো অনুষ্ঠান হচ্ছে | একটি বালিকা কবিতা পাঠ করছে "পাখি সব, কঅে অব,
আঁতি পোহাইল".................. আরো ছিল 'অবীন্দ্র'-জয়ন্তীতে 'অবীন্দ্রনাথ'-এর
কবিতা, 'আস'মেলা |
...................................................................................................
আজ শেষ করব পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের একটা ছোট্ট গল্প দিয়ে | আমি নবম থেকে একাদশ
শ্রেণী পড়েছিলাম একটা স্কুল-এ যার নাম ছিল রঘুনাথপুর গোবিন্দ দাস লঙ হাই স্কুল
(Raghunathpur G. D. Lang High School) | আমার বন্ধুদের অনেকেই অনেক দূর থেকে পড়তে
আসত | আদ্রা, জয়চন্ডিপুর, আড়া, আনাড়া অনেক জায়গা থেকে। অনেকেই ছিল খুব গরিব আদিবাসী
সম্প্রদায়ের | আমার তেমন দুই বন্ধু ছিলো হেমব্রম আর মুর্মু। দুজনেই সাঁওতালডিহি
থেকে আর স্কুল-এর কাছেই একটা হোস্টেল-এ থাকত |
পরিমল হেমব্রম-এর বাবা একদিন এসেছে ছেলের কাছে। দিনমজুরি করেন আর কিছু জমি আছে
বছরে একবার ধান হয় আর বাকি সময় কিছু রবিশস্য | রঘুনাথপুর এখনো একটা ছোট্ট মফস্বলের
শহর, তবু গ্রামের মানুষের কাছে সেটাই বিশাল ব্যাপার |
তিনি সারাদিন ছেলের সাথে রঘুনাথপুর শহর ঘুরে জয়্চন্ডি পাহাড়, যেখানে হীরক
রাজার দেশের শুটিং হয়েছিল সেই পুকুর, গুহা, মুনসেফডাঙার সরকারী অফিস, বাংলো,
দমনসায়র, নাড়ার বাঁধ এইসব দেখে চমকিত, পুলকিত, বিস্মিত। কিন্তূ সারাদিন ঘুরে এসে
ছেলে যখন নিজের বাসায় এসে ছোট্ট একটা কালো বোতাম (আগেকার গোলাকৃতি সাদা কালো
ইলেকট্রিক সুইচ) টিপে একটা বেগুনের মত দেখতে আলো (সাধারণ বাল্ব) জ্বালিয়ে দিলো তখন
ওনার মুখটা যে হাঁ হলো সেটা বন্ধ্য হলো সাঁওতালডিহিতে নিজের বাড়ি ফিরে গিয়ে।
গিন্নি জানতে চাওয়ায় সেদিন অভিজ্ঞতা, বিশেষত সন্ধ্যের সেই বৈদুতিক আলো
জ্বালানোর ঘটনার বিবরণ দিলেন "বটেব বটে রঘুনাথপুর সোহোর। হা ভাললি বাবা। পোলাটো
ঘরটায় সামাইল আর টুকচুন বোতোমতো টিপলেক। আর বাইগোনো বাতিটা বিজলাই গেলা।"