Hi Everyone,
Can you please spend a few moment to read the following writing of mine? I am seeking your help for Nahid Jahan Lina, a cancer patient. Attached herewith are the reports published on Lina.
Thanks,
Rukhsana Tajin
................................................................................................................................
কয়েকদিন আগে একটা ইমেইল পেলাম। প্রেরক নাহিদ জাহান লিনা। নামটা পরিচিত তবে সে মুহূর্তে মনে করতে পারছিলামনা আমি তাঁকে কীভাবে চিনি। পরক্ষণেই স্মৃতি সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। লিনা-র ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার খবর নিয়ে
২০১১ সালে ব্লগে, পত্রিকায় অনেক রিপোর্ট বেরিয়েছে। সেসময় শিক্ষক সাব্বির ভাইয়ের জন্য আমি অর্থসাহায্য সংগ্রহের চেষ্টায় দিন কাটাচ্ছি। লিনা আপার খবরটা দেখলেও কোনরকম সাড়া দিতে পারিনি। শুধু আশা আর প্রার্থনা করেছিলাম, মানুষটা ভালো হয়ে উঠুক। ২০০৯ সাল থেকে পরপর তিন দফায় ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়া এই মানুষটা কতটা জীবনযন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা আমার অনুমানেরও অতীত।
লিনা আপার কথা জানতে পারি তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে। ‘মেহেরুন রুনি’- সেই সাংবাদিক যিনি স্বামীসহ খুন হয়েছেন এবছরের ১১ ফেব্রুয়ারি – লিনা আপার জন্য সাহায্য চেয়ে ‘প্রথম আলো’ তে লিখেছিলেন ১১ জুলাই, ২০১১ তে। সহ-রচয়িতা ছিলেন
মুন্নী সাহা, শাহনাজ মুন্নী এবং আরো কয়েকজন সাংবাদিক। অন্য সব পত্রিকার রিপোর্ট এবং ব্লগ থেকে ‘লিনা’ নামটার আড়ালে যে মানুষ তিনি স্পষ্ট হতে শুরু করেন আমার কাছে। জানতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ‘লীনা আপা শুধু নিজের জন্যই সংগ্রাম করছেন তা নয়। একসময় শীতার্তদের জন্য অর্থ ও বস্ত্র সংগ্রহ করেছেন, প্রগতিশীল
আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে ছাত্র ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়েছেন। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সহযোগিতার অপরাজিতা নামের সংগঠনে যুক্ত হয়েও লড়ছেন।’ আরো জানতে পারি, মানুষের জন্য লড়ে যাওয়া লিনার অনেক পুরনো অভ্যাস। ‘ছাত্র জীবনে দেশ ও মানুষের প্রয়োজনের সকল আন্দোলন ও মানবিক বিপর্যয়ে লীনা ছিলেন সর্বদা সজাগ এবং নিবেদিত। ঝড় জলোচ্ছ্বাসে মানুষ না খেয়ে আছে কোন উপদ্রুত অঞ্চলে অথবা শীতে মানুষ মারা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গে কোথাও কিংবা মঙ্গায় উত্তরের অনাহরি
জনপথে হাহাকারে লীনার যেন ঘুম নেই। মানুষের পাশে দাড়াবার জন্য সে বন্ধুদের নিয়ে পথে নেমেছে। দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার অর্থ তুলতে হবে, লীনা প্লাকার্ড নিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঘুরেছেন। আজ সেই লীনাই লড়াই করছেন ক্যান্সারের সঙ্গে।’ পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছলেন সাংবাদিকতা। ‘একুশে টিভির হাত ধরেই তার সাংবাদিকতার জীবনের শুরু। এরপর একে একে দেশের সকল শীর্ষ টিভি সিএসবি, এটিএন বাংলা ও এনটিভিতে কাজ করেছেন।’ সমাজ বদলে দেবার সংগ্রামে প্রত্যয়ী সহযোদ্ধারা এবং সাংবাদিক বন্ধুরা লিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন শুরু থেকেই। বিভিন্ন মহল থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দিয়েছেন।
সেদিন ইমেইলে লিনা আপা লিখলেন, ‘তাজীন, আমার জন্য কিছু করুন। পাঁচ বছরের মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতে পারিনা। আমি মরে গেলে এ দুনিয়ায় কীভাবে একা বেড়ে উঠবে মেয়েটা? অসুখের কারণে চাকুরিচ্যুত হয়েছি। আমার স্বামী পলাশ দেশ টিভি-তে
কাজ করছে, খুব অল্প বেতন। সংসার চালিয়ে হিমশিম, তার উপর আমার জন্য এতগুলো টাকা চলে যাচ্ছে। সেই ২০০৯ সাল থেকে ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে। ৪২ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে আমার পেছনে। প্রতি ২১ দিনে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রয়োজন আমার কেমোথেরাপি আর ‘হারসেপটিন’ নামক এন্টিবডি শরীরে সরবরাহের জন্য।’
লিনা আপা আরো জানান, যতদিন অর্থের সংকুলান হবে এবং তাঁর শরীর নিতে পারবে ততদিন চিকিৎসা
চলবে। বন্ধ হলেই...আনা, লিনা আপার মেয়েটার মা-বিহীন পৃথিবীতে বসবাসের সম্ভাবনাটা প্রবল হবে। যখন লিনা আপা লেখেন, ‘আমার পরিবার খুব সাধারণ, তাজীন। বাবা সরকারী কর্মচারী ছিলেন। দশ বছর আগে অবসর
নিয়েছেন’, তখন তাঁর ছায়া আমি নিজের মাঝে দেখতে পাই। বুঝতে পারি কতটা অসহায় হয়ে এই মানুষটা এখন নিজ থেকে চেনা অচেনা সবার কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আশা একটাই। যদি আমরা একটু দয়াপরবশ হই, যদি নিজের সঞ্চিত অর্থ থেকে একটু ব্যয় করি তাঁর জন্য! আনা-কে বুকে লেপ্টে ঘুমানোর দিন
তবে একটু দীর্ঘায়িত হয়, ‘মেয়েটার সাথে আর কয়েকটা দিন বেশি যাতে কাটাতে পারি’ – তাঁর এই স্বপ্নটা সফল হয়।
আনা-র জন্য বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি নিয়ে সেখানে লিখেছেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি ততদিন ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য আমিও কিছু ক্ষুদ্র প্রয়াস রেখে যেতে চাই। আর আমার বুকের ধন ছোট্ট আনাকে দিয়ে যেতে চাই জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলো। ওর বয়োঃসন্ধি কালটি পার করে রেখে যেতে পারলে মরে গিয়েও শান্তি পেতাম। কিছুটা মানুষের মত মানুষ বানিয়ে যেতে চাই।’ লিনা
অবগত আছেন যে আমরা প্রত্যেকেই নানারকম সমস্যায় জর্জরিত, আমাদের চারপাশে অনেক ‘লিনা’ অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় জীবনের কাছে পরাজয় মেনে নিচ্ছে। তবুও, আশাবাদী মানুষ তো সে-ই যে প্রাণ হারানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। তাই তিনি লিখেন, ‘এই পৃথিবীতে কোন কিছুই অবিনশ্বর নয়, সবাইকেই চলে
যেতে হবে। কখনও আগে আর কখনও পরে, একথা আমাদের সকলেরই জানা। এও জানি কারও জন্য কোন কিছু থেমে থাকে না, সময়ের সাথে সাথে আনাও বড় হয়ে উঠবে। আপনারা আমাকে স্বার্থপর বলবেন কিনা, জানিনা। তবে হ্যা, আমার মিষ্টি মেয়েটার সাথে
থাকতে বড়ই লোভ হয়। তার বেড়ে উঠার দিনগুলোতে পাশে থাকতে বড়ই সাধ জাগে। তাই, আপনাদের সকলের কাছে আকুল মিনতি রাখছি- এই মিনতি রাখতেও আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে, দ্বিধাবোধ হচ্ছে, তবুও রাখছি- “আর
একটিবার আপনারা আমাকে আপনাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন”। আপনাদের বিন্দু বিন্দু সহমর্মিতাই হয়তো পারে আমাকে আবার জীবনের আশার আলো দেখাতে, আর আমার ছোট্ট আনা পেতে পারে মায়ের ভালোবাসা।’
আমরা কি একটু ভাববো আমাদের পাশের বাড়ির, মানবদরদী, জীবনযোদ্ধা মিষ্টি এই মেয়েটার জন্য?
সাহায্য পাঠানোর বিস্তারিত এবং যোগাযোগের ঠিকানাঃ
Nahid Jahan
Standard Chartered Bank AC no:
18341104401
SWIFT Code: SCBLBDDX
অস্ট্রেলিয়া থেকে কেউ যদি সরাসরি ব্যাংকে পাঠাতে চান তবে আমার নীচের এই একাউন্টে পাঠাতে পারেনঃ
Commonwealth Bank
A/C Name: Rukhsana Tarannum
Tajin
BSB: 062831
A/c No: 10327883
PayPal এর মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে অনুগ্রহ করে নীচের লিঙ্কে Donate বাটনটির সাহায্য নিনঃ
http://tajinseekinghelp.wordpress.com/