আসসালামু আলাইকুম।
দু'টো কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া রাজশাহীর স্কুল
শিক্ষক সাব্বির রহমানের কথা আপনাদের হয়ত মনে আছে। সাব্বির ভাইয়ের স্কুলে পিএইচডি
এর ডাটা কালেকশন করতে গিয়ে এই মানুষটার সাথে পরিচয় হয়। দুই কিডনির কার্যক্ষমতা
প্রায় শেষ, শরীরে অসম্ভব যন্ত্রণা, তাও হাসিমুখে অসীম সাহস আর মনোবলের সাথে স্বপ্ন
দেখতে থাকা এই মানুষটা আমাকে অবাক করে দেন। তাঁকে নিয়ে ব্লগ লিখি, সবার
কাছে ইমেইলে, ফেসবুকে, পত্রিকার পাতায় তাঁর জন্য সাহায্য খুঁজতে থাকি।
আপনাদের অনেকেই তাঁর সাহায্যে তখন এগিয়ে
এসেছেন। শুরুতে প্রায় অসম্ভব মনে হলেও দেশ-বিদেশের সহৃদয় মানুষের সহায়তায় ২০১১
সালে বারডেম হাসপাতালে সাব্বির ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়। না, তাঁর গল্প সেখানে
শেষ হয়ে যায়নি। বরং বেঁচে থাকার একটু আশা আর একমাত্র মেয়ে মৃদুলার প্রতি প্রাণভরা
ভালোবাসা নিয়ে জীবনযুদ্ধের নতুন এক অধ্যায় শুরু হয় তখন থেকে।
মায়ের একটা কিডনি শরীরে প্রতিস্থাপিত হলো,
কিন্তু পোস্ট-অপারেটিভ খরচের একটা বিশাল ধাক্কা সাব্বির ভাই প্রায় তিনবছর ধরে
সামলে চলেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাব্বিরের বেতন ছাড়া আর কোন অর্থ
উৎস নেই। বাবা, মা, স্ত্রী, কন্যা এবং বোনকে নিয়ে পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনকারী।
আমাদের সৌভাগ্য যে তাঁর জন্য ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে আমরা নাসির, জাকির, পপি-র
মতো মহৎপ্রাণ কিছু মানুষকে কাছে পেয়েছিলাম। এই মানুষগুলো গত প্রায় তিনবছর ধরে
সাব্বির ভাইয়ের ওষুধ, টেস্ট এসব বাবদ যে বিশাল খরচ হচ্ছে তার জন্য স্বতোপ্রণোদিত
হয়ে কর্মক্ষেত্র বা পরিচিত মহলে প্রচারণা চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে চলেছেন। এভাবেই তাঁরা
সাব্বির ভাইয়ের জন্য অপারেশনের পর প্রথম বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয়
বছর চার লক্ষ এবং এবছর এখন পর্যন্ত প্রায় দুইলক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোটভাই নাসির এবছর ফেব্রুয়ারিতে লিখলো,
'এই মুহূর্তে আমাদের ফান্ড একেবারে শূন্য। সর্বশেষ গত মাসে আমার এক কলিগের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমি এই মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ওষুধ সাব্বির ভাইকে কিনে পাঠিয়েছি। এরপর কি হবে আমি জানিনা বলে দিলেই হত, সবারই সাধ্যের সীমা থাকে, I
have done my part, that's all. কিন্তু আমার মনে হচ্ছে প্রায় জিতে ফেলা একটা যুদ্ধ এভাবে হেরে বসার কোন মানেই হয় না। ইনশাআল্লাহ মাসে প্রায় ২৪ হাজার টাকার এই খরচটাও কোন না কোন ভাবে উঠিয়ে আনা সম্ভব। ২৪ হাজার টাকার দায়িত্ব একজনের জন্য অনেক বড়, কিন্তু আমরা যদি মাত্র ২০ জন যোগাড় করতে পারি, তাহলে কিন্তু মাসে মাত্র ১২০০ টাকা, যারা বিদেশে থাকেন তাদের জন্য মাসে ২০ ডলারেরও কম ! অনেকেই (বলতে গেলে সবাই) যাকাত বা কোন না কোন উপলক্ষে দান করে থাকেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি আপনারা সাব্বির ভাইকেও সেই বিবেচনায় আনতে পারেন।'
প্রচণ্ড আত্মগ্লানিতে ভুগি কারণ সাব্বির ভাইয়ের জন্য গত
দু'বছরেরও অধিক সময় কিছুই করতে পারিনি। তিনি সম্প্রতি অনেক কষ্ট নিয়ে লিখেছেন,
'গত এক বছরে ডায়াবেটিস এর গড় ২৪.৫। প্রতি মাসে ২৫০০০ টাকার মতো লাগে। ডায়াবেটিস এখন ১২/১৪ থাকে। শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হচছে। দুপুরে পর কোন কাজে এনার্জি পাইনা। দুপুরে বিশ্রাম না নিলে অবসাদে ভুগি। আর্থিক অবস্থা প্রচন্ড খারাপ। ভাবছি ইসকুলের পর অটোরিকশা চালাব। আপনাদের কাছে আর কত চাইবো? প্রচন্ড মানসিক অস্থিরতার মাঝে দিন কাটছে।'
শরীরের এই
অবস্থা নিয়ে অটোরিকশা চালানো? ভীষণ কষ্ট পেলাম। যাকাত বা অনুদান হিসাবে আমরা কি
একটু সাহায্য করতে পারি সাব্বির-কে?
সাহায্য পাঠানোর বিস্তারিতঃ
Prime Bank Account:
মোঃ সাব্বির রহমান (Md. Sabbir Rahman), সঞ্চয়ী হিসাব নং ১১২২১০৮০০১৪৪১৩, Prime Bank, রাজশাহী ।
রাজশাহী প্রাইম ব্যাংকের SWIFT code: PRBLBDDH009 (RAJSHAHI
BRANCH) 138/144, SHAHEB BAZAR, RAJSHAHI, BANGLADESH
DBBL Account:
মোঃ সাব্বির রহমান (Md. Sabbir Rahman), অ্যাকাউন্ট নম্বরঃ ১৩৫.১০১.২৬৭৬৮১
বিকাশ নাম্বারঃ ০১৭১৯৯৩৩০৯৬ (এই নাম্বারে সাব্বির ভাইয়ের সাথে যোগাযোগও করতে পারেন)
অস্ট্রেলিয়া থেকে কেউ যদি সরাসরি ব্যাংকে পাঠাতে চান তবে
আমার নীচের এই একাউন্টে পাঠাতে পারেনঃ
Commonwealth Bank
A/C Name: Rukhsana
Tarannum Tajin
BSB: 062831
A/c No: 10327883
আমি সাব্বির ভাইয়ের দেশের একাউন্টে পাঠাবার ব্যবস্থা করবো।
আপনারা যদি মনে করেন আপনার কোন বন্ধু বা আত্মীয় এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন তাহলে অনুগ্রহ করে মেসেজটা শেয়ার করুন।
সাব্বির ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে
অপেক্ষায় রইলাম।
বিনীত,
রুখসানা তারান্নুম তাজীন
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া।