একজন মুসলিমের অন্তর ও জীবনে হজ্জ পালনের প্রভাব
দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে শুরু করছি
Can’t read due to font problem? Please click here or visit http://www.aqpbd.com!
হজ্জের বিভিন্ন আবশ্যকীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনের অনেক গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য রয়েছে। যিনি এগুলো বুঝে-শুনে পালন করতে সক্ষম হন তিনি তাঁর অন্তর ও জীবনে এর উত্তম প্রভাব ও ফলাফলগুলো উপলব্ধি করতে পারেন। পর্যায়ক্রমিকভাবে সেগুলো এখানে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
১. হজ্জে যাত্রার শুরুতে: পবিত্র হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে নিজ বাসস্থান থেকে - আল্লাহর ঘর বাইতুল্লাহ ও আরাফাতের ময়দান যেখানে - সেই পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে যাত্রার শুরুতেই হাজী সাহেবদের অন্তরে মহান আল্লাহ তা’লা ও আখিরাতের দিকে তাঁদের যাত্রার কথা মনে পরে যায়। যখন তাঁরা তাঁদের পরিবার-পরিজন, সন্তান, আপনজন, তাঁদের ব্যবসা, ধন-সম্পদ ও নিজ দেশ ত্যাগ করে যাত্রা শুরু করেন - এটি যেন তাঁদের পরকালের যাত্রার এক মহড়ার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
২. হজ্জের পাথেয়: হজ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় সবাই নিজে জেনে-বুঝে ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারনা নিয়ে খুবই সতর্কতা ও যত্নের সাথে এবং হিসেব করে তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও পাথেয় সাথে নিয়ে যান। পাথেয় সংগ্রহ ও সাথে রাখার উদ্দেশ্য এটাই যে, যাতে আল্লাহর ঘরে নিরাপদে গিয়ে পৌঁছতে এবং সেখানে সব অনুষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে এগুলোর সাহায্য নেয়া যায়। এটিও আখিরাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতির কথা হাজী সাহেবদের মনে করিয়ে দেয়। এ সম্পর্কে মহান রাব্বুল আ’লামীন বলেন:
তোমরা (হজ্জের জন্য) পাথেয় সাথে নিও। আত্মসংযমই (তাকওয়া) হলো শ্রেষ্ঠ পাথেয়।
৩. হজ্জে ভ্রমণকালীন পরিশ্রম ও কষ্ট: হজ্জের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক সমস্যা, বাধা, পরিশ্রম ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় - যা ঠিক যেন দুনিয়া থেকে আখিরাতের উদ্দেশ্যে যাত্রার মতোই। সেখানে একজন মানুষের সামনে থাকে যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যুর দুশ্চিন্তা, স্বয়ং মৃত্যু, কবরের জীবন, হাশরের ময়দানে একত্রিত হওয়া, জবাবদিহি, হিসাব-নিকাশ, মীযান (তুলাদণ্ড), আস্-সীরাত (জাহান্নামের ওপর এক সেতু, যার ওপর দিয়ে সবাইকে যেতে হবে), তারপর জান্নাত অথবা জাহান্নাম। চির সৌভাগ্যবান সে-ই যাকে মহান আল্লাহ সেদিন রক্ষা করবেন।
৪. ইহরামের কাপড় পরা: হাজী সাহেবগণ যখন ইহরামের উদ্দেশ্যে সেলাইবিহীন সাদা দু’টুকরো কাপড় পড়েন তখন তাঁদের অন্তরে এটি সেইদিনের কথাই মনে করিয়ে দেয় যেদিন তাঁকে এমনভাবেই কাফনের কাপড় পরানো হবে। এটি তাঁকে গুনাহর কাজ পরিত্যাগ করতে উৎসাহিত করে। তিনি যেমন তাঁর শরীরকে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন ঠিক তেমনি তিনি তখন থেকে তাঁর গুনাহগুলোকেও ঢেকে ফেলা (পরিত্যাগ করা) উচিত। তিনি যেমন করে সাদা দু’টি কাপড় দিয়ে তাঁর দেহ এবং অঙ্গগুলোকে ঢেকে দেন ঠিক তেমনি তখন থেকে তাঁর অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো থেকে সব ধরনের গুনাহর দাগগুলো মুছে ফেলা উচিত।
৫. তালবিয়া পাঠ: ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট স্থান (মীকাত) যখন তিনি অতিক্রম করেন এবং বলতে থাকেন ‘লাব্বাইক! আল্লাহুম্মা লাব্বাইক! হাজির! হে আল্লাহ, আমি হাজির!’ যার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, তিনি তাঁর মহান প্রতিপালক আল্লাহ সুব্হানাহু ওয়াতা’লার ডাকে সাড়া দিয়েছেন - তারপর থেকে তিনি আর কিভাবে কোনো গুনাহর কাজে লিপ্ত বা জড়িত হতে পারেন? আল্লাহর কাছে হাজির হবার আরেক অর্থই হলো: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার সব নিষিদ্ধ কাজগুলোকে পরিত্যাগ করে শুধু তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তোমার কাছে চলে এসেছি।’ কাজেই গুনাহ পরিত্যাগ করার কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়ার তখনই সময়।
(চলবে...)