An'am: 76-79

12 views
Skip to first unread message

Al-Quran Protidin

unread,
Sep 27, 2011, 11:17:12 PM9/27/11
to bangla...@googlegroups.com

সূরা আ-আনআম

আয়াত: ৭৬-৭৯

Can’t read due to font problem? Please click here or visit www.aqpbd.com!

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অভিশপ্ত শয়তান থেকে; পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে শুরু করছি।

فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ رَأَىٰ كَوْكَبًا ۖ قَالَ هَـٰذَا رَبِّي ۖ فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ

৭৬. তারপর রাতের অন্ধকার যখন তাকে (ইবরাহীম আ:কে) আচ্ছন্ন করলো তখন সে এক নক্ষত্র দেখে বললো: এটাই আমার প্রতিপালক এরপর যখন তা ডুবে গেলো তখন সে বললো: যারা ডুবে যায় আমি তাদের (ভক্ত হতে) পছন্দ করি না।

76. When the night covered him over with darkness he saw a star. He said: “This is my lord.” But when it set, he said: “I like not those that set.”

فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَـٰذَا رَبِّي ۖ فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَئِن لَّمْ يَهْدِنِي رَبِّي لَأَكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ

৭৭. তারপর যখন সে চাঁদকে আলো ছড়িয়ে উদিত হতে দেখলো, তখন বললো: এটা আমার প্রতিপালক। কিন্তু যখন সেটাও ডুবে গেলো তখন বললো: আমাকে আমার প্রতিপালক সৎপথ না দেখালে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হবো।

77. When he saw the moon rising up, he said: “This is my lord.” But when it set, he said: “Unless my Lord guides me, I shall surely be among the erring people.”

فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَـٰذَا رَبِّي هَـٰذَا أَكْبَرُ ۖ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ

৭৮. তারপর যখন সে সূর্যকে দীপ্তিমান হয়ে উদিত হতে দেখলো তখন বললো: এটা আমার প্রতিপালক, এটি সবচেয়ে বড়। কিন্তু যখন তাও ডুবে গেলো, তখন সে বললো: হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।৭৯

78. When he saw the sun rising up, he said: “This is my lord. This is greater.” But when it set, he said: “O my people! I am indeed free from all that you join as partners in worship with Allah.”

৭৯. নবী হবার আগেই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যে প্রাথমিক চিন্তাধারার সাহায্যে মহাসত্যে পৌঁছে গিয়েছিলেন এখানে তার অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।

এখানে দেখানো হয়েছে যে: সুস্থ মস্তিষ্ক, নির্ভুল চিন্তা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিশক্তির অধিকারী এক ব্যক্তি যখন এমন এক পরিবেশে চোখ মেললেন যেখানে চারদিকে শির্‌কের ছড়াছড়ি, একত্ববাদের শিক্ষা লাভের কোনো উৎস আর অবশিষ্ট নেই, তখন তিনি কিভাবে বিশ্ব-প্রকৃতির নিদর্শনগুলো পর্যবেক্ষণ এবং গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে তা থেকে সঠিক ও নির্ভুল যুক্তি-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত সত্যে উপনীত হতে সক্ষম হলেন।

ছোট বেলায় জ্ঞান হবার পর হযরত ইবরাহীম আ: দেখেন তাঁর চারদিকে চন্দ্র, সূর্য ও তারকারাজির পূজার ধুম চলছে। তাই সত্যি এদের কেউ তাঁর প্রতিপালক কিনা - এ প্রশ্নটি থেকে তাঁর সত্য অনুসন্ধানের সূচনা হয়েছিল। এ মূল প্রশ্নটি নিয়ে তিনি চিন্তা-ভাবনা করেন। অবশেষে নিজের জাতির তথাকথিত সব প্রতিপালককে একটি অমোঘ বিধানের আওতায় বন্দী দাসানুদাসের মতো আবর্তিত হতে দেখে তিনি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, যাদেরকে প্রতিপালক (রব) হওয়ার দাবী করা হয় তাদের কারোর মধ্যে সে যোগ্যতার লেশমাত্রও নেই। রব মাত্র একজনই, যিনি এদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর বন্দেগী করতে সবাইকে বাধ্য করেছেন।

# প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ক. যে বাচনভঙ্গির মাধ্যমে এ ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে তাতে পাঠকের মনে এ প্রশ্ন সৃষ্টি হয় যে, ছোট বেলায় জ্ঞান চক্ষু উন্মীলিত হবার পর থেকেই কি প্রতিদিন হযরত ইবরাহীম আ: দিনের পরে রাত হতে দেখতেন না? তিনি কি প্রতিদিন সূর্য, চন্দ্র ও তারকাদের উদিত ও অস্তমিত হতে দেখতেন না? আর একথা তো সুস্পষ্ট যে, এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পরই করেছেন। তাহলে এ ঘটনাটি এভাবে বলা হয়েছে কেন? যেন মনে হচ্ছে, এ বিশেষ ঘটনাটির আগে তাঁর এসব দেখার সুযোগই হয়নি?

উত্তর: অনেকের কাছে এ সন্দেহের নিরসন এমনই অসাধ্য মনে হয়েছে যে, তারা এর জবাব দেয়ার জন্য হযরত ইবরাহীম আ:র জন্ম ও প্রতিপালন সম্পর্কে একটি অস্বাভাবিক গল্প ফেঁদে বসা ছাড়া আর কোনো উপায়ই দেখেননি। তাদের সে গল্পে বলা হয়েছে: হযরত ইবরাহীম আ:র জন্ম ও প্রতিপালন হয় একটি গুহার মধ্যে। সেখানে প্রাপ্ত বয়স্ক হবার আগ-পর্যন্ত তাঁকে চন্দ্র, সূর্য, তারকার দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। একথাটি মোটেই সঠিক না।

এটি বোঝার জন্য এ ধরনের গল্প তৈরি করার কোনো প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞানী নিউটন সম্পর্কে বহুল প্রচলিত ঘটনা: তিনি একদিন একটি বাগানে গাছ থেকে আপেল পড়তে দেখে হঠাৎ তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, আপেলটি আকাশে না উঠে মাটিতে পড়লো কেন? এর ওপর চিন্তা-ভাবনা করতে করতে তিনি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আবিষ্কারক হলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ঘটনাটির আগে নিউটন কি কখনো কোনো জিনিস ওপর থেকে নীচে পড়তে দেখেন নি? অবশ্যই দেখেছেন, বহুবার দেখেছেন। তাহলে কি কারণে সেই একটি বিশেষ দিনে বিশেষ সময়ে আপেলটি মাটিতে পড়ার ঘটনা নিউটনের মনে এমন প্রশ্ন সৃষ্টি করে যা এর আগে প্রতিদিন শত শত বার এ ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেও তার মনে সৃষ্টি হয়নি? এর একমাত্র জবাব এই যে, চিন্তা-ভাবনাকারী ও অনুসন্ধানী মন সবসময় এক ধরনের পর্যবেক্ষণ থেকে একইভাবে আলোড়িত হয় না।

অনেক সময়ই এমন হতে দেখা গেছে, একটি জিনিস মানুষ ক্রমাগতভাবে দেখতে থাকে, কিন্তু তা তার মনকে কোনোভাবে নাড়া দেয় না। কিন্তু অন্য এক সময় সেই একই জিনিস দেখে তার মনে হঠাৎ একটি প্রশ্ন জাগে এবং তার ফলে তার চিন্তাশক্তিগুলো একটি বিশেষ বিষয়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। অথবা প্রথম থেকে কোনো একটি বিষয়ের অনুসন্ধানে মনে খটকা বা জটিলতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু হঠাৎ একদিন প্রতিদিনকার বারবার দেখা একটি জিনিসের ওপর নজর পড়ার সাথে সাথেই জটিল গ্রন্থি উন্মোচনের সূত্র হাতে এসে যায় আর তারপর সবকিছু পানির মত তরল মনে হয়।

হযরত ইবরাহীম আ:র ঘটনাটিও এ ধরনের। রাত প্রতিদিন আসতো এবং চলেও যেতো। সূর্য, চন্দ্র, তারকা প্রতিদিন চোখের সামনে উদিত ও অস্তমিতও হতো। কিন্তু সেটি ছিল একটি বিশেষ দিন, যেদিন একটি নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ তাঁর চিন্তা ও দৃষ্টিকে এমন একটি পথে পরিচালিত করে যার ফলে অবশেষে তিনি মহান আল্লাহর একত্বের (তাওহীদ) কেন্দ্রীয় সত্যে পৌঁছতে সক্ষম হন। হতে পারে তিনি প্রথম থেকে এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে আসছিলেন যে, যে বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁর জাতির সমগ্র জীবন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে তার মধ্যে কতটুকু সত্যতা আছে? আর এ অবস্থায় অকস্মাৎ আকাশের একটি নক্ষত্রের উদয়াস্ত তাঁর চিন্তার সমস্ত জট খুলে দিয়ে যায়। প্রকৃত সত্য তাঁর সামনে দিনের আলোর মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আবার এও হতে পারে যে, নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের ফলেই তাঁর মনে প্রথম চিন্তার উন্মেষ ঘটে।

প্রশ্ন খ. হযরত ইবরাহীম আ: যখন তারকা দেখে বললেন, এ আমার রব, আবার যখন চাঁদ ও সূর্য দেখে তাদেরকেও নিজের রব বলে ঘোষণা দেন, সে সময় কি তিনি সাময়িকভাবে হলেও শিরকে লিপ্ত হননি?

উত্তর: একজন সত্যসন্ধানী তাঁর সত্য অনুসন্ধানের পথে পরিভ্রমণকালে মাঝপথে যেসব স্তরে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য থামেন, আসল গুরুত্ব সে বিরতির স্থানগুলোর নয় বরং আসল গুরুত্ব হচ্ছে সে গন্তব্যের - যে দিকে তিনি অগ্রসর হচ্ছেন এবং যেখানে গিয়ে তিনি অবস্থান করেন। মাঝখানের এ মনজিলগুলো অতিক্রম করা প্রত্যেক সত্যসন্ধানীর জন্য অপরিহার্য। সেখানে অবস্থান হয় অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে, অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে অবস্থান করা হয় না। মূলত এ অবস্থান হয় জিজ্ঞাসা সূচক ও প্রশ্নবোধক, সিদ্ধান্তমূলক নয়। অনুসন্ধানী যখন এ মনজিলগুলোর কোনোটিতে অবস্থান করে বলেন, ব্যাপারটি এমন তখন এটি মূলত তার শেষ সিদ্ধান্ত হয় না বরং তার একথা বলার উদ্দেশ্য হয়, জিজ্ঞাসা মূলক। অর্থাৎ ব্যাপারটি কি এমন? তারপর পরবর্তী অনুসন্ধানে এর নেতিবাচক জবাব পেয়ে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যান। তাই পথের মাঝখানে যেখানে যেখানে থামেন, সেখানেই তিনি সাময়িকভাবে কুফরী বা শিরক করেন একথা সম্পূর্ণ ভুল। কাজেই হযরত ইবরাহীম আ: তাঁর সত্য অনুসন্ধানের পথে কোনো প্রকার শিরকে লিপ্ত হননি।

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ

৭৯. আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে আমার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।

79. “Verily, I have turned my face towards Him Who has created the heavens and the earth Hanifa (Islamic Monotheism, i.e. worshipping none but Allah Alone) and I am not of Al-Mushrikun.”

মহান আল্লাহ তালাই সবচেয়ে ভালো জানেন

--- দয়াময় আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর পবিত্র বাণীর মর্মার্থ অনুধাবন ও তা মেনে চলার তৌফীক দিন। আমীন!

আগের আয়াতগুলো পড়তে ক্লিক করুন: আ ল - কু র আ ন   প্র তি দি ন

Please visit the own site of Al-Quran Protidin @ www.aqpbd.com

Reply all
Reply to author
Forward
0 new messages