বাংলাদেশের উচু উচু পাহাড় নিয়ে পাচমিশালী
বাংলাদেশের উচু উচু পাহাড় এক ফর্মার একটা বুকলেট ছাপানো হয়েছিল । চিন্তা ভাবনা আছে দেশের উচু পাহাড় নিয়ে একটা ফটোবুক বের করার , স্পন্সর দরকার । চিন্তা ভাবনা গুলা গুছাতে চেষ্টা করছি ।
প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বিশ্বের সকল প্রান্তের তথ্য উপাত্ত এখন মানুষের হাতের মুঠোয় । বাংলাদেশের পাহাড় পর্বতের বিস্তারিত তথ্য সরকারী পর্যায়ে না পাওয়া গেলেও আমেরিকা - রাশিয়ার স্যাটেলাইট , টপো ম্যাপ , ইত্যাদীর মাধ্যমে নেটেই এখন পাওয়া যায় বিশ্বের যে কোন দেশের শত শত চুড়ার নিখুত - বিস্তারিত তথ্য । বাংলাদেশের উঁচু চুড়া গুলো চিহ্নিত হয়েছে মুলত স্যাটেলাইট ডেটা , বিদেশী ম্যাপ আর জিপিএস ডেটার মাধ্যমে ।
দেশের পাহাড় নিয়ে কিছু বলতে গেলে পাহাড় গুলো খুজে পাওয়া এবং এই পাহাড়গুলাতে অভিযান চালানোর ইতিহাস না বললে অপূর্ণতা থেকে যাবে । লিখার শুরুতেই তাই আলোকপাত করছি পাহাড় খুজে পাবার ইতিহাস নিয়ে :
A BRIEF HISTORY OF BD PEAK EXPLORE :
১. মদক তং বা সাকাহাফং: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চুড়া মদক তং বা সাকাহাফং সর্বোচ্চ চুড়া হিসেবে চিন্হিত করেন এবং এর উচ্চতা মাপেন বৃটিশ অভিযাত্রী জিনজে ফুলেন, ২০০৬ সালে । মজারবিষয় তিনি এটাকে চিন্হিত করেন মদক মুয়াল নামে । প্রাচীন ম্যাপ গুলাতে মদক মুয়াল আর মদক তং দুটা নামে -ই পাওয়া যায় , ভিন্ন ভিন্ন স্হানে । মদক মুয়াল নামে ম্যাপে যে জায়গাটা আছে সেটা এখন জও - ত্লং নামে পরিচিত । এই নামে সেখানে একটা ঝিরি আছে , ঝিরি'র নামে পাহাড় আর পাহাড়ের নামে ঝিরি খুব চালু একটা রীতি । যাই হোক ফুলেন সাহেব যেই জায়গায় গিয়েছেন ম্যাপে সেটা মদক তং নামে চিন্হিত আছে । নাম যাই হোক জিপিএস - কোারডিনেট - স্যাটেলাইট ডেটা এসব কিছুর সাহায্য তিনি সবচেয়ে উচু যায়গাটাতেই গিয়েছেন । যাই হোক ফুলেন সাহেবের গাইড লাল ময়কে নিয়ে ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রথম দেশী অভিযাত্রী দল হিসেবে থানচি বলিপাড়া দিয়ে একই পথে অভিযান চালান । অন্যান্যদের মাঝে এই অভিযাণে অংশ নিয়েছিল Sajal Khaled , Aupar Ahmed আর এর মাত্র কয়েক দিন পর নেচার এডভেঞ্চার ক্লাব রুমা বাজার দিয়ে নতুন একটা ট্রেকিং রুট বের করে মদক তং বা সাকাহাফং এর । অন্যান্যদের মাঝে এই অভিযাণে অংশ নিয়েছিল Wadud Mohsin Rubel , Sazzad Hossain এবং @samsul Alam । নেচার এডভেঞ্চার ক্লাবই সাকাহাফং নামটাকে পরিচিত করে তুলে ।
2. জওত্লং : দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চুড়া জও-ত্লং , যেটা ম্যাপে মদক মুয়াল নামে চিন্হিত আছে । আমি নিজে কিছু ম্যাপ দেখেছি যেখানে মদক মুয়াল দেখানো হয়েছে , অথচ সর্বোচ্চ চুড়া মদক তং চিন্হিত করা নেই । ২০০৫ সালে এই চুড়ায় অভিযান চালান নিতীশ চন্দ্র এবং ডা: বিজয় । ওনারা 2007 এও অভিযান চালিয়েছেন এখানে । যতদূর জানি এই চুড়াটি অনুসন্ধানের কাজ করলেও তারা একে পরিমাপ করেননি । যাই হোক ওনাদের অভিযানের ফলে আরেকটি চুড়া সম্পর্কে জানাশোনা হয় অন্যদের । যদিও তারা এটাকে নিয়ে খুব বেশী প্রচার প্রচারণা চালান নি , অব্শ্য এটাকে বাংলাদেশের সব চেয়ে উচু চুড়া বলে মনে করেছিলেন । এই চুড়াটাকে জিপিএস দিয়ে পরিমাপ করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চুড়া হিসেবে চিন্হিত করেন প্রয়াত অভিযাত্রী মুগ্ধ - সুজন আর সাথে ছিলেন S.m. Mainul আর Salehin Arshady .
৩. দুমলং তৃতীয় সর্বোচ্চ চুড়া দুমলং এ অভিযানের জন্য নেচার এডভেঞ্চার ক্লাব বহু দিন ধরে অভিযান চালায় । চার বারের মত অভিযান চালানোর পর ২০১১ সালে সফলতার দেখা মিলে । গুগুল আর্থে এর উচ্চতা জও-ত্লং থেকে বেশী দেখায় , তাই এটাকে দ্বিতীয় উচ্চতম চুড়া হিসেবেই অভিযান চালানো হয় । পরবর্তি কালে জও-ত্লং এ বেশ কয়েকটা অভিযানে সামিট রিডিং নিয়ে দেখা যায় এটা দুম লং থেকে উচু । হক-রুবেল ছাড়াও ম্যারথন আসিফ ও এই দলের সদস্য ছিলেন । এরপর দ্বিতীয় দল ২০১১ সালের ডিসেম্বরে অভিযান চালায় । দ্বিতীয় অভিযাত্রী দলে ছিল @jakiul deep, Ashfaq Hasan , @Tarannum ali Nibir , Samiur Rahman Turzo , Ruma. তৃতীয় অভিযান চালায় বিডি এক্সপ্লোরার, April , 2012 ।
৪ যোগীহাফং / কংদুক /কনদুক ।কোন কোন স্হানীয় এটাকে লোহতং ও বলেছে - এই নামটা অতটা পরিচিত না । ঐ এলাকায় মারমা / বোম / ত্রিপুরা আছে যারা একেকজন একেক নাম বলে থাকে । S.m. Mainul - Salehin Arshady আর মুগ্ধ সুজন এই চুড়া প্রথম বারের মত পরিমাপ করেন ২০১২ সালে আর তারাই দেখতে পান এর উচ্চতা কেওক্রাডং থেকেও বেশী ! প্রথম দলটি নাইখ্যাঝিরি দিয়ে কঠিন বিপদ সংকুল একটা পথে এই চুড়ায় আরোহণ করেন । পরবর্তিতে আর কোন দল এই পথে চুড়ায় পৌছাতে পারেন নি । এরপর দক্ষিণ দিকে থেকে আরো কিছু দল অভিযান চালায় - তবে এই দলগুলো তাদের GPS রিডিং বা কো-অর্ডিনেট প্রকাশ না করায় সামিট পজিশণে তারা পৌছেছিলেন কিনা তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না । South ridge ধরে সামিটে গিয়ে সামিটের অবস্হান জিপিএস ট্রেইল ( যার মাধ্যমে সামিট -এ যাবার পথ টা নিশ্চিত হয় ) আর উচ্চতা প্রকাশ করেছিল RatulBD-একরামুল হায়দার ।
৫ । কেওক্রাডং ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী সদলবলে কেওক্রাডং ট্রেইলে ভ্রমণ করেন। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে মেজর মোশারফ হোসেন কেওক্রাডং চূড়ায় ফলক স্থাপন করেন। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে মিথুনের দল (বুয়েটের ৩ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের ৯ জন) কেওক্রাডং ট্রেইলে ভ্রমণ করেন এবং বগালেকে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ( source : মীর শামসুল আলম বাবু )
কেওক্রাডং এ অভিযান চালাণ Maruf Bin Alam ১৯৯৮ সালে ! ( মারুফ-রেজা-রিপন ) সেটা সত্যই অনন্য এবং অসাধারণ একটা অভিযান ছিল । এই অভিজানের কথা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল , যা দেশের ট্রেকিং ইতিহাস এর যুগান্তকারী ঘটনা । বলতে গেলে বাংলাদেশে ট্রেকিং এর যাত্রা শুরুই সেই অভিযান থেকে !
৬।মাইথাইজমা বিডি এক্সপ্লোরার er Fahim Hasan মাইথাইজমা হাফং , চুড়াটিতে অভিযান চালান চার বারের মত । অবশেষে ২০১৪'র শেষ দিকে সাফল্য আসে ।
৭ । মুখরাতিথুই ৩১০০ ফুটের চেয়ে উচু মুখরাতিথুই , বাংলাদেশের ৭ নম্বর পিক । গুগুল আর্থ এ বাংলাদেশ , ভারত আর মায়ানমারের সীমান্ত এই পাহাড়ের চুড়াতে দেখানো হয়েছে । তাই শরুর দিকে সবাই 'তিনমুখ ' পিলার এই চুড়াতে অবস্হিত ধারণা করত । আর তিন মুখ পিলারে গেলে তিনদেশের মিলন স্হনে যাওয়া যায় - এই উত্তেজনা লাভের আশায় অনেক দিন আগে থেকেই তিম মুখ পিলার বা তিন মাথার অভিযান ট্রেকার রা করে আসচেন । সমস্যা ছিল সেখানে গিয়ে পিলার পেলেও উচ্চতা আশানুরূপ পাওয়া যেতো না । অন্য দিকে গুগুল আর্থে দেখানো স্হানের সাথে - কো-অর্ডিনেট ও মিলত না । এই সমস্যার সমাধান করেন Fahim Hasan , । তিনি প্রথাম তিন মুখ পিলার আর মুখরা এই দুই জায়গার অবস্হান আলাদা ভাবে চিন্হিত করেন, ২০১৩ সালের মার্চ মাসে । গুগুলে যে জায়গা টাতে তিন দেশের সীমানা দেখায় সেটা ৩১০০ ফুটের বেশী উচু ( ৩১৩০) মুখরাতিথুইহাফং , আর পিলারের অবস্হান পাশের একটা চুড়ায় যার উচ্চতা ২৯০০ ফুটের মত । আর অভিযাত্রীরা ঐ পিলারের পাহাড়টিতেই যায় , ৩১০০ ফুটের চুড়াটিতে কেউ যায় না । ২০১৫ তে সার্ভে এক্সপিডিশন টিম ফাহিমের পর আবার সেখানে গিয়েছিল
অনেক দিন পর্যন্ত এর উচ্চতা ৮ম মনে করা হত , যদিও স্যাটেলাইট ডেটা-তে এর উচ্চতা ৭ম দেখাত । পর্যাপ্ত রিডিং এর অভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা মুশ্কিল ছিল । সংশপ্তক এর অভিযানের পর এ বিষয়ে জোড় গলায় বলা যায় এই চুড়াটি-ই দেশের ৭ম উচ্চতম চুড়া ।
৮।থিনদলতে: নেচার এডভেঞ্চার আর নর্থ আলপাইন অভিযান চালিয়েছিল 2008 এ । তারা সামিট পজিশন বা রিডিং প্রকাশ না করায় নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না তাদের সামিট হয়েছিল কি না , তবে BD Explorer er Fahim Hasan প্রথম অবস্হান আর উচ্চতা প্রকাশ করেন । কাছাকাছি সময়ে জাকিউল দ্বীপও অভিযান চালান এই চুড়ায় ।
৯ ।কপিতাল: আমার হিসেবে কপিতাল ৯ নম্বরে , ইশ্বরমুণির পাহাড়গুলোর একটি বা বড়থলীর পাহাড় এর উচ্চতা এর খুব কাছাকাছি হবে । ফাহিমের রিডিং(৩০৯৬) অনুযায়ী ও এর অবস্হান অনেক উচুতে । Mohammad Rezaul Huq 2005 এ অভিযান চালান । এর আগে কেউ অভিযান চালিয়েছেন কিনা সেটা জানা যায় না ।
বাংলাদেসশের উচু উচু পাহাড় : কোনটা কত উচু ?
প্রশ্নটা আমার কাছে খুব অস্বস্তিকর - কেননা এগুলোর কোনা অফিসিয়াল পরিমাপ নেই । অভিযাত্রীরা জিপিএস দিয়ে মাপেন , যার রেজাল্ট হয় আলাদা । তাই আমি মনে করি জিপিএস রিডিং হোক আর গুগুল আর্থ ডেটা-ই হোক উচ্চতা বলতে হলে সুত্র উল্লেখ করতে হবে । আর একাধিক সুত্র থাকলে সেগুলো -ও উল্ল্যেখ করতে হবে । এছাড়া বিষয়টা একপেশে হয়ে যায় । ১। সকাহাফং / মদক তং : ইউ এস ম্যাপে ৩৪৫৪ ফুট । মাউন্টেন ট্রেকিং ক্লাব পেয়েছে ৩৪৬০ ফুট , নেচার এডভেঞ্চার ক্লাব ৩৪৮০ ফুট , ভ্রমণ বাংলাদেশ - এডভেঞ্চার বিডি ৩৪৪৫ ফুট , এছাড়া বাংলাট্রেকে উল্ল্যেখ আছে ৩৪৮৮ ফুট । গুগুল আর্থ এ আসে ৩৪১৪ ফুট । গুগুল ম্যাপ দেখায় ১০৪০ মিটার( ৩৪১১ ফুট)এর বেশী ।
২। জ -ত্লং : মুগ্ধ সুজন সালেহীন মাইনুল ৩৩৫২ ফুট , ভ্রমণ বাংলাদেশ-এডভেঞ্চারবিডি জরিপে পাওয়া যায় ৩৩২৮ ফুট । ডি-ওয়ে জরিপে পাওয়া যায় ৩৩৩৩ ফুট (unofficial)।
৩। দুমলং : প্রথম অভিযাত্রী দল নেচার এডভেঞ্চার ক্লাব উচ্চতা পরিমাপ করে ৩৩১২ ফুট, দ্বিতীয় টিম (জাকিউল – আশফাক) পায় ৩৩১০ ফুট ( ইন্টার নেট এ সামিট রিডিং এর যে ছবি পাওয়া গেছে ) , ভ্রমণ বাংলাদেশ-এডভেঞ্চারবিডি জরিপে পাওয়া যায় ৩৩১৫ ফুট ।
৪। যোগী হাফং বা কন্দুক : প্রথম অভিযাত্রী দল ( মাইনুল-সালেহিন- মুগ্ধ - সুজন ) পেয়েছিল ৩২৫২ ফুট । ভ্রমণ বাংলাদেশ-এডভেঞ্চারবিডি জরিপে পাওয়া যায় ৩২২২ ফুট ।
৫। কেওক্রাডং : আর্মি কতৃক স্হাপিত ফলকে আছে ৩১৭২ ফুট । ভ্রমণ বাংলাদেশ-এডভেঞ্চারবিডি জরিপে পাওয়া যায় ৩২২৮ ফুট । অন্যান্য ট্রেকিং দল ৩২০০-৩২৬০ ফুট। অসংখ জিপিএস রিডিং এর গড়ে দেখা যায় এর উচ্চতা ৩২৩০-৩৫ ফুট ।
৬। মাইথাইজমা : প্রথম অভিযাত্রী দল বিডি এক্সপ্লোরার ( reading taken by @Fahim Hasan ) পেয়েছে ৩১৭৪ ফুট । ভ্রমণ বাংলাদেশ - এডভেঞ্চারবিডি জড়িপে পাওয়া যায় ৩১৭৯ ফুট ।
৭।মুখরাতিথুই : বিডি এক্সপ্লোরার পায় ৩১২৯ ফুট, সংসপ্তক পায় ৩১৫৭ ফুট । অনেক দিন পর্যন্ত এর উচ্চতা ৮ম মনে করা হত , যদিও স্যাটেলাইট ডেটা-তে এর উচ্চতা ৭ম দেখাত । পর্যাপ্ত রিডিং এর অভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা মুশ্কিল ছিল । সংশপ্তক এর অভিযানের পর এ বিষয়ে জোড় গলায় বলা যায় এই চুড়াটি-ই দেশের ৭ম উচ্চতম চুড়া ।
৮। থিনদলতে : বিডি এক্সপ্লোরার পায় ৩১৪৯ ফুট, ভ্রমণ বাংলাদেশ - এডভেঞ্চারবিডি জড়িপে পাওয়া যায় ৩১৩৯ ফুট ।
৯ । কপিতাল : বিডি এক্সপ্লোরার পায় ৩০৯৪ ফুট. I একাধিক জিপিএস দিয়ে রিডিং নিয়ে কপিতালের উচ্চতা আমি একটি রিডিং এ ৩১০০ ফুটের বেশীও পেয়েছি ।
যাব কিভাবে ?
এত এত গল্প শোনার পর স্বভাবতই একটা প্রশন আসে এই পাহাড় গুলোতে যেতে চাইলে কিভাবে যাব ? ট্রেকিং রুট কি ? গাইড কোথায় পাব ? কোন পাড়ায় গিয়ে থাকব ?
দেশের উচু দশ পাহাড়ে কিভাবে যাবেন সেটা নিয়ে নীচের এই লেখা :
১। বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু চুড়াটির নাম মদক তং বা সাকাহাফং । বান্দরবানের থানচি থানায় মায়ানমার সিমান্তে অবস্থিত । থানচি থেকে বোর্ডিং পাড়া - কাইতন পাড়া হয়ে ট্রেকে করে দুই দিনে এই চুড়ায় পৌছানো যায় । পাহাড় চুড়ার দোরগোড়ায় নেফিউ পাড়া । যে কোন দিক থেকে এই নেফিউ পাড়ায় যেতে পারলে সামিট বা চুড়ায় যেতে পারবেন পাড়া থেকে স্থানীয় গাইড নিয়ে । থানচি থেকে নৌকায় পদ্ম ঝিরি গিয়ে ঝিরি দিয়ে ট্রেক করে সাজাই পাড়া হয়েও নেফিউ পাড়া যাওয়া যায় ।
২। জ-ত্লং : মায়ানমার সিমান্তে অরো দক্ষিণে ২য় সর্বোচ্চ চুড়াটি অবস্থিত । থানচি থেকে নৌকা দিয়ে রেমাক্রি বাজার গিয়ে - সেখান থেকে ৩ ঘন্টার মত ট্রেক করে দলিয়ান পাড়া যাওয়া যায় । সেখান থেকে গাইড নিয়ে ১০-১২ ঘন্টা ট্রেক করে চুড়া থেকে ঘুরে আসা যায় ।
৩। বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ চুড়াটি এখন পর্যন্ত দুমলং । তবে এর উচ্চতা ২য় চুড়া জ-ত্লং এর খুব কাছাকাছি । ভাল ভাবে পরিমাপ করা হলে এই দুটির স্থান ওলট পালট হয়ে যেতে পারে । এই চুড়াটি ভৌগলিক ভাবে রাঙামাটি জেলাতে হলেও যাতায়াতের রাস্তা বান্দরবান দিয়ে । বান্দরবানের রুমা বাজার থেকে ১২ ঘন্টা হেটে পুকুর পাড়া যেতে পারবেন । সেখানে থেকে গাইড নিয়ে দিনে দিনে ফিরে আসা যায় দুমলং থেকে ।
৪। যোগীহাফং : বাংলাদেশের ৪র্থ সর্বোচ্চ চুড়াটি এখন পর্যন্ত যোগীহাফং । এর উচ্চতা ৫ম চুড়া কেওক্রাডং এর খুব কাছাকাছি । ভাল ভাবে পরিমাপ করা হলে এই দুটির স্থানও ওলট পালট হয়ে যেতে পারে । এই চুড়াটি ২য় সর্বোচ্চ জ্-ত্লং এর পাশেই অবস্থিত আর দলিয়ান পাড়া দিয়েই যেতে হয় । গাইড নিয়ে ১০-১২ ঘন্টা ট্রেক করে চুড়া থেকে ঘুরে আসা যায় ।
৫। কেওক্রাডং : সরকারী ভাবে কেওক্রাডং সর্বোচ্চ চুড়া হলেও জিপিএস রিডিং-এ এর অবস্থান ৫ বা ৪ এ হবে । বান্দরবানের রুমা বাজার থেকে জীপে করে বগা লেক হয়ে এ ই চুড়ায় যাওয়া যায় খুব বেশী ঝামেলা না করেই । তবে আপনাকে আর্মি ক্যাম্প আর থানায় রিপোর্ট করে রুমা বাজার থেকে গাইড নিয়ে যেতে হবে ।
৬। মাইথাইজমা : এই চুড়াটি ৩য় চুড়া দুমলং এর পাশেই । যাবার পথও দুমলং এর মতই । রুমা বাজার থেকে পুকুর পাড়া হয়ে এখানে যেতে পারবেন । সময় লাগবে দুমলং এর চেয়ে একটু বেশী ।
৭। মুখরা তিথুই : এই চুড়াটি বাংলাদেশ ভারত মায়ানমার সীমান্তের তিনমুখ সীমান্ত খুটির কাছাকাছি, প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ।
কেওক্রাডঙ থেকে ৩ ঘন্টা ট্রেক করে সুংসাং পাড়া , সেখান থেকে ৪ ঘন্টার ট্রেকে সেপ্রু পাড়া যাওয়া যাবে । আর সেখান থেকে পাড়ার স্থানীয় গাইড নিয়ে এই চুড়ায় যাওয়া যায় । এছাড়া পুকুর পাড়া থেকেও ৪-৫ ঘন্টা ট্রেকে সেপ্রু পাড়া যেতে পারবেন ।
৮। থিনদলতে : এটা বান্দরবান - রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্তে কেওক্রাডং থেকে দক্ষিণ পুব দিকে অবস্থিত । কেওক্রাডং থেকে সুংসাং পাড়া হয়ে ৭-৮ ঘন্টা ট্রেক করে থিনদলতে পাড়া যেতে পারবেন , এছাড়া থাইক্কং পাড়া হয়েও থিনদল্তে পাড়া যাওয়া যায় সময় একটু বেশী লাগতে পারে।
থিনদলতে পাড়া থেকে ঘন্টা খানের মাঝেই যাওয়া যায় চুড়াতে ।
৯ । কপিতাল : এই চুড়াটি কেওক্রাডং থেকে বরাবর দক্ষিণে । কেওক্রাডং থেকে তাজিংডং -থানচি ট্রেইলে ঘন্টা দুই-তিন ঘন্টা ট্রেকে এ কপিতাল পাহাড়ের পাদদেশে যেতে পারবেন , আড় সেখান থেকে চুড়ায় যেতে ঘন্টা খানেক সময় লাগবে । তবে ট্রেইল খুজে না পেলে , অথবা জংগল হয়ে গেলে কয়েক ঘন্টা লেগে যেতে পারে ।
১০ । দেশের দশম চুড়াটি হতে পারে ক্রায়ক্কং/ ক্রাইকুং অথবা মদক রেন্জের হাজরা বা তাওবা , অথবা বড়থলীর কাছের আলাপাতং পাহাড় । মুলত এদের উচ্চতা খুব কাছাকাছি আর খুব বেশী সামিট রিডিং পাওয়া যায়্নি এই চুড়া গুলার । তাই নিশ্চিত বলা সম্ভব না দেশের ১০ম উচ্চতম চুড়া কোনটি । এমনকি ৯ম উল্লেখিত কপিতাল পাহাড়ও যথাযথ পরিমাপের পর ১০ম স্থানে চলে যেতে পারে ।
* ক্রায়ক্কং/ ক্রাইকুং : কেওক্রাডং থেকে সুনসাং পাড়া ২-৩ ঘন্টা , সেখান থেকে জারুস্রি পাড়ার ট্রেইলে ঘন্টা - দেড় ঘন্টা হাটলে এই পাহাড়ের গোড়ায় পৌছানো যায় । সেখান থেকে চুড়ায় যেতে অরো কয়েক ঘন্টা ।
* বড়থলীর পাহাড় / আলাপাতং : বড়থলী ক্যাম্পের পুব দিকে সীমান্তের পাহাড় । সারাদিন ট্রেকে করে যেতে পারবেন এই পাহাড়ে ।
* হাজরা বা তাওবা : সাকাহাফং এর বর্ণণায় সাজাই পাড়ার কথা আছে । এই সাজাই পাড়া থেকে ঘন্টা - দেড় ঘন্টা হাটলে ইশ্বরমুণি পাড়া । এই পাড়া থেকে যেতে হয় তাওবা অথবা হাজরা পাহাড়ে । কাছাকাছি এই দুই পাহাড়ের উচ্চতাও খুব কাছাকাছি ।