muhammad hossain
unread,Jan 3, 2010, 9:23:07 AM1/3/10Sign in to reply to author
Sign in to forward
You do not have permission to delete messages in this group
Either email addresses are anonymous for this group or you need the view member email addresses permission to view the original message
to du-marketin...@googlegroups.com, BIw...@googlegroups.com
আগামী ৫ই জানুয়ারি-২০১০ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’- এ শ্লোগান বহুদিনের। কিন্তু সন্ত্রাসীরাও জনগণেরই অন্তর্ভুক্ত। তাই এ শ্লোগান পরিবর্তনের প্রয়োজন। আসলে কথিত শ্লোগান অর্ধেক। ‘পুলিশ নিরপরাধের বন্ধু, অপরাধীর শত্রু’- এ শ্লোগান যখন উচ্চারণ করবে তখনই কেবল পুলিশকে কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছিত বন্ধুরূপে পাওয়া যাবে।
দেখা যাচ্ছে, পুলিশ বিভাগে খোদ দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে। আমূল সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। গত পরশু রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, পুলিশ ব্যবস্থা ঔপনিবেশিক কাঠামোতে রয়েছে এবং এর বলয় ভেঙে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহ ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। ইংরেজ শাসকরা তখন তাদের সাম্রাজ্যবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে একটি পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। জনগণকে দমন করার উদ্দেশ্য নিয়ে গঠন করা হয় তখনকার পুলিশ বাহিনী। যে বাহিনী গঠনই করা হয়েছে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে এবং সক্রিয় কর্মীদের বিরুদ্ধে নিয়োজিত রাখতে, সে বাহিনী কী করে জনগণের বন্ধু হয়? তবে সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়েছে প্রায় ৬০ বছর আগে, পাকিস্তানি শাসন শেষ হয়েছে ৩৫ বছর আগে। কিন্তু ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া সেই ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনই আজও চালু আছে দেশে।
বর্তমান পুলিশ বাহিনীর অবকাঠামো ও আইনকানুন গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ শাসিত ঔপনিবেশিক শাসনামলে। পরবর্তীকালে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের আমলেও তার বিশেষ কোন পরিবর্তন কিংবা সংস্কার সাধন হয়নি। আধুনিক কল্যাণমূলক সরকার ব্যবস্থায় পুলিশ জনগণের প্রভু নয়, বরং বন্ধু ও সেবক। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের পুলিশের ক্ষেত্রে এ রকমটি পরিবেশ তৈরি হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কারণে থানা-পুলিশ সম্পর্কে ভয়ভীতি বিরাজমান। এর জন্য পুলিশ বাহিনীর চাইতে রাজনৈতিক সরকারগুলোর মনোমানসিকতা ও সদিচ্ছার অভাব দায়ী। প্রায় সকল সরকারের আমলেই পুলিশকে অপরাজনীতির ছত্রছায়ায় থেকে পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। পদে পদে জুলুমের ঘটনা ঘটেছে। অথচ সরকার কল্যাণমূলক মূল্যবোধে বিশ্বাসী হলে অন্তত পুলিশ কর্তৃক জনগণকে হেনস্থা করার ঘটনা ঘটতে পারত না। পুলিশের বিরুদ্ধে নানা সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদদান, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে পুলিশ সদর দফতরের সিকিউরিটি সেলে সারাদেশের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৮ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। ২০০৩ সালে অভিযোগ জমা পড়ে ১৯ হাজার। ২০০৪ সালে অভিযোগের সংখ্যা ছিল সাড়ে ১৯ হাজার। ২০০৫ সালে এই অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার। তাছাড়া ২০০৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অভিযোগ জমা পড়ে প্রায় ১২ হাজার। বর্তমানে শুধু পুলিশ নয় খোদ র্যাব, এসবি, ডিবি ইত্যাদির বিরুদ্ধেও। সব মিলিয়ে বর্তমানে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রায় এক লাখেরও বেশি অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো এসব অভিযোগ তদন্ত করছেন খোদ পুলিশ কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন যাবৎ পুলিশের অভিযোগ তদন্তে কাউন্টার ইন্টেলেজিন্স গঠনের দাবি উঠলেও তা কার্যকর হয়নি। তবে সব পুলিশ খারাপ, এ রকম ঢালাও অভিযোগ কখনোই সত্য নয়। মুষ্টিমেয় সদস্যের দুর্নামের জন্য ভাবমূর্তি নষ্ট হয় গোটা পুলিশ বাহিনীর- এটাও মনে রাখতে হবে।
প্রস্তাবিত পুলিশ অধ্যাদেশ নিয়ে বহু বিতর্ক উঠলেও বাস্তবায়নের দাবিতে এখন ঝড় উঠেছে। যে শতাব্দী-প্রাচীন আইন দিয়ে পুলিশ পরিচালিত, তার পরিবর্তন জরুরী হয়ে পড়লেও এক্ষেত্রে কোন নিষ্পত্তি হচ্ছে না, এটা দুর্ভাগ্যজনক। খোদ পুলিশের ভিতর থেকে এ সংক্রান্ত দাবি উচ্চারিত হয়েছে। আইজিপি নিজেও এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক শাসনামলে পুলিশ সংস্কার নিয়ে অনেক কথা হলেও শেষ পর্যন্ত কিছু হয়নি। বর্তমান সরকারও যে বিগত রাজনৈতিক সরকারগুলোর পথ থেকে বেরিয়ে আসছে সে লক্ষণ এখনো প্রকট নয়।
পুলিশ বিভাগের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের অর্থ যদি হয় রাজনৈতিক প্রভাব, তাহলে সেই পুলিশ বাহিনীর মনোভাব কখনো জনসেবামূলক হতে পারে না। এ বাহিনী হবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দমনপীড়নমূলক। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা বিগত জোট সরকার আমলে নিশ্চয়ই তা অনুভব করেছেন।
চার বছর পর পুলিশের মনোগ্রামে আবার নৌকা যুক্ত হয়েছে। প্রস্থতি চলছে পোশাক বদলেরও। মনোগ্রাম পরিবর্তনে জোট সরকারের পদক্ষেপ সমালোচিত হয়েছিল তখনই। বর্তমান সরকার মনোগ্রামটি পূর্বাবস্থায় নিয়ে আসতে উদ্যোগী হবে, এটা বোঝা গিয়েছিল। বারবার মনোগ্রাম ও পোশাক পরিবর্তনে সরকারি অর্থের যে অপচয় ঘটে, তা নিয়ে কানো যেন মাথাব্যথা নেই। এক্ষেত্রেও আইন-শৃঙ্খলার চেয়ে রাজনীতি প্রাধান্য পেয়ে আসছে। অথচ জরুরী হল পুলিশ বাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, মোটিভেশন, আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম। প্রয়োজন পুলিশ বিভাগের জনবল ও যানবাহন সংকট দূর করা। বর্তমান সময়ের অপরাধ দমনে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে এর গবেষণা কার্যক্রমও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বিবেচনায় রাখতে হবে পুলিশের বেতন-ভাতার বিষয়টিও।
নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে পুলিশেরও। পুলিশকে নিজের টাকায় কিনতে হয় মোটরসাইকেল ও জ্বালানি তেল। থানায় আটককৃতদের খাওয়াতে হয় নিজের টাকায়। সোর্সকে টাকা দিতে হয় নিজের পকেট হতে। অধিকাংশ মামলার আসামিই গরিব বলে স্বাক্ষ্য দিতে আসতে পারে না। লাশ পরিবহনের কোন বিলও পায় না পুলিশ। অথচ এ সকল খাতে বরাদ্দ না রাখলে চলবে কেন?
অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ১২/১৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। তাদের অবকাশ যাপনেরও কোন ব্যবস্থা নেই। বেতন-ভাতা এবং রেশনের ব্যবস্থাও ভালো নয়। অনেকে নিজের টাকায় চেয়ার-টেবিল কিনেও বসানোর জায়গা পান না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকের অফিস চালাতে ২/১ লাখ টাকা খরচ হয়। সে টাকা তাদের ম্যানেজ করতে হয়। ম্যানেজের এই অলিখিত নির্দেশ থাকে পুলিশ বাহিনীর উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবার উপরই। এসব ম্যানেজড করতে গিয়ে পুলিশ নিজেই ম্যানেজ হয়ে যায় এবং প্রথমত প্রয়োজনের তাগিদে হলেও পরে এটা তার স্বভাবে পরিণত হয়ে যায়।
জরুরী ভিত্তিতে এ সব সমস্যার সমাধান করা না হলে তাদের নিকট হতে মানসম্মত সার্ভিস আশা করা যায় না। দেশের জনসংখ্যানুপাতেও পুলিশ সদস্যের সংখ্যা অপ্রতুল। প্রায় চৌদ্দশ’ লোকের জন্য একজন পুলিশ। ফলে দিন দিনই সমস্যা ও সন্ত্রাস বাড়ছে। বাড়ছে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, চুরি-ডাকাতি, খুন-খারাবি, ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধ। বাড়ছে সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং। সন্ত্রাসীদের হাতে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের অভাব নেই। সেই তুলনায় পুলিশের যানবাহন ও হাতিয়ার সেকেলে এবং সীমিত। দীর্ঘসূত্রতার কারণে থানাগুলোতে জমেছে মামলার পাহাড়। এ সব সমস্যা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর হিমশিম খাওয়ারই কথা।
সত্য যে, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না। এর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে পুলিশ বাহিনীকে। এক্ষেত্রে স্মর্তব্য যে, সব রাজনীতিক দলই সন্ত্রাস দমনের কথা বলে ক্ষমতায় আসলেও ক্ষমতায় আসার পর তারা আইন-শৃঙ্খলা খাতে যথাযথ বাজেট বরাদ্দ করে না। ফলত পুলিশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হয় না। পাশাপাশি সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যায়ন হয় না। পুলিশ সার্ভিসে নন ক্যাডারদের প্রমোশন স্থবিরতা নিয়ে অতি সত্বরই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা গভীরভাবে মনে করি। এমনও দেখা গেছে, কনস্টেবলও ওসি হয়েছে। কিন্তু ওসি’র পরবর্তী প্রমোশন হয়নি। অথচ কর্মক্ষেত্রে এ ওসি’রা ক্যাডারভুক্ত নব্য এএসপিদের তুলনায় অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ। এক্ষেত্রে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দিনের পর দিন চাকরি করছে।
উল্লেখ্য, জনগণের প্রতি পুলিশের পেটানো মনোভাব যেমন দূর করতে হবে তেমনি পাশাপাশি পুলিশের প্রতিও জনগণের বদ্ধমূল নেগেটিভ ধারণারও সংস্কার করতে হবে। মূলত সমাজে পুলিশ ও জনসাধারণের সহবস্থান সহযোগিতামূলক হতে হবে। এক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বমূলক বোধের উন্মেষ করতে হবে। হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, “সব মুসলমান ভাই ভাই।”